ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

চারিদিকে চলছে নিজ নিজ সম্প্রদায়ের লোকদের জাহির করার অপচেষ্টা। অনেক আগে থেকেই চলছে ধর্মের নামে ক্রুসেড এবং ধর্মের নামে গোঁড়ামি। বলি হয়েই যাচ্ছে হাজারো নিরপরাধ মানুষ, যেখান থেকে রেহাই মিলছে না কোমলমতি শিশুদেরও । ধরা দিনের দিনের পর দিন অশান্ত হয়ে উঠছে । এখানে কোন ধর্মের লোকও নিরাপদ না ।কিন্তু কেন ? যেখানে সকল ধর্মের লোক সহাবস্থান করতে পারে সেখানে কেন এত অরাজকতা ।

মিডলইস্টে ইসরাইল আগ্রাসন চালাচ্ছে ফিলিস্তিন এর নিরীহ জনগণের উপর। এশিয়াই ভারত দম নিপিড়ন চালাচ্ছে কাশ্মির এর উপর। স্বৈরশাসন থেকে লিবিয়া, মিশর মুক্তি হলেও সিরিয়ায় রক্তপাত বন্ধ হওয়ার কোন উপলক্ষ নেই । মহাসমারোহে চলছে হত্যাযজ্ঞ। আর তাতে ইন্ধন দিয়ে চলছে রাশিয়া, চাইনা আর ইরান । কিন্তু ইরানের উপর খড়গ ঝুলছে আমেরিকা এবং ইসরায়েলের হামলা মোকাবিলা করার । নৈতিকভাবে এবং নিজেদের অধিকার বলে যেমন – ইসরাইল পরমাণু শক্তির অধিকারী ঠিক তেমনি পরমাণু অস্ত্র বানানোর অধিকার আছে ইরানের । কিন্তু বড় দাদা যে নাখোশ , উনাকে না জানিয়ে বা উনার কথার বাইরে তো কিছুই করা যাবে না । তার উপর যেটা ইসরাইল এর উপর হুমকি! তাছাড়া বর্তমান আমেরিকায় ক্ষেত্র বিশেষে ইসরাইল বলয়ের বাইরে এসে কারো পক্ষে কিছুই করা সম্ভব না । সেটা যেমন ওবামার ক্ষেত্রেও খাটে আবার রমনি হলে তো কথায় নেই । পোয়াবারো বলা যায় ইসরাইল এর জন্য । যাকে বলে লাইসেন্সে টু কিল ।

ফিলিস্তিন এর আগ্রাসন নিয়ে মুসলিম বিশ্ব আশ্বাস দেওয়া ছাড়া আর কিছুই করতে পারেনি। এক সৌদি আরব কথা বললে সমস্যাটা সমাধানে আসতে বাধ্য , কিন্তু তারা তো আমেরিকার পা চাঁটা কুত্তা । তারা কিভাবে ফিলিস্তিন সমস্যার সমাধানে আগ্রহী হবে ? আর এই দেশটি আবার মুসলিম বিশ্বের দাদা ! কিন্তু ইসলামের তথাকথিত তল্পিবাহকরা ইসলামের নামে পান থেক চুন খসলে ইসলাম নিয়ে মহা বিশারদ হয়ে পড়েন । যার ফলশ্রুতিতেই কোথাকার কোন আবাল নাকুলা বাসেলি আমাদের নবি কে নিয়ে কি বানাইছে তা নিয়ে সারা মুসলিম বিশ্বে শোরগোল তুলেছে। যেটার পরিনামে কয়েক শত মানুষের মৃত্যু আর অন্যান্য ধর্মের কাছে ইসলাম হেয় হওয়া । সারা বিশ্বে যে প্রতিবাদ হয়েছে তাতে কি লাভ হয়েছে? আমাদের নবীর মর্যাদা তো একটু কমে নাই । বিশ্বের অনেক দেশে জ্বালাও পোড়াও সহ আমাদের মত উগ্রপন্থী দেশে হরতালও হয়েছে , যদিও বা নিজেদের জোটের ক্ষেত্রে হরতাল শিথিল করে তাদের গোমর ফাক যে আছে তাই প্রমান করলো ইসলামি দলগুলো । আসল কথা হচ্ছে এসব দল গুলু ধর্মের নামে ফায়দা তুলতে বেশি সক্ষম ।

গতকাল বাংলাদেশের রামু তে যে বর্বর সহিংসতা ঘটে গেল তাতে ফায়দা কি হয়েছে তা আমার মাথায় আসছে না। ফেসবুকে কোরআন পোড়ানোর ছবি দেওয়াকে কেন্দ্র করে ৭টি মন্দির পোড়ানো হল, ৩০ টি দোকান ভাংচুর করা হল, প্রায় ১০০টি বাড়ি ধ্বংস করা হল _ কিন্তু ফলাফল কি ? ইসলামের জজবা দেখানো হল না কি ইসলাম সহিংস ধর্ম এটাই প্রমান করলো? এর আগেও একটি ভুল তথ্য কে কেন্দ্র করে মন্দির ভাঙ্গা হল ।

ধর্মের নামে এহেন অরাজকতা থামানোর সময় এসেছে। কিন্তু বার বার কেন ইসলামের উপর আক্রমণ? কেন আমাদের নবী নিয়ে বিধর্মীদের এত চুলকানি ? কিছু দিন পর পর কেন ইসলামের অবমাননা ? এটার কারন হতে পারে বিশ্বে ক্রমবর্ধমান ইসলামের অনুসারী দেখে ভীত হওয়া ।

শান্তির পায়রা কি উড়বে না? এর জন্য চাই কার্যকরী পদক্ষেপ যদিওবা বাক স্বাধীনতার এ সময়ে আইন করে কিছুই করা সম্ভব না । এর জন্য চাই ফিলিস্তিন, আফগানিস্থান, ইরান সমস্যার যৌক্তিক সমাধান । চাই ইসরাইল এর আগ্রাসন বন্ধ কল্পে সবার এগিয়ে আসা । চাই ফিলিস্তিন-ইস্রাইল দুই দেশের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান । দরকার সকল ধর্মের প্রতি ইতিবাচক ধ্যান ধারনা পোষণ । যার যার ধর্ম পালন করাতে যেন কোন সমস্যা না হয় ।

সারা বিশ্বে এহেন অরাজকতা বন্ধের জন্য দরকার সকল ধর্মের নেতাদের নিয়ে আন্তধর্মীয় সংলাপ আহবান করা যাতে কোন আবাল ধর্মের নামে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়াতে না পারে । দরকার গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া । একটাই কথা শান্তি চাই এবং সেটা হওয়া চাই সকল ধর্মের লোকদের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে। একটি বাসযোগ্য পৃথিবী চাই, যেখানে আমাদের পরিচয় হবে আমরা প্রথমেই মানুষ তারপরে আসবে কে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, কে ক্রিস্টিয়ান বা অন্য কোন ধর্মের ।

সবারই গলা ছেড়ে বলা উচিত – “ সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নেই “।