ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

ব্রাসেলসের বিমানবন্দর ও মেট্রো স্টেশনে সম্প্রতি যে বর্বর, উগ্র ও কাপুরুষোচিত হামলার নগ্ন শিকার হয়েছেন শতাধিক অসহায়, নিরপরাধ ও নিরস্র মানুষ তাদের প্রতি সমবেদনা। এই সন্ত্রাসী হামলায় শান্তির শহর বলে খ্যাত ব্রাসেলসের জনজীবন বিপর্যস্ত। সংবাদসূত্রে প্রকাশ, জোড়া এই হামলায় অন্তত ৩৪ জন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন প্রায় দুই শতাধিক। এ ঘটনার পর পর বেলজিয়ামে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে. বিশ্বনেতারা এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন . জাতি-ধর্ম-বর্ণ-সীমানানির্বিশেষে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রয়োজনীয়তাকে নতুনভাবে সামনে তুলে এনেছেন তারা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা কিউবা থেকে বলেছেন, ‘জাতীয়তা-বর্ণ-ধর্মবিশ্বাসনির্বিশেষে আমাদের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। বিশ্বজুড়ে যারা মানুষের নিরাপত্তার প্রতি হুমকি সৃষ্টি করছে, আমরা তাদের পরাজিত করতে পারি; তাদের পরাজিত করবই।’. সন্ত্রাসী হামলার হুমকি সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করেছে বেলজিয়াম সরকার। কার্যতঃ সরকার সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করেছে।

প্যারিস হামলার অন্যতম সন্দেহভাজন সালাহ আবদেসালামকে ব্রাসেলস থেকে গ্রেপ্তার করার পুলিশি অভিযানের চার দিনের মাথায় এই বিস্ফোরণ ঘটল। এটা প্রতিশোধ মূলক কিনা ভেবে দেখার বিষয়। এছাড়া ও লন্ডন, প্যারিস, ফ্রাঙ্কফুর্ট, আমস্টারডাম সহ বড় বড় শহরগুলোর বিমানবন্দর, সীমান্ত ও বন্দরগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি আটলান্টিকের ওপারে নিউইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেস, ওয়াশিংটনসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরের জনবহুল এলাকা ও রেলস্টেশনগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে । যুক্তরাজ্য বেলজিয়াম ভ্রমণে তাদেষ নিজেদের নাগরিকদের সতর্ক করেছে।

হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন বলেছেন, জড়িতদের অবিলম্বে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ বলেন, ‘পুরো ইউরোপের ওপরই আঘাত করা হয়েছে।’
ব্রিটিশ মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন বলেন, ‘আমরা এই সন্ত্রাসীদের কখনোই জিততে দেব না।’ব্রাসেলস হামলার নিন্দা জানিয়েছেন পোপ ফ্রান্সিস ও ইইউর পররাষ্ট্রনীতি-বিষয়ক প্রধান ফেডারিকা মোঘারিনি সহ অনেক বিশ্ব নেতৃবৃন্দ। দুটি বিস্ফোরণে লোকজনের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় তারা দিগ্বিদিক ছুটতে থাকে। বিস্ফোরণে লোকজনের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

দেশে বিদেশে সংবাদপত্রের পাতা জুড়ে এ বিভৎস্যতার খবর, ইলেকট্রনিক্স সংবাদ মাধ্যমগুলো ও তৎপর। আতঙ্কের স্পন্দন যেন সাড়া বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। আর সন্ত্রাসীরা তা’ই চায়! মানুষকে ভীত সন্ত্রস্ত করতে চায় এরা। বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী মিচেল জাতীয় টেলিভিশনে ঘোষণা করেন, ‘আজ সকালে জাভেনটাস বিমান বন্দর ও মালবিক মেট্রো স্টেশনে দু’টি ‘অন্ধ, উগ্র ও কাপুরুষোচিত’ হামলা ঘটেছে। তিনি বলেন, হামলায় অনেকে হতাহত হয়েছে। অনেকের আঘাত মারাত্মক…

বেলজিয়ামবাসীর শোকে আমরা আন্তরিক সংহতি প্রকাশ করছি। জাতি-ধর্ম-বর্ণ-সীমানানির্বিশেষে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বাংলাদেশ, কানাডা এক কাতারে। বিশ্বব্যাপি সতর্কতা ও ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস ছাড়া সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলা মোটেই সম্ভব নয়। তাই এ হামলার নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদের নেই। ‘এটা শুধুই বেদনার; শুধুই ঘৃনার, শুধুই লজ্জার, এবং শুধুই তিরস্কারের!

বিশ্বজুড়ে যারা মানুষের নিরাপত্তার প্রতি হুমকি সৃষ্টি করছে তাদের কে চিহ্নিত করতে আর কোন দ্বৈত নীতি নয়, ভালো সন্ত্রাসী, আর খারাপ সন্ত্রাসী নয়, তাদের পরাজিত করতে সর্বসম্মত বৈশ্বিক নীতি প্রণয়ন প্রয়োজন তা হলেই তাদের সত্যিকার অর্থে পরাজিত করা সহজ হতে পারে।’

লেখক: বাংলাদেশ প্রেসক্লাব সেন্টার অব আলবার্টা ও বাংলাদেশ হেরিটেজ মিউজিয়াম-এর সভাপতি এবং বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, কানাডা ইউনিট কমান্ডের নির্বাহী সদস্য।

slide