ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

Ashraful a

সৈযদ আশরাফুল ইসলাম, একটিং ইনএকটিভ সাধারন সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ। ২০০৭ সালের জানুয়ারীর ১১ তারিখে বাংলাদশে যখন সিডর হানা দেয়, তখন দলীয় সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক জেলে, কথিত দুর্নীতির দায়ে। সিডর যখন হানা দেয় রাষ্ট্র তখন লন্ডভন্ড। রাজনৈতিক দল গুলো সোজা কথায় ছ্যারাবেরা অবস্থায়। একে ধরে তো ওকে মারে। এমন বিভিষীকা ময় অবস্থায় নতুন আজাব নাযিল হয় সংস্কারপন্থী নাম দিয়ে, রাজনীতিতে চলে বিশ্বাস অবিশ্বাসের খেলা। চরম সংকটে। ঘরের শত্রু সব বিভীষণকে চেনা দায় হয়ে পড়ে। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কান্ডারী তখন একজনই ফ্রন্টে। তিনি জিল্লুর রহমান, বয়োবৃদ্ধ। তিনি যেভাবে বিবর্ন হাতে শক্ত করে হাল ধরেন এবং রাজনীতিতে তিনি কতটা পটু সেসময় তিনি তার স্বাক্ষর রেখেছেন। সাধারন সম্পাদক জেলে। জেলে থেকে নির্যাতনের কারনে হোক আর যাই হোক নিজ দলের সভাপতির নামে নানান কুৎসা রটালেন। সিনিয়র যুগ্মসম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম তখনো স্বভাব গত ভাবে আমেরিকায় অবস্থান। এর পরেই আছেন মুকুল বোস। যিনি সংস্কার পন্থী নাম দিয়ে দল ভাঙ্গার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। জিল্লুর রহমান দলের এই অবস্থায় মুকুল বোসকে থামাতেও পারছেন না, কারন তার জন্য যে প্রসেস দরকার সংগত কারনেই সম্ভব ছিলো না। একমাত্র ভরসা সৈযদ আশরাফুল ইসলাম। তাকের আনিয়ে নিলেন প্রবাস থেকে। অনেক শেখ রেহানার নেপথ্যে কার্যকারিতার কথাও বলেন তখনকার রাজনীতিতে। আশরাফুল ইসলাম তার দায়িত্ব উৎরে গেলেন। সংস্কারপন্থীরা দুমড়ে মুচড়ে গেলেন, জিল্লুর, আশরাফুল, রেহানার রাজনীতিতে, সাথে আওয়ামীলীগের তৃনমূলে অবদান অনস্বীকার্য।

ashraful

অন্যের ঘর যখন তাসের ঘরের মত ভেংগে পড়লো, তখনই বিপুল বিজয়ে সরকার গঠন করলো মহাজোট। আওয়ামীলীগ নিজেই একক ভাবে নিরন্কুশ একক সংখ্যাগরিষ্ঠ। নির্বাচনোত্তর আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে স্বাভাবিক ভাবেই সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত।

পেয়েছেন মন্ত্রনালয়ও, স্থানীয় সরকারের মত গুরুত্বপূর্ন মন্ত্রনালয়, যা কিনা সরকারের পারফর্মেন্সকে শো করে, সবচেয়ে বড় কথা গ্রামীন উন্নয়ন এখান থেকেই হয়ে থাকে। বিপত্তি এরপরই সেই আশরাফুল ইসলাম এখন আর নেই, তিনি এখন দাম্ভিক, আই ডোন্ট কেয়ার টাইপের। এত গুরুত্বপূর্ন পদ ও মন্ত্রণালয় তার দায়িত্বে। কিন্তু তিনি কোথাও নেই। দলীয় অফিসে বসেন না, কোন সভা সমিতিতে পারতপক্ষে অংশ নেন না, অন্তত মনে পড়েনা। দলের নেতা কর্মী সে যেই পর্যায়েরই হোক না কেন তাঁর দেখা পাওয়া সৌভাগ্যের ব্যপার। ফোন রিসিভ করতে অপারগ।

আর দেশের মন্ত্রনালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ে তিনি অনুপস্থিত। এই রকম একজন মন্ত্রী যেখানে দিনের ১৬ ঘন্টা কাজ করলেও কাজ সমাপ্ত হবার কথা নয়, সেখানে উনি দিনের পর দিন অফিসে অনুপস্থিত। সচিবরা উনার দেখা পাননা। উনার চেম্বারে ফাইলে ধুলো জমে। বাসায় পড়ে থাকে ফাইলের স্তুপ। মন্ত্রনালয়ে কাজে অগ্রগতি নেই। কিছুটা কৃতিত্ব নিতে পারে জাহাঙ্গীর কবির নানক যে কিনা যথাসাধ্য কাজ করে যান, নিজের আওতার মধ্যে তাও সীমিত আকারে। ইদানিং শোনা যায় প্রধানমন্ত্রীর ফোন রিসিভিংয়েও উনার কার্পণ্য। অথচ উনার যেই মেধা রয়েছে নিজেকে একটিভ করলেই আমুল পরিবর্তন হয়ে যেত মন্ত্রনালয়ে, এবং দেশে। এখন উনি যদি ডিসিশন নিয়ে থাকেন তিনি এরচেয়ে বাড়বেন না তবে তা সবার জন্য অমঙ্গল।

একই রকম নিস্ক্রিয়তা নিয়ে যদি তিনি দলে এবং মন্ত্রনালয়ের জগদ্দল পাথর হয়ে বসে থাকেন, তাহলে দেশ এবং দল দুটোই আসন্ন বিপদে।এই বিপদ থেকে উদ্ধার করতে উনাকেই সবার আগে পদক্ষেপ নিতে হবে। নিজেকে কার্যকর রাখবেন নতুবা পদ ছেড়ে দিয়ে কাউকে জায়গা করে দিবেন। সকলের সাথে সাথে উনার নিজেরও মঙ্গল হবে। বাকী আড়াই বছরে সরকারে এখনো অনেক কিছুই করার আছে। কিন্তু তিনি একটিভ হলেই সবচাইতে ভালো হয়, নির্লোভ এবং কর্মদক্ষতার মাধ্যমে জাতিকে দলকে উনার অনেক কিছুই দেয়ার ছিলো।

ধন্যবাদ।