ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

 

‘ক্যান্সারের সঙ্গে বসবাস’ – মু. জাফর ইকবাল স্যারের এই লেখাটা পড়লাম। মনটা খারাপ হয়ে গেলো।  তবুও বিভিন্ন ভাবে নিজের মনকে ম্যানেজ করি। আশা করি, আশা দেই নিজের মনকে। যেভাবেই হোক ভাবতে চাই দেশটা আরো ভালোভাবে চলবে। মানুষ আরো মূল্যবোধ নিয়ে জীবনকে সামনে নিয়ে যাবে। স্যারের লেখাটা শুরু প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে।আমি শুধু এটা নিয়েই কিছু ভাবতে চাই।

প্রশ্ন ফাঁসের যেহেতু কোনো সরকারি রেকর্ড নাই তাহলে আমরা এটা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে যেভাবে  জানি  তাতে মনে করতে পারি যে প্রশ্ন বেরিয়ে যায়। কিভাবে? যে প্রশ্নের উত্তর সবাই জানে তা আর করার কি মানে আছে!

তবে সব কিছুরই যেমন কিছুটা প্রাপ্তির দিক থাকে এরও সেটা আছে।  আর সেটা হলো যে দেশের শিক্ষার হার বাড়ার সহজ পন্থা বাতলে দিয়েছে এই প্রশ্ন ফাঁস পদ্ধতি । যারা যে উদ্দেশ্যেই এটা করে থাকুক না কেন পরিসংখ্যানের দৃষ্টিতে কিন্তু দেশের শিক্ষার হার বেড়েই চলেছে। আর তাই দেশে লেখাপড়া জানা সংখ্যাটা বাড়ছে তা বলাটা একটা রেকর্ডেড সত্য বলে প্রমান থাকছে। তবে সত্যিকার যারা ভালো তারা কিন্তু ঠিকই পড়াশুনা করে এবং প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে কি হয়নি তা তারা বড় কোনো  ইস্যুই মনে করেনা। তবে মনটা তাদের কিছুটা খাপারতো হয়ই । আর যারা পাওয়া প্রশ্ন নির্ভর তারা আসলে স্কুলে আগেও পড়তো না আর এখনও পড়েনা বা পড়েনি ।  তারা একটা সংখ্যা মাত্র।  শিক্ষাহারের শতাংশের মানটা বাড়ানো ছাড়া এক্ষেত্রে  তাদের আর কোনো কন্ট্রিবিউশন নাই।

যদি আমরা কিছু বছর আগের কথা মনে করি তবে ভালোভাবেই মনে করতে পারবো সেই নকল সাপ্লাইয়ের সোনালী দিনের কথা ।  জানালা দিয়ে আপনজনকে  নকল পৌঁছে দিয়ে আবারো দেবার জন্য দেয়ালের পাশে চুপটি করে বসে প্রস্তুতি নিচ্ছে সেই পারফেকশনিস্ট।  হঠাৎ বাঁশির শব্দ। প্রানপনে দৌঁড়াচ্ছে সরবরাহকারী কাঁদা ভরা ধানক্ষেতের মাঝ দিয়ে।  আর পিছনে পিছনে দৌড়াচ্ছে লাঠি হাতে আনসার।  কিন্তু তার প্যান্টটা গোটাতে গোটাতে যাকে ধরবে সে তো হাওয়া। ওই প্যান্টটাই আনসারকে কখনো তার কাজে সাহায্য করতে পারলো না। এভাবেই কিন্তু অনেককে পাশ করানোর কৃতিত্ব আছে আমাদের। খোঁজ নিলেই দেখা যায় যে কি ছিল সেই লোকটির লক্ষ্য  আর কতোটাইবা যাওয়া হয়েছে তার। তবে ব্যাতিক্রমও কিছুটা থেকে যায়।  তাদের মাঝেও কেউ কেউ অনেক কিছু পেয়েও যায়।  তবে মনে হয় নগণ্যই তাদের সংখ্যাটা। সত্যিকারের এগিয়ে যাওয়াটা তারাই যায় যারা এসব নিয়ে ভাবেই না। যারা ভালো তারা ভালো সবসময় এবং এটা কোনো সময় বা পরিস্থিতির উপরে নির্ভরশীল নয়। আর যারা বিশেষ কোনো সময়কে ব্যবহার করে এগিয়ে যায় তারা কেউ কেউ হয়তো আত্মশুদ্ধির জন্য সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে নিজেকে সাহায্য করে।  আর অধিকাংশই  যারা পারার  নয় তারা সময়ের সাথে সাথে ঝরে যায়।

যা ঘটে চলেছে তাতে মন খারাপ করার মতো কারণ ছাড়া ভালো করার কোনো উপকরণ নাই। সব যা কিছু ভালোনা তাতো করে চলেছি আমরা বড়োরাই। হয়তো আমরা, নয়তো আমাদেরই মতো অন্য কেউ। আমাদের তাৎক্ষণিক কিছু লাভের জন্য ছোট করছি নিজেকে নিজের কাছে, নিজের আপনজনের কাছে, সবার কাছে। কিন্তু নিজেকে মূল্যায়িত করতে হবে নিজের কাছে। তারপরেই না ফিরে পাওয়া যাবে সেই সত্যিকারের নিজেকে।

তারপরেও আশার বিষয় যারা কিশোর তাদের সর্বোচ্চ সংখ্যকই  খুব মূল্যবোধ সম্পন্ন।  কিছু অংশ বিভিন্ন কারণে তা ভাবার মতো পরিবেশ পায় না।  তবে তারাও পারবে একদিন যদি আমরা আসলেই তাদের পারতে দিতে চাই। কারণ ছোটরা তো বড়োদের দেখেই নিজেদের চলার পথ ঠিক করে।  তারা দেখে তার পরিবারকে, আশপাশকে।  তারা কখনোই ভাবেনা যে তাদের এতো ভালোবাসার মানুষগুলি এই যে পথ চলছে তা কোনো কালিমাযুক্ত ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠা পেয়েছে, তারা তার পথ প্রদর্শককে সবসময় বিশ্বাসের সাথে  হিরোই ভাবতে চায়।

আর তাই মানুষ যেদিন নিজেই  নিজেকে মানুষ ভাবতে শিখবে তখন কাউকেই আর কিছু বলে বা করে দিতে হবেনা।  সবকিছুই যা সঠিক সেই নিয়মে চলবে।

 

আশা সবসময়ই বেঁচে থাকে এবং নিজেই মডারেটলি প্রতিভাত হয়।