ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

জেনি, মাত্র তের বছর বয়স। বাড়ি বরগুনার বামনা উপজেলার ডৌয়াতলা ইউনিয়নের ছোট ভাইজোরা গ্রামে। থানীয় চলাভাঙ্গা দারুসসালাম বশীদিয়া মাদ্রাসার ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী জেনি। শান্ত ও মেধাবী ছাত্রী হিসাবে সবাই তাকে পছন্দ করতো। ঘটনা একই, খালি চরিত্র ভিন্ন। বখাটেছেলে তাপু মাদ্রাসা আসা যাওয়ার পথে বিরক্ত করতো জেনিকে। তাপু এলাকার প্রভাবশালী গোলাম হায়দার হেমায়েত উদ্দিন মেম্বারের বখে যাওয়া ছেলে। ভাবছি তাপু বখে যাওয়া ছেলে নয়, বখে যাওয়া বাবার বখে যাওয়া ছেলে।

জেনির মা তাপুর বাবাকে অভিযোগ করলেও এর কোন সুফল না এলে উল্টো জেনিকে এসিড নিক্ষেপ, অপ হরনের হুমকি দিলে মাদ্রাসার ভালো ছাত্রী জেনির পড়ালেখা বন্ধ করে দিতে হয়। জেনির বাবা মা এতেও স্বস্তি পায়না। অগত্যা মেয়েকে বিয়েদিয়ে পার করে দিবেন গ্রাম থেকে তাই বিয়ে পাকাপাকি করে ফেলেন তারা।

বখাটে তাপু ক্ষিপ্ত হয়। রাতে জেনির বাসায় হামলা করে। জানালা ভেংগে জেনির কক্ষে ঢুকে, এবং ঘুমন্ত জেনির উপর হামলে পড়ে।জেনির মা মেয়েকে বাঁচাতে চাইলে লম্পট তাপু মাকে আহত করে। আহত অবস্থায় মা তাপুর বাবার কাছে গিয়ে মেয়েকে রক্ষা করতে চাইলে উল্টো মাকে আটকে রাখে। ছাড়া পেয়ে মা ছুটে জান মেয়ের কাছে। বাড়ি ফিরে দেখেন ধর্ষিতা মেয়ের লাশ ঝুলছে গাছে।

কিন্তু এই সভ্য যুগে এও সম্ভব। একজন পিতা তার ছেলেকে একটা নাবালিকা মেয়ের উপর পাশবিক নির্যাতনের জন্য সহযোগিতা করছেন। এটা কেমন করে সম্ভব!! সমাজটা এভাবে নষ্ট হয়ে গেলো কেন? কার এর জন্য দায়ী।

খবরে প্রকাশ লম্পট তাপুর লম্পট বাবা ও লম্পট মাকে গ্রেফতার করেছে। কিন্তু তাপুকে গ্রেফতার করতে পারেনি এখনো।

এদের দ্রুত সাজা দেয়া দরকার। সংক্ষিপ্ত সময়ে। গ্রামের প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে এরা যেন ছাড়া না পায়।

আর সকলের ভাবা উচিৎ আরেক বার, সমাজটাকে কারা এমন ভাবে নষ্ট করলো? কেমন করে করলো। এবং এর থেকে উত্তরনের উপায় নিয়ে শিগগিরই সকলকে নিয়ে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি কাজ করা উচিৎ।