ক্যাটেগরিঃ নাগরিক সমস্যা

সড়ক নিরাপত্তা, দূর্ঘটনা প্রতিরোধ এবং আমাদের দায়িত্ব
Road Safety, Accident Preventions and Our Accountability

উন্নয়নশীল দেশের মধ্যে বাংলাদেশ সহ উন্নত বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সড়ক দূর্ঘটনায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ। উন্নত অনুন্নত নির্বিশেষে উদ্বেগজনক ভাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সড়ক দূর্ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ বিষয়ে নানাহ গবেষনালব্ধ তথ্য উপাত্ত ও ক্ষয়ক্ষতির চিত্র থেকে এর ভয়াবহতা এবং উদ্ভুত পরিস্থিতি জানা যাবে এবং এর থেকে উত্তরণের উপায় ও খুজে পাওয়া যাবে। গতিশীল ও টেকসই উদ্যোগের অভাবে আমাদের জীবন ও সম্পদ উভয়ই এখন ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। আমাদের দেশে দূর্ঘটনা প্রতিরোধে আরো অধিক ও কার্যকর ভুমিকা নেয়া এখনই জরুরী হয়ে পড়েছে।

সরকারের নানামূখী উদ্যোগ এবং প্রচেষ্টা সত্বেও এ পর্যন্ত ইপ্সিত কোন অগ্রগতি সাধিত না হবার কারনে এ যোগাযোগ খাতটি ক্রমেই যেন জটিলতার দিকে এগুচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে সড়ক ও নৌ দুর্ঘটনাগুলোর উপর আলোকপাত করে প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদনগুলো পর্যালোচনা করলে এ সমস্যার গভীরতা ও গুরুত্বকে অনুধাবন করা যাবে। বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথোরিটি (বিআরটিএ) বা সরকারী পরিসংখ্যান অনুযায়ী প্রতি বছর ৪ হাজার লোকের অধিক মানুষ সড়ক দূর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করে। লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে যে, ধর্মীয় উৎসব, ঈদ ও পূজা-পর্বনগুলোতে সফরকালে সাধারনতঃ এসকল দূর্ঘটনা ঘটে থাকে। এ দূর্ঘটনাগুলো সময় সময় গোটা জাতির হৃদয়কে আন্দোলিত ও স্পর্শ করে। গত বছর জুলাই ও আগষ্ট মাসে এমন ক’টি ঘটনা ঘটেছে। মিরেসরাইয়ে ফুটবল খেলা দেখে ফেরার পথে সড়ক দূর্ঘটনায় ৪৪ জন ছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যু হয় এবং দ্বিতীয় ঘটনায় ফ্লিম মেকার তারেক মাসুদ ও টিভি জার্নালিস্ট মিশুক মুনিরের অকাল মৃত্যুতে জাতির হৃদয় স্তব্দ হয়ে যায়। ঘটনা প্রবাহ এখানে থেমে নেই- অপমৃত্যুর এ মিছিল যেন এগিয়ে চলেছে।

কানাডা’র মতো উন্নত একটি দেশেও দূর্ঘটনার প্রকোপ রয়েছে, এখানে প্রাণহানী ও ক্ষয়ক্ষতিকে মোটেই অবহেলা বা উপেক্ষা করার মতো নয়। পরিসংখ্যান কানাডা’য় প্যামেলা এল র্যামেজ মরিন (২০০৮) এর এক গবেষণা প্রতিবেদনে মোটরযান দূর্ঘটনায় মৃত্যু সংক্রান্ত একটি পরিসংখ্যান (১৯৭৯-২০০৪) প্রকাশিত হয়। তথ্যানুযায়ী, ২০০৪ সালে কানাডায় ২১ দশমিক ৬ মিলিয়ন লাইসেন্সধারী চালক রয়েছে, যার মধ্যে লোকসংখ্যার ২৫ দশমিক ৮ মিলিয়ন লোক ১৬ বা তৎউর্ধ্ব বয়সী এবং তারা ২৫ মিলিয়ন গাড়ী চালায়। গাড়ীগুলোর মধ্যে ৭৬ পার্সেন্ট কার, ট্রাক, বাস ও মোটরসাইকেল এবং এর সাথে স্বল্প সংখ্যক কৃষি-খামার, নির্মান ও রাস্তার বাইরের কিছু যান ও রয়েছে।

২০০৪ সাল পূর্ব গত বিশ বছরে কানাডায় গাড়ীর সংখ্যা ক্রমাগত ভাবে বৃদ্ধি পাওয়া স্বত্বে ও তুলনামূলকভাবে মৃতের সংখ্যা যথেষ্ট হ্রাস পেয়েছে। এদেশে সড়ক দূর্ঘটনায় যুব মৃত্যুর সংখ্যা সর্বাধিক। ২০০০ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত দূর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা ৪৪,১৯২ জন এর মধ্যে ৩২ পার্সেন্ট অর্থাৎ ১৪,০৮২ জনের মৃত্যু হয় মোটরযান দূর্ঘটনায়।

নানাবিধ প্রতিযোগিতামূলক কারণের উপর ভিত্তি করে কানাডায় মোটরযান দূর্ঘটনায় মৃত্যুর ঝুঁকি এবং আহতের সংখ্যা বাড়ে ও কমে থাকে। প্রযুক্তি উন্নয়নের সাথে সাথে এন্টি লক ব্রেকিং, এয়ারব্যাগ, উন্নত সীটবেল্ট এবং শিশুবহনে সুরক্ষা প্রভৃতি মোটরযানকে আরো বেশী নিরাপদ করেছে। তাছাড়াও প্রতিটি প্রদেশে সড়ক ব্যবস্থার রূপ ও তার বিন্যাস অনুযায়ী গতিসীমা (স্পীড লিমিট) নির্ধারন, রক্তে এলকোহলের পরিমান নির্ধারন, সীটবেল্ট ব্যবহার, মোটরসাইকেল, বাইসাইকেলের চালক ও বহনকারীদের জন্যে মাথায় হ্যালমেট ব্যবহার ও পথচারীদের হাটা এবং রাস্তা পারাপারের ব্যবস্থা ও বিধি বিধান রয়েছে। এর সবকিছুই চালক, যাত্রী, পথচারী ও সাধারন নাগরিকদের নিরাপত্তা বিধানের জন্য তৈরী এবং তা মেনে চলতে হয়।

যানবাহন ও নাগরিকদের সেফটি’র বিষয়ে কানাডীয় নীতিমালাগুলো কঠোর মনে হলেও জননিরাপত্তার স্বার্থে তা প্রয়োজনীয়। কানাডায় তিন ধরনের আইন ও বিধিবিধান দ্বারা সড়ক ব্যবস্থা, যানবাহন চলাচল ও জননিরাপত্তাকে নিশ্চিত করা হয় যেমনঃ ফেডারেল, প্রাদেশিক ও মিউনিসিপাল।

বর্তমানে দ্রুত যন্ত্রায়নের যুগে সেলফোন, নেভিগেশন সিস্টেম এবং বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ব্যবহারে চালকদের চিত্তবিক্ষেপ ঘটায় এবং কখনো কখনো দূর্ঘটনা ঘটে। সড়ক দূর্ঘটনা বৃদ্ধির অন্যতম কারনগুলোর মধ্যে রয়েছেঃ স্পীডিং, ওভারটেকিং, আবহাওয়া, মাদকাসক্ত ড্রাইভিং, ঝিমুনি ও চিত্তবিক্ষেপ।

কানাডার বিভিন্ন প্রদেশে ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে হলে সরকারী বা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী কর্তৃক প্রচারিত ও প্রকাশিত ড্রাইভিং মেনুয়েল বা অনলাইন ড্রাইভিং গাইড পড়ে নির্ধারিত পরীক্ষায় উর্ত্তীন হয়ে প্রথমে নবিশ লাইসেন্স এবং পরবর্তীতে রোড টেষ্ট দিয়ে ধাপে ধাপে মূল লাইসেন্স পেতে হয়। কমার্শিয়াল ভ্যান, টেক্সী চালনা এবং বড় কোন যান যেমন স্কুলবাস, ট্রাক, লরি ইত্যাদি চালনা’র জন্য বিশেষ ড্রাইভিং দক্ষতা অর্জন ও প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হয় এবং এরজন্য টেষ্ট দিয়ে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয় । এখানে গ্রেজুয়েটেড ড্রাইভিং প্রোগ্রাম রয়েছে। ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে জ্ঞানের পরিধি পরীক্ষা, নবীশ সময় পাড় এবং রোড টেষ্ট দেয়া এখানে বাধ্যতামূলক।

“রুলস অব দি রোড” গুলো মান্য করা চালকদের জন্য বাধ্যতামূলক। পুলিশের সতর্ক পর্যবেক্ষন, থামা, পার্কিং, রাস্তা অন্যের সাথে ভাগ করে ব্যবহার, বড় ট্রাক, রাস্তা পরিষ্কারের গাড়ী, মোটরসাইকেল, বাইসাইকেল, স্কুলবাস, এম্বুলেন্স, দমকল ও ইমার্জেন্সী গাড়ী, শববহনকারী গাড়ী এবং পথচারীদের সাথে রাস্তা শেয়ার করার ক্ষেত্রে চালকদের আইনী বাধ্যবাদকতা রয়েছে। সড়ক দূর্ঘটনা নিবারনের জন্য রাষ্ট্র কর্তৃক অনুসৃত নিয়মকানুন অনুসরণ করা ও মেনে চলাই যথেষ্ট। তবে এ ধারনাপত্রে বিস্তারিত আলোচনার সময় ও সুযোগ খুবই সীমিত। কানাডায় ড্রাইভিং এর ক্ষেত্রে আইন আমান্যকারীদের জন্য সতর্কীকরণ, জেল, জরিমানা ও ড্রাইভিং লাইসেন্স সাময়িক বা স্থায়ীভাবে বাতিলের বিধান ও যথাযথ আইনী প্রক্রিয়া রয়েছে।

মানুষের জীবনে দূর্ঘটনা কেবলই দূর্ঘটনা যা কখনো ইপ্সিত বা প্রত্যাশিত নয় তারপর ও তা ঘটে, ঘটছে এবং ভবিষ্যতেও ঘটবে, এটাই বাস্তবতা। ৪ঠা জানুয়ারী, কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন নিয়ে একটি লেখা তৈরীর কাজে ব্যস্ত ছিলাম। রাত তখন ৯টা। ছেলে মাহিনুর যাচ্ছে ওর মাকে কর্মস্থল থেকে তুলে আনতে। আমার নিজ গাড়ীর ব্যাটারিটা কেন যেন ডাউন, মাত্র ক’দিন আগে তা কেনা। না হলে সেখানে আমারই যাবার কথা। আমাদের বাসা থেকে মাত্র ১০ মিনিট দূরত্বের রাস্তা। দরোজা খোলার শব্দে ছুটে এলাম দু’তলার জানালায়—পিছু ডাকলাম ছেলেকেঃ সাবধানে যাস বাবা, স্নো পরতে শুরু করেছে। ছেলে খিলখিল করে হেসে উঠলো।

ঃ কিযে বলো আব্বু!
কথার ইঙ্গিত বুঝে আমি নিজে ও হাসলাম । বাপ ছেলে কত দূর্গম পথ পাড়ি দিয়েছি। বরফ ঝড় ও বৈরী আবহাওয়ায় ঘুরে বেড়িয়েছি, গিয়েছি কত না দূর-দূরান্তে, কিন্তু সেদিন ৯ টা ১৮ মিনিটে ওর জীবনের ঘড়ির কাটা নিয়তির নির্মম নিষ্ঠুর পরিহাসে থেমে গেছে, মাত্র ১৫ মিনিটের ব্যবধানে—। সে স্মৃতি বুকে নিয়ে আমরা আজো বেচে আছি ।

বাংলাদেশে ও জরুরী সমস্যাগুলোর অন্যতম একটি হচ্ছে দূর্ঘটনা। সড়ক ও নৌ উভয় পথে প্রতি বছরই হাজারো মানুষের প্রাণহানী ঘটে। ব্যবস্থাপনা সংকট ও দক্ষতার অভাবে এ খাতগুলোতে ইপ্সিত উন্নতি বা কোন অগ্রগতি নেই। দেশে উচ্চাকাঙ্খী অনেক প্রকল্পের কথা শোনা যায় কিন্তু বিদ্যমান সমস্যা সংকটগুলো নিরসনে সদিচ্ছা ও দক্ষতার অভাব পরিলক্ষিত হয়। দেশীয় অর্থনৈতিক অবস্থা ও সীমাবদ্ধতাগুলোকে মেনে নিয়ে ও একথা বলা যায় যে আধুনিক ও বিজ্ঞান সম্মত সড়ক ও নৌপথ ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার স্বপ্ন অবাস্তব বা অসম্ভব কিছু নয়।

বাংলাদেশে সড়ক দূর্ঘটনা সমূহের চিহ্নিত কারনগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে-সড়ক অব্যবস্থা, কিছু ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় আইনের অভাব এবং কখনো বিদ্যমান আইনগুলো অমান্যতা, চালকের অদক্ষতা, যান্ত্রিক ত্রুটি, অধিক যাত্রীবহন, অধিক লাভের প্রত্যাশা।

বর্তমান সংকট থেকে উত্তরন ও এ অবস্থার উন্নয়নে দেশের গণপ্রশাসন, রাজনৈতিক দল ও মালিক, শ্রমিক পক্ষকে নিয়ে একযোগে কাজ করতে হবে। বিদ্যমান সমস্যা থেকে লাভবান হবার মানসিকতা আমাদের দেশে অনেকের মধ্যেই রয়েছে, যা অপ্রিয় হলেও সত্যি। সড়ক ও মহাসড়কের এ বেহাল অবস্থা রাতারাতি সৃষ্টি হয়নি কিন্তু এ পরিস্থিতিকে চলনসই করা এবং যথাসময়ে এ অবস্থার উন্নয়নে ব্যর্থতার দায়কে অস্বীকার করার যো নেই।

মানুষের জীবন রক্ষায় ব্যর্থতা কোন দেশেই সরকারের কৃতিত্ব বা গৌরব হবার কথা নয়, বরং এ এক বিশাল দায়িত্বশীলতা ও দায়বদ্ধতা, তা ব্যাক্তির নিজের, সমাজের ও রাষ্ট্রের। পদ্মাসেতু, মেট্রোরেল, উড়ালপথ ও মহাসড়কের পরিকল্পনা নেয়ার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে ও রাস্তাঘাটের উন্নয়ন জরুরী। অপরিকল্পিত নগরায়ন রোধ ও রাস্তাঘাট উন্নয়ন এবং নির্মানের ক্ষেত্রগুলোকে আশু চিহ্নিত করে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং আন্তরিকতার সাথে এগুলো বাস্তবায়ন করা দরকার।

২০১১ সালের আগষ্ট মাসে মন্ত্রীসভার এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সড়ক দুর্ঘটনারোধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার এক নির্দেশ দিয়েছিলেন কিন্তু এ প্রেক্ষিতে কার্য্যকর কোন পদক্ষেপ গ্রহন বা কোন অগ্রগতির কথা এখনো জানা যায়নি। দেশের অরাজক মহাসড়কে প্রতিনিয়তই নির্মম বলি হচ্ছে সাধারন মানুষ, পদস্থ সরকারী কর্মকর্তা থেকে শুরু করে কত না জ্ঞানী, গুনীজন। অদক্ষ, বেপোরোয়া এবং লাইসেন্সহীন চালকদের কাছে জিম্মি গোটা পরিবহন ব্যবস্থা, যানবাহনের যাত্রী ও পথচারীরা।

বিআরটিএ সূত্রে প্রকাশ, বাংলাদেশে নিবন্ধনকৃত গাড়ীর সংখ্যা ১৫ লাখ এবং লাইসেন্সধারী চালকের সংখ্যা মাত্র ৯ লাখ ৬০ হাজার। দেশে প্রায় ১০ লাখ লাইসেন্স হীন চালক বা ভূয়া লাইসেন্সধারী রাস্তায় প্রতিনিয়তই গাড়ী চালাচ্ছে বলে পরিবহন খাত পর্যবেক্ষকদের ধারনা। এরচেয়ে নৈরাজ্য ও ভীতিকর অবস্থা আর কি হতে পারে? বাংলাদেশে বছরে প্রায় ১০ হাজার মানুষ দূর্ঘটনায় নিহিত হয় বলে একটি বেসরকারী সুত্রে প্রকাশ যাতে গড় প্রতি দৈনিক মৃতের সংখ্যা দাড়ায় ২৭ দশমিক ৩৯।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলাদেশ ও দক্ষিন-পূর্ব এশিয়ায় প্রতি ঘন্টায় ৪০জন লোক সড়ক দূর্ঘটনায় নিহিত হয়। বাংলাদেশে এ মৃতের হার ১৪ শতাংশ।

যেখানে সভ্য, উন্নত এমনকি কিছু স্বল্পোন্নত দেশে ও বর্তমানে সড়ক এবং নিরাপত্তা বিষয়ে স্কুল পাঠ্যক্রম চালু, শিক্ষণ ইন্সটিটিউট স্থাপন এবং রাস্তাঘাটের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেয়া হয় হচ্ছে সেখানে বাংলাদেশের মতো একটি সম্ভাবনাময় দেশ কিভাবে নিষ্ক্রিয় ও নিশ্চুপ বসে থাকতে পারে? সড়ক পথে যাত্রীদের নিরাপত্তা দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতাকে চ্যালেঞ্জ করে গত বছর আগষ্ট মাসে হাইকোর্টে একটি রীট পিটিশন দাখিল করেছে আইন ও সালিস কেন্দ্র, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি এবং বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড এন্ড সার্ভিসেস।

বাংলাদেশের গণমাধ্যমগুলো এ ইস্যুগুলোতে প্রসংশনীয় কাজ করছে। তাদের ইতিবাচক ভূমিকায় দেশে জনসচেতনতা ক্রমে বাড়ছে। বাড়ছে ক্রমাগত সরকার ও প্রশাসনের উপর রাজনৈতিক চাপ। স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদী কিছু পরিকল্পনা নেয়ার এটাই মোক্ষম সময়, সময় সহমত ও সন্মিলিত কিছু প্রচেষ্টার, সময় বিষয়টি নিয়ে একাগ্রচিত্তে কাজ করার। প্রবাসের শ্রমবাজারে ও ড্রাইভিং লাইসেন্সধারী শ্রমিকদের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। সড়ক নিরাপত্তা ও দূর্ঘটনা প্রতিরোধে আমাদের সকলকে একাত্ম হওয়া উচিত। আমাদের দায়বদ্ধতা ও দায়িত্বশীলতা একই সূত্রে গাথা। দেশের মানুষের জীবন রক্ষায় স্বজনহারানোর বেদনা ভুলে সৎ, সুচিন্ত, ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে আপনাদের পার্শ্বে থাকার অঙ্গীকার রইল। দূর্ঘটনায় মৃত্যুবরণকারী সকলের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে একটি বিদগ্ধ আলোচনার দ্বার উন্মোক্ত করছি।

৴মাহিনূর জাহিদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন আয়োজিত সেমিনারে ধারনাপত্র হিসাবে পঠিত ৴

লেখকঃ রিসার্চ ফেলো, সেন্ট পলস কলেজ, ইউনিভার্সিটি অব ম্যানিটোবা, ও নোটারী পাবলিক অব সাস্কাচুয়ান, কানাডা এবং সাবেক সভাপতি,কুমিল্লা প্রেসক্লাব ও কুমিল্লা সাংবাদিক ইউনিয়ন