ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

আমার ভয় লাগে পাশের অমুসলিম ভাইটার জন্য। যিনি একটু আগে রোজাদার মানুষটাকে সম্মান দেখিয়ে আড়ালে কোথাও চলে যান ক্ষিদে লাগলে। অথবা ঘন্টার পর ঘন্টা রোজাদার কারো সাথে আড্ডার মুহুর্তে ভুল করে এক গ্লাস পানি চেয়ে বসেন না…

ভয় লাগে অমুসলিম বন্ধুটার জন্য। যে আমাদেরই সাথে ইফতার সামনে নিয়ে অপেক্ষা করে আযানের ধ্বনি শুনার অপেক্ষায়। এক সাথে ইফতার এর আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়। যে ঈদের দিন অন্য সবার মতো বুক জড়িয়ে কোলাকুলি করে মমতা ভাগ করে নেন…

আমরাই না কেনো যেনো তাদের প্রতি বেশি নির্মম। মজা করতে গিয়ে তাদের বলি আজকে ইফতার করাইলাম তোরে, এরপর নামাজও পড়ামু। আমরাই হয়ত মজা করতে গিয়ে খাসীর মাংস বলে তাদের গরুর মাংসের খিচুড়ি খাওয়ায় দিই। আমরাই হয়ত আড্ডার কোনো এক ফাঁকে তার ধর্ম নিয়ে জটিল কোনো প্রশ্ন করে তাকে বিব্রত করে দিই…।

একটা টুইট বার্তা দেখলাম সোশ্যাল মাধ্যমে অনেকে শেয়ার দিচ্ছে। ২০ জুলাই যমুনা ফিউচার পার্কে হামলা করতে চায় সন্ত্রাসীরা। কেউ একজন সেখানে প্রশ্ন করলো,”ভাই তোমরা কী চাও?” তাদের উত্তর, “আমরা ইসলাম-কে রক্ষা করতে চাই অমুসলিমদের হাত থেকে…।”

হামলার হুমকি বিবেচনায় রাখবেন আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। আমি বিবেচনা করছি তাদের স্টেটমেন্ট। জঙ্গিদের সুবিধা হচ্ছে এই দেশে সবচেয়ে সহনশীল মানুষ হচ্ছেন অমুসলিম মানুষ,যাদেরকে সংখ্যালঘু বলে আলাদা সম্প্রদায় হিসেবে ভাবে সবাই। এই মানুষ গুলোকে নিয়ে রাজনীতি করা সহজ,এদের মেরে দেশীয় বিচার থেকে পার পাওয়া সহজ। অনেকেই মনে মনে হাফ ছেঁড়ে বাঁচেন এরা মরলে। নিজেকে নিরাপদ ভাবেন,আচ্ছা আমি তো মুসলিম,তবে আমি বোধহয় বেঁচেই গেলাম…

জঙ্গিরা কি হুট করে গুলশান হামলার নীল নকশা করেছে! এরা প্র্যাকটিস ম্যাচ খেলতে আমাদের ভিন্ন ধর্মের উপাসনালয় হামলা করেছে,ধর্মীয় ব্যাক্তিত্বদের গলা কেটে হত্যা করতে করতে বুঝে গিয়েছে দুনিয়াতে সকল প্রাণের দাম নেই। এই মানুষগুলো মারাও নিরাপদ,মেরে নিজে বেঁচে থাকাও নিরাপদ।

প্রথম দিকে যখন এই ধরণের হামলার রেওয়াজ শুরু হলো তখন কি পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেয়া হয়েছে তাদের সবাইকে ! এখনো কি দেওয়া হচ্ছে…হয়ত আইনের লোকজন চেস্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এই ভেবে সান্ত্বনা পেতে পারি।

গুলশান কূটনৈতিক এলাকা,যেখানে এমনিতেই নিরাপত্তা কয়েক স্তরের। তাতেই এই অঞ্চলে প্রবেশ করে এত বড় হামলা করতে পেরেছে সন্ত্রাসীরা । তাহলে মন্দির, গির্জা, বৌদ্ধ বিহারগুলোতে কত সহজে তারা হামলা করতে পারছে বুঝাই যাচ্ছে…।

চলুন বস, ওসব কথা থাক। আমরা বরং খুশিই হই। জঙ্গিরা আমাদের দেশেরই লোক। এরা বিদেশি কেউ না। তাই এত আতংকিত হওয়ার কিছু নাই। আমরা খুশি হই,এরা লিস্টেড ছিলো। আমরা এদের খুঁজে পাইনি । আমরা খুশি হই এরা আমাদের মারবে না,এরা ধর্ম রক্ষার্থে অমুসলিম সাফ করবে এই ভেবে। আমরা খুশি হই চার পাঁচ জনের দল আটক করে যারা নাশকতার পরিকল্পনা করে শুধু। আমরা খুশি হই যাদের ধরতে পারি না তারা নাশকতা করে না,শুধু বিচ্ছিন্ন হামলা করে এই যুক্তি শুনে। আমরা খুশি হই, এই জঙ্গিরা আজকাল দাঁড়িওয়ালা বিশাল জুব্বা পড়া খ্যাত হয়না,এরা কিউট হয় এই ভেবে। আমরা খুশি হই সব বিরোধীদলের ষড়যন্ত্র ভেবে। আমরা খুশি হই সরকারকে সব কথায় গালি দেয়ার মানসিক সুখ নিয়ে…।

অমুসলিম মানুষগুলোকে ধন্যবাদ আমার ধর্মকে শ্রদ্ধা করার জন্য। বরং লজ্জিত হই, আপনাকে অমুসলিম হিসেবেই দেখি বলে,মানুষ হিসেবে দেখতে পারি না বলে। কিভাবে দেখবো বলেন-অমানুষদের সাথে বসবাস তাই বদ-অভ্যাস হয়ে গেছে…।