ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 
চোরের মাথায় দেশপ্রেমের রাজনীতি আসে না

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বহু চোরের বিচার এদেশে হয়েছে এবং হচ্ছে; তা কেবল মাত্র আওয়ামী লীগ সরকারের সময়। কারণ, এই সরকার স্বার্থের রাজনীতি করে না।দেশে আজ বিভিন্ন সেক্টরে শিক্ষিত চোরের অভাব কমে গেছে।এ গুলির জন্য ক্ষমতাসীন সরকার কখন দায়ী থাকে না। তবে দায়ী থাকে কে ? সাধারনের প্রশ্ন এটাই। দায়ী আমি আপনি নিজেই।পরিশ্রম করব না অথচ সম্পদের পাহাড় গড়ব এটা হতে পারে না। দেশের অর্থনৈতি অবকাঠাম কারা আজ সচল রেখেছে? ওই গ্রামের গামছা পরা মাঠের শ্রমিক, ওই গার্মেন্টস শ্রমিক, ওই লুঙ্গি পরে ঘাড়ে গামছা নিয়ে যারা বিদেশের মাটিতে পাড়ি দিয়েছে, তারাই তো…..? তা হলে আপনি কেন দেশে বসে, কোট পরে টাই পরে চুরি করছেন। আবার ধরা পড়ছেন। পেপারে হেডলাইন হোচ্ছেন, কোট-টাই পরা সুন্দর একটা ফটো সংগ্রহ করে ছাপিয়ে দিচ্ছে ফটো সাংবাদিক। আপনার মহান গৌরবের কথা পৃথিবীর লোকে দেখছে। বাহ কি চমৎকার।চোরটা বাঙ্গালদেশি চোর। এভাবে আর্ন্তজাতিক পরিমণ্ডলে আপনি এই বীরবাঙালির কলঙ্ক লেপন করছেন। শিক্ষিত জাতির শিক্ষায় কলঙ্ক লেপন করে দিয়েছেন আপনি। তাতে আপনার জন্য খুব বেশী সমস্যা নয়, যেহেতু আপনার চোর স্বজাতি বহুৎ আছে। ফাঁক্কা ফোঁক্কা মেরে আপনাকে ঠিক বাগিয়ে নেবে। আপনি ক্লিন। এবার যখন জাতীয় নির্বাচন আসবে, আপনি মোটা অঙ্কের টাকা মারবেন, দলীয় মনোনয়ন পাবার জন্য। হ্যাঁ, চোরের ভাগ্যটা ভালই থাকে।দেশকে সে পর্যায়ে আমরা করে ফেলেছি।আপনি এবার জননেতা। কিন্তু আমি জানি আপনি চোর, আর জানে আপনার স্ত্রী।

আপনাকে ভাল জানে মাত্র দুই শ্রেণীর মানুষ, ১. আপনার নির্বাচনী এলাকার অশিক্ষিত মানুষ গুলি, যারা কোন মিডিয়ার খবর রাখে না। তারা অন্ধের মত যা বোঝান হচ্চে তাই বুঝচ্ছে, অর্থাৎ বরো মিয়া মোরে য্যাডা কইছে হ্যাডাই করণ লাগব। ২. আপনার মত চোর গুলা। যে গুলা আপনার পেছনে থাকবে স্বার্থ নিয়ে। এবার আপনি নির্বাচনে জয়ী হলে দেশ-জাতি-সমাজকে কি দিবেন? এক জন জননেতার দেবার থাকে দেশপ্রেমের আর্দশ, মানুষকে ভালবাসার আর্দশ। আপনার কি কি আর্দশ আছে….? আমিত জানি আপনি চোর, চুরি করতে করতে নেতা হয়েছেন, লোক ঠকাতে ঠকাতে নেতা হয়েছেন, দালাল ছিলেন, দালালী করতে করতে নেতা হয়েছেন।রাষ্টীয় ক্ষমতা পেলে আপনি চুরিই করবেন আর দেশব্যাপি এক দল চোর-দালাল তৈরী করে যাবেন, এইত।

বর্তমান বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে কালবৈশাখীর প্রলয় নৃত্য চলছে তা আপনার মত চোর-দালাল-ঠকবাজ জননেতাদের আর্দশের ফল। ১৯৭১ এর রক্তে অর্জিত আর্দশ আমাদের চোর হতে শেখায় না।আমাদের দালাল হতে শেখায় না। আমাদের ঠকবাজ বা প্রতারক হতে শেখায় না। কিন্তু ১৯৭১ এর বিরোধী শক্তি চোর-দালাল-ঠকবাজ-প্রতারকের আর্দশ দেখায়। তারা দেশকে লুটপাটের দিকে নিয়ে যেতে চায়।আমি কোরআন-বাইবেল-গীতা-ত্রিপিটক কোথাও পেট্রোল বোমাত দূরের কথা তার পূর্ব পূরুষকেও পায়নি।পেল কারা….? পেল গোলাম আজমের জামায়াতী ইসলাম ও তার অঙ্গ সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবির, পেল জামায়াতী ইসলামের বাহন বিএনপি। যা আজ বিশ দলীয় জোটের হাতিয়ার। মানুষ হত্যার রাজনীতি দেখেছি পাকসরকারের সাশন আমলে।যখন বৈশম্য আচরনের বিরুদ্ধে আমরা বাঙ্গালীরা প্রতিবাদী হয়ে উঠেছিলাম, ১৯৫২ থেকে ১৯৭১ এর ১৬ ডিসেম্বর।……‚কত প্রাণ হলো বলি দান, লেখা আছে অশ্রু জলে…..“ পৃথিবীর রাজনৈতিক ইতিহাসে যে কয়টি গণ-হত্যার ইতিহাস আমরা পাই তার মধ্যে পাকিস্তান সরকার কর্তৃক ১৯৭১ এর গণ-হত্যা চির ঘৃণার সাথে স্মরণীয়।

১৯৫২ থেকে ২০১৫ এর চলমান সময় পর্য়ন্ত আমারা বাঙ্গাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের দিকে দৃষ্টি রাখলে দেখতে পাই, একটা রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি সব সময় রাজনীতির মূখশ পরে অপরাজনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।এটা কিন্তু ওই চোর-দালাল-ঠকবাজ-প্রতারক জননেতাদের অপরাজনৈতিক শক্তি।মেধাবীর সাথে যখন মেধায় না পারে, তখন মূর্খটা দাঁত বসাতে চেষ্টা করে।সে দাঁত এখন পেট্রোল বোমা। যাদের মেধা আছে তাদের রাজনীতি করতে পেট্রোল বোমা লাগবে কেন? যারা দেশকে ভালবেশে রাজনীতি করছে, তাদের পেট্রোল বোমা লাগবে কেন? যারা দেশের মানুষকে স্বার্থ করতে পেরেছে, তাদের পেট্রোল বোমা লাগবে কেন? পেট্রোল বোমা লাগবেত তাদের যারা ১৯৭১ এ স্বাধীনতা চায়নি, যারা নিজের স্বাধীনতা চায়নি, যারা অস্তিত্ত্বের মুক্তির সাধ বোঝেনি, পরের গোলামী করে যারা নিজের অস্তিত্ত্বকে এখন বিকিয়ে রেখেছে। এখন অপরের ইন্দোনে নিজের দেশ, নিজের রাষ্ট্র, নিজের সমাজ, নিজের পরিবার নষ্ট করে যাচ্ছে, ধ্বংস করে যাচ্ছে।ধ্বংস করছে নতুন প্রজন্মের মেরুদণ্ড। মূর্খের পক্ষে এটাই স্বাভাবিক।

কথায় আছে,- বান্দরের হাতে কলা দিতে নেই। আমাদের দেশে রাজনীতিটা ওই কলার মত, হাতে পেলে বান্দর গুলো স্বভাবজাত খেতে সুরু করে। এই চোর মূর্খর দল রাজনীতিকে বানিজ্যিক করে ফেলেছে।যে মূর্খটা জীবনের স্বাভাবিক সুস্থ নিয়মে চলতে গিয়ে হোঁচঠ খায়, তখন তাকে দেখা যাবে রাজনীতির প্লাটর্ফমে।এবং ওখান থেকে নিজের জীবনে প্রতিষ্ঠার জন্য যত প্রকার অমানবিক কাজ আছে, তা তাকে করতে দেখা যাবে। এই অমানবিক কাজ গুলো কী? কি? যেমনঃ ১. থানার দালালী। ২. কোর্টের দালালী। ৩. ভূমি অফিসের দালালি। ৪. ব্যাংকের দালালি। ৫. হাসপাতালের দালালি। ৬. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দালালি। ৭. চাকুরী ক্ষেত্রে দালালি। ৮. বিদেশ যাত্রায় দালালি। এমনি করে অনেক অনেক বলা যাবে, কোথায় দালালি নেই আজ……? এগুলি সবই আমাদের দেশের অভ্যন্তরে। দেশকে এমন পর্যায়ে কে নিয়েছে……? দেশের সরকার…….? না…..এগুলোর জন্য সরকার কেন দায়ী থাকবে। আপনার আমার নৈতিক চরিত্রের অবনতি হতে হতে এমন একটা স্থরে পৌঁচেছে, তারই চরম প্রভাবের স্বীকার এই দেশ…..এই জাতী…..এই সমাজ…..এবং দেশের সম্পদ। এটা কেন এ স্থরে পৌঁছাল, আপনি জানেন……? আপনি মূর্খ তাই। আপনি হয় লেখা-পড়া শিখে মূর্খ অথবা না শিখে মূর্খ। আপনার বংশে দেখুন চৌদ্দ গোষ্ঠীর মধ্যে একটাও শিক্ষিত নাই। আপনি উঠে এসছেন হাল-বলদের থেকে। এখন কিন্তু জননেতা।

মেষ পালক ছেলেটি হয়ত হয়ে উঠবেনা এ্যামেরিকার প্রেসিডেন্ট শ্রী আব্রাহাম লিংকন।বাড়ি থেকে গরু বিক্রয়ের টাকা নিয়ে পালান ছেলেটি হয়ত হয়ে উঠবেনা দক্ষিণ আফ্রিকার নয়নপূরুষ শ্রী নেলসন ম্যাণ্ডেলা। রেল লাইনের পাশে সেই চা বিক্রেতা ছেলেটি হয়ত হয়ে উঠবেনা শ্রী নরেন্দ্র মোদী। এবার হয়ত আপনার পক্ষে যুক্তি খাড়া করতে সুবিধাই হলো। গোবরেও পদ্ম ফুল জন্মায়। হ্যাঁ, আমি স্বীকার করছি…. গোবরেও পদ্ম ফুল জন্মায়। কিন্তু আপনাকে বুঝতে হবে বাস্তবতা। সেটা কেমন…..? সেটা হলো….সব গোবরের পদ্ম ফুলে, পদ্ম ফুলের সুভাষ থাকে না, থাকে পঁচা গোবরের গন্ধটাই। আর আজ সেই পঁচা গোবরের গন্ধটাই বেশী আমাদের বাংলাদেশের রাজনীতিতে, আমাদের জাতীয় জীবনে…আমাদের সমাজে…..আমাদের সংসারে, যা কেবল আপনাদের মত গোবরের পদ্ম ফুলের জন্য। আপনারা দেশকে আজ কোন পর্যায়ে নিয়ে এসছেন, তার একটি পরিসংখ্যান উল্লেখ করছি….দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকার নির্বাহী পরিচালক শ্রদ্ধেয় স্বদেশ রায় এর লেখা থেকে,…..

“খুব মোটা দাগে যদি হিসাব করা যায় তাহলে দেখা যায়, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও ফাঁসির রায় শুরু হওয়ার পর থেকে এ দেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের যত সাধারণ মানুষ হত্যা করা হয়েছে, তার সব হত্যাকাণ্ডের নেতৃত্ব দিয়েছেন খালেদা। যুদ্ধাপরাধী বিচার ট্রাইব্যুনাল সাঈদীকে ফাঁসির রায় দিলে, জামায়াত কিন্তু মাঠে নামতে সাহস পায়নি। কারণ, তখন সারাদেশে গণজাগরণ মঞ্চের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ তরুণ প্রজন্ম মাঠে। খালেদা তখন পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইএর কিছু সদস্যের সঙ্গে সিঙ্গাপুরে মিটিং করছিলেন। সিঙ্গাপুর থেকে ফিরেই তিনি আইএসআইএর নির্দেশ মতো তার রাজাকার, আলবদর দিয়ে তৈরি বিশদলীয় জোটের মিটিং ডাকেন এবং সাঈদীর ফাঁসির রায়কে পরিকল্পিত হত্যার উদ্দেশ্য বলে তার প্রতিবাদে তার দলীয় কর্মীদের নৈরাজ্য ও হত্যাযজ্ঞে নেমে পড়তে বলেন। নেমে পড়তে বলেন বিশদলীয় জোটকে। পাশাপাশি এই যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করার জন্য খালেদা, জামায়াতের আন্দোলনের সঙ্গে তার তথাকথিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আন্দোলন জুড়ে দেন। যা ছিল সম্পূর্ণ তার একটি কৌশল মাত্র। এর পরে সাত মাসজুড়ে দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নেতৃত্ব দেন খালেদা। তার নেতৃত্বে দেশের কয়েক হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি নষ্ট হয়। পুলিশ, বিজিবিসহ পাঁচ শতাধিক মানুষ খালেদার নেতৃত্বে হত্যা করা হয়। যার ভেতর দুই বছরের শিশু ছিল, নারী ছিল। উপাসনালয় ভাঙ্গা হয় ৯৭৮টির মতো। বাস্তবে খালেদা সৃষ্টি করেছিলেন মিনি একাত্তর।…………….
২০১৩-এর সাত মাস ও ২০১৫-এর ৯৩ দিনে এই সরাসরি দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধে খালেদার নেতৃত্বে শিশু, নারীসহ ৮শ’ সাধারণ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। আর কয়েক হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি নষ্ট করা হয়েছে। এই গণহত্যার সুপ্রিম রেসপনসিবিলিটি খালেদার।…………….”

এবার নিশ্চয় বুঝতে অসুবিধার কথা নয় যে, চোরের মাথায় কোন ধরনের রাজনীতি হতে পারে। ইতিহাসের কাছ থেকে কেউ কখন লুকিয়ে বাচঁতে পারে না….ভবিষ্যতে পারবেনা। তাই বিএনপি-জামায়াত যতই হত্যার রজিনীতি করুক……পেট্রোল বোমার রাজনীতি করুক…….ইতিহাস বিকৃতির রাজনীতি করুক না কেন, তাতে ফল হবে না। কারণ, আজ বাংলার মানুষ নিজেদের অস্তিত্ত্বের ভাষা বুঝতে শিখেছে। লেখার কলেবর বৃদ্ধি না করে একটু সংক্ষেপে যদি দেখি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সময়ের ইতিহাস থেকে বর্তমান সময়ের চলমান রানৈতিক ইতিহাসের দেশদ্রোহী-ষড়যন্ত্রকারীর ভূমিকা কেমন ছিল বা এখন কেমন , তা পরিস্কার বোঝা যাবে। মৃত গোলাম আজম আমাদের মুক্তি যুদ্ধের সময় দেশের বাইরে থেকে আর্ন্তজাতিক ষড়যন্ত্র করেছিল। গোলাম আজম মরলেও ইতিহাস মরেনি……ইতিহাস আজ সে স্বাক্ষ্য দেয়। আর বর্তমান সময়ের গোলাম আজম মিঃ তারেক রহমান, তিনিও দেশের বাইরে বসে সেই কাজটি করে যাচ্ছেন। তারেক রহমান যে চোর, সেটা শুধু আমরা নই; আর্ন্তজাতিক পরিমণ্ডলেও বিষদভাবে অবগত আছে। একটা দেশের প্রধানমন্ত্রীর ছেলে চোর। সে তার মা ক্ষমতায় থাকা কালীন দেশের অর্থ-সম্পদ লুটকরেছে মা-ব্যাটাতে, তা কিন্তু বিদেশের মাটিতে ধরা পড়ে প্রমাণ হয়েছে। এট বাঙালির জাতীয় লজ্জা নয়কি……?

পরিশেষে বলব, আমাদের রাজনৈতিক প্লাটফর্ম থেকে শুরু করে সর্ব্বস্তরে মেধাবিদের জায়গা করে দেই। সুন্দর মেধাবি তরুণ সমাজকে মূল্যায়ন করি। বিশ্বের যত মহাজ্ঞানী মহাজনদেরকে আদর্শ করি। তথ্য-প্রযুক্তি সম্মৃদ্ধ উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে চলি। চোর-দালাল-ঠক-প্রতারক কে না বলি। তাহলে ধীরে ধীরে আমাদের অপরাজনৈতিক কর্ম-কাণ্ড বন্ধ হবে। বন্ধ হবে যানবাহনে পেট্রোল বোমা ছুড়ে নিরীহ পথচারী হত্যার রাজনীতি।

১৭.০৪.২০১৫খ্রীঃ
dipeshroy@gmail.com