ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

প্রবাসীদের জীবনের সবচেয়ে কঠোর ও কষ্টকর বাস্তবতা হলো স্বজন হারানো। স্বজনহীন বৈরী পরিবেশে হৃদয়কে বরফ চাপা দেয়া, আর দেশে স্বজনের মৃত্যুতে আসা ও দেখার সুযোগ থেকে প্রায়শঃ বঞ্চিত হওয়া। এই মাত্র সেদিন (গত ১৫ জানুয়ারী) সাসকেচুয়ান প্রদেশের সাস্কাতুন থেকে কবছর পর ঘুরে এলাম। অনেক ব্যথা আর স্মৃতি কাতরতায় ভরা সাসকেচুয়ানের দুই বছরের যাপিত জীবন। মানুষের জন্য হৃদয়ে রক্তক্ষরণের ঘা শুকায়নি এখনো, এরই মধ্যে নিন্মোক্ত ঘটনাটি আমাদেরকে স্তম্ভিত করে দিয়েছে।

 

liberal_001 externalimage2 BBoAw6A

কানাডার সাসকেচুয়ান প্রদেশের উত্তরাঞ্চলে লা লোচে নামক আদিবাসীদের একটি কমিউনিটি স্কুলে অতর্কিত ঢুকে গত শুক্রবার একজন বন্দুকধারী’র গুলি ছোড়ার ঘটনায় চারজন নিহত হয়েছে। এরমধ্যে লা লোচের ভারপ্রাপ্ত মেয়র কেভিন জেনেভিয়ার কন্যা মেরী- একজন ২৩ বছর বয়েসী স্কুলশিক্ষক, গুলিবর্ষনকারীর দুইভাই ও রয়েছেন বলে রয়টারকে রয়েল মাউন্টেন পুলিশ জানিয়েছে।

স্কুলে বন্দুক হামলা ও এ হত্যাকান্ডের এ ঘটনাটি গভীর দুঃখজনক ও বেদনাদায়ক। এখানে প্রতি মৃত্যুই পরিবারের জন্য হৃদয় ছোয়া। সাসকেচুয়ান প্রদেশের প্রতিটি মানুষের সাথে বাংলাদেশী কমিউনিটির সদস্যরা সমব্যথায় ব্যাথি। আমাদের হৃদয় নিঙরানো সহানুভুতি প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্থ ও শোকাহত পরিবারের জন্য। সংবাদে প্রকাশ, কমিউনিটি স্কুল ভরা ছাত্র শিক্ষকদের ভয়ার্ত চিৎকার হৃদয়ষ্পর্শি দৃশ্যের অবতারনা করে। সংক্ষিপ্ত ফেসবুক পোস্টে একজন সাসকাচোয়ান শিক্ষা কর্মকর্তা শুক্রবারের ঘটনা বর্ণনা করে লিখেছেন “আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন…”

এটি একটি প্রত্যন্ত অঞ্চল, লা লোচের পূর্ব তীরে প্রায় ৩০০০ মানুষের বসবাস। প্রদেশের প্রিমিয়ার ব্রাড ওয়াল এক শোক বার্তায় দুঃখ প্রকাশ করে একটি বিবৃতিতে বলেন এটি “ভয়ঙ্কর ঘটনা.”

অবশ্য এর আগে দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো জানিয়েছিলেন, গুলিতে পাঁচজন নিহত হয়েছে। গুরুতরভাবে আহত হয়েছে দুজন। পুলিশের কাছ থেকে এই তথ্য পেয়েছেন তিনি। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে…সুইজারল্যান্ডের দাভোসে সাংবাদিকদের কাছে প্রধানমন্ত্রী ট্রুডো জানান, গুলির ঘটনায় সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

জানা গেছে স্কুলটিতে প্রায় ৯০০ শিক্ষার্থী রয়েছে। কানাডা পুলিশের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রধানমন্ত্রী ট্রুডোর মতো আমাদের ও এঘটনায় সত্যি “হৃদয় ভেঙ্গে গেছে”! সত্য, ন্যায় আর সুন্দরের পথে রাজনীতিই কানাডিয়ান রাজনীতির বৈশিষ্ট। সন্ত্রাস আর সহিংসতার বিরোধী আমরা যা রাজনীতির বাইরে। কারন একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশে ৩০ লাখ বাঙ্গালীকে হত্যা করা হয়েছে কিন্তু এতোদিন এর কোন বিচার হয়নি। আর বিচারহীনতার সংস্কৃতি যে কতটা বেদনাদায়ক সে উপলব্দি আমাদের এখনো কুড়ে কুড়ে খায়। সম্প্রতি কানাডায় সরকার পরিবর্তন হয়েছে এ সরকার ধর্ম ও অপরাধকে আলাদা করে বিবেচনা করার চেষ্টা করছে। প্রবাসে বাংলাদেশী সম্প্রদায়ের মধ্যে বর্তমান পরিস্থতিতে সুদৃঢ় ঐক্য কাম্য এবং জঙ্গিবাদী হামলার প্রতিরোধে সব সম্প্রদায়, দেশ ও জাতিকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। বিগত নর্থ আমেরিকার মিলিয়ন লোকের মিলন মেলায় উপচেপড়া ভীড়ের মাঝে বাংলাদেশ পেভেলিয়নে -বাংলাদেশ হেরিটেজ সোসাইটির ব্যাপক সাফল্য ও সফলতা কামনা করতে ছুটে আসেন লিবারেল নেতা অমরজিত সুহি (যিনি বর্তমান সরকারের একজন প্রভাবশালী মন্ত্রী)

বাঙালিদের ঐতিহ্যকে আরো উজ্জ্বল করতে ও পূর্বপুরুষদের রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে প্রবাসে সংরক্ষণ করতে কানাডার মূলধারার সাথে আমাদের সংযোগ স্থাপন করার একটি উপায় হলো সন্ত্রাস ও সংহিংসতার বিরুদ্ধে আমাদের কঠোর অবস্থান গ্রহন ও সরকারকে সহযোগিতার হাত প্রশস্ত করা।

লেখক: দেলোয়ার জাহিদ, বাংলাদেশ প্রেসক্লাব সেন্টার অব আলবার্টা ও বাংলাদেশ হেরিটেজ মিউজিয়াম এর সভাপতি এবং বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, কানাডা ইউনিট কমান্ডের নির্বাহী সদস্য