ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম

অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা সাংবাদিকতার একটি ফর্ম যা সাংবাদিকদের গভীর আগ্রহের একটি  বিষয়, যেমন গুরুতর অপরাধ, রাজনৈতিক দুর্নীতি, বা কর্পোরেট অন্যায়ের মতো কাজগুলোর তদন্ত করা। একজন তদন্তকারী সাংবাদিক এর কয়েক মাস এমনকি বছরও লেগে যেতে পারে এ কাজগুলোর উপর একটি তথ্যবহুল প্রতিবেদন তৈরী করতে।  সামাজিক ও আইনি বিষয়গুলোর উপর গবেষণা করা ছাড়া এ ধরনের কাজ করা খুবই কঠিন। অনুসন্ধানী সাংবাদিকগণ তাদের পরবর্তী প্রজন্মকে পরামর্শদানের জন্য তাদের কাজের নজিরগুলো পিছু রেখে গেছেন। সামাজিক ও আইনি বিষয়ে নিয়মিত পড়াশুনা ও গবেষণা ছাড়া একজন দক্ষ অনুসন্ধানী সাংবাদিক হওয়া খুবই কঠিন বিষয়।

সাংবাদিকতার স্কুলে পড়ে কেউ একজন খ্যাতিমান সাংবাদিক (সংবাদকর্মী) হয়েছেন এমন নজিরের বিপরীত নজিরই বেশি। আমার নিজের সাংবাদিকতায় পেশায় আসার ও ভিন্ন বৈশিষ্ট্য আছে যার অনেকটাই অপ্রচলিত। একজন ভাল সাংবাদিক হওয়ার পূর্বে আমি একজন ভাল ও হিতকর মানুষ হবার চেষ্টা করেছি ও এর গুরুত্বের উপর জোরারোপকে করেছি। স্বভাবতই একজন ব্যক্তি মানুষ হিসেবে কিছু কঠিন পরিস্থিতির সমাধান খুঁজে পেতে চেষ্টা করেছি যা কাউকে শেখানো দুস্কর।

এটি একটি প্রামাণিক বিষয় যে, একজন সাংবাদিক হিসাবে আপনি যে কোন উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিদের মৃত্যুর পর তার স্মপর্কে কোন তথ্য প্রাপ্তির অনুরোধ করে তা অর্জন এবং প্রকাশ একটি আইনী বিষয় তা আপনারা ভালভাবেই জানেন – বিশেষ করে যদি তা একজন ব্যক্তির উচ্চ প্রোফাইল বা আইনের সাথে সমস্যা হয় তবে এটিকে কৌশলী ভাবে উপস্থাপন করা উচিত। এ প্রক্রিয়া অনেকটা সহজবোধ্য, এবং আপনাকে একটি সংবাদমান বজায় রেখে স্কপ নিউজ করতে হতে পারে।

তদন্তকারী সাংবাদিককে ক্ষমতাবান এবং দুর্নীতিবাজদের তথ্য প্রকাশ করতে হয়  যা গণতন্ত্র ও সাংবাদিকতা পেশার জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ।

কুমিল্লা প্রেসক্লাব ও কুমিল্লা সাংবাদিক ইউনিয়ন আয়োজিত বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মশালাগুলোর বৈশিষ্ট ছিলো -প্রতিবেদন তৈরী করার কলা কৌশল শেখানো: রিপোর্টিং-শুধু লেখার একটি ধারা, প্রবন্ধ এবং গল্প পাশাপাশি লেখার কৌশল, তবে তৎসময়ে ব্লগিং শুরু হয়নি বলেই চলে. যা হয়তো অংশ গ্রহনকারীদের আগ্রহ সৃষ্টি করতো, তা হলো:

১. সাক্ষাত্কার, গবেষণা।

২. যেকোন একটি গল্পের উপাদানকে জড়ো করা

৩. ফ্যাক্ট চেকিং এবং সম্পাদনা

৪. প্রকাশনার জন্য প্রেরণ

এছাড়াও বেশিরভাগ অংশ গ্রহনকারী সাংবাদিকদেরই আগ্রহ ছিলো সাংবাদিকতায় আইনী সুরক্ষার বিষয়েগুলো সম্পর্কে জানা। স্থানীয় বিদ্গদ্ধ প্রশিক্ষক ছাড়াও আমি, মরহুম গিয়াস কামাল  চৌধুরী, মরহুম সানাউল্লা নূরী, শাহজাহান মিয়া, আজিজুল ইসলাম ভুইয়া, আলতাফ হোসেন সহ অনেকেই প্রশিক্ষক হিসেবে সহযোগিতা করেন। সহযোগিতা করেন আইনজীবি সমিতির নির্বাচিত কর্মকর্তাবৃন্দ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো।

আগামি আর্টিকেলগুলোতে থাকবে সে সময়কার দেশকাপানো কয়টি ঘটনার উপর জীবনভিত্তিক প্রতিবেদনের উপর আলোচনা। (চলবে)

লেখকঃ দেলোয়ার জাহিদ,সভাপতি, বাংলাদেশ প্রেসক্লাব অব আলবার্টা, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কানাডা ইউনিট কমান্ডের নির্বাহী সদস্য.