ক্যাটেগরিঃ বিবিধ

 

হরহামেশা নানান কিসিমের পোস্ট আসে বিডি ব্লগে। কিন্তু নাগিরকের খাবার বা রান্না বান্না কে মোটেই গুরুত্ব বা উৎসাহ দেয়া হয়না। মানুষ একটু পেট পুরে খাবে এটা এদেশের শাসক শ্রেনী, এলিট শ্রেণী, মিডিয়ার কখন গুরুত্ব দেয়া হয় না। মিডিয়া অবশ্য যতটুকু গুরুত্ব দিয়ে থাকে তা মুলত ব্যবসায়ীক ও রাজনৈতিক কারনে। মিডিয়া ব্যবসায়ী নাগিরিকের কতটা স্বার্থ দেখে তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। সে বিষয়ে পরে অবতারনা করা যেতে পারে। আজকের এই পোস্টের মুল বিষয় তা নয় মোটেই। মুলত নাগরিক কি খায়, কি খাবে, রান্না বান্নার কলা কৌশলের একটা ফিরিস্তি প্রদান করাই উদ্দেশ্য? কারন নাগরিক জীবনে হর হামেশা রান্না বান্নার প্রয়োজনীয়তা চলে আসে। অনেকে এড়াতে চাইলেও এড়াতে পারেনা। এড়াতে চাইলে জীবন অনেকটাই প্রতিকুলতার মুখ পড়ে। এই যেমন ভাব ধরলেন আমি রান্না বান্না করবো, অসম্ভব এ হতেই পারেনা। তার চেয়ে ঘুমাব, চ্যাট করবো, ব্লগ লিখব ক্ষুধা অনুভব করলে রেস্টুরেন্টে গিয়ে ভর পেট মেরে দিবেন। কিন্তু ভেজালের দিনে আজ কাল মানসম্মত খাবার রেস্টুরেন্টে খেতে পারাটাই হল মুল কথা। চাকিচিক্য দেখে মনে হয় আরে পেয়ে গেছি কিন্তু ………..। আর একটু ভালো রেস্তুরেন্ট খুজতে চাইলে টাকার অংক টা মাশাল্লাহ ভালই গুনতে হয়। মানিব্যাগ বা পার্স একটু ওজন দার নাহলে সামলানো যায় না।
আর বাহিরে বা রেস্টুরেন্টে প্রতিদিন খেতে আসলেই ভাললাগেনা। শরীর স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে রেস্টুঁরেন্ট বর্জনীয়।
আর নাগরিকের শরীর স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে সাথে একটু রসনার তৃপ্তির আকাঙ্ক্ষা জাগাতে আজ নিয়ে এসেছি কিছু সহজ লভ্য, সাধারন রেসিপি ও রান্নার কলা কৌশলঃ

ভাত
রান্নার ঊপকরনঃ-
সেদ্ধ চাল-আধা কেজি ( ও এম এস থেকেও হতে পারে) সামর্থ্য অনুযায়ি।
পানি-২,৫-৩ লিটার ।
ভাত
রন্ধন প্রণালীঃ
উনুনে হাড়ি বসিয়ে পানিকে পূর্ণ আঁচে গরম করতে থাকুন। এর মধ্যে চাল কে ভালো করে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। ততক্ষণে পানি বয়েল হয়ে যাবে। না হলে পানি বয়েল হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। পানি বয়েল হলেই ধুয়ে রাখা চাল হাঁড়িতে ঢেলে দিন। হাঁড়িতে ফেনা উঠা পর্যন্ত পূর্ণ আঁচে রাখুন। ফেনায়িত হয়ে পড়লে শিগগির মাঝরি আঁচে কমিয়ে আনুন। কিছুক্ষন অপেক্ষা করুন। চাল সেদ্ধ হয়ে এসেছে মনে হলে চামুচ দিয়ে দুই একটা ভাত তুলে টিপি দিয়ে দেখতে পারেন চাল সেদ্ধ হয়েছে কি না। সেদ্ধ হয়ে গেলে উনুন বন্ধ করে দিতে হবে।
এর পর ভাতের সাথে থাকা অতিরিক্ত পানি মাড় ঝরিয়ে নিন। মাড় ঝরানোর প্রচলিত পদ্ধতি কঠিন মনে হলে শুধু একটা চালুনিতে দেলে দিন। তারপরই পেয়ে গেলেন প্রধান খাদ্য ভাত।

রন্ধন প্রনালি জেনে যতটা কঠিন মনে হচ্ছে বাস্তবে ভাত রান্না করা আরও বেশি সহজ। পুরো প্রক্রিয়াটি ২৫-৪০ মিনিট সময় লাগে।

বলা বাহুল্য নতুন চালে সময় কম নেয়। আর পুরনো চালে সময় বেশি লাগে। আর একটা প্রবাদ সকলেই জানেন যে, পুরনো চাল ভাতে বাড়ে

আলু ভর্তাঃ-
ঊপকরনঃ আলু ৫/৬ টি মাঝারি সাইজের,
পেয়াজ ৩ টি মাঝারি সাইজের,
শুকনো মরিচ(কাচা মরিচ ও হতে পারে) ৪/৫ টি
সরিসার তেলঃ ২ টেবিল চামচ
লবন পরিমান মত।
আলু ভর্তা
প্রনালিঃ
আলু কয়লার আগুনে পুড়ে নিতে পারলে সবচেয়ে মজাদার ভর্তার দেখা পাওয়া যায়। কিন্তু সবসময় আলু পুড়ে নেয়া যায় না, সে ক্ষেত্রে সেদ্ধ করে নিতে হবে। সবচেয়ে ভালো হয় সেদ্ধ করার সময়ে খেয়াল রাখতে হবে পানি যেন শুকিয়ে নেয়া হয়।
আলু সেদ্ধ হয়ে গেলে চামড়া থেকে খোসা ছড়িয়ে নিন এবং হাত বা চামচ দিয়ে সেদ্ধ আলুকে পেস্ট করে নিন। শুকনো মরিচকে পুড়ে নিতে পারলে ভালো হয় নতুবা তেলে ভেজে নিন। পেয়াজ গুলকে কুচি করে শুকনো ভাজা মরিচ গুর করে প্রয়োজনীয় লবন দিয়ে ভালো করে ডলে নিন। এরপর পেস্ট করা সেদ্ধ আলুর সাথে সরিসার তেল মিশিয়ে ভালো করে মেখে নিন। পেয়াজ কুচিকে একটু ভেজেও নিতে পারেন। বাহ হয়ে গেল আরেকটা সহজ খাবার প্রিয় আলু ভর্তা।

ডাল
উপকরনঃ
মুসুরের ডাল ১ কাপ
হলুদ গুঁড়ো ১ টেবিল চামচ
শুকনো মরিচ (ভেজে নেয়া)
পেয়াজ কুচি ২ টেবিল চানচ
রসুন কুচি ১/২ টেবিল চামচ।
ডাল
রন্ধন প্রণালীঃ
ডাল ভালো করে ধুয়ে ১ থেকে দেড় লিটার পানি দিয়ে উনুনে উঠিয়ে দিতে হবে সাথে গুঁড়ো হলুদ আর লবন দিয়ে সেদ্ধ করে নিন। ডাল ভালভাবে সেদ্ধ হয়ে আসলে ঘুতুনি দিয়ে ঘুটে নিতে পারেন। না ঘুঁটলেও চলবে। এর পর ভেজে রাখা শুকনো মরিচ ভেঙ্গে ২ খণ্ড করে দালে দিয়ে দিন। অন্য একটি কড়াইতে তেল গরম করে প্রথমে রসুন একটু ভেজে পেয়াজ কুচি দিয়ে ভেজে নিন। পেয়াজের রং বাদামি হয়ে এলে কড়াইতে সামান্য ডাল ঢেলে দিন/ সাবধান ছ্যাঁত করলে ভয় পাবেন না। এরপর কড়াইয়ের ডাল সমেত পুরো জিনিসটাই ডালের পাত্রে ঢেলে দিন। একটু ৩/৪ মিনিত পুনরায় সেদ্ধ হতে দিন। হয়ে গেল মজার ডাল রান্না।

ডিম ভাজি
এর চেয়ে সহজ কোন রান্না আর আছে কি, জাস্ট একটা পাত্রে একটু তেল দিয়ে গরম হয়ে গেলে ডিম ভেঙ্গে তেলে ছড়িয়ে দেন। উপরে একটু লবনের ছিটে দিন। চাইলে একটু উলটে নিন। মুহুরতেই হয়ে গেল ডিম ভাজি।
আণ্ডা ভাজি
আবার একটু পেয়াজ কুচি মরিচ কুচির সাথে লবন ও গুঁড়ো হলুদ ভালো ভাবে ডলে ডিম টাকে খোসা থেকে ছড়িয়ে পেয়াজ মরিচের সাথে ভালো ভাবে মিশিয়ে নিন। কড়াইতে একটু তেল গরম করে ডিমের মিশ্রন ছড়িয়ে দিন। কিছুক্ষন বাদে উলটিয়ে দিন। হয়ে গেল ডিম মামলেট।
আণ্ডা মামলেট
কি মজা আজকের খাবারে ভাত, ডাল, আলু ভর্তা, ডিম ভাজি বাড়তি কিছু চাই?!

এগুলো নাগরিক খাবার। সময়ে অসময়ে একান্তই কাজের জিনিস। আর খেতে মন্দ লাগবে একথা কেউ বলতে পারবেনা!

রান্না কোনও ভাবেই ফান না!

————————-
উৎসর্গঃ বিশিষ্ট মোসাদ্দিক উজ্জ্বল।