ক্যাটেগরিঃ প্রবাস কথন

 

কালচক্রে বিশ্বনিখিলে অবশ্যম্ভাবী পরিবর্তন নিয়ে সৃষ্টি ও সংহারের কঠিন বাস্তবতায় আসে দুঃখ-বেদনা, আসে উৎসব আনন্দ, আসে চার হাজার বছরের পুরনো রীতিরেওয়াজ অনুসারে- নববর্ষের উৎসব। পুরাতন বৎসরের জীর্ণতা ও ক্লান্তির অবসান ঘটিয়ে আসে নতুন দিন। জীবনে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনায়। বাংলা নববর্ষের এ দিনটিতে সবকিছু যেন আবার নতুন করে দেখা দেয়।

আসে পহেলা বৈশাখ। বঙ্গাব্দের প্রথম দিন। বাঙালির চিরন্তন ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় বর্ষবরণের আনন্দমুখর এদিন, আসে ব্যবসায়িক হালখাতার নবায়নের এদিন, আসে জীবনের নতুন স্বপ্নে সাজানোর এদিন। আসে অসাম্প্রদায়িক ও সর্বজনীন উৎসবের এদিন, বাংলাদেশে সরকারি ছুটির এদিন। খরতাপ উপেক্ষা করে গ্রীষ্মের তীব্র দাবাদহে পথেঘাটে, আনন্দমেলা, লাখো কোটি মানুষের প্রাণচাঞ্চল্যে ও উৎসব মুখরতার বন্যায় ভেসে যাওয়া এদিন। শাশ্বত শুচিশুভ্রতার বিগত বছরের জীর্ণ মালিন্যকে পেছনে ফেলে, নতুনের স্বপ্নে নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়ার এদিন।

নববর্ষ উৎসব স্বদেশে ও প্রবাসে বাঙালি জাতির ঐতিহ্যের অহঙ্কার। বাঙ্গালী সংস্কৃতির ধারাবাহিকতায় রাষ্ট্রীয়ভাবে ও সমস্ত প্রচারমাধ্যমে, যেমনঃ বিটিভি, বাংলাদেশ বেতার, বেসরকারি টিভি চ্যানেল, দৈনিক পত্রিকা ও অনলাইন মিডিয়াগুলোতে নববর্ষের বর্ণাঢ্য বিশেষ আয়োজন নিয়ে প্রচার-প্রচারনার বন্যা বয়ে যায়। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য অনুসারে বর্ষবরণ সঙ্গীতের আয়োজন হয়। রমনায় লাখো মানুষের ঢল নামে, বর্ণিল এক উৎসবে মেতে উঠে সারাদেশ। প্রবাসেও বাঙ্গালীর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে তুলে ধরার নতুন এক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন হয় নববর্ষের উৎসব উদযাপনের মাধ্যমে। বাংলাদেশকে একটি আত্মমর্যাদাসম্পন্ন গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক ও সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে তুলে ধরার সুযোগ আসে প্রতিবছর বৈশাখী উৎসবের মাধ্যমে। বাঙ্গালীর জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম আমাদেরর জাতিসত্তার সে ভাবের উন্মেষ জাগাবার প্রয়াস পেয়েছেন :

‘ওই নূতনের কেতন ওড়ে কালবোশেখীর ঝড়
তোরা সব জয়ধ্বনি কর
তোরা সব জয়ধ্বনি কর।’

বাংলা নববর্ষের আবাহনে মেতে উঠেছেন প্রবাসী বাঙ্গালীরা। সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলো উৎসব আয়োজনে মতোয়ারা । এ উৎসব আনন্দ বাঙালির জীবনে হাজার বছরের পুরনো। চৈত্রসংক্রান্তির নানা আয়োজনে পুরাতন বছরকে বিদায় জানানো হয় । আসে নতুন বছর সাড়ম্বরে- বাংলা নববর্ষ, এ পহেলা বৈশাখ- হাজার বছর ধরেই চলে আসছে, … পুরাতন বছরকে বিদায় জানিয়ে। গ্রামবাংলায়, কখনো সামাজিক, কখনো ধর্মীয়, কখনো বাণিজ্যিক, কখনো বা প্রশাসনিক কাজে ব্যবহারের জন্য প্রচলিত একটি পদ্ধতি ও সময়কাল হলো এ বাংলা বর্ষ পরিক্রমায় নতুনকে স্বাগত জানানোর আয়োজন চলে। সভ্যতা ও সমাজে তাদের নির্দিষ্ট চাহিদা উপযোগী করে তৈরী হয় এ বর্ষপুন্জি। সাধারণত দিন, সপ্তাহ , মাস, বছর এর নাম দিয়ে এ বর্ষপুন্জির ধারাবাহিকতা। একেকটি তারিখ, একেকটি পদ্ধতির মধ্যে একক, নির্দিষ্ট দিনের উপাধি, সূর্য বা চাঁদের চক্রের সঙ্গে সুসংগতি রেখে ( যেমন-বছর ও মাস হিসেবে) ক্যালেন্ডারের সময়কাল নির্ধারিত হয়ে আসছে ।

ঋতুবৈচিত্র্য, খাদ্যাভ্যাস ও ব্যবসায়িক লেনদেন, সবকিছুর সঙ্গেই রয়েছে বৈশাখের যোগসূত্র যদিও খ্রিস্টীয় ক্যালেন্ডারের অনেকটা দখলে চলে যায় বাঙালির চিরন্তন ঐতিহ্যের এ বর্ষবরণ, এখন খ্রিস্টীয় ক্যালেন্ডারে গননা করা হয়। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন এর পর থেকে সাল-তারিখের অনেক হিসেব । তারপর ও ঋতু হিসেবে বাঙালি এখনও বাংলা ক্যালেন্ডারই অনুসরণ করে থাকে। গ্রীস্ম,বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্তের হিসাব বাংলা মাস ধরেই গুনা হয়ে থাকে। এছাড়াও বাংলা সন-তারিখের সাথে আবহমান সংযোগ রয়েছে আমাদের কৃষি ও জাতীয় সাংস্কৃতিক জীবনে ’৫২ থেকে এ পর্যন্ত দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস, এবং ’ ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে সবকিছুই বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদকে উস্কে দিয়েছে এবং বাংলা সংস্কৃতির ধারাবাহিকতায় নববর্ষ উদযাপন এখন গ্রাম আর শহরে সীমাবদ্ধ থাকেনি, এমনকি সুদূর প্রবাসে ও এর ছোয়া লেগেছে। সারা বিশ্বে বাঙ্গালী অধ্যুশিত স্থানে বর্ষবরণের আনন্দে, জীবনের হালখাতার নবায়নে, নতুন স্বপ্নে সাজানো প্রবাসে ও নবজাগরণের উৎসবে মেতে উঠে দলমত নির্বিশেষে সকল বাঙ্গালী।

আমাদের সংস্কৃতির মর্মকথা ধর্মীয় আচারানুষ্ঠানের সাথে অনেকটা সংশ্লিষ্ট বলে অনেকে দাবি করেন। যদিও নববর্ষের উৎসবকে ঘিরে রয়েছে প্রায় আমাদের হাজার বছরের সাংস্কৃতিক ঐতির্হ্য। বাঙালির চিরন্তন ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় বর্ষবরণের আনন্দ। সৃষ্টি ও সংহারে যখন বিশ্বনিখিল আবর্তিত, প্রতিনিয়তই অবশ্যম্ভাবী কিছু পরিবর্তন, তাকে গ্রহণ করে এবং তাকে ঘিরেই শুরু হয় নববর্ষের উৎসব। দেশের সবচেয়ে বড় অসাম্প্রদায়িক এ সর্বজনীন উৎসবের এ নববর্ষ। অনেক রক্ষণশীল মানুষ মনে করেন বাংলাদেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান সম্প্রদায়ের ধর্ম তেমন একটা উৎসবমুখর নয়। তা সত্বেও বাঙ্গালীদের বিকাশমান বাঙ্গলা সংস্কৃতির আবাহ দেশে-বিদেশে ব্যাপকভাবে আলোড়িত হচ্ছে । ঐতির্হ্যগতভাবেই উদারপন্থী বাংলাদেশের মুসলমানেরা, কখনোই কট্টরপন্থি নয়, বাংলাদেশ এবং প্রতিবেশী ভারতে সনাতন ধর্মাবলম্ভী তথা হিন্দুদের বারো মাসে তেরো পার্বণ। মুসলমানদের মধ্যে ও এসব উৎসব- আনন্দ উপভোগের প্রবনতা ঐতিহ্যগত ভাবে লক্ষ্য করা যায়। জাত, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে বর্তমানে অনেক বড় পরিসরেই বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বাংলা নববর্ষ উৎসব পালিত হয়ে আসছে।

বাংলা ক্যালেন্ডারের উৎপত্তি ও ইতিহাস নিয়ে মতভিন্নতা থাকলেও এর সাথে তেমন কোন সংঘাত নেই অন্য কোন বর্ষপন্জির। উল্লেখ্য যে, হিন্দু ক্যালেন্ডার আদ্যিকাল থেকে ভারতে ব্যবহৃত যা lunisolar ক্যালেন্ডার বা সৌর ক্যালেন্ডার হিসেবে পরিচিত। অতীত থেকে বর্তমান সময়ের প্রক্রিয়ার মধ্যে এগুলোতে অনেক পরিবর্তন হয়েছে এবং আরো বিশিষ্টপূর্ণ দিক হলো যে আঞ্চলিক হিন্দু ক্যালেন্ডার যেমনঃ বাংলা ক্যালেন্ডার, নেপালি ক্যালেন্ডার, অসমিয়া ক্যালেন্ডার, মালায়ালম ক্যালেন্ডার, তামিল ক্যালেন্ডার, তেলুগু ক্যালেন্ডার, এবং কন্নড ক্যালেন্ডারে এগুলো অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। বিশ্বে ভারতীয় সংস্কৃতি বহু সংস্কৃতির বাহক। বাংলা ক্যালেন্ডারে মোঘল সম্রাট বাদশাহ আকবরের সময় তার এক ফরমান অনুযায়ী আমির ফতেউল্লাহ সিরাজী উদ্ভাবিত বাংলা ফসলি সাল বা বাংলা নববর্ষ পরিক্রমা চালু হয়। বাংলা ক্যালেন্ডারের উন্নয়ন ও বিকাশ রাজা গৌড় ও শশাঙ্কের আমল থেকে হয়েছে বলেও মত রয়েছে। সে হিসেব অনুযায়ী বাংলাদেশের জাতীয় বা সরকারী ক্যালেন্ডার পশ্চিমী ক্যালেন্ডারের পুন্জি অনুসারে ১৪ এপ্রিল অথবা ১৫ এপ্রিল তারিখে পহেলা বৈশাখ তথা বাংলা নববর্ষ ১৪২২ পালিত হবে। বাংলা ক্যালেন্ডার (বাংলা: বঙ্গাব্দ Bônggabdô বা বাংলা সন) উদযাপনে সকল খাজনা আদায়, নববর্ষ (পহেলা বৈশাখ), নতুন হিসেব খোলা বা হালখাতা, ব্যবসায়িক সম্পর্ক পুনর্জীবন দান, ভোক্তাদের সাথে মধুর সম্পর্ক স্থাপনের মতো অনেক রীতিনীতি ও সংস্কৃতিই পশ্চিমা সাস্কৃতিক আধিপত্যের দাপটে হারিয়ে যেতে বসেছে।

তবে সব অপ্রাপ্তিগুলোকে ভুলে গিয়ে, দেশে বিদেশে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচনের উষালগ্নে একটি গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক, আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ও সুখী-সমৃদ্ধ দেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়েই বাঙালি এবার পালন করবে বৈশাখী এবং আরো বিশিষ্টপূর্ণ দিক হলো যে আঞ্চলিক হিন্দু ক্যালেন্ডার যেমনঃ বাংলা ক্যালেন্ডার, নেপালি ক্যালেন্ডার, অসমিয়া ক্যালেন্ডার, মালায়ালম ক্যালেন্ডার, তামিল ক্যালেন্ডার, তেলুগু ক্যালেন্ডার, এবং কন্নড ক্যালেন্ডারে এগুলো অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। বিশ্বে ভারতীয় সংস্কৃতি বহু সংস্কৃতির বাহক। বাংলা ক্যালেন্ডারে মোঘল সম্রাট বাদশাহ আকবরের সময় তার এক ফরমান অনুযায়ী আমির ফতেউল্লাহ সিরাজী উদ্ভাবিত বাংলা ফসলি সাল বা বাংলা নববর্ষ পরিক্রমা চালু হয়। বাংলা ক্যালেন্ডারের উন্নয়ন ও বিকাশ রাজা গৌড় ও শশাঙ্কের আমল থেকে হয়েছে বলেও মত রয়েছে। সে হিসেব অনুযায়ী বাংলাদেশের জাতীয় বা সরকারী ক্যালেন্ডার পশ্চিমী ক্যালেন্ডারের পুন্জি অনুসারে ১৪ এপ্রিল অথবা ১৫ এপ্রিল তারিখে পহেলা বৈশাখ তথা বাংলা নববর্ষ ১৪২২ পালিত হবে। বাংলা ক্যালেন্ডার (বাংলা: বঙ্গাব্দ Bônggabdô বা বাংলা সন) উদযাপনে সকল খাজনা আদায়, নববর্ষ (পহেলা বৈশাখ), নতুন হিসেব খোলা বা হালখাতা, ব্যবসায়িক সম্পর্ক পুনর্জীবন দান, ভোক্তাদের সাথে মধুর সম্পর্ক স্থাপনের মতো অনেক রীতিনীতি ও সংস্কৃতিই পশ্চিমা সাস্কৃতিক আধিপত্যের দাপটে হারিয়ে যেতে বসেছে।

তবে সব অপ্রাপ্তিগুলোকে ভুলে গিয়ে, দেশে বিদেশে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচনের উষালগ্নে একটি গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক, আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ও সুখী-সমৃদ্ধ দেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়েই বাঙালি এবার পালন করবে বৈশাখী নবজাগরণের উৎসব…
বাঙালি ঐতিহ্যের অহঙ্কার ও আত্মআবিষ্কারের এ প্রক্রিয়ায় শামিল হয়েছে বাংলাদেশ হেরিটেজ এন্ড এথনিক সোসাইটি অব আলবার্টা (বেসা) সহ উত্তর আমেরিকা, অষ্ট্রেলিয়া, জাপান এবং মধ্যপ্রাচ্যের অনেক সংগঠন। ২৫ এপ্রিল কানাডার এডমোনটন সিটির প্লিসেন্ট ভিউ কমিউনিটি হলে বেসার অনুষ্ঠান শহরবাসী ও অভিববাসী বাঙ্গালীরা ভুলে যাবেন প্রবাসজীবনের সকল কষ্ট ও বঞ্চনার কথা। পান্তাভাত, ইলিশমাছ ভাজা, কাচামরিচ, সুটকীভর্তা, ডাল ও রকমারি দেশী পিঠা খাবারের সমারোহে ছোট্র একটি বাংলাদেশ হয়ে যাবে আয়োজনস্থল – শিশুকিশোরদের মনমাতানো নাচ গান আর বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের … অধীর অপেক্ষায় রয়েছে বাঙ্গালিরা।

সাংস্কৃতিক আবাহ তৈরীর প্রত্যয় নিয়ে নববর্ষ উদযাপন করবে বাংলাদেশ-কানাডা এসোসিয়েশন অব এডমোন্টন।
বাংলাদেশে শান্তি এবং সহনশীলতার সংস্কৃতি ও এর চর্চা করে বিশ্বের বুকে মাথা উচু করে দাড়াবার সময় ও সুযোগ এসেছে আমাদের। শান্তি সংস্কৃতি রক্ষায় বৈশ্বিক আন্দোলনে আমাদের ইতিহাস, ঐতির্য্য ও সমৃদ্ধ সংস্কৃতিই কেবল উল্লেখযোগ্য ভুমিকা রাখতে পারে। বিশ্ব যখন দুর্যোগের ঘন অন্ধকারে নিমজ্জিত, ছোট ছোট দেশগুলোতে চলছে সংঘাত সংঘর্ষ তখন রবী ঠাকুরের ভাষায় বলতে হয়-
নববর্ষ এল আজি
দুর্যোগের ঘন অন্ধকারে;
আনেনি আশার বাণী,
দেবে না সে করুণ প্রশ্রয়।
প্রতিকূল ভাগ্য আসে
হিংস্র বিভীষিকার আকারে :
তখনই সে অকল্যাণ
যখনই তাহারে করি ভয়। …
বিশ্বের ২১১ মিলিয়ন বাংলা ভাষাভাষি মানুষ গানে গানে আর ফুলে ফুলে, আলোর উদ্ভাসনে নতুনকে স্বাগত, অভ্যর্থনা জানাবে নববর্ষ, পাশাপাশি কানাডার আলবার্টা নিবাসী প্রবাসী বাঙ্গালীরাও। সমসাময়িক রাজনৈতিক ঘটনা প্রবাহে বিধ্বস্ত বাংলাদেশ । এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রায় নানাহ প্রতীকী অর্থে মুখোশ ও ফেষ্টুনে উপস্থাপন করা হবে বর্তমান সমাজকে। চলমান ঘটনার আলোকে এবার নববর্ষে ফুটে উঠবে রাজনৈতিক কালবৈশাখীর বিরুদ্ধে নিরব প্রতিবাদ। বাংলা নববর্ষ পালন নিয়ে আমাদের অতীত ঐতিহ্য সাংস্কৃতিক উৎসব যার মূলে বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রেরণা শত বিরূপতার মধ্যেও আমাদের স্বতন্ত্র অস্তিত্বরক্ষার প্রতীক হিসেবে ফুটে উঠবে। জীবনের পরিবর্তনে নববর্ষ নিয়ে আসবে সংহতি ও ঐক্যের বিশেষ অনুভূতি, আমাদের মনোরাজ্যে সৃষ্টি করবে সুখের উল্লাস। সকল সীমাবদ্ধতা ও সংকীর্ণতাকে দূর করে বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রেরণায় স্বদেশে ও প্রবাসে বাঙালি জাতির ঐতিহ্যের অহঙ্কারকে তুলে ধরবো আমরা। নববর্ষের প্রেরণা স্বতন্ত্র অস্তিত্ব রক্ষার প্রতীক হয়ে উঠবে আমাদের জীবনে । নববর্ষে এই শুভ কামনা। শুভ নববর্ষ!

লেখকঃ একজন মুক্তিযোদ্ধা, সভাপতি, বাংলাদেশ হেরিটেজ এন্ড এথনিক সোসাইটি অব আলবার্টা ও বাংলাদেশ প্রেসক্লাব অব আলবার্টা, সংবাদপত্রে নিয়মিত প্রবন্ধ, ফিচার ও স্তম্ভ লেখক। কানাডার এডমোনটন সিটি নিবাসী।