ক্যাটেগরিঃ ফিচার পোস্ট আর্কাইভ, স্বাধিকার চেতনা

ত্রিশ লক্ষ শহীদের, দুই লক্ষাধিক মা বোনের সম্ভ্রম, ইজ্জত আর আত্মত্যাগের বিনিময়ে স্বাধীন এ দেশ- বাংলাদেশ, এ স্বাধীন পতাকা- বাঙ্গালী জাতীর শ্রেষ্ঠ অর্জন. এ স্বাধীনতা তথা মুক্তিযুদ্ধে আত্বোৎসর্গকারীদের পরম  শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি, স্মরণ করি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে যার অনুপ্রেরণা ও নেতৃত্বে বাঙালি জাতি একটি সার্বভৌম ভূখণ্ড পেয়েছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ৭ই মার্চের ভাষণের বৈশ্বিক স্বীকৃতি নিয়ে যখন দেশে আনন্দ-উল্লাস তখন আমি কেমন যেন এক প্রকার আত্মগ্লানিতে ভুগছি। দূর্ভাগা এ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, যিনি রেইসকোর্স ময়দানে এক জনসমুদ্রে স্বাধীনতার ডাক দিয়ে ছিলেন- এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।

তার সেই অগ্নিঝরা এ ভাষণের বৈশ্বিক স্বীকৃতি উদযাপনের পূর্বে আমার প্রত্যাশা ছিলো ভিন্ন। এটা ভাবতেও লজ্জা হয় যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে খোদ বাংলাদেশই যথাযথ মর্যাদা দেয়নি। বৈশ্বিক এ স্বীকৃতির পর লজ্জায় আমাদের মাথা নত হওয়ার কথা ।

‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মুখর সেই রেইসকোর্স সমাবেশে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “ইতিহাস প্রতিশোধ নেয়। ইতিহাস সত্যকে তুলে ধরে। যতই তা মুছতে চেষ্টা করুক; ইতিহাস তার সত্য স্থানটা অবশ্যই করে নেবে। আজকে সেই স্বীকৃতি বাংলাদেশ পেয়েছে।”

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সহমত প্রদর্শন করেও যোগ করবো আমাদের ব্যর্থতাগুলোর কথা। আজো স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস পাঠ্যসূচিতে নেই, নেই বঙ্গবন্ধুর এই সুখ্যাত ভাষনটিও তারপর কেন এ আত্মতৃপ্তি? এর জন্য কি আরো একটি নির্বাচনের অপেক্ষা করতে হবে?

ইউনেস্কো তার ‘ডকুমেন্টারি হেরিটেজ’ এ ‘মেমোরি অফ দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টারে’এ ভাষনটিকে যুক্ত করে তাদের নৈতিক দায়িত্ব পালন করেছে।

জাতিসংঘ সংস্থা ইউনেস্কোর মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ  বিশ্বসংগঠনের সিদ্ধান্তে অবশ্যই বাংলাদেশ গর্বিত, গর্বিত বাঙালি জাতি, গর্বিত মুক্তিযুদ্ধের সকল শহীদ, গর্বিত সকল মুক্তিযোদ্ধা, গর্বিত মুক্তিযুদ্ধের সকল সপক্ষ শক্তি. এ সম্মানকে বঙ্গবন্ধুকন্যা সকলকেই উৎসর্গ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় প্রবাসীদের চেতনায় বাঙ্গালীদের স্বাজাত্যবোধকে জাগ্রত করতে এগিয়ে আসতে হবে।

কানাডায় বাংলাদেশি মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করতে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল গত ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৪ এক স্মারকপত্রে সংসদের কানাডা ইউনিট কমান্ড (আহবায়ক কমিটি) গঠন করেছেন। সংসদের কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের চেয়ারম্যান, মেজর জেনারেল (অব:) হেলাল মোর্শেদ খান বীরবিক্রম তা ঘোষণা করেন।

20110314-7march1-630

১১ সদস্যবিশিষ্ট ইউনিটের আহবায়ক ছিলেন:  ড. জহিরুল ইসলাম (প্রয়াত) বর্তমানে ক্যাপ্টেন হুমায়ুন কবীষ চৌধুরী বীর প্রতীক, যুগ্ম-আহবায়ক : সাইফুল আলাম চৌধুরী,সদস্য সচিব : কর্ণেল(অব:) কাজী কায়সার উদ্দিন, সদস্য : মোহাম্মদ সোহরাব হোসেন, সৈয়দ লুৎফুর রহমান, সঞ্জিত কুমার দাস, মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, আতিকুল ইসলাম মনি বীর প্রতীক, এহতেশাম আলী আনোয়ারুল মজিদ, মো: শহিদুল ইসলাম খান ও লেখক শা.জা. দেলোয়ার জাহিদ, তাদের সকলের সমন্বয়ে গড়ে উঠা উঠেছিলো প্রবাসে “বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কানাডা ইউনিট কমান্ড”। যার লক্ষ্য হলো:

  • মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ প্রতিষ্ঠা, §মুক্তিযোদ্ধা, যুদ্ধাহত ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার জন্য প্রযোজনীয় সহায়তা…।
  • প্রবাস জীবনের সকল স্তরে মুকিযুদ্ধের আদর্শ সমুন্নত রাখা এ লক্ষ্যে সকল শ্রেণীর শিশু, কিশোর, যুবক, ছাত্র, শ্রমিক, শিক্ষক, মহিলা, ব্যবসায়ী, সাংস্কৃতিক কর্মী ও সকল শ্রেণীর পেশাজীবীদের সাথে বিভিন্ন পর্যায়ে সংযোগ স্থাপন ও অংশ গ্রহন।
  • মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধা সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়ে সাধ্যানুযায়ী প্রতিনিধিত্ব করা।
  • মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও স্মৃতি রক্ষার্থে প্রকল্প গ্রহনে উৎসাহ প্রদান, পরিচালনা, নিয়ন্ত্রণ ও তত্ত্বাবধান §সরকারী ও বেসরকারী ব্যক্তি সংস্থা ও সংগঠন কর্তৃক মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস,স্মৃতি, আদর্শ সংক্রান্ত সৌধ, ভাস্কর্য, যাদুঘর ইত্যাদি নির্মানের জন্য উৎসাহিত করা।

তবে প্রবাসে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও চেতনা প্রতিষ্ঠার ভিন্ন প্রেক্ষাপটে, নীতিনির্ধারনী কৌশল, এবং কমিউনিটির আগ্রহের সাথে সংযোগ ও সমন্বয়তা

  • বর্হিবিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করা;
  • মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা;
  • কানাডায় প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধাদের ঐক্যবদ্ধ করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন করা; আর তখনই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ৭ই মার্চের ভাষণের মর্মকে শ্রদ্ধা জানানো হবে।

লেখকঃ দেলোয়ার জাহিদ,সভাপতি, বাংলাদেশ প্রেসক্লাব অব আলবার্টা, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কানাডা ইউনিট কমান্ডের নির্বাহী সদস্য.