ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

স্বাধীনতার পরে যে সব বিষয় নিয়ে উচ্চাশা পোষণ করা হয়েছিল তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে গণতন্ত্র । কিন্তু স্বাধীনতা পরবর্তী মুজিব সরকারে গণতন্ত্র কিছু দিন চললেও অতি অল্প সময়ের মাঝেই আগমন ঘটলো বাকশালের । দেশে নেমে আসলো একদলীয় শাসন , কণ্ঠরোধ করা হল গনমাধ্যমের, নিষিদ্ধ করা হল অন্যান্য রাজনৈতিক দলের কার্যকলাপ । যার ফলস্বরুপ বলি বা সদ্য স্বাধীন দেশের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অংশ যাই বলি বঙ্গবন্ধুর স্ব-পরিবারে বলিদান ( দুই মেয়ে ছাড়া ) । ৯ বছরের যন্ত্রণা ভোগ করার পর অবশেষে আসলো গণতান্ত্রিক সরকার ১৯৯১ সালে । কিন্তু সামরিক শাসনের তিক্ত অভিজ্ঞতা বা অনির্বাচিত সরকারের ভোগান্তির পরেও আমরা গণতন্ত্রের সোজা পথে হাঁটতে পারি নি । বরঞ্চ শুরু হল রাজনীতির নামে দূরবৃত্তায়ন, সীমাহীন দুর্নীতি, দেশ বিরোধী বা অসম চুক্তি করার প্রতিযোগিতা । রাজনীতি তখন হয়েছিল বিষবৃক্ষ (এখন সাক্ষাত যম ) ।

১৯৯৬ সালে লীগের আমলেও দূরবৃত্তায়নের ধারা অব্যাহত ছিল এবং বলা যায় রাজনীতিকে গডফাদার কেন্দ্রিক গড়ে তোলা , নির্বাচনে কালো টাকা ও পেশী শক্তির অনুপ্রবেশ এবং শিক্ষাঙ্গনে কলুষিত ছাত্র রাজনীতির শুরু তখন থেকেই ( যদিওবা ভোট চুরি ১৯৭৪ সালে শুরু হয়েছিল ) । ? কে দিবে মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা ? না কি দু দলের পাল্টাপাল্টিতে পরে থাকবো ? এর পরিপ্রেক্ষিতে আবির্ভাব হল – তৃতীয় শক্তির ফর্মুলা । ২০০১ সাল থেকেই এটির জোজো চলে আসছে আজ অবধি । রাজনীতিতে পরস্পর অবিশ্বাসের ফলস্বরুপ সেনা বাহিনী কিছু সময়ে দেশ শাসন চললেও তারা কখনোই তৃতীয় শক্তি হতে পারে না । বাদ বাকি যেসব সব দল আছে তাদের তেমন কোন গোল বা আদর্শ কোনটায় নেই । সাম্প্রতিক সময়ে এরশাদ নিজেকেই তৃতীয় শক্তি বলে দাবি করলেও তিনি আজ অবধি লীগের গর্বে, তাছাড়া এই পতিত সামরিক শাসককে জনগণ আর রাষ্ট্র ক্ষমতায় দেখতে চাইবে না এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায় । সর্বশেষ অনির্বাচিত সরকারের সময় নোবেল বিজয়ী ডঃ ইউনুস রাজনীতিতে আসতে চাইলেও হালে পানি পান নি । বর্তমানে বেশ কিছু নাগরিক সংগঠন গড়ে উঠলেও এরা যে তৃতীয় শক্তি তা বলা যাচ্ছে না । হ্যাঁ, এখনকার পরিস্তিতি মতে আমাদের দেশে তৃতীয় শক্তি মানে “সেনাবাহিনীর” আগমন । যদি দুই দলের এমন বিপরীতমুখী অবস্থান, সরকারে থাকাকালীন সময়ে দুর্নীতির জাল বিস্তার যদি অব্যাহত রাখে এবং সাম্রাজ্যবাদের ও উপনিবেশ শক্তিগুলুর প্রতিভু হিসেবে কাজ করতে থাকে তাহলে জনগণ তৃতীয় শক্তি নয় বরং বিকল্প শক্তির উত্তান ঘটাবে । যে শক্তি জনগণকে মৌলিক অধিকার গুলুর নিশ্চয়তা দিবে এবং বহির্বিশ্বের ভ্রুকুটি উপেক্ষা করে গণতান্ত্রিক ও সাম্যবাদী পন্থায় দেশ পরিচালনা করবে ।

এক্ষেত্রে সাপ্তাহিক ২০০০ এর চলমান সংখ্যায় – খালেকুজ্জামানের মতে – বুর্জোয়া দ্বি-দলিয় বাবস্তার সংকট , বুর্জোয়া কোন তৃতীয় শক্তির দ্বারা দূর করা যাবে না । আসল কথাটি হচ্ছে- জনগণের শক্তির ভিত্তিতে অন্য কিছু গড়ে উঠলেই সেটাই বিকল্প শক্তি_বলেছেন মান্না । একমাত্র জনগণই পারে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করতে । এটা যে কোন দলের দ্বারা হবে না তা এতদিনে পরিষ্কার হয়ে গেছে । এটার অন্যতম কারন হচ্ছে দল ও সরকারের একীভূত হয়ে পড়া । যত দিন রাষ্ট্রকে সুসংগতিত করা না হবে ততদিন মুক্তি সুদুর পরাহত । কিন্তু আমাদের এখানে সংবিধানের দোহায় দিয়ে কখনো কখনো জগদ্দল পাথরের মত চেপে বসে সরকার , আবার সেই সংবিধানের তোয়াক্কা না করেই চলে সাধারন জনগণের উপর নির্যাতনের ষ্টীম রোলার । এমন সময় তৃতীয় শক্তির অপেক্ষায় না থেকে দরকার বিকল্প শক্তির উত্তান ঘটানো । আর এটি “জনগণ নিজেরাই”। ,মৌলিক চাহিদা গুলুর পূর্ণতা পাওয়া এবং সব কিছুতেই সাধারন জনগণের সম্পৃক্ততাই আসল । জনগণ যদি সচেতন হত তাহলে রাজনৈতিক দলগুলু এত অপকর্ম করার সাহস পেত না । এখন উচিত সকল কালো কাজের প্রতিবাদ করা এবং রাস্তায় নেমে সরকার গুলুর অন্যায্য কাজ প্রতিরোধ করা । যদিওবা জনগণের একটি অংশ সরকার গুলুর ডান হাত হিসেবে কাজ করে এরা যেমন গরীবের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলে তেমনি অর্জিত কালো টাকা থেকে সরকারকে ইনাম দিয়ে থাকে । এদেরকেও চিনহিত করার সময় এসেছে । তবে আগে আমাদের ঠিক করতে হবে কি চাই এবং কিভাবে চাই ? কারন একটি ভাসাভাসা অপতৎপরতা কখনো মুক্তি এনে দিতে পারে না ।

একটি নতুন Flavour এর বিপ্লব দরকার যেটি হতে পারে “লাল-সবুজের” বিপ্লব । যে বিপ্লবের হেতু হল জনতার ভাগ্য পরিবর্তন, উপনিবেশ থেকে দেশকে রক্ষা করা এবং বিদেশী প্রভুদের বিদায় বলে দেশ আবার পুনর্ঘটন করা । শুরুর দিকে কাজটা কঠিন মনে হলেও যে একেবারেই অসম্ভব না তার প্রমান কিউবা সহ ল্যাটিন আমেরিকার অধিকাংশ দেশ । কিন্তু আমাদের তো চে’র মত আমৃত্যু সৈনিক নেই । কিন্তু তাতে কি হয়েছে চে’র আদর্শ বুকে ধারন করে আমরা এগিয়ে যেতে পারি । আমরা সবাই চে হলে বিপ্লবের সার্থকতা অনিবার্য । সাধারনত বিপ্লব নির্ভর করে অনেকাংশে খেঁটে খাওয়া জনগণ যারা ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত, এদের সমর্থন যে পাওয়া যাবে তা নিয়ে সন্দেহ নেই । তাহলে আর দেরি কেন প্রয়োজনে মুক্তির তাগিদে আবার সংগ্রাম । আবারো লাল সবুজ পতাকা হাতে নিয়ে বিজয় নিশান উঠবে । এ জয় হবে লাঞ্ছিত বুভুক্ষু মানুষের , এ জয় হবে গন মানুষের অধিকার আদায়ের সোপান । এ বিপ্লবের অগ্রভাগে থাকবে যুব ও তরুন সমাজ । বিপ্লব হবেই, হতেই হবে । কারন “ মুক্তি এখনো আসে নি , বিপ্লব অপেক্ষমাণ “ ।