ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

সকালে অফিসে এসে মনটা অমানিশার কালো মেঘে ঢাকা পড়ে গেল । এমনিতেই সকাল থেকে আকাশ অন্ধকার , ঠিক তার হুবুহু কার্বন কপি আমার মনের অবস্থা । চারিদিকে এত আলোচনা সমালোচনা , এত সভা-সেমিনার, এত এত আইন কানুন, বেসরকারি পর্যায়ে এত হাঁকডাক ( সরকারি মহল ঘাপটি মেরে বসে আছে ) না কোন কিছুতেই পুরুষ নামক বর্বরদের কাছ থেকে মেয়েরা রক্ষা পাচ্ছে না । এসব দেখে মনে হচ্ছে আমরা সবাই অন্ধকারে ঢিল মারছি আর আলোতে থেকেই যত অপকর্ম সারছে সোনার ছেলেরা ।

ঘটনা -১

ফরিদপুরে ভাঙ্গা উপজেলার এক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রীকে ছয়-সাত জন বন্ধুরা মিলে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেছে । কি নির্মম দৃশ্য , ভাবতেই গায়ের লোম খাঁড়া হয়ে উঠছে । লজ্জাই ঘৃণায় মাথা নিছু হয়ে আসছে । লিখছি আর ভাবছি কি নিয়ে লিখতে বসছি । শুধু ধর্ষণ করেই ক্ষান্ত হয় নি এই কুলাঙ্গাররা, মোবাইল ফোনে ধারণও করেছে । যাতে পরবর্তীতে আবার ফাঁদে ফেলা যায় । মুখ না খুলার জন্য হুমকি দিয়েও রেখেছিল । মেয়েটি আমাদের ঘুনেধরা সমাজের লোক লজ্জার ভয়ে ম্যখ না খুললেও বদমায়েশ রা রাখে নি । বাজারে ছেঁড়ে দিয়েছে এ ভিডিও টি । শেষমেশ সব হারিয়ে থানাই মামলা । আবার তদন্ত পরে এলাকার মোড়লরা অই কুলাংগারদের পাশে থেকে মামলা থেকে খালাস করবে ছেলেগুলুকে । মাঝখানে পড়ে মেয়েটি যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে হয়তোবা আত্মহত্যা ! এর বাইরে তো আপাতত কিছুই মাথায় আসছে না ।

তহলে কি মেয়েরা ছেলেদের সাথে সম্পর্ক রাখবে না হোক না সেটা বন্ধু বা প্রেমিক । এমনিতেই আমাদের দেশে মেয়েদের জন্য প্রায় সকল দরজা বন্ধ । নিজেকে পুরুষ সমাজের একজন ভাবতেই অপমানিত বোধ করছি ।

ঘটনা -২

এবার নিজের স্বামীর কাছে নির্যাতনের শিকার হলেন এক গৃহ বধু । কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার গাগরপাড়া নামক গ্রামে আব্দুল হামিদ নামের এক পাষাণ তার স্ত্রীকে ঘাস কাঁটার নামে আখক্ষেতে নিয়ে হাত-পা বেধে প্রথমে চুল কাটল তারপর মুখে কাপড় বেধে শরীরের বিভিন্ন স্পর্শ কাতর জায়গায় খেজুর কাটা গেঁথে দিয়েছে । কি লোমহর্ষক কাহিনী । না এবার আর যৌতুক না অভিযোগ ছিল পর পুরুষের সাথে না কি গৃহবধুর সম্পর্ক আছে । কোন ধরনের তথ্য প্রমান ছাড়াই মন গড়া অপবাদে আজ গৃহ বধূটি হাস্পাতালের বেডে মৃত্যুর প্রহর গুনছে ।

যদি একটু উল্টা পিঠ দেখি একই অভিযোগ যদি কোন মেয়ে তার স্বামীর বিরুদ্ধে আনত, তাহলে সেই অভাগা মেয়েটির কপালে নির্ঘাত জুতাপেটা ছাড়া ও সালিশ করে সবার সামনে মাথা ন্যাড়া করে দোররা মারার মত ঘটনাও ঘটত । সাথে থাকতো সমাজ থেকে বের করে দেওয়ার মত দুঃসহ যন্ত্রণা । সারসংক্ষেপ হচ্ছে নারী পুরুষ ভেদে সামাজিক অবস্থা পুরাই ৬৯ ।

আগে পত্রিকা খুললে সবার আগে দেখতাম খেলার খবর তারপরে সম্পাদকীয় পড়ে অন্যান্য খবর । আজকাল পত্রিকা খুলার সাথে সাথে চোখে পড়ে অমুক এলাকায় নারী ধর্ষিত, অমুক উপজেলায় স্কুল ছাত্রী যৌন নিপীড়নের শিকার ক্ষেত্র বিশেষে শিক্ষকদের হাতে । আসলে কাজের কাজ মনে হয় কিছুই হচ্ছে না , পত্রিকায় সব খবর আসে না আবার আসলেও সব খবর ছাপা হয় না যেদিন পত্রিকায় ৩-৪ টি নারী নিগৃহীত হওয়ার খবর আসে সেদিন কমপক্ষে ১০-১৫ টি ঘটনা ঘটে গেছে । আর আমরা কিছু মানুষ পত্রিকা , ব্লগে লিখে দায় সারছি ।

না না আমি পুরুষ সমাজের অংশ না , অবশ্য নিজেকে সবার আগে মানুষ ভাবতে হবে । তারপরে ছেলে – মেয়ে বা হিন্দু – মুসলিম ।

সবার শুভ বুদ্ধির উদয় হোক । যারা ভয়াবহতা দেখেও না দেখার ভান করে বসে আছেন তাদের বলছি এটি দ্রুত সংক্রমিত হচ্ছে পাছে আবার নিজের কাঁধেও এসে পড়ে । সময় থাকতে জেগে উঠুন । নিজের কণ্ঠ তুলুন উচ্চস্বরে । আর না নারী নির্যাতন ।