ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

 

মালাল ইউসুফজাই তোমাকে লাল সালাম । ধর্মীয় গোঁড়ামি থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য তোমার মত অগ্নিকন্যার জন্ম হোক যুগে যুগে । সমাজ থেকে সমাজে সবখানে ছড়িয়ে পড়ুক তোমার লড়াইয়ের আদর্শ ।

মালালা ইউসুফজাই , জন্ম পাকিস্তানে । বয়স মাত্র ১৪ বছর । যেখানে মানুষ পরিচয় মুখ্য না , এ বর্বরদের কাছে মুখ্য হচ্ছে ধর্মীয় গোঁড়ামি কে কতটুকু মানছে । কিভাবে ধর্মের নামে মানুষকে বন্দির শেকলে আটকানো যায় তা নিয়ে পাকিস্তানে নিরন্তর গবেষণা চলছে মনে হয় । সোয়াত উপত্যকায় এমনি এক গবেষণার ফসল ঘোষণা করলো অসভ্য , বর্বর, ধর্মের অপব্যাখ্যাকারী , গণ্ডমূর্খ তালেবানরা । মেয়েরা স্কুলে যেতে পারবে না , মেয়েদের শিক্ষার কোন দরকার নেই । অনেকে মেনে নিলেও এ হঠকারী আইন মানতে পারেনি মালালা । প্রতিবাদ করেছিলেন সম্ভাব্য সব উপায়ে । নিয়মিত লিখে লিখছিলেন বিবিসির উর্দু সংস্করণে । যার দরুন তালেবানদের রোষানলে পড়েছিল অনেক আগে থেকেই । তারপরেও থেমে থাকেনি মালালা । অনিশ্চিত গন্তব্য কিন্তু অদমনীয় মনোভাব নিয়ে লড়াই চলমান রেখেছিলেন সাথে ছিল বাবার আশীর্বাদ । কিন্তু যে স্বপ্নের স্কুলে পড়ে মালালা ধর্মান্ধদের সকল অপকর্ম থামাতে চেয়েছিলেন, যে শিক্ষার উপর ভর করে মেয়েদের মুক্তির স্বপ্ন দেখছিলেন সেই স্কুল থেকে ফেরার পথে তালেবাদের না কাঁপা হাতের বুলেটের শিকার হলেন ।

এ লেখা যখন লিখছি তখন মালালা জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে । পাকিস্তান থেকে লন্ডনে । অবস্থার খানিকটা উন্নতি হলেও আশঙ্কামুক্ত নয় এখনো । জানি না মালালা আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে কি না । দৃঢ় ভাবে বিশ্বাস করি এবং আশাবাদী মালালা ফিরে আসবেই কারন তার যে খুবই দরকার শুধু মাত্র পাকিস্তান নয়, বলা যায় বিশ্বের নানান প্রান্তে । যেখানে ধর্মীয় গোঁড়ামি আছে , যেখানে এখনো নারীরা নিগৃহীত হয় সেখানের জন্য । মালালারা মরে না মরে অমরত্ব লাভ করে যে , এটা বানীটা সবার কর্ণে প্রবেশ করুক , না হলে যে মুক্তি বিলম্বিত হবে ।

হুমায়ুন আজাদ স্যার বলেছিলেন- পাকিস্থানিরা গোলাপ ফুল নিয়ে আসলেও তাদের বিশ্বাস করবো না । আমি ক্ষমা চাচ্ছি কারন মালালাকে আমার বিশ্বাস করতে হয়েছে । মালালার জন্য বিরামহীনভাবে প্রাথনা করে চলেছি আমি । আমি দৃঢ়ভাবেই চাই সে ফিরে আসুক আমাদের সমাজে , এ ধরার বুকে । সে পরিবর্তনের দিশারি হওক সকল নারীর ক্ষেত্রে । হয়তোবা এই মালালাই দূর করবে পাকিস্থান থেকে সকল ধর্মান্ধদের , দূরীভূত করবে সকল কুসংস্কার , আসবে নারী মুক্তি তথাপি ধর্মীয় গোঁড়ামি ছাড়া পাকিস্তান । যেখানে সকল মতের মানুষের সমান মূল্য থাকবে । মানুষকে মানুষ হিসেবে বিবেচনা করা হবে । জানি না পরিবর্তন হবে কি না তবে আশাবাদী , আজ যে আন্দোলনের সুচনা হয়েছে হয়তোবা তার ফসল পরবর্তী প্রজন্ম ভোগ করবে । শুরু হওয়াটা খুভ ই জরুরি । আর তার শুরু মালালা ।

পাকিস্তান সরকার মালালার জন্য তেমন কিছুই করে নি শুধু মাত্র দায়সারা গোছের চিকিৎসা দেওয়া ছাড়া । আশা করি সরকার এবং সেনাবাহিনী এবং পাকিস্থানি মানবাধিকার কর্মীরা সোচ্চার হবেন , সোচ্চার হবেন সারা বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষেরা । আশা করি রুখে দাঁড়াবে বর্বর তালেবানদের বিরুদ্ধে । হয় মূলধারায় ফিরে আসুক না হলে দমন করা হওক কঠোর হস্তে । সময় হয়েছে প্রতিবাদ করার , সময় এসেছে এদের শেকড় উপড়ে ফেলার ।

তালেবানদের এই রমরমা অবস্থার জন্য সাম্রাজ্যবাদের ধারক ও বাহক আমেরিকা কোন অবস্থাতেই দায় এড়াতে পারেন না । তাদের ভ্রান্ত নীতির কারনে পাকিস্থান নামক দেশটির করুন হাল । যদিওবা এর জন্য দ্বি-জাতি তত্ত্বও কম দায়ী না । শুধু মাত্র পাকিস্থান না বরঞ্চ বলা যায় আফগানিস্থান ও এর বাইরে নয় । তাদের অন্তত অতীত কর্মকাণ্ডের জন্য সৌজন্যমুলক হলেও ক্ষমা চাওয়া উচিত , আর সকল ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে সাথে নিয়ে ধর্মান্ধদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা উচিত । আর হ্যাঁ ধর্মান্ধ শুধু মাত্র ইসলামেই সীমাবদ্ধ নেই , হিন্দু, খ্রিস্টান , বৌদ্ধ সকল ধর্মেই বিরাজমান আছে ।

পুনশ্চ – “জন্ম হওক যথা তথা কর্ম হওক ভালো”

কথা হওক সকল অরাজকতার বিরুদ্ধে, সবার পথ চলা হওক শুভ্রতার পানে ।