ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

একটি গল্প মনে পড়িতেছে। একই সাথে তাহা এখানে বলিবার সংগত কারণও রহিয়াছে বলিয়া মনে করিতেছি। গল্পটা ঠিক কল্পিত নয়। নানা জায়গায় ঘুরিয়া তথ্য তালাশ করায় যখন আমার কাজ, সেই নিমিত্বেই দিন দু’য়েক আগে ইহাকে খুজিয়া পাইয়াছি। যাইহোক অত ভুমিকায় না যাইয়া গল্পটাই বলিঃ

সোমবার আমি ও আমার এক বন্ধু বাবলু গিয়াছিলাম যশোর সরকারি এম এম কলেজ ক্যাম্পাসে। সেখানে বাংলাদেশ ছাত্র ফ্রন্টের টেন্ডে বসিয়া আছি। কোন কাজ নিয়া যেহেতু যাই নাই, সেহেত রাজ্যের সমস্থ সমস্যার সমাধান দিবার দায়িত্ব লইয়া দুইজন মিলিয়া আলাপ জমিয়া দিয়াছি। এমন সময় আমার পরিচিত এক কমরেড সেখানে আসিয়া হাজির হইল। তাহাকে দেখিয়া মনে হইল সে বড়ই ক্লান্ত। কথা বলিয়া জানিতে পারিলাম, সে আমাদের মতো বসিয়া বসিয়া দেশ উদ্ধারের দায়িত্ব না নিয়া ময়দানে লড়াই বেশি যুক্তিযুক্ত বলিয়া মনে করিতেছে। এবং সেই কাজ করিয়া এই মাত্র আমাদের সহিত মিলিত হইতেছে। আড্ডাটা এবার দুইজনের পরিবর্তে তিনজনে জমিয়া উঠিল। আশুলিয়ার গার্মেন্টস কারখানায় কিভাবে শ্রমিকদের শ্রম শোষণ করা হইতেছে আর দেশের সরকার কেমনে সেই শোষণের কাজকে সহজ করিয়াদিতেছে পুলিশ বাহিনীকে ব্যাবহার করিতেছে তাহা নিয়া এক ফিরিস্তি আলোচনা হইয়া গেল। আলোচনায় আসিল মায়ানমারের দাঙ্গার বিষয়টিও। তবে আলোচনার বিষয়বস্তু যতই সমসাময়িক হোক না কেন, যদি সেখানে কোন চতুর্থ ব্যক্তি থাকিতেন তাহা হইলে তিনি সহজেই বুঝিতেন কতই অন্ত:সারশুন্য ছিল আমাদের মূল্যায়ন। যাইহোক এক পর্যায়ে আমরা আন্তজাতিক ও দেশ ছাড়িয়া আমাদের এম এম কলেজ নিয়েই কম্য শুরু করিলাম। সম্প্রতি ছাত্র লীগের দুইপক্ষের মারামারিতে কলেজ কয়েক দিন বন্ধ করিয়াছিল কতৃপক্ষ। এখন কলেজ খুলিয়াছে বটে। কিন্তু কোন বহিরাগত সন্ত্রাসীরা যেন ক্যাম্পাসে প্রবেশ করিতে না পারে সেই নিমিত্বেই কতৃপক্ষ বেশ কিছু কড়াকড়ি আরোপ করিয়াছে। তাহারই এক আইনে বিনাকার্ডধারী ছাত্রছাত্রীদের ক্যাম্পাসে প্রবেশে বাধা দেওয়া হইতেছে। বিষয়টি অনেক শিক্ষার্থীই জানিতেন না। তাই অযথা হয়রানির শিকার হইতেছেন। আমাদের তিন জনের যেহেতু কারোরই কলেজের পরিচয়পত্র নাই, সেহেতু বিষয়টি নিয়া আমাদের আগ্রহ অন্যের চেয়ে ঢের বেশি।

এখানে বলিয়া রাখি, এম এম কলেজের কার্ড আমার কোন কালেও ছিল না। বাবলুর কার্ডটি চার বছর আগেই হারিয়া গিয়াছে। প্রয়োজন হয় নাই বলিয়া আর নতুন করিয়া করা হয় নাই। আর আমাদের কমরেড সাথী বলিলেন, আমার কলেজের পরিচয়পত্র তিনবার হারিয়া গিয়াছে। দুইবার বিনামূল্যে (যদিও পয়সা দিয়ার নিয়ম রহিয়াছে) কলেজ থেকে কার্ড নিয়াছি। সর্বশেষ বার হারাইয়া গেলে জানিতে পারিলাম কলেজ থেকে প্লাস্টিকের কার্ড দিতেছে। টাকা লাগিবে ত্রিশটি। এ কথা শুনিয়া আর পরিচয়পত্র লওয়া হয় নাই। এ সময় বাবলু বলিয়া উঠিল, আমার কার্ড না থাকিলেও কোন সমস্যা হয় নাই। কারণ কলেজ গেটে আসিয়া একটা সিগারেট ধরিয়েছি। জলন্ত সিগারেট হাতে লইয়া গেট দিয়া প্রবেশ করিয়াছি। আমাকে দেখিয়া কিছু জানিতে চাওয়ার হয়তো সাহস দেখায়নি দারোয়ান। কথা শুনিয়া চরম বিস্বয় প্রকাশ করিল আমাদের কমরেড সাথী। বলিল, আমরা ক্যাম্পাসে রাজনীতি করি। ইচ্ছা করলে কোন কার্ড ছাড়াই কলেজে প্রবেশ করিতে পারি। কিন্তু নৈতিকতা বলে একটা কথা আছে। তাই আমরা কার্ডছাড়া জোর করিয়া কলেজে প্রবেশ করিতে পারি না। স্বপ্রনোদিত হইয়া সে আরো বলিল, আমার পরিচয়পত্রটি হারিয়া গিয়াছে। তাই আসার সময় ম্যাস্রে এক ছোট ভাইয়ের নিকট হইতে তার কার্ডটি চাহিয়া লইয়া আসিয়াছি। আমি কলেজে কিভাবে প্রবেশ করিয়াছি তাহা বলিবার প্রয়োজন হইলো না। কারণ অপর দুইজন হয়তো মনে করিয়াছিল আমি পেশাগত পরিচয় ব্যবহার করিয়াছি। কিন্তু তাহারা জানিতেও পারিল না তাহা আমার প্রয়োজন হয় নাই। হঠাৎ করিয়া আমার সাথীরা কেমন যেন থামিয়া গেল। মনে হইল দেশ উদ্ধার ও স্বাধীনতা যুদ্ধ তাদের সমাপ্ত হইয়াছে। বিপ্লবের পর যেমন হইয়া থাকে। বিদায় লইয়া গেটের বাহিরে চলিয়া আসিয়াছি। বাসার উদ্দেশ্যে সাইকেলের প্যাটেল মারিতেছি। মনে পড়িল সর্বশেষ আলোচনার বিষয়বস্তু। ভাবিতে লাগিলাম নৈতিকতার রঙ কী? চুরি! না ডাকাতি!