ক্যাটেগরিঃ দিনলিপি

 

বিমানবন্দর, নৌবন্দর, স্থলবন্দর, সমুদ্রবন্দর, সবগুলোই আমার ভাল লাগে। এক ঘাটে-বন্দরে এসে নৌযান, বায়ুযান বা শকটযান ভিড়ছে, মানুষ নামছে, উঠছে, প্রিয়জনের সাথে মোলাকাত চলছে, এরকম দৃশ্য আমার খুব ভাল লাগে।

ছোটবেলায় মা’র সাথে ছোট লঞ্চে করে কীর্তনখোলা থেকে পায়রা নদী হয়ে নানাবাড়ি যেতাম। ছোট্ট লঞ্চে দুটা কেবিন থাকতো, মহিলা আর পুরুষ। বোরখা পড়া বৃদ্ধা, ছোট ছোট মেয়ে, নতুন বউ, মা বোনরা মহিলা কেবিনে বসে বসে নদী দেখতেন। আমি মামার সাথে ঝালমুড়ি খেতে খেতে লঞ্চের ছাদে চড়ে বন্দর দেখতাম। কিছুদিন পড়ে বাপজান বিদেশ থেকে ফেরত এলে ঢাকায় এসে সদরঘাট দেখলাম, তেজগাঁ বিমানবন্দর দেখলাম। বিশাল বিশাল প্লেন এসে ভেসে ভেসে ঢাকার মাটি ছুয়ে যাচ্ছে, ভিতর থেকে বিশাল স্যুটকেসে খেলনা বোঝাই করে পিতারা নামছেন, ছোট ছোট ছেলেমেয়ে অনেকদিন পরে বাবাকে দেখে ভ্যা করে কেঁদে দিচ্ছে, দেশে ফেলে রাখা মা, বোন, নতুন বউ চোখে পানি আর মুখে হাসি নিয়ে বাচ্চাকে সামলাচ্ছে।

প্লেনে চড়ে প্রথম আসি আমেরিকা, তারপর থেকে আমি বিমানবন্দরের ভক্ত। প্রত্যেকটা বিমানবন্দরের যেন একটা আলাদা গন্ধ আছে। কোনটা বেগনিয়া, কোনটা গাঁদা, ঢাকার বিমানবন্দরে নামলেই একটা সোঁদা মাটির গন্ধ পাওয়া যায়, বুক ভরে নিশ্বাস টেনেও মন আনচান করে।

মাঝে মাঝে গাড়িতে করে কানাডা, মেক্সিকো ঘুরতে যেতে হয়, বিশাল বিশাল স্থলবন্দর পার হয়ে যাই। আমেরিকা আর মেক্সিকোর সীমান্তে হিসপানিক বংশোদ্ভুত কাস্টমস অফিসার যখন জিজ্ঞেস করে, সাথে টাকা পয়সা কেমন আছে, দাঁত কেলিয়ে বলি, “আরে ব্যাটা! আমার স্বৈরাচারী বউ আমার কাছে টাকাপয়সা রাখতে দেবে সেটা কেমনে ভাবলা?” অফিসারও দাঁত কেলিয়ে হাসে, বেচারা ভুক্তভোগী তো!

কানাডার বর্ডারের গার্ডগুলো আবার অতটা রসিক না, মনে হয় ঠান্ডাতে থাকতে থাকতে মুখের হাসির পেশিগুলো জমে গেছে। তবে বেশ অমায়িক মনে হয় ওদের।

দেশে বিদেশে এরকম অনেক অনেক বন্দরেই ঘুরেছি, তবে এখনো ঢাকার আকাশ থেকে যখন নীচে কুর্মিটোলার রানওয়েটা দেখি, চোখটা ভিজে ওঠে। আগে মা অপেক্ষা করতেন সেখানে, এখন আর করেন না।