ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 
Pouro_Election_photo_003

বাংলাদেশে দলীয়ভাবে প্রথমবারের মতো স্থানীয় সরকারের অর্থাৎ পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। দেশের ২৩৪টি পৌরসভায় এ ভোট যুদ্ধ নিয়ে আশাবাদ ও শংকা উভয়ই ছিল জনগণ, বোদ্ধামহল ও দেশীবিদেশী পর্যবেক্ষকদের মাঝে। আশি ও নব্বই এর দশকে বাংলাদেশে মানবাধিকার সংগঠনের একজন সংগঠক হিসেবে স্বদেশ ত্যাগের পূর্বে আমি বেশ কটি নির্বাচনকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে পর্যবেক্ষনের সুযোগ পেয়েছিলাম. তৎকালে কুমিল্লা বার্ডের তদানিন্তন মহাপরিচাক সৈয়দ মার্গুব মুর্শেদ, মরহুম টিপু সুলতান, খায়রুল কবীর, ড. তোফায়েল আহমেদ সহ বেশকজন সন্মানিত অনুষদ এ নির্বাচনগুলো পর্যবেক্ষনের বিষয়ে আমাকে কটি প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজনে অনেক সহায়তা করেছিলেন। সময়ের ব্যবধানে এখন এধরনের প্রশিক্ষণ সংগঠন অনেক ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে, অন্যদিকে গণমাধ্যমগুলোর কাজের ব্যাপকতায় ও দেশে তথ্য প্রবাহ অনেক বেড়েছে, বেড়েছে ভোটের প্রবনতা, বেড়েছে জনসচেতনতা। এছাড়াও জনসংযোগে অনলাইন সামাজিক মাধ্যমগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকায় অবতীর্ন হয়েছে।

২০১৫ সালে কানাডার আলবার্টা প্রদেশের নেতৃত্বে একটি ঘটনাবহুল রেস এর পর ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে, পরিবর্তন এসেছে সকল স্থানীয় ও ফেডারেল নির্বাচনের ফলাফলে ও। উন্নত বিশ্বের একটি দেশের উদাহরন দেয়া সঙ্গত কারনেই এতে আমাদের নির্বাচন প্রবনতার কিছু মিল, অমিল খুজে পাওয়া যাবে। দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালে অনেক সময় সংশ্লিষ্ট নেতৃত্ব, তার দলীয় পদও আসন উভয় থেকে পদত্যাগ করেন. ২০০২ সাল থেকে কানাডার ভোট ব্যবস্থাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন রিসার্চ ফেলো বা ফ্যাকাল্টি মেম্বার হিসেবে আগ্রহ সহকারে পর্যবেক্ষন করছি। সে আগ্রহের অংশ হিসেবে বাংলাদেশে স্থানীয় সরকারের অর্থাৎ পৌরসভার নির্বাচনের উপর নজর ও আগ্রহ রয়েছে।

ইতোমধ্যে পৌর নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সব ভোট প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে ইসি। গণমাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী নির্বাচনে বিশটি দল অংশ নিয়েছে। এতে মেয়র পদে মোট প্রতিদ্বন্দ্বীর সংখ্যা ৯৪৫ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৮৫। অংশ নেয়া দলগুলোর মধ্যে আওয়ামী লীগ ২৩৪, বিএনপি ২২৩, এলডিপি ১, সিপিবি ৪, ওয়ার্কার্স পার্টি ৮, বিকল্পধারা ১, প্রগশ ১, জাতীয় পার্টি ৭৪ ও তরিকত ফেডারেশনের একজন প্রার্থী মেয়র পদে লড়ছেন। এছাড়া খেলাফত মজলিশের ৪, জাসদের ২১, বাসদের ১, এনপিপি ১৭, ন্যাপ ১, ইসলামী ঐক্যজোট ১, ইসলামী আন্দোলনের ৫৭, ইসলামী ফ্রন্টের ৩ ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির একজন নির্বাচনী মাঠে আছেন।

নিজের পছন্দের প্রার্থীকে নির্বিঘ্নে ভোট প্রদানে যাতে কোন সমস্যা না হয় এবং জঙ্গী হুমকির বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পদক্ষেপ নিচ্ছে ও বিষয়টি দেখভাল করছে। ইসি থেকে তাদের ওপর সব ধরনের নির্দেশনা রয়েছে। যা যা ব্যবস্থা নেয়া দরকার তারা সে বিষয়ে তারা কার্য্যকর ব্যবস্থা নেবে। প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করবে এটা একটা রেওয়াজ ও ঐতিহ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি সারাদেশে ২৩৪ পৌরসভায় নির্বাচনের জন্য ২৩ নবেম্বর তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমেদ। নির্বাচনে প্রার্থীদের যাচাই-বাছাই শেষে মেয়র, কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ১২ হাজারের বেশি প্রার্থী এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে ২০ রাজনৈতিক দলের মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন প্রায় সাড়ে ৬শ’ প্রার্থী । এ পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন ২৮৮ জন। বিএনপি ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে এরা পরিচিত ও এসব প্রার্থীদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থীও রয়েছেন। কাউন্সিলর পদে প্রার্থী রয়েছেন ৮ হাজার ৫৮৯ জন। সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থী রয়েছেন ২ হাজার ৫৩৩ জন। ৭২ লাখের বেশি ভোটার এ নির্বাচনে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। নৌকা বনাম ধানের শীষের জমজমাট ভোটযুদ্ধ প্রবাসী বাঙ্গালীদের মাঝেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা থাকলে ও প্রার্থীরা বসে নেই। শেষ মুহূর্তে প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ ও গণসংযোগ ছিল উৎসবমুখর ও চোখে পড়ার মতো। শেষ কদিন প্রার্থীরা উৎসাহ-উদ্দীপনা সহকারে ব্যস্ত ছিলেন যার যার প্রচার কাজে। ব্যস্ত ছিলেন একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগের তীর ছুড়তে। দেশে একেক সময় ক্লান্তিহীনভাবে ছুটে বেড়িয়েছি ভোট কেন্দ্র থেকে ভোট কেন্দ্রে, নির্বাচনী কার্যালয়, থেকে নির্বাচনী কার্যালয়গুলোতে…একজন প্রবাসীর চোখে এ নির্বাচনকে দেখবো বলে এসব প্রসঙ্গের অবতারনা।

নির্বাচনের দিন রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের প্রতিনিধিদের জন্য প্রধান কাজ হয় ভোটদান প্রক্রিয়া এবং ভোট গণনা পদ্ধতি সঠিকভাবে পালনের উপর দৃষ্টি রাখা. নির্বাচন পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন, বিচক্ষণতা, সাধারণ জ্ঞান, দূরদর্শিতা, এবং ভাল রায় দেয়ার ক্ষমতা. শুধু এই ধরনের গুণাবলীর অধিকারীই পারেন একটি নির্বাচন পর্যবেক্ষন করতে . ভোটকেন্দ্রে পর্যবেক্ষকদের তাদের নিজস্ব রাজনৈতিক দলগুলোর অথবা প্রার্থীদের প্রতিনিধি ও হতে পারে। সেক্ষেত্রে ইতিবাচক বা নেতিবাচক কর্ম, সরাসরি পার্টি বা প্রার্থী উপর প্রতিফলিত হয়। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হতে, বা তা নিশ্চিত করায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন পর্যবেক্ষকরা এবং নির্বাচনের উপর আইন থেকে এবং প্রবিধান থেকে উদ্ধৃতাংশ আছে সেগুলো নির্বাচনে রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণের পূর্বে সকলেরই জানা থাকা দরকার।

সরকারী পর্যায়ে ভোট শুরু থেকে নির্বাচন দিনে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হতে হয়ে, ভোট ফলাফল নথি লেখা এবং ভোট ফলাফল প্রটোকল অন একটি কপি পোলিং সেন্টারে পোস্ট করা পর্য্যন্ত অপেক্ষা. রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীর প্রতিনিধি একজন সাক্ষী এবং একটি মনিটর উভয় হিসাবে কাজ করেন. সে যা তিনি / সে নির্ধারিত হয় ভোটকেন্দ্রে নির্বাচন দিন যে ঘটতে ঘটনা সাক্ষী হয়. তিনি বা তিনি তা নিশ্চিত করার জন্য নির্বাচন প্রক্রিয়ায় একটি মনিটর যে, প্রজাতন্ত্রের নাগরিক পরিপার্শ্ব নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দলগুলোর সদস্যরা, এবং প্রার্থীদের অধিকার ভোগ করতে পারেন তা নিশ্চিত করা। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায়. ইসি হতে প্রতিটি প্রতিনিধি এবং নিবন্ধ আবেদন করতে পারেন তাদের সক্ষমতার বিষয়ে ইসির গাইড লাইন পালিত হওয়া আবশ্যক এ বাংলাদেশে কেন নির্বাচন পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন বোধ করা হয়? এবং রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের এবং সময় সময় আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের প্রতিনিধিদের ও আমন্ত্রন জানানো হয়। নির্বাচনে সমগ্র ভোটিং প্রক্রিয়ার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ. ভোটকেন্দ্রে তাদের উপস্থিতি, নির্বাচনের দিন, দেশের সব অঞ্চলে,• একযোগে নাগরিকদের রাজনৈতিক বৃদ্ধি পায়, যা নির্বাচনে পাবলিক আস্থাস্থাপন, মজবুত নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের;

• নির্বাচনের সময় একটি মুক্ত ও ওপেন পরিবেশ সৃষ্টি;
• ভোট এবং ভোট গণনা প্রসেসের সময় জালিয়াতির বা জালিয়াতি নিরুত্সাহিত করা;
• কোন প্রতারণামূলক কর্মকান্ড ও ইচ্ছাকৃতভাবে আইন লঙ্ঘন এবং প্রভাবাধীন থেকে তাদের প্রতিরোধের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ;
• অশালীনতা অসার বা ভিত্তিহীন অভিযোগের সুযোগ কমানো;

পর্যবেক্ষকদের অধিকার:
• ভোটার তালিকা প্রসঙ্গে জানা
• নির্বাচন কমিশনের সভায় পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য অনুমুতি লাভ;
• ভোটার ও ব্যালট বিতরণের দায়িত্ব পালন দেখা;
• অব্যবহৃত এবং অবৈধ ব্যালট বাতিল প্রক্রিয়া পালন করা, এবং ভোট পালন করা

গণনা প্রক্রিয়া
• ভোট ফলাফলে পরিপার্শ্ব নির্বাচন কমিশনের প্রোটোকলের সাথে পরিচিত.
• সংশ্লিষ্ট নির্বাচনের চেয়ারম্যান অনুমতি নিয়ে, প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা
কমিশন, উত্তর পাবেন এবং কমিশন সদস্যদের এবং যারা এর দৃষ্টি আকর্ষণ
আইন লঙ্ঘনের কোনো ক্ষেত্রে উপস্থাপন;

নির্দেশনা এবং রিপোর্টিং ফরম:
একটি নির্বাচনী পর্যবেক্ষক হিসেবে কার্যকরভাবে কাজ করতে নীচের উপদেশাবলী অনুসরণ করা এবং ফরম পূরণ করা দরকার
• পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে নির্বাচনী আইন সম্পর্কে জানা.
• ভোটকেন্দ্রে ভোটার তালিকা জনসাধারণের অবগতির জন্য ওনির্বাচনে প্রদর্শন করা হয় তা নিশ্চিতকরন যাতে ভোটারা এটা দেখতে পারেন.
• একটি পর্যবেক্ষক হিসাবে ACREDITED হতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকা দরকার

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীরা এনির্বাচনে মেয়র পদে অধিকাংশ আসনে জয়ী হয়েছেন। গণ মাধ্যম থেকে প্রাপ্ত ফলাফলে প্রকাশ ২৩৪ পৌরসভার মধ্যে রাত পৌনে ১টা পর্যন্ত ২১৯টির ফল পাওয়া গেছে।
এতে নৌকা প্রতীক জিতেছে ১৭২টিতে, বিএনপির প্রার্থীরা ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জয় পেয়েছেন ১৯টিতে।
>নির্বাচন কমিশনের দাবি ‘বিচ্ছিন্ন’ কিছু ঘটনা ছাড়া এ নির্বাচন ছিল শান্তিপূর্ণ।
>ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছে বিএনপি
>সুষ্ঠু নির্বাচন হচ্ছে না। পৌরসভা নির্বাচনে ২৫টি পৌরসভার ১৭৬টি কেন্দ্র থেকে জাপার এজেন্টদের মারধর করে বের করে দেওয়া হয়েছে। এমনকী কেন্দ্র দখলও করা হয়েছে-অভিযোগ জাতীয় পার্টির
>আওয়ামী লীগ ভোট নিয়ে সন্তোষ্ট

পর্যবেক্ষণে অংশ নেয়া প্রতিষ্ঠান: বাংলাদেশে পৌরসভা নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য মোট ২৯টি প্রতিষ্ঠানকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী এবার ফেমা, জানিপপ, ডেমোক্রেসি ওয়াচ, ব্রতীসহ মোট ২৯টি সংগঠনকে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কেন্দ্রীয়ভাবে সাতটি প্রতিষ্ঠানের ১৩০ জন পর্যবেক্ষককে, আর স্থানীয়ভাবে ২২টি প্রতিষ্ঠানের চার হাজার ৮৯ জন পর্যবেক্ষককে অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে কমিশন সচিবালয় সূত্র মিডিয়াকে জানিয়েছে. তবে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান এশিয়া ফাউন্ডেশনকে পর্যবেক্ষণের অনুমতি দেওয়া হয়নি। এরফলে এ নির্বাচনে কোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠান পর্যবেক্ষক হিসেবে থাকছে না। কমিশনের নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান অধিকারকে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে এবার পর্যবেক্ষণের অনুমতি দেওয়া হয়নি। আওয়ামী লীগ এর আপত্তি সত্বেও।মানবাধিকার সমন্বয় পরিষদ, ডেমোক্রেসি ওয়াচ, মানবাধিকার সমাজ উন্নয়ন সংস্থা, লাইট হাউজ, অধিকার, রাইস (যশোর), মানবিক সাহায্য সংস্থা,খান ফাউন্ডেশন, জাগরণী চক্র ও ন্যাশনাল ইয়ুথ ফোরাম পর্যবেক্ষণের অনুমতি দিয়েছে।

বাংলাশদেশের ২৩৪ পৌরসভায় একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ৭০ লাখ ৯৯ হাজার ১৪৪ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়েছেন ।এবারের পৌর নির্বাচনে দলীয় মার্কায় ভোট দেবেন ভোটাররা। তাই জাতীয় নির্বাচনের তাৎপর্য পেয়েছে স্থানীয় এ নির্বাচন এক কথায় ‘নৌকা’ ও ‘ধানের শীষে’র লড়াই।

গণমাধ্যমে সরাসরি কিছু অনিয়মের চিত্র ফুটে উঠেছে। যা রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও আইনী কঠোরতা থাকলে এড়ানো যেতো। বাংলাশদেশে উভয় পক্ষের কঠোর সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়েছে নির্বাচন কমিশনকে। সরকার ও বিরোধী দলের দাবির কাছে ইসি কখনও নতজানু, কখনও বা শক্ত হয়েছে। ইসি মন্ত্রী-এমপিদের নির্বাচনী এলাকায় প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে। উভয় দলকে নির্বাচনে রাখা ও একধরনের সফলতা। নির্বাচনে সহিংসতার কারণ বা আওয়ামী লীগের শিরঃপীড়ার কারণ দলের মধ্যে দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিদ্রোহী অর্ধশতাধিক প্রার্থী নির্বাচনে ছিলেন। এসব কারণে আওয়ামী লীগ বেশ কিছু পৌরসভায় আওয়ামী লীগ সংঘাত এ জড়ীয়এ যায়।

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় পৌরসভা নির্বাচন ২০১৫ একটি মাইল ফলক হয়ে থাকবে। পেশাধার গণমাধ্যম কর্মীদের উপর হামলা, মামলা ও হয়রানীর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিতে হবে এবং বিরুধী দলগুলোকে সুসম ও সমান সুযোগ দিতে হবে। কিছু সীমাবদ্ধতা সত্বেও বাংলাদেশের এ অর্জন প্রশংসনীয়।

লেখক : বাংলাদেশ প্রেসক্লাব সেন্টার অব আলবার্টা ও বাংলাদেশ হেরিটেজ মিউজিয়াম অব আলবার্টার সভাপতি এবং বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কানাডা ইউনিট কমান্ডের নির্বাহী সদস্য