ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

বঙ্গবন্ধু কন্যা ও বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব শান্তির অগ্রদূত শেখ হাসিনা জাতিসংঘ ৭২তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দেবেন। সারা বিশ্ব তাকিয়ে আছে তার দিকে, প্রয়াত ইন্দিরা গান্ধীর পর রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে তিনি যে নজিরবিহীন উদারতা ও মানবিক দৃষ্টিকোণ নিয়ে এগিয়ে এসেছেন তা একবাক্যে প্রশংসাযোগ্য।

আমরা তার চোখে অশ্রু নয় বরং বঙ্গবন্ধুর মতো দৃঢ়তা দেখতে চাই। একাত্তরে বঙ্গবন্ধু হৃদয় থেকেই বলতে পেরেছিলেন, “আমি প্রধানমন্ত্রীত্ব চাইনা…আমি চাই…।” কি চাইবেন বঙ্গবন্ধু কন্যা তা আমরা বলে দিতে পারিনা। তবে বঙ্গবন্ধুর মানসপুত্র হিসেবে আমি দ্ব্যর্থ কন্ঠে বিশ্বদরবারে অব্শ্যই বলতাম যে আমি নোবেল পুরস্কার চাই না। আমি চাই লক্ষ লক্ষ বাস্তুচ্যুত মানুষের বাচার অধিকার। মৃত্যুর মুখযাত্রী নারী, পুরুষ ও শিশুদের আশ্রয়, খাদ্য, চিকিৎসা ও অভিবাসন। আমি চাই আন্তর্জাতিক আদালতে নিরস্র নিরপরাধ মানুষের ওপর মিয়ানমারের সামরিক সহিংসতা, গণহত্যা ও গণধর্ষণের বিচার।

 

মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াতে এবং আর্তমানবতার সেবায় এগিয়ে আসতে বিশ্ব জনমত তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। কানাডার বিভিন্ন প্রদেশ থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের উপর ক্রমে চাপ বাড়ছে। অং সান সু চির সম্মানসূচক কানাডীয় নাগরিকত্ব প্রত্যাহারের দাবি তুলছেন কানাডিয়ান এবং বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ।

৫২ এর ভাষা আন্দোলনে কারাবরণকারী অন্যতম ভাষা সৈনিক ও ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে কানাডা থেকে তহবিল সংগ্রহকারী এবং কানাডা বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব মানিটোবার অনতম প্রতিষ্ঠাতা ডাঃ ফরিদ শরীফ প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো এর কাছে তীব্র প্রতিক্রয়া জানিয়েছেন। প্রতিক্রয়া জানিয়েছে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, কানাডা ইউনিট কমান্ডের এডমন্টন প্রতিনিধি ও বাংলাদেশ প্রেসক্লাব অব আলবার্টা সহ বেশ কটি সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন। বার্তা পাঠিয়েছে বিভিন্ন সংগঠন। সামরিক সহিংসতার নিন্দা প্রকাশ করেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী ক্রিসটিয়া ফ্রিল্যান্ড ও আলবার্টা প্রিমিয়ার রিচেল নোটলীর কাছে।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ১৮ সেপ্টেম্বর তার বক্তব্যে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে এসইএ এর বিরুদ্ধে বাংলাদেশের কঠোর নীতিগত অবস্থানকে জোরালোভাবে তুলে ধরবেন বলে জানা গেছে। এছাড়া ও ১৮ সেপ্টেম্বর সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী স্টেফান লফভেন আয়োজিত গ্লোবাল ডিল এর ফলোআপ বিষয়ক অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। এ অনুষ্ঠানে তিনি টেকসই শিল্পায়ন, শোভন ও যথোচিত কর্ম এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিষয়গুলোকে তুলে ধরবেন।

রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সাম্প্রতিক আক্রমণে শত শত রোহিঙ্গা জনগণযেখানে নিহত ও লক্ষ লক্ষ মানুষ বাস্তুচ্যুত, গ্রাম কি গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে, নারীদের ধর্ষণ করা, বেসামরিক মানুষদের নির্বিচারে আটক করা হচ্ছে এবং শিশুদের হত্যা করা হচ্ছে। সেখানে গোটা বাংলাদেশকে একটি মানবিক সংকট মোকাবেলায় ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। মৃত্যুর মুখযাত্রী নারী, পুরুষ ও শিশুদের বাস্তুচ্যুতি ও অভিবাসন থেকে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে প্রবাসী সকল সংগঠনগুলোকে রোহিঙ্গা ও সরকারের পাশে দাঁড়াতে হবে। বিশ্বে জনমত গড়ে তুলতে ’৭১ এর চেতনায় আমাদের উদ্বুদ্ধ হতে হবে।