ক্যাটেগরিঃ দিনলিপি

 

বসে আছি আকাশ পানে চেয়ে, কালের পরিক্রমায় কখন বৃষ্টি নামবে, বজ্রপাত করছে, তবে কেন জানি আসি আসি করে বৃষ্টি আর আসে না । এক ফোটা বৃষ্টির জন্য অনন্তকাল অপেক্ষা , এত দিন পরে যখন বৃষ্টি আসবে তখন বৃষ্টি আর শুধু মাত্র বৃষ্টিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না । বৃষ্টির সাথে শিলা ছাড়াও দূর্বার শব্দ করে বিজলিও চমকাবে, বিকট শব্দে বজ্রপাত হবে । কাল বৈশাখী ঝড় ও বয়ে যেতে পারে,ঝড়ের বেগ বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। আবারো ঘর ছাড়া হয়ে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় লাভের আশায় একটু খানি জায়গা খুঁজবে সব হারানো মানুষ গুলো।

আমাদের আকাশে অবশ্য সব সময় ঝড়ের সম্ভাবনা থাকে, এই বুঝি ঝড় আসছে তার সর্বশক্তি দিয়ে ,অনেকবার ঠেকিয়ে দিলেও আর বুঝি থামানো যাবে না । এবার আসছে আরও অনেক বেশি শক্তি সঞ্চয় করে, এবারের পূর্ব আভাস খুবই ভয়ংকর । আর রেহাই নেই !

ঝড়ের সাথে আমরা পরিচিত অনেক আগে থেকেই , কিন্তু তার পরেও ঝড় থামানোর মত কোন আপদকালীন বা চিরস্থায়ী পদক্ষেপ আমরা নিই না , আমাদের ভাবখানা এমন যে জ্বলে পুড়ে মরে ছারখার তবু ও মাথা নোয়াবার নয়। তাই তো ঝড়কে হটিয়ে মাথা তুলে দাঁড়াবার নিরন্তর প্রচেষ্টা আমাদের । এই একবিংশ শতাব্দীতে এসে মানুষ যখন ঝড় থামানোর পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা করছে কিন্তু আমরা কিভাবে ঝড় বয়ে দেওয়া যায় সেটা নিয়ে নিরন্তর গবেষণা করে যাচ্ছি । ঝড়ে আমরা সবাই আক্রান্ত হলেও ঝড় তুলতে উম্মুখ হয়ে থাকি ।ঝড় তুলেই যাচ্ছি কারনে অকারণে , মেঘলা আকাশকে বৃষ্টিস্নাত করে তুলছি, ঝড়ের আভাস কে সাধারন মানুষের কাছে গিয়ে বলছি অনেকটা ইনিয়ে বিনিয়ে, সিগন্যাল ৫ নাম্বার থাকলে সেটা কে দশ নাম্বারে পরিনত করছি , এসব আয়োজন যেন ঝড়ের আগে ঝড়ের পূর্ব আভাস দেওয়ার চেষ্টা, যাতে জনগণ ভয়ে আতংকিত থাকে, তটস্ত থাকে । এ কাজে তারা দারুন ভাবে সফল, এখন ঝড়ের সময় তো দুরের কথা , ঝড়ের আগেও মানুষ ঘর থেকে বের হতে চাই না ।

ঝড় সব ধুয়ে মুছে দিলেও আমাদের ঝড়টা ঝড়ের পরেও অগ্নিমূর্তি ধারন করে থাকে , চারিদিকে থমথমে পরিবেশ বজায় থাকে , এবং এটা এখন সবারই জানা হয়ে গেছে ঝড় থেমে থেমে আবার শুরু হবে, আগে আমরা ছোট কালে বলতাম যখন বৃষ্টি বা ঝড় থামত তখন- বলতাম এখন থেমেছে সে শক্তি সঞ্চয় করার জন্য, একটু পরে আবার ফিরে আসবে তখন তার গতি আগের চাইতে অনেক বেশি হবে, আগে না বুঝে বললেও এখন সেটা বুঝেই বলি তাতে কোন ধরনের সন্দেহ নেই । যখনি ঝড়ের আভাস শুনা যায় তখন মা বাবা নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধান করত , বলে দিত বিপদের সময় কি কি করতে হবে। ১৯৯৮ সালের ঝড় তুফানে আমাদের ঘরের টিনের দু-চালাসম্পূর্ণ রুপে ভেঙ্গে পড়েছিল তার আগে অবশ্য পাশের বেড়ার ঘরে আশ্রয় নিয়েছিলাম, বেড়ার ফাঁকে দেখছিলাম মাঝে মাঝে কিভাবে আমাদের ঘরটা উড়ে যাচ্ছিল , খুব মন খারাপ হয়েছিল তখন কারণ কিছুদিন আগেই ঘরটা মেরামত করা হয়েছিল ।

কিন্তু এখন যে ঝড়টা আমাদের আকাশে আনাগোনা করছে তাতে সারা দেশই ধূলিস্যাৎ হয়ে যাবার সম্ভাবনা আছে । যারা ঝড় আনার পক্ষপাতি তারাও কিন্তু রেহাই পাবে না , যারা ঝড়ের ভয়ে লোকজনকে বের না হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন তারাও রেহাই পাবে না ।হয়তোবা ছিটে ফোটা লাগবে এদের গায়ে কিন্তু এই ছিটে ফোটা এক সময় বিকট আকার ধারন করে তার পতন ঢেকে আনবে ।

সারা দেশে এখন এখন অবশ্য মৃদু বা মাঝারি মানের ঝড় বয়ে যাচ্ছে,গতিপথ পাল্টাচ্ছে তবে সে থামছে না , বলা ভালো তাকে থামানোর কোন পদক্ষেপই গ্রহন করা হচ্ছে না । যারা ঝড় কে বাহাস দিচ্ছেন তারা থামতেই দিচ্ছে না , আজ এই বাহানা কাল অমুক বাহানা মোদ্দাকথা ঝড় চলমান থাকুক, তাতে না হয় কিছু মানুষ লাশ হবে, কিছু গাড়ি ভাংচুর হবে, কিছু ছেলেপেলের পরীক্ষা শেষ হতে আরও কিছু দিন সময় বেশি লাগবে , এ আর তেমন কোন তাৎপর্য বহন করছে না । সারাদেশে এখন গুম করার ঝড় বয়ে যাচ্ছে, গুপ্তহত্যার ঝড় বয়ে যাচ্ছে , আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নীতিবিরুদ্ধ কাজের ঝড় বয়ে যাচ্ছে , আদালত এ রিটের ঝড় বয়ে যাচ্ছে :আর এত ঝড়ের মাঝে সত্য বাবু মারা গেছেন সেই অনেক আগে । এখন আর কোনটা সত্য বা কোনটা মিথ্যা সেটা বিবেচ্য নয়, বিবেচ্য হচ্ছে মনিব কি চাই, ঠিক সে মত কাজ করে যাও ।

খাতির করেও যদি বলি এখনো সময় আছে ঝড় থামানোর কিন্তু তাতে কি কর্ণপাত হবে, মনে হয় না বরং ঝড় বয়েই যাক , দেখি কতজন থাকে শেষ পর্যন্ত , তখন বোঝা যাবে কে কত বেশি পারদর্শী ।

তবে খেলোয়াড়দের বলছি আপনি কতটুকু প্রস্তুত? আর যারা সাধারণ দর্শক তাদের কি কিছুই করার নেই ? আর কতকাল চুপ থেকে উপভোগ করবেন, নিজের কি ইচ্ছে করে না কোনদিন ঝড় থামাতে, আর কত দিন সাক্ষী হয়ে থাকবেন ?

যত তাড়াতাড়ি নিজের অবস্থা বুঝবেন না ততো দিন শিকার হতেই থাকবেন !