ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 
dour

দৌড় সম্ভবত আদিম খেলা। কে আগে………. বললেই দৌড়ের প্রশ্ন চলে আসে, দে ভোঁ দৌড়। নানান কারনেই দৌড়ের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। দৌড় যখন দিতে হয় তখনই বুঝা যায় আসলে দৌড়ের প্রয়োজনীয়তা কোথায়। শরীর গঠনেও দৌড়ের ভুমিকা রয়েছে। অবশ্য তা কেবল সুস্থ মানুষের জন্যই। অসুস্থ কেউ বিশেষ করে হার্টের কোন রোগী দৌড় দিলে আজীবনের জন্য দৌড় থেমে যাবার সম্ভাবনা থাকে।
যে দৌড় দিতে অক্ষম তার মনেও দৌড় দেয়ার বাসনা থাকে। ভাবে ইস পা টা যদি থাকত এক দৌড়ে সারা দুনিয়া ঘুরে আসতাম।

খেলাধুলা হিসেবেও দৌড় জনপ্রিয়। দৌড়ে ফার্ষ্ট হওয়া ছিলো সবচেয়ে গর্বের বিষয়। সম্ভবত বিপদ আসলে সবার আগে দৌড়ে পালিয়ে যেতে পারবে এই আশায়। পাড়ার মাঠে, প্রাথমিক স্কুল থেকে শুরু করে বিশ্বের সব নামি দামী প্রতিযোগীতায় দৌড় অভিজাত। এছাড়া নানান খেলাধুলায়ও দৌড়ের ব্যবহার রয়েছে।
দৌড় না দিয়েও অনেকে বলে দৌড়ের উপ্রে আছি।

এই দৌড় বিশ্বের সবচেয়ে দামী আসর অলিম্পিকেও স্থান পেয়েছে সেই শুরু থেকেই। বিশ্বের সেরা দৌড়বিদ এই মুহুর্তে জ্যামাইকান উসাইন বোল্ট।
আমাদের দেশেরও একজন সেরা দৌড়বিদ রয়েছেন, মাহবুব। জাতীয় চ্যাম্পিয়ন।
দৌড় নিয়ে এতো কথা আসলে ভুমিকা মাত্র। এবার আসি আসল কথায়।

দৌড়বিদ হিসেবে আমাদের রাজনীতিবিদরাও কম যান না। এমন দৌড়ের প্রথম উদ্ভাবন এসেছে যাত্রাবাড়ীর শনির আখড়া থেকে। পানির জন্য শনির আখড়ার মানুষ গুলো যখন নাভিশ্বাস উঠেছিলো আন্দোলন যখন দানা বাধছিলো সালাহউদ্দিন এমপি গিয়েছিলেন আন্দোলন দমাতে। গনবিক্ষোভের মুখে অতিষ্ঠ মানুষের প্রতিরোধের মুখে বর্তমান বিএপির শীর্ষ নেতা এমপি সালাহউদ্দিন নিজেকে বাঁচাতে দৌড়ে পালান এবং রেকর্ডের সৃষ্টি করেন। উদ্ভাবনী অবদানের জন্য উনার নামের সাথে দৌড় যুক্ত হয়ে নাম ধারন করেছেন দৌড় সালাহউদ্দিন। রাজনীতিবিদেরা দৌড় দেন এই উদাহরনটা সৃষ্টি করেন। জাতি তাঁকে চিরদিন স্মরণ রাখবেন।

দ্বিতীয় দৌড়ে অংশ গ্রহন করেন লেঃ জেনারেল মাহবুবুর রহমান (অবঃ)।
১/১১র কাঁধে চড়ে সংস্কারপন্থী হিসেবে ধোয়া তুলসী পাতা সাজেন।……. তত্ত্বাবধায়ক সরকার পিছু হটলে তিনি চামে আবার খালেদার কৃপা ধন্য হলে বিএনপিতে ঠাই করে নেন। জিয়ার মাজারে(!) পুষ্প প্রদান করলে দেলোয়ার গ্রুপের হাতে প্রহৃত হন এবং তিনি ও দৌড়ে পলায়ন করেন।

তৃতীয় দৌড় মহা আলোচিত, বিএনপির চিফ হুইপ জয়নাল আবেদীন ফারুক। রাস্তায় গাড়ি ভাংচুর করতে উদ্যত হলে পুলিশের বাধার মুখে পুলিশকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলে সংগঠিত ঘটনায় ও রটনায় পুলিশ আক্রমন করে। এক পর্যায়ে জয়নাল আবেদিন ফারুক বিখ্যাত দৌড়টি দেন। এই দৌড় সাম্প্রতিক কালে বেশ আলোচিত হয়।

দল হিসেবে দৌড় দেয়ার মানসিকতায় বিএনপি সেরা এবং একমাত্র রাজনৈতিক দল।

রাজনীতিবিদেরা দৌড় কেন দেন? রাজনীতিবিদেরা তো দেশের জন্য জান প্রান। সুদীর্ঘ কাল নানান নির্যাতন সংগ্রামের চড়াই উৎরাই পেরিয়ে তবে রাজনীতিবিদ হন। বেসিক কথায় নিজেকে উৎসর্গ করবেন বলেই রাজনীতি করেন। জনগনের কথা ভাবেন বলেই তারা আন্দোলন করেন সংগ্রাম করেন। আন্দোলনের মাঠ থেকে বা জনসম্মুখে কোন রাজনৈতিক নেতার এমন পলায়ন সচরাচর চোখে পড়েনা। বাধার মুখে তারাই দাঁড়িয়ে যান আঘাত সহ্য করেন অনেকে জীবন দিয়ে দেন বা প্রতিহত করেন।

আমরা দেখেছি আন্দোলনে বিরোধী পক্ষ বা পুলিশের দ্বারা আক্রান্ত হলে নিজের কর্মিবাহিনীই তাদের নেতাকে রক্ষা করেন। এমনও দেখা গেছে নেতার গায়ে যাতে আঘাত না লাগে সেজন্য নেতার উপর কর্মীরা শুয়ে পড়ে রক্ষা করেছেন।

২১শে আগষ্ট গ্রেনেড হামলা হলে দলের নেতা হানিফ, সুরন্জিতরাই মানবঢাল রচনা করে নিজের নেত্রীকে রক্ষা করেন। তেমনি হানিফ সুরন্জিতরা আক্রান্ত হলে তাদের কর্মীরা তাদের রক্ষা করে থাকে।

তবে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের দৌড় দিতে হয় কেন? জনগনকে সমূহ বিপদ থেকে রক্ষা করবেন কেমন করে। অযাচিত জাতিগত কোন বিপদ দেখে দৌড়ে পালালে অন্তত আশ্চর্য হবার কিছু থাকবে না।
এমন দেউলিয়াপনার নিশ্চয় কোন কারন আছে।

আজ যদি আমাদের মুক্তিসেনারা পাকি আক্রমণের তোড়ে প্রথম দিন থেকেই দৌড়কে আত্মস্থ করতো তবে দেশ অন্তত স্বাধীন হতো না। স্যালুট সে সব বীর নায়কদের।