ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

মুহাম্মদ(সা:)কে অপমান করলে তার কি শাস্তি হবে তার বিধান আছে হাদিসে পরিস্কারভাবে। মনে রাখতে হবে মুহাম্মদকে অপমান করা ও ইসলামকে অপমান করা একই কথা। সম্প্রতি ইসলামের অবমাননা করার অভিযোগে পাকিস্তানে এক দম্পতিকে পিটিয়ে মেরে তাদেরকে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে বলে একটা খবর বেরিয়েছে। আর সেই কারনেই প্রসঙ্গটির অবতারনা।

অনেকেই অতি আবেগে বলে ফেলে এটা অমানবিক হয়েছে। পাকিস্তানীরা ধর্মের নামে জঘন্য অপরাধ করছে। কাউকে পিটিয়ে মেরা ফেলা অবশ্যই জঘন্য ঘটনা কিন্তু সেটা যদি ধর্মের নামে করা হয় তখন প্রশ্ন তো জাগতেই পারে যে বিষয়টা ঠিক কি না। সেটা যদি আবার সর্বজনবিদিত ও বিশ্বাসকৃত শান্তির ধর্ম ইসলামের নামে হয় তখন কিছু মানুষ বিষয়টাকে অবশ্যই জঘণ্য ভাবতে পারে। কিন্তু আসলে বিষয়টা কি ? ইসলাম এ বিষয়ে কি বিধান দিয়েছে? তা জানতে একটু হাদিস দেখা যাক :

সহিহ বুখারী :: খন্ড ৫ :: অধ্যায় ৫৯ :: হাদিস ৩৬৯

আলী ইব্ন আবদুল্লাহ্(র) … জাবির ইব্ন আবদুল্লাহ(রা) থেকে বর্ণিত, (একদা রাসুলুল্লাহ(সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)) বললেন,

কা‘ব ইব্ন আশরাফের হত্যা করার জন্য প্রস্তুত আছ কে? কেননা সে আল্লাহ্ও তাঁর রাসূলকে কষ্ট দিয়েছে।

মুহাম্মদ ইব্ন মাসলামা (রা) দাঁড়ালেন, এবং বললেন ইয়া রাসূলুল্লাহ আপনি কি চান যে আমি তাকে হত্যা করি? তিনি বললেন, হাঁ। তখন মুহাম্মদ ইব্ন মাসলাম(রা) বললেন, তাহলে আমাকে কিছু(কৃত্রিম) কথা বলার অনুমতি দিন। রাসূলুল্লাহ(সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, হাঁ বল।  এরপর মুহাম্মদ ইব্ন মাসলাম(রা) কা‘ব ইব্ন আশরাফের নিকট গয়ে গল্লেন, এ লোকটি (রাসূল(সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের কাছে সাদ্কা চায়। এবং আমাদেরকে বহু কষ্টে ফেলেছে। তাই (বাধ্য হয়ে) আমি আপনার নিকট কিছু ঋণের জন্য এসেছি।  কা‘ব ইব্ন আশরাফ বলল, আল্লাহর কসম পরে সে তোমাদেরকে আরো বিরক্ত করবে এবং আরো অতিষ্ট করে তুলবে। মুহাম্মদ ইব্ন মাসলাম(রা) বললেন, আমরা তো তাঁকে অনুসরণ করছি। পরিণাম ফল কি দাঁড়ায় তা না দেখে এখনই তাঁর সঙ্গ পরিত্যাগ করা ভাল মনে করছিনা। এখন আমি আপনার কাছে এক ওসাক বা দুই ওসাক খাদ্য ধার চাই। বর্ণনাকারী সুফিয়ান বলেন, আমর(র) আমার নিকট হাদিসখানা কয়েকবার বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তিনি এক ওসাক বা দুই ওসাকের কথা উল্লেখ করেননি। আমি তাকে (স্মরণ করিয়ে) বললাম, এ হাদীসে তো এক ওসাক ও দুই ওসাকের কথাটি বর্ণিত আছে। তখন তিনি বললেন, মনে হয় হাদীসে এক ওসাক বা দুই ওসাকের কথাটি বর্ণিত আছে। কা‘ব ইব্ন আশবাফ বলল, ধারতো পেয়ে যাবে তবে কিছু বন্ধক রাখ। মুহাম্মদ ইব্ন মাসলাম(রা) বললেন, কি জিনিস আপনি বন্ধক চান। সে বলল, তোমাদের স্ত্রীদেরকে বন্ধক রাখ। মুহাম্মদ ইব্ন মাসলাম(রা) বললেন, আপনি আরবের অন্যতম সুশ্রী ব্যক্তি, আপনার নিকট কি করে, আমাদের স্ত্রীদেরকে বন্ধক রাখব আমরা? তখন সে বলল, তাহলে তোমাদের পুত্র সন্তানদেরকে বন্ধক রাখ। তিনি বললেন, আমাদের পুত্র সন্তানদেরকে আপনার নিকট কি করে বন্ধক রাখি? (কেননা তা যদি করি তাহলে) তাদেরকে এ বলে সমালোচনা করা হবে যে, মাত্র এক ওসাক বা দুই ওসাকের বিনিময়ে বন্ধক রাখা হয়েছে। এটাতো আমাদের জন্য অত্যন্ত লজ্জাকর বিষয়। তবে আমরা আপনার নিকট অস্ত্রশস্ত্র বন্ধক রাখতে পারি। রাবী সুফিয়ান বলেন, লামা শব্দের অর্থ হল অস্ত্রশস্ত্র। অবশেষে তিনি (মুহাম্মদ ইব্ন মাসলাম) তাকে(কা’ব ইব্ন আশরাফকে) পুনরায়  যাওয়ার ওয়াদা করে চলে আসলেন। এরপর তিনি কা’ব ইব্ন আশরাফের দুধ ভাই আবূ নাইলাকে সঙ্গে করে রাতের বেলা তার নিকট গেলেন। কা’ব তাদেরকে দুর্গের মধ্যে ডেকে নিল এবং সে নিজে (উপর তলা থেকে নিচে নেমে আসার জন্য প্রস্তুত হল। এ সময় তার স্ত্রী বলল, এ সময় তুমি কোথায় যাচ্ছ? সে বলল, এইতো মুহাম্মদ ইব্ন মাসলামা এবং আমার ভাই আবূ নাইলা এসেছে। (তাদের কাছে যাচ্ছি) আমর ব্যতীত বর্ণনাকারীগণ বলেন যে কা’বের স্ত্রী বলল, আমি তো এমনই একটি ডাক শুনতে পাচ্ছি যার থেকে রক্তের ফোঁটা ঝড়ছে বলে আমার মনে হচ্ছে। কা’ব ইব্ন আশরাফ বলল, মুহাম্মদ ইব্ন মাসলামা এবং দুধ ভাই আবূ নাইলা, (অপরিচিত কোন লোক তো নয়) ভদ্র মানুষকে রাতের বেলা বর্শা বিদ্ধ করার জন্য ডাকলে তার যাওয়া উচিৎ। (বর্ণনাকারী বলেন) মুহাম্মদ ইব্ন মাসলামা(রা) সঙ্গে আরো দুই ব্যক্তি নিয়ে (তথায়) গেলেন। সুফিয়ানকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, ‘আমর কি তাদের দু’জনের নাম উল্লেখ করেছিলেন? উত্তরে সুফিয়ান বললেন, একজনের নাম উল্লেখ করেছিলেন। আমর বর্ণনা করেন যে, তিনি আরো দু’জন মানুষ সাথে করে নিয়ে গিয়েছিলেন। এবং তিনি বলেছিলেন, যখন সে (কা’ব ইব্ন আশরাফ) আসবে। আমর ব্যতীত অন্যান্য রাবীগণ ( মুহাম্মদ ইব্ন মাসলামার সাথীদের সম্পর্কে) বলেছেন যে(তারা হলেন) আবূ আবস ইব্ন জাব্র হারীস ইব্ন আওস এবং আব্বাদ ইব্ন বিশ্র। আমর বলেছেন, তিনি অপর দুই ব্যক্তিকে সাথে করে নিয়ে এসেছিলেন। এবং তাদেরকে বলেছিলেন, যখন  সে আসবে তখন আমি (কোন বাহানায়) তার চুল ধরে শুঁকতে থাকব। যখন তোমরা আমাকে দেখবে যে, খুব শক্তভাবে আমি তার মাথা আঁকড়িয়ে ধরেছি, তখন তোমরা তরবারী দিয়ে তাকে আঘাত করবে। তিনি (মুহাম্মদ ইব্ন মাসলামা) একবার বলেছিলেন যে, আমি তোমাদেরকেও শুঁকাব। সে(কা’ব) চাদর নিয়ে নিচে নেমে আসলে তার শরীর থেকে সুঘ্রাণ বের হচ্ছিল। তখন (মুহাম্মদ ইব্ন মাসলামা(রা) বললেন, আজকের মত এতো উত্তম সুগন্ধি আমি আর কখনো দেখিনি। আমর ব্যতীত অন্যান্য রাবীগণ বর্ণনা করেছেন যে, কা’ব বলল, আমার নিকট আরবের সম্ভ্রান্ত ও মর্যাদাসম্পন্ন সুগন্ধী ব্যবহারকারী মহিলা আছে। আমর বলেন, মুহাম্মদ ইব্ন মাসলামা(রা) বললেন, আমাকে আপনার মাথা শুঁকতে অনুমতি দেবেন কি? সে বলল, হাঁ এরপর তিনি মাথা শুঁকলেন এবং এরপর তার সাথীদেরকে শুঁকালেন। তারপর তিনি পুনরায় বললেন, আমাকে (আরেকবার শুঁকাবার জন্য) অনুমতি দেবেন কি? সে বলল, হাঁ। এরপর তিনি তাকে কাবু করে ধরে সাথীদেরকে বললেন, তোমরা তাকে হত্যা কর। তাঁরা তাকে হত্যা করলেন। এরপর নবী(সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) –এর নিকট এসে এ সংবাদ জানালেন।

উক্ত হাদিস থেকে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে , মুহাম্মদ(সা:)কে যে অপমান করেছিল তাকে হত্যা করার জন্য স্বয়ং মুহাম্মদ(সা:) নিজেই নির্দেশ দিচ্ছেন। সেই মতে তার সাহাবীরাও হত্যা করতে বিন্দু মাত্র দেরী করে নি।

এখন প্রশ্ন হলো , যারা পাকিস্তানের ঘটনায় উষ্মা প্রকাশ করছে , বলছে পাকিস্তানীরা বর্বর কাজ করেছে তারা কেন সেটা বলছে? এর একটাই মাত্র কারন , তা হলো তারা ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞ। ভয়ানকভাবেই অজ্ঞ। ইসলামের মৌলিক বিষয়ের কোন কিছু না জেনেই এসব আবেগ প্রকাশ করে থাকে। এতে করে যদি ইসলাম আর শান্তির ধর্ম না থাকে সে দোষ ইসলামের নয়। কোরান বা হাদিসে কোথাও দাবী করা হয় নি যে ইসলাম শান্তির ধর্ম। ইসলামকে শান্তির ধর্ম বলে অহরহ প্রচার করে তারাই যারা ইসলাম সম্পর্কে আদৌ কিছুই জানে না , জীবনে কোন দিন নিজের ভাষায় কোরান বা হাদিস পড়ে নি।

এই বাংলাদেশেই যারা ইসলাম নিয়ে রাজনীতি করে , তারা অন্তত: কোরান হাদিস ভালমতো পড়েই সেটা করে থাকে আর তারা কখনই দাবী করে না যে ইসলাম শান্তির ধর্ম। জামাত ইসলাম , হেফাজতে ইসলাম , জে এম বি , হিজবুত তাহরীর ইত্যাদি এরা কেউ দাবী বা প্রচার করে না যে ইসলাম শান্তির ধর্ম। তবে হ্যা বেকায়দায় পড়লে অর্থাৎ অজ্ঞ মূর্খ মানুষের সামনে প্রকাশ্যে ওয়াজ করতে গেলে এরা নিতান্তই অনিচ্ছা সত্ত্বে অনেক সময় ইসলামকে শান্তির ধর্ম বলে সাময়িকভাবে উল্লেখ করে মাত্র। ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞ মূর্খ মানুষ সেটাকেই সত্য ধরে নিয়ে শান্তির বানী কপচায়। তাহলে কেন ওয়াজকারীরা মিথ্যা কথা বলে ?

কারন একটাই তা হলো তারাও ভালমতো জানে , সাধারন মানুষরা হলো ইসলাম সম্পর্কে একেবারে ছুচোর মত কানা , কিছুই জানে না , একমাত্র নামাজ , রোজা , কোরবানীই হলো তাদের ইসলামী জ্ঞানের পুঁজি।এইসব সাধারন মানুষরা আবার নির্বিবাদী শান্তিকামী মানুষ। এদের সামনে যদি শান্তির বাইরে অন্য কিছু বলা হয় তাহলে তাদের ওয়াজ কেউ শুনবে না। আর তাই তারা বাধ্য হয়ে মিথ্যা কথা বলে।

সুতরাং এখন প্রশ্ন হলো :ইসলামের বিধান অনুযায়ী পাকিস্তানীরা কি সত্যিই ইসলামের নামে বর্বর কান্ড করেছে ?