ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

ছোট বেলায় পড়েছিলাম
টুইংকেল টুইংকেল লিটল স্টার……….।

আমাদের মন্ত্রীমহোদয় গন, সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন এবং নিয়েছেন দেশ পরিচালনা করার জন্য। মাননীয় মন্ত্রীগনদের সে রকম যোগ্যতা আছে বলেই তাদের মন্ত্রী বানানো হয়ে থাকে। অবশ্য সকলের যোগ্যতা যে সমান তাও নয়। এটাই স্বাভাবিক। বিভিন্ন মন্ত্রনালয় বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফলতা লাভ করেছে। অনেকে আবার তার উল্টোটা। যদিও তারা স্বীকার করেন না। আমরা মেনে নিতে পারি উনারা যথেষ্ট পরিশ্রম করে যাচ্ছেন, কিন্তু রাষ্ট্র এর সুফল না পেলে পরিশ্রমের কোন দামই নেই।

আমাদের মাননীয় মন্ত্রীরা নানান ভাবে জনগনের নিকট হাস্যরসের কিংবা মনঃপীড়ার কারন হয়ছেন তাদের দায়িত্বহীন বচনামৃতে। মন্ত্রীগন যাহারা এসব বর্ষিত করেন তাহারা নিজেরা পরে কি অনুভব করেন সেটা তারা বুঝতে পারেন কিনা আমার জানার কথা নয়। কিন্তু অন্য যাহারা আছেন তাহার কেউ তামাশা করার সুযোগ পান, কারো মনো বেদনার ভোগেন আর কেউ হন বিব্রত। যাহারা তামাশা করেন তাহার বিরোধী দলের, এই ভেবে যে মওকা পাওয়া গেলো। যাহারা বিব্রত হন তাহারা সরকার ও সরকার দলীয় লোকেরা, আর যারা মনোকষ্টে ভোগেন তাহারা সাধারন জনগন।

মন্ত্রীবচনে কোন সরকারের মন্ত্রীরা কম যাননি।
আবুল মাল আব্দুল মুহিত, মাননীয় অর্থমন্ত্রী
আপনারা একদিন বাজারে যাবেন না।

পুঁজি বাজারে আন্দোলনরত ফটকা বাজারি

বাজারে একদিন নয় প্রয়োজনে সপ্তাহে একদিন বাজারে যাবো না, গত বিএনপি জামাত সরকার যখন বাজার নিয়ন্ত্রনে ব্যর্থ তখন রাজনীতিবিদ হিসেবে এমন আহবান জানালে আপনার আজকের আহবান স্বার্থক ছিলো। অথচ আপনি ব্যর্থ হয়ে আজ জনগনকে পরামর্শ দিচ্ছেন বাজারে না যাওয়ার জন্য।

ঘরপোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখে ভয় পায়। এই একমাস আগেই আপনাদের পুঁজিবাজারে সাধারন বিনিয়োগকারীদের যে সর্বনাশ হয়ে পথে নামার উপক্রম হয়েছিলো সরকার এবং কমিশনের বালখিল্যতায়। সাধারন বিনিয়োগকারীরা এসব ভুলেনি, ভুলবে না। কথায় আছে পুত্রশোক কাটিয়ে উঠা যায় কিন্তু টাকার শোক কাটেনা।

কয়েক সপ্তাহের উর্ধ্ব গতির পর যদি পরের পুরো এক সপ্তাহ নীচের দিকে যেতে থাকে বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কিত হবার যথেষ্ট কারন আছে। সূচকের এই পতন যদি স্বাভাবিকও হয় কিন্তু বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে তাতে অর্থমন্ত্রী কোন ভাবেই এমন উক্তি করতে পারেন না বা ভাবতে পারেন না। কারন নিকট অতীত ভালো না। সরকারের উচিৎ ছিলো এই অবস্থা বিনিয়োগকারীদের ব্যাখ্যা করা।

কর্নেল অবঃ ফারুক খান, মাননীয় বানিজ্য মন্ত্রী।
লোভ লালসা কমান, কম খান, স্বাস্থ্য ঠিক রাখেন।

মাননীয় মন্ত্রীর জানার কথা বাংলাদেশের মানুষ কি পরিমান অপুষ্টিতে ভোগে। এটা নিশ্চয়ই বেশী খাওয়ার ফল নয়। ঠিক মত খেতে পায়না বলেই অপুষ্টিতে ভোগে, স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে আছে। আসলে সরকার জনগনকে এমন বেশি কিছু খেতে দেয় না যে কম খেতে পরামর্শ দিতে পারেন। আসলে বানিজ্য মন্ত্রনালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় এমন দুটি মন্ত্রনালয়, যা এক মিনির সফলতা জনগন ভোগ করে আবার এক মিনিটের ব্যর্থতা জনগনকে বিপদের গহবরে ঠেলে দেয়। বানিজ্য মন্ত্রনালয়ের অবস্থা এমন যে যেদিন বলবেন তার পরদিন উল্টো রেজাল্ট। সে আমীর খসরুই হোক আর ফারুক খানই হোক। সেক্ষেত্রে উনারা কথা না বলে কাজ করলেই এর রেজাল্ট পাবেন। উনারা বিবৃতি দিয়ে জানাতে হবেনা কি করছেন, কি করবেন। উনারা দয়া করে সঠিক কাজটি সঠিক করলে জনগন বুঝতে পারে যে সরকার কিছু করেছে।

মন্ত্রীরা আসলেই কখনোই কম যায় না, আগের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভুয়া ফিটনেস ও ওভারলোডেড ডুবন্ত লঞ্চের লাশের সামনে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন
আল্লার মাল আল্লাহ নিয়ে গেছেন
প্রতিমন্ত্রী বাবরও কম যায় নি
দেশের একের পর এক হত্যা কান্ড ঘটে যাচ্ছে, সারাদেশে বোমা বাজি, গ্রেনেড হামলা চলতে থাকলে উনি বলেন
উই আর লুকিং ফর শত্রুজ।
শত্রুজ কিন্তু তার ঘরেই বসবাস বা সহবাস করছে তখন।

মংগা পীড়িত উত্তরাঞ্চলে তীব্র খাদ্য সংকট দেখা গেলে যখন মানুষ মারা যাচ্ছে, খাদ্যের জন্য হাহাকার পড়ছে, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেংগে পড়েছিলো। জাতির সাথে সকরুণ মস্করা করেন তখনকার অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান
মংগা আবার কি?!
মওলানা!মতিউর রহমান নিজামী, কৃষি মন্ত্রী,
জংগীবাদ মিডিয়ার সৃষ্টি

জংগীবাদ যখন দেশের বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছিলো, একে একে দেশে সর্বনাশ করে চলছিলো, নানান জায়গায় বোমা বাজি, হত্যা, নির্যাতন শুরু করে দেয়। দেশকে অস্থিতিশীল পাকিস্তান আফগানিস্তান বানানোর চক্রান্তে লিপ্ত তখন রাজাকার নিজামীর উক্তি বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে। অথচ জংগী বাদ উনার সৃষ্টি।

তো এইসব মন্তব্য করে মন্ত্রীরা নিজের আত্ম সুখ পেতে পারে বটে কিন্তু ভিকটিম জনগন তখন হাপিত্যেশ করা ছাড়া আরো কিছু করার থাকে যখন দেয়ালে পিঠ ঠেকে যায়।