ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

আগেই বলেছিলাম আমাদের মন্ত্রী বচনে আমরা কষ্ট পাই। বচনে কেউই কখনো কম যান নাই। যখন যার সুযোগ আসে সেই তার পূর্বের সহকর্মীকে ছাড়িয়ে যাচ্ছেন। এতো বড় স্পর্ধা ওরা কোথা থেকে পায়। ওদের এই দাম্ভিকতার উৎস কি! তারা কি আনটাচেবল?! ভুমিধ্বস জয়ে নির্বাচিত সরকার শুরুটা সকলের প্রশংসনীয় ছিলো। মন্ত্রীসভার সিলেকশনে নতুনত্ব দেখিয়ে কিছুটা আশার সঞ্চার হলো। তার পর দিন পেরোতে নাম পেরোতেই খেই হারিয়ে ফেলেছে আপাত দৃষ্টিতে।

বানিজ্য মন্ত্রীর লাগাম ছাড়া মন্তব্য যখন একের পর এক মানুষের ক্ষুধার্ত পেটে আঘাতের সমতুল্য হয়ে পড়ে তার রেশ পার করতে না করতেই তিনি নিজেই নিজের রেকর্ড ভংগ করে বসেন।
পুঁজি বাজারের পুঁজি হারিয়ে কপাল চাপড়ানো কোন ক্ষুদে বিনিয়োগকারীকে সান্ত্বনা বা গাইডলাইন না দিয়ে উল্টো তাকেই গালিগালাজ করে বসেন মাননীয় অর্থমন্ত্রী।

হালে যোগ দিয়েছেন মাননীয় যোগাযোগ মন্ত্রী। তার মতো এমন অথর্ব মন্ত্রী যোগাযোগ মন্ত্রনালয় পেয়েছে কিনা সন্দেহ। কোন কাজ নেই খালি বাগাড়ম্বর, ভাঁড়ামি আর বাচাল। হ্যাঁ যোগাযোগ খাতে ঢাকা শহরে ফ্লাইওভার কিছু বড় সেতু, ইম্পসিবল এগুলো উনার কোনো কৃতিত্ব নয়। প্রধানমন্ত্রী বিশেষ গাইড লাইনেই এগুলো বাস্তবায়িত হয় বা হবে। উনার উর্বর মাথার কাজ এসব নয়। কিন্তু উনার যে কাজ ছিলো সারা দেশে সড়ক মহাসড়কের উন্নয়ন ও বিস্তৃতি ঘটানো যার দিকে উনি বিন্দু মাত্র নজর দেননি আর ভেংগে পড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা।

বর্তমানে যে যোগাযোগ ব্যবস্থা আমি বাজি লাগতে পারি বিশ্বের কোথায় এমন অব্যবস্থাপনা কোথায়ও নেই। সে সড়কে বলুন আর যানবাহনেই বলুন। সর্বত্র হরিলুটের কাজ কারবার। পাবলিককে ঠেংগানীতে সবাই সকলকে ছাড়িয়ে যাচ্ছেন। আর মন্ত্রনালয়ের এমন একটা রুটিন ওয়ার্ক যখন শতভাগ ব্যর্থ তখন প্রধানমন্ত্রীকেই এগিয়ে আসতে হয়। তো এসব মন্ত্রী পালার মানে কি? প্রধানমন্ত্রী আজ আগবাড়িয়ে এসেছেন উনি ১৫ দিনে সড়ক উন্নয়নের জন্য বলেছেন হয়তো ১৫দিনে শেষ হবে না কিন্তু ১মাস বা দুই মাসে হয়ে গেলেও একটা সমাধান আপাত দৃষ্টিতে হতে পারে।

মানিকগঞ্জের ঘিওরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত তারেক মাসুদের আহত স্ত্রীকে আইসিইউতে দেখতে গিয়ে উনি ওখানে দাঁড়িয়ে কোন মুখে বলে আসেন আপনাদের ড্রাইভারের দোষ। একজন সদ্য স্বামী হারানো মৃত্যুপথযাত্রীকে উনি ককোন আক্কেলে এসব কথা বলে আসতে পারেন।

উনাদের এই দম্ভ এই বিবেক হীনতা দেশকে যেমন পীড়া দেয় তেমনি সরকারের জন্য অশনি সংকেত।

মন্ত্রীদের এসব নির্লজ্জ বচনে এতে মানুষের মনে যে ক্ষোভ তা দমানো খুবই কঠিন হবে।

আমার শিগগির প্রত্যাশা এই থেমে থাকা মন্ত্রী পরিষদ ভেংগে দেয়া হোক। নতুন পুরোনো মিলিয়ে আবার একটি সত্যই স্বপ্নের মন্ত্রীসভা গঠন করে সরকারকে গতিশীল করে মানুষের ধরে রাখা স্বপ্নকে বাস্তবে রুপান্তর করা হোক। এতে মানুষে কিছু ক্ষোভ কমতে পারে।

এটা আপনার পিছিয়ে যাওয়া হবেনা বরং দেশের মানুষের প্রতি আপনার ভাবনাই প্রকাশ পাবে।

সফলতা ব্যর্থতা কাজে প্রকাশ পায়, কাজই যদি না হয় তা হলে সফলতা ব্যর্থতা নিরুপণের কিছুই নেই।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এমন একটু সুখবরের প্রত্যাশায় …