ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

এই তো কিছু দিন আগে, গাজার ওপর যখন ইসরাইলীরা বোমা বর্ষন করছিল, বা ট্যাংক মেশিনগান নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, তাদের হামাসের সদস্য ছাড়াও বহু নারী ও শিশু মারা যাচ্ছিল। তখন মুসলিম দুনিয়াতে মুসলমানেরা ফিলিস্তিনীদের পক্ষ সমর্থন করে ইসরাইলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঝড় তুলেছিল। বাংলাদেশ সরকার তো সংসদে এ ব্যাপারে নিন্দা প্রস্তাব পাশ করেছিল সর্ব সম্মতিক্রমে। কিন্তু গত কয়মাস ধরে ইসলামিক স্টেট নামধারী একটা জঙ্গি ইসলামী দল সিরিয়া ও ইরাকের বিরাট অংশ দখল করে সেখানে খিলাফত প্রতিষ্ঠা করেছে, তারা ইসলামের নামে খৃষ্টান ,ইয়াজিদি এমন কি শিয়া মুসলমানদেরকে গনহারে হত্যা করছে , তাদের নারীদেরকে বন্দি করে ধর্ষণ করছে , তাদের বাড়ী ঘর লুটপাট করছে , অথচ মুসলিম দুনিয়া একেবারে চুপ চাপ , বিষয় কি ?

বিচ্ছিন্ন ভাবে দুই একজনকে জিজ্ঞেস করলে তারা বলে ইসলামিক স্টেট ইসলামের নাম ব্যবহার করে জঘন্য কার্যকলাপ চালাচ্ছে। যদি সেটা সত্য হয়, দুনিয়ার কোন মুসলমান দেশেই কেন এদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা হয় নি বা হয় না ?

ইসলামী স্টেটের দলনেতা আবু বকর বাগদাদি, যে নিজেকে খলিফা ঘোষণা করেছে , তার শিক্ষাগত যোগ্যতা দেখলে সে যে ইসলাম জানে না , সেটা প্রমান হয় না। বরং তাকে একজন ইসলামী পন্ডিত বলাই যুক্তিযুক্ত। যেমন , সে বাগদাদের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ থেকে মাষ্টার্স ডিগ্রী অর্জন করেছে, তারপর শরিয়া বিধানের উপর ডক্টরেট ডিগ্রী অর্জন করেছে। এই লোক ইসলাম জানে না , এটা কোন পাগলেও বিশ্বাস করবে না। এই হেন ইসলাম বিশেষজ্ঞ আবু বকরেরই নেতৃত্বে ইসলামিক স্টেট তাদের জঘন্য সব কর্মকান্ড ঘটিয়ে চলেছে কয়েক মাস , তাও আবার ইসলামের নামে , ইসলাম প্রতিষ্ঠার নামে এবং খিলাফত প্রতিষ্ঠার নামে, অথচ দুনিয়ার মুসলমানরা সবাই নীরবতা পালন করছে।

তাদের এ নিরবতার অর্থ কি ইসলামিক স্টেট ইসলামের নামে যা করছে , তা সবই ইসলাম সম্মত ?