ক্যাটেগরিঃ স্যাটায়ার

 

পরিস্থিতি বলেন আর অবস্থা বলেন, সবই ভয়াবহ। অনলাইন মিডিয়ায় মৌলবাদীদের সুতীব্র আনাগোনা। জোঁকের মতো কামড়ে পড়ে থাকে ওরা। এখনতো পরিস্থিতি আরো বিপদগ্রস্থ। মৌলবাদীদের অর্থায়নে নির্মিত হচ্ছে মুক্তবুদ্ধি চর্চার প্লাটফর্ম। যা এক সময় সিম্বলে পরিণত হবে। যেমন পরিণত হয়েছে ইসলামী ব্যাংক কিংবা ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক। এখন ভাবছি এদের কাছে সিটিজেন জার্নালিজম আবার ন্যারেটিভ প্যারেটিভ ডিসকোর্সে পরিণত হয় কি না!

কেমন হতে পারে মৌলবাদীদের সিটিজেন জার্নালিজম?

একজন ফতোয়াবাজের জার্নাল :
সকালের শিশির মাড়িয়ে আমি তখন মোল্লাবাড়ির মসজিদের পাশের বাগানে। জরুরত সারতে সারতে গাছের নারিকেল গুনছিলাম। নাউযুবিল্লাহ! আচমকা কানে ফুট ফুট করে ঢুকতে থাকলো একজোড়া যুবক যুবিকার কন্ঠস্বর। সমাজের চামড়ার তলে তলে বেলাল্লাপনা আর ন্যাংটা সংস্কৃতি ভরে গেছে। এ সকালে নির্জন বাগানে প্রাপ্তবয়স্ক যুবক যুবতি কি করে! হায় সমাজ! কোথায় রইলো মসজিদের ইমাম, কোথায় রইলো কাজী! কোথায় সে দোররা, কোথায় রইলো পাথর! আস্তাগফিরুল্লাহ… আস্তাগফিরুল্লাহ…!!

ইসলামী আন্দোলনের সৈনিকের জার্নাল
বিকেল বলুন আর নিশী বলুন, সবসময় কিছু বখাটে তরুন দু’স্কুলের ফাঁকে বহু বহু নেশা গ্রহণ করে। সারা গ্রামের মানুষজন সবসময় সৃষ্টিকর্তাকে ডাকে এদের হাত থেকে রেহাই পেতে। প্রতিদিন কোন না কোন অঘটন ঘটাবেই ওরা। এ বিষয়ে গ্রামের এক মুরুব্বী বলেন, দেশে যদি ইসলামী শাসনব্যবস্থা থাকতো, তবে এসব ঘটানোর সাহসই কেউ পেতো না।

জাত হারানো ব্রাহ্মণ
শান্তি এবং সুষমা জগতের প্রদীপতূল্য। পূজনীয় সবকিছু মাহাত্মময়, ঊণশ্চ মাহাত্মময় বলেই ওইসব কীর্তি বা কীর্তিমান পূজনীয়। সমাজ বিনষ্ট হয়েছে, ক্ষয়ে গেছে আদব আবদারাদি। মনুষ্যমনে বিভাজন পড়েছে, ত্যাগী হয়েছে পূজন। জাত নাই পাত নাই, কি অমন এক সমাজে আছি। তবুও দুগ্গাপূজার সময়ে মনে হয় ভগবান এখনো বেঁচে আছেন এ ব্রহ্মান্ডে। জয় মা দুগ্গা দুগ্গা…!

বেহেশতকামী মাসুম আত্মার খেরোকাগজ
যখন দেখলাম কিছু বালক গুল্মতলা ধরে ধরে পর্বতে উঠছে, তখনই ভাবতেছি দুনিয়ায় কেয়ামত নামতে আর দেরী নাই। মানুষের কলফ থেকে মরণের ভয় উঠে গেছে। মানুষ এখন মাঝ দরিয়ার স্রোতের সাথে গোল্লাছুট খেলে। মানুষ যেন অমানুষ হয়ে গেছে। একদিন কেয়ামত হবে, একদিন বিচার হবে। তারপর বেহেশত দোজখ ভাগাভাগি হবে। জানি না সেদিন এসব অবুঝ বালকদের কে রক্ষা করবে! হে প্রভু আমার সব অন্যায় ক্ষমা করে দিও।

ধর্মের ইজারাদার কি আর লিখবে
কিশোরগঞ্জের ফুলস্কয়ার উপজেলার অর্কিডপাড়া এলাকায় এক মহিলার হাত বদলে পা হয়ে গেছে। এখন উনি চার পায়ে হাটেন। বাড়ির লোকদের কাছ থেকে জানা যায় পীর-এ-যাদা হযরত এ আলা করিমুদ্দিমিয়ার কোমর সমান দাঁড়িকে অপমান করে কথা বলার কারণেই ওই সুন্দরী মহিলার এমন শাস্তি হয়।

মোটামুটি আধুনিক, তবুও…
সভ্যতার উৎকর্ষে বিজ্ঞানের জড়াজড়ি কেইবা কখন কোথায় অস্বীকার করেছে? কেইবা পেরেছে? এইতো দরিদ্র কৃষক হাবুল মিয়া আবিষ্কার করলেন এক আশ্চর্য তত্ত্ব। “জ্বালানী ছাড়া হালুয়া বানানো” র যন্ত্র আবিষ্কার করেছেন চন্দ্রসন্তান হাবলু মিয়া। তিনি বলেন ধর্মগ্রন্থের বিভিন্ন আয়াত পড়ে পড়ে কিছু সূত্র পান, সেসব সূত্র থেকেই এ মহাশ্চর্য যন্ত্রটি তিনি বানাতে সমর্থ হোন। সবার কাছে দোয়া চেয়ে হাবলু মিয়া বলেন, “আপনারা দোয়া করলে প্রভুর কৃপায় প্রাকৃতিক উপায়ে আচার বানানোর যন্ত্রও আবিষ্কার করতে পারবো”।

তবে এসব জার্নাল পড়তে বিরক্ত হবার কথা নয়। জ্ঞান কিংবা বি-জ্ঞান বিকশিত না হলেও বিনোদনের কমতি কোনকালেই এসবে ছিলো না। 🙂