ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

বেগম খালেদা জিয়া আজ থেকে রোডমার্চ শুরু করেছেন। পূর্বনির্ধারিত কর্মসুচির অংশ হিসেবে। এই কর্মসূচির ব্যপ্তি যদিও বিশাল। এরই মধ্যে কর্মসূচীতে কাটছাঁট এসেছে, নানান বাস্তবতায়। সেসব রাজনীতির হিসেব নিকেশ। এর আগেও তিনি রোডমার্চ বা লং মার্চ করছেন। আগের লংমার্চ গাড়িতে করেছিলেন বলে নানান হাস্যরসের যোগান দিয়েছিল। তাই তিনি এবার ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়েছেন। আর লং মার্চ নাম দেন নি দিয়েছেন রোড মার্চ।

বেগম জিয়ার ফেরি করা

ঊনি এবারের লং মার্চে যে বিষয়টি ফেরি করে বেড়াচ্ছেন তা যে কি তা এখনো জনগনের ধর্তব্যের মধ্যে আসেনি। ঠিক ইস্যুতি কি। তবে ধারনা উনারা দিয়েছেন যেমন তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনঃবহাল। বিডিনিউজ২৪ থেকে জানা যায় বেগম জিয়া ঘোষণা দিয়েছেন দলীয় সরকারের অধীনে কোন নির্বাচন নয়

এবার আমরা দেখতে পারি দলীয় সরকারের অধীনে কেন নির্বাচন নয়।

১) দলীয় সরকারের অধীনে আমরা নির্বাচন দেখেছি ১৯৯১-৯৬ সালে মিরপুর উপনির্বাচনে
২) দলীয় সরকারের অধীনে আমরা নির্বাচন দেখেছি ১৯৯১-৯৬ সালে মাগুরা উপনির্বাচনে। নির্বাচন কমিশনার রউফ নির্বাচনের মাঠ পরিদর্শন করে মাগুরায় প্রেস কনফারেন্সে বলে আসলেন নির্বাচনের নামে যা হয়েছে তা নির্বাচন বলা চলে না। এই বলে উনি সম্ভবত হেলিকপ্টার যোগে ফেরত এসেছিলেন। কিন্তু নির্বাচন উনি বন্ধ করার সাহস পান নাই।
৩) ১৫ই ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হয়েছিল সাদেকালির তত্ত্বাবধানে। সে তো ইতিহাস।

দেশে বিদেশে সাড়া জাগানো কারচুপির একতরফার নির্বাচন গুলি হয়ে গিয়েছিল বিএনপি সরকারের অধীনে। এরাই দেশে ৯০ পরবর্তী প্রহসনের সবগুলো নির্বাচন জন্ম দিল ভোট ডাকাত বেগম খালেদা জিয়ার সরকার। মানুষের ভোটের দুই পয়সা দাম দেয় নাই এই বিএনপি।

আজ তারাই দেশে “দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন নয়” ফেরি করে বেড়াচ্ছেন। নিজেদের করা অপকর্মকে পুজি করে রোডমার্চ করছেন, সমাবেশ, জনসভা করছেন। কিন্তু নিজেদের করা অপকর্ম গুলোর জন্য জাতির কাছে এতটুকু জবাবদিহি হবার মত প্রয়োজন বোধ করেননি।

সেই চোরের মত, সাধু সেজে চোর প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি হচ্ছেন আর কি!!!

এই ভোট চোর বা ডাকাত যাহাই বলি এদের ষড়যন্ত্র ফেরি করার মুল উদ্দেশ্য ভিন্ন যা নয়াপল্টনের সমাবেশে উনি অনেকটাই ক্লিয়ার করে দিয়েছেন।

১) দেশে বিদেশে প্রমানিত ও সাজা প্রাপ্ত দুই ছেলেকে রক্ষা করা।
২) একুশে অগাস্ট গ্রেনেড হামলায় থলের বেড়াল সম্ভবত বেড়িয়ে পরছে এটা বেগম জিয়া বা বিএনপি হাইকমান্ড ছাড়া বেশি কেউ জানেনা। যা সবচেয়ে বড় সাজার সম্মুখিন করে দিবে।
৩) বেগম জিয়া নিজে এতিমের টাকা আত্মসাৎ মামলায় সাক্ষি সাবুদে যথেষ্ট রিক্সে আছেন। তিনি নিজেই সাজা গ্রহনের সম্মুখীন।
৪) এই মুহূর্তে যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর চেষ্টা। অনেকেই ভেবেছিল বিচার মনে হয় হচ্ছে না। কিন্তু সামপ্রতিক সময়ে বিচার কাজে গতি পেয়েছে। অনেকেই ভেবেছিল বিএনপি বা বেগম জিয়ারাও যুদ্ধাপরাধির বিচার চায় অনেক যদি কিন্তু ব্যবহার করে। কিন্তু বিএনপি যে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে বাধা দিবে এটা শুরু থেকেই দিনের আলোর মত পরিস্কার ছিল। ইতিমধ্যে বেগম জিয়া রাজবন্দি শব্দ ব্যবহার করেছেন। কার্যত তিনি ইতিহাসের রাজবন্দিদের অপমান করার মত দৃষ্টটা দেখিয়েছেন।

তো এই মুহূর্তে বিএনপি যে উছিলায় রোড মার্চ করছেন তাতে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন নয় ফেরি করছেন তা কার্যত ষড়যন্ত্র ফেরি করছেন। যা এলকোহল খেয়ে সাময়িক উম্মাদনা বৈ আর কিছু না।

এর মধ্যে তারা দেশে বিদেশে রায় দুর্লভ, জগতশেঠ, উমিচাঁদ, ইউনুস তৈরি করে নিয়েছে। সংবাদে প্রকাশ এবং জোর গুঞ্জন ইউনুস সাহেব দেশের সরকার কে ব্যর্থ করার জন্য দাতা মহলে লবিং করে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।

জনগন সব সময়েই ২দিন আগে আর পরে এসব বিষদাঁত ভেংগে দিয়েছে। ইতিহাস সাক্ষী।