ক্যাটেগরিঃ শিল্প-সংস্কৃতি

 

বায়ান্নের ভাষা আন্দোলন তথা একুশে ফেব্রুয়ারী বাঙালির জীবনে এক স্মরণীয় অধ্যায়। একুশে আমাদের গ্লানি আর আত্নপ্রবঞ্চণা বিমোচন নবায়নের দিন, একুশে স্বাতন্ত্রবোধকে জাগ্রত করার একটি দিন. সেদিন যাদের অসামান্য অবদানের জন্য আমরা আজ মাতৃভাষা (বাংলা)য় লিখছি, বলছি, প্রাণ খুলে হাসছি, আলোচনায় মাতছি, তাদেরকে স্বশ্রদ্ধ সালাম। একুশের ভাষা আন্দোলনে, স্বাধিকার রক্ষার লড়াইয়ে, অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন এ সকল ভাষাসংগ্রামী। অনেক অনেক বিস্তৃত ছিলো তাদের কাজের পরিধি। আর এর প্রতিটি ক্ষেত্র থেকে সফলতা তুলে আনতে বিশ্ব ব্যাপি প্রবাসী বাঙালিরা আজো উৎসাহি ও নিবেদিত প্রান।
একুশেতে এবারই প্রথম কানাডার এডমন্টন পাবলিক লাইব্ররীতে (অবর্টসফিল্ড)অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলা বইমেলা, ও ১৯ ফেব্রুয়ারী ইউনিভার্সিটি অব ম্যাকইউনে বহুসংস্কৃতির উপর একটি খোলা সঙ্গীতানুষ্ঠান সহ নানাবিদ আয়োজন।

গেলো বছর কানাডার আলবার্টা প্রদেশের কালচারাল এন্ড ট্যুরিজম মিনিষ্টার ও ম্যানিটোবা প্রদেশের বহুসংস্কৃতিবাদ ও স্বাক্ষরতা বিষয়ক মন্ত্রী বাংলাদেশ প্রেসক্লাব অব আলবার্টা (বিপিসিএ) এর সভাপতি বরাবর পৃথক পৃথকবার্তায় মায়ের ভাষা ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য সচেতনতা প্রসারে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে একটি মোক্ষম উপলক্ষ্য হিসেবে স্বাগত জানিয়েছিলেন। ভাষা সংরক্ষণ, মাতৃভাষার মান উন্নয়ন এবং গুরুত্বারূপ, আলবার্টাপ্রদেশের বৈচিত্র্য বৃদ্ধির জন্য অত্যাবশ্যক, যা চিরাচরিত ধারা ও আমাদের ঐতিহ্যকে আরো উজ্জ্বল করতে এবং পূর্বপুরুষদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ করতে, অতীতের সাথে সংযোগ স্থাপন করার একটি উপায়। এ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস. ভবিষ্যতের জন্য ভাষা সংরক্ষণ মাতৃভাষার প্রতি ক্রমাগত আগ্রহ সৃষ্টিতে অনুপ্রাণিত করবে. বহুসংস্কৃতি আমাদের প্রদেশের সাংস্কৃতিক পরিচয় সমৃদ্ধ করার উৎকৃষ্ট একটি উদাহরণ- হবে এসব উদ্যোগ।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনে অংশগ্রহণকারী সবাইকে কানাডার বাংলাদেশ প্রেসক্লাব অব আলবার্টা ও বাংলাদেশ হেরিটেজ মিউজিয়াম এর পক্ষ থেকে উষ্ণ সম্ভাষণ জানানো হয়েছে। মায়ের ভাষা ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য সচেতনতা প্রসারের একটি সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে উত্সাহিত করার জন্য সকল সহযোগি আয়োজকদের ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা. জানিয়ে ভাষা সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যত প্রজন্মকে জানাতে এবং এর প্রশংসা করার জন্য একেকটি সংস্কৃতি প্রচার করার জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী উপায়. বহুসংস্কৃতিকে উত্সাহ দান এবং তা পালন ও চর্চা করা। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মাধ্যমে, জ্ঞান লাভ এবং সম্মান প্রদর্শন দ্বারা আমাদের সচেতনতা বাড়াতে একটি সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে. মাতৃভাষা এতে বৈচিত্র্য আনবে তা আমাদের দৃঢ় আশা আলবার্টা, ম্যানিটোবা ছাড়া আরো ৮টি প্রদেশ ও ৩টি টেরেটরিস এর রাজনৈতিকনেতৃবৃন্দ এবং জনগনকে পর্যায়ক্রমে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মূলভাবের সাথে সম্পৃত্ত করার ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ প্রেসক্লাব অব আলবার্টা ও বাংলাদেশ হেরিটেজ মিউজিয়াম অগ্রভাবে সুনির্দ্দিষ্ট কিছু কর্মসুচী নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে.. বাংলাদেশ প্রেসক্লাব (বিপিসিএ) এ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের উপর গত বছর একটি তথ্যমূলক ওয়েবসাইট চালু করেছে- (http://motherlanguageday.ca/) যা একটি সাংস্কৃতিক আন্দোলনের তথ্যসূত্র হিসেবে কাজ করছে।

প্রবাসে বসবাসরত নতুন প্রজন্মের বাঙালির কাছে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরার জন্য আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবস উদযাপন উপলক্ষে ইউরোপ, নর্থ আমেরিকা, অষ্ট্রেলিয়া সহ নানা দেশে ব্যাপক প্রস্তুতিমূলক কাজ চলছে।

সম্প্রতি জাতিসংঘ সদরদপ্তরের সামনে ডাচ বাংলা ব্যাংক আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা শীর্ষক এক ভাস্কর্য স্থাপন করা হলো ।এটি স্থাপনের মধ্য দিয়ে প্রবাসে বাঙালির জাতীয় জীবনে সংযোজিত হলো আরো এক নতুন অধ্যায়ের। অর্জিত হলো আন্তর্জাতিক গৌরব ও সাফল্যের এক নতুন সূচক। মুক্তধারা ফাউন্ডেশন ও বাঙালির চেতনা মঞ্চের উদ্যোগে ম্যানহাটানের ফার্স্ট অ্যাভিনিউ ও ৪৭ স্ট্রিটের কর্নারে মাসব্যাপী এই ভাস্কর্যটি স্থাপন করা হয়েছে।

অনুজতুল্য সাংবাদিক শওগাত আলী সাগর ফেব্রুয়ারি মাসকে ‘বাংলা হেরিটেজ মাস’ হিসেবে স্বীকৃতির দাবি জানিয়েছেন, তার ভাষায় “একুশকে বলি শেকড় খোঁজার মাস। বাঙালীর জন্মের ইতিহাসের আঁতুরঘর যেন এই ফেব্রুয়ারি। দেশে কি প্রবাসে, ফেব্রুয়ারি এলেই আমরা বাঙালী হওয়ার তীব্র প্রতিযোগিতায় মেতে উঠি। কতো অনুষ্ঠান, কতো আয়োজন। প্রবাসের বৈরীতা, সীমাবদ্ধতা কোনো কিছুই আমাদের গতিকে থামাতে পারে না। কিন্তু আমাদের গতিটা কোনদিকে ধাবিত?

সে প্রশ্ন নিয়েই শুরু করতে চাই…১৯৬৪ সালের ৪ঠা নভেম্বর জাতিসংঘের শিক্ষা ,বৈজ্ঞানিক ও সাংস্কৃতিক সংস্থা ইউনেস্কো’র সাধারণ সম্মেলনে আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক সহযোগিতার মূলনীতি ঘোষিত হয়। এ ঘোষণার মাধ্যমে মানবজাতির বুদ্ধিবৃত্তিক ও নৈতিক সংহতির ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত। সংবিধান ছাড়াও সংস্কৃতির ব্যাপক আশ্লেষ, ন্যায়বিচার, স্বাধীনতা এবং শান্তি, মানবতার শিক্ষা, মানুষের মর্যাদাকে প্রতিষ্ঠা করা, সন্মান প্রদর্শনের অপরিহার্যতাকে তুলে ধরা সহ সমস্ত জাতির পারস্পরিক সহায়তা ও উদ্বেগের উপর গুরুত্বারূপ করা হলো এ ঘোষণার মূল কথা।

এর আলোকে প্রবাসে আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক সহযোগিতার বিষয়ে আমাদের অনেককিছুই করণীয় রয়েছে। যার ভিত্তি হতে পারে- একুশে। বাংলাদেশের জন্য আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক সহযোগিতা জোরদার করা খুবই তাৎপর্যবহ এবং একে প্রতিটি রাষ্ট্রের কাছে তুলে ধরার ও বাহন হতে পারে একুশে. সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের জন্য দায়ীত্বশীল সরকার,কর্তৃপক্ষ, সংগঠন,সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান ক্রমাগত একটি নীতির দ্বারা পরিচালিত হতে পারে। এ উদ্দেশ্যে আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক সহযোগিতা ও এর মূলনীতির আলোকে শিক্ষা, বৈজ্ঞানিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক বিষয়ে রাষ্ট্রীয় নীতিমালা প্রনীত হতে পারে। তাহলে আন্তর্জাতিকভাবে (দেশে দেশে) সাংস্কৃতিক দূরত্ব কমে আসবে। সাংস্কৃতিক সংঘাতের পরিবর্তে সহনশীলতা ও বৃদ্ধি পাবে।

সাংস্কৃতিক সহযোগিতার মাধ্যমে একে অপরের প্রতি তাদের জ্ঞান এবং দক্ষতার বিনিময় করা উচিত,যা সব মানুষের এবং সব জাতির জন্য একটি অধিকার ও দায়িত্ব…কানাডা একটি সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পন্ন বড় দেশ। সৃজনশীল ও প্রতিভাবান মানুষ দ্বারা পূর্ণ এ দেশ! যারা বছরে $৪৬ বিলিয়ন উৎপন্ন করে এবং ৬,৩০,০০০ এর উপর লোক এখানে কাজ করে। কানাডিয়ান সংস্কৃতি কানাডার অর্থনীতিকে পূর্ণ সমর্থন করে। আর এ সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে বাংলাদেশের মতো অনেক দেশের সম্মিলিত সংস্কৃতির লোকজনের সমন্বয়ে।

বাংলাদেশ হেরিটেজ এবং এথনিক সোসাইটি অব আলবার্টা (BHESA) বাংলাদেশি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে কানাডার আলবার্টা প্রদেশে বেশ সফলতার সাথে তুলে ধরেছে। বাংলাদেশী স্টুডেন্টস এসোসিয়েশন অব আলবার্টা ইউনিভার্সিটি (BSAUA) বাংলাদেশী ছাত্রদের একটি সামাজিক, সাংস্কৃতিক নিবন্ধিত সংগঠন । এর কার্যক্রম ও বাংলাদেশী ছাত্রদের সমষ্টিগত কল্যাণের জন্য। বাংলাদেশ কানাডা এসোসিয়েশন অব এডমন্টন ( BCAE ) বাংলাদেশী অভিবাসীদের নিয়ে কাজ করে এর রয়েছে সাংস্কৃতিক সামাজিক ও অলাভজনক কাজের দীর্ঘ ঐতির্হ্য । বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব কালগেরী (BCAOC) ১৯৬৪ সালে এর যাত্রা শুরু। কানাডায় মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে টেলিভিশনে (১৯৭১ সালে) স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় বলিষ্ট ভুমিকা রাখে। স্বাধীনতাযুদ্ধকালীন ও পরবর্তী সময়ে এখানে মাইগ্রেট করতে বাঙ্গালীদের তা অনেক সাহায্যে এসেছে। এ এসোসিয়েশন ও প্রবাসে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে অনেক উজ্জ্বল করেছে। বাংলাদেশি কমিউনিটি অ্যাসোসিয়েশন অব সাস্কাচেওয়ান (বিকাশ)আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদ্যাপন উপলক্ষে স্বীয় প্রদেশে প্রশংসনীয় কাজ করছে।

গত জুলাই ৮, ২০১৫ কানাডার টিভি চ্যানেল ‘সিটিভি এডমন্টন মর্নিং লাইভ’ এ বাংলাদেশ হেরিটেজ এবং জাতিগত সোসাইটি এর এডমন্টন হেরিটেজ ফেস্টিভালে অংশ গ্রহন উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠান সম্প্রচার করে। এতে অংশ নেন সভাপতি দেলোয়ার জাহিদ, উপদেষ্টা ডঃ হাফিজুর রহমান, ও জুলফিকার আহমেদ ।

হেরিটেজ উত্সবের মূলভাবকে সমুন্নত করতে বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির কথা তুলে ধরেন দেলোয়ার জাহিদ, ‘বাংলাদেশ হেরিটেজ ম্যাগাজিন’ প্রকাশের কথা এবং এতে কানাডার মহামান্য গভর্নর জেনারেল ডেভিড জনস্টন, প্রধানমন্ত্রী , আলবার্টা প্রদেশের প্রিমিয়ার এর সাফল্য কামনা করে বার্তা পাঠানোর তথ্য দেন। ডঃ হাফিজুর রহমান ও জুলফিকার বাংলাদেশী পাকুড়া তৈরীর পাক প্রনালী সরাসরি শোতে দেখান।

সিটিভি এডমন্টন মর্নিং লাইভ এর উপস্থাপক ব্রান্ট পুসকারেনকো জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানটি উপস্থাপন করেন। উল্লেখ্য, প্রতি বছর এ উত্সবে ৩৫০ হাজার এর উপর দর্শক উপস্থিত হয় এবং নর্থ আমেরিকার একটি বড়মেলা হিসেবে তা পরিচিত। এডমন্টন উইলিয়াম হাউরিলক পার্কে আগস্টের দীর্ঘ ছুটির দিনে (১ম, ২য় ও ৩য়) সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বৈচিত্র্য নিয়ে এ দিবসটি সংগঠিত হয়. ১৯৭৬ সাল থেকে এডমন্টন হেরিটেজ ফেস্টিভাল এসোসিয়েশন এ উত্সব আয়োজন করে আসছে। এডমন্টন হেরিটেজ ফেস্টিভালে মানুষ তাদের সাংস্কৃতিক শিকড় এবং স্থানীয় ও জাতীয় সম্প্রদায়গুলোকে উপস্থাপন করে। তিন দিনের এ মেলায় প্রায় ৬০টি তাঁবুতে ৮৫ এর বেশি সংস্কৃতির মানুষ তাদের দেশীয় ঐতিহ্যকে তুলে ধরবে. যার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম।। সাংস্কৃতিক উপস্থাপন ছাড়াও সুস্বাদু খাদ্য, দর্শকদের জন্য কারুশিল্প, শিল্পকলা ও পণ্য, এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়ে থাকে।

কানাডা সরকারের বর্তমান অবকাঠামো ও সম্প্রদায়গুলোর মন্ত্রী অমরজিৎ সুহি গত বছর তার দলের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে এসেছিলেন এডমন্টন হেরিটেজ ফেস্টিভাল বাংলাদেশ পেভিলিয়নে। সুহি ২০১৫ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং অবকাঠামো ও সম্প্রদায়গুলোর মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। বাংলাদেশ কানাডার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বেশ উচ্চতায় অবস্থান করছে।

বাংলাদেশের সংস্কৃতি স্বদেশের গন্ডি পেরুয়ে প্রবাসে ও তার স্থান দখল করে নিয়েছে। নিবন্ধিত, অনিবন্ধিত এমন সংগঠনের সংখ্যা প্রবাসে নিতান্ত কম নয়, তবে স্থানাভাবে তাদের সকলের কথা এখানে তুলে ধরা সম্ভব না হলেও তাদের প্রয়াসকে অবশ্যই ধন্যবাদ দিতে হয়। বাংলাদেশের মানুষের জীবনের পথ বিবর্তিত সামাজিক গোষ্ঠী,সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য,বাংলার ১৯ হাজার রেনেসাঁ এবং ২০ শতাব্দীর বাংলা লেখক,বিজ্ঞানী,গবেষক,সঙ্গীত,চিত্রশিল্পী এবং চলচ্চিত্র প্রস্তুতকারকদের তথা চিন্তাবিদদের এ সংস্কৃতির উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকার প্রশংসা করতে হয়। বাংলার রেনেসাঁ একটি জায়মান যাতে রাজনৈতিকভাবে জাতীয়তাবাদের বীজ রয়েছে এবং আধুনিক ভারতীয় শৈল্পিক ও সাংস্কৃতিক বিপ্লবের পূরোধা বলা চলে বাঙ্গালীদের। বাংলাদেশের সংস্কৃতি যৌগিক, শতাব্দী ধরে ইসলাম, হিন্দু, জৈন, বৌদ্ধ এবং খ্রিস্টান প্রভাব এতে সম্পৃক্ত করেছে। শিল্প নৈপুণ্য ও লোকাচারবিদ্যা এবং ভাষা ও সাহিত্য ;দর্শন ও ধর্ম ; উৎসব ও তা পালনের মধ্যে এ সংস্কৃতি বিকশিত হয়েছে এবং এর মাধ্যমে মানবজাতির বুদ্ধিবৃত্তিক ও নৈতিক সংহতির সাথে একাত্ম হয়েছে বাংলাদেশের সংস্কৃতি। এ সংস্কৃতির ব্যাপকতা ন্যায়বিচার, স্বাধীনতা, শান্তি, মানবতার শিক্ষা ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে আমাদের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শরীক করেছে। এ নৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক ধারাকে অব্যাহত রাখতে প্রবাসে ঐক্যব্দ্ধ ও সমন্বিত ভাবে আমাদের সকলকে কাজ করতে হবে।

লেখক: দেলোয়ার জাহিদ, বাংলাদেশ প্রেসক্লাব সেন্টার অব আলবার্টা ও বাংলাদেশ হেরিটেজ মিউজিয়াম এর সভাপতি এবং বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, কানাডা ইউনিট কমান্ডের নির্বাহী সদস্য
ফোনঃ ১ (৭৮০) ২০০-৩৫৯২ এবং (৭৮০) ৭০৫-০১১৭…