ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম, রাজনীতি

 

আগুন খবর! আগুন খবর! আওয়ামী নেতা খুন হয়েছেন। পানি খবর! পানি খবর! ওসি বরখাস্ত হয়েছেন।
আ. লীগ নেতা খুনের পর ওসি বরখাস্ত হয়েছেন।

ঢাকা, জানুয়ারি ১৪ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- ঢাকার আগারগাঁওয়ে আওয়ামী লীগ নেতা খুনের পর শেরেবাংলা নগর থানার ওসিকে বরখাস্ত করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন শুক্রবার দুপুরের পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন। ঢাকার ৪১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফজলুল হক দুপুরে আগারগাঁওয়ে বিজ্ঞান জাদুঘরের সামনে গুলিবিদ্ধ হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে পঙ্গু হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা জানান, ফজলুল মারা গেছেন। পরে ময়না তদন্তের জন্য ফজলুলের লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে যান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সাহারা খাতুন সাংবাদিকদের বলেন, এ ঘটনায় শেরেবাংলা নগর থানার ওসিসহ দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ওই থানায় ওসির দায়িত্বে ছিলেন রিয়াজ আহমেদ। বরখাস্ত অন্যজন হলেন উপপরিদর্শক মো. কামরুজ্জামান। ৪১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি নূর মোহাম্মদ গত ৮ জানুয়ারি সন্ত্রাসীদের গুলিতে আহত হন। এর এক সপ্তাহের মাথায় সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হলেন সাধারণ সম্পাদক।

এ ঘটনা নিশ্চিত বিরল। খুনের সাথে প্রত্যক্ষ জড়িত না থেকেও একজন ওসির সাময়িক বরখাস্তের ঘটনা বাংলাদেশে রীতিমতো আসমানের চান্নির মতোন। হয়তো সাহারা খাতুন বলবেন – “আমরা একটি অভাবনীয় আইনী সংস্কৃতি চালু করতে যাচ্ছি”। আর আমার মতো নিন্দুকেরা বলবে – “স্যরি ম্যাডাম, আপনি কেন আওয়ামী নেতার খুন দিয়ে এ সংস্কৃতির উদ্বোধন করতে গেলেন”! ম্যাডাম তখন বলবেন – “আমাদের সরকার ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় এতো সুন্দর একটি বিষয় অন্যকারো লাশ দিয়ে কেন উদ্বোধন করবো। আমাদের নিজস্ব স্টকের লাশ দিয়েইতো করবো”। তারপর আমি আবার বলবো – “একদিনে বাংলাদেশে এভাবে খুনের ঘটনা ঘটে সর্বনিম্ন ৩টি, মোট ক’জন ওসি বরখাস্ত হয়েছেন?” এবার ম্যাডাম বলবেন – “আমার জরুরী মিটিং আছে, আমি এখন যাই”। তারপর ম্যাডাম চলে যাবেন আর আমি মনে মনে ওসির চাকুরীর রুহের মাগফেরাত কামনা করতে করতে বাড়ি ফিরে যাবো।

মিটিংয়ে ব্যস্ত থাকার কারণে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে আরো একটি বিষয়ে কাউকে বরখাস্ত করার সুযোগ পাননি।
মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যার পর ঝোলানো হলো গাছে। ঘটনাটি কেবল খুনের ঘটনাই না। এটি ছিলো একটি ধারাবাহিক নির্লজ্জতা।

এই মুক্তিযোদ্ধার নাম আবুল হাসেম (৬০)। বাড়ি সোনাগাজী সদর ইউনিয়নের ছাড়াইতকান্দি গ্রামে। তিনি বাজারে রং মিস্ত্রির কাজ করতেন। বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করেছে। আবুল হাসেমের মেয়ে ফারজানা ইয়াসমীন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, তার বাবার সঙ্গে বাড়ির রাস্তার জায়গা নিয়ে প্রতিবেশী জামাল উদ্দিন, মৌলভী বাড়ির মইনউদ্দিনের ছেলে কফিল উদ্দিন, কামাল উদ্দিন, নুর উদ্দিন ও জহির উদ্দিনের বিরোধ ছিলো। (সূত্র বিডিনিউজ)

তার মানে একজন মুক্তিযোদ্ধা দীর্ঘদিন যাবত শত্রুপক্ষের হাতে লাঞ্ছিত হয়ে আসতেছেন। একটি ধারাবাহিক নাটকের শেষ দৃশ্যে মুক্তিযোদ্ধা প্রাণ হারান। উফ! কি প্যাথেটিক এন্ডিং!

হাসেমের স্ত্রী আয়েশা আক্তার বলেন, “কয়েক মাস আগে তারা আমার স্বামীকে মারধর করে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখেছিলো। তারাই বুধবার রাতে হাসেমকে বাড়ির কাছে একটি জমিতে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখে।”

আমরা জানি না, তখন প্রশাসন কোথায় ছিলো! তবে শেষদৃশ্যে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এটা অনেক ভালো করেছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা উচিত। তাহলে সংবাদপত্রের একজন রিপোর্টারকে টেম্পলেট নিউজ করতে হয় না।

ফেনীর পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট মো. ইমাম হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্র্রহণ করা হবে।”

পুলিশ এখন কি ব্যবস্থা নিলে নিহত মুক্তিযোদ্ধাকে পুন:জনম দিয়ে স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি দেয়া যাবে? আমি ঠিক জানি না। সাহারা খাতুন জানেন কিনা তাও জানি না। উল্লেখ্য ওই মুক্তিযোদ্ধা ধারাবাহিক টর্চারায়িত হয়ে ভাগ্য বিধাতার (নাটকের পরিচালক) নির্দেশে স্ব-ইচ্ছায় মৃত্যুবরণ করার পর ওসি কিংবা চৌকিদার কারোরই কোন শাস্তি হয়নি।