ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম

ঢাকা, ফেব্রুয়ারি ১৫ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- বয়স ১২ বছরের কম- এমন শিশুদের গৃহকর্মে নিয়োগ করা যাবে না বলে রায় দিয়েছে উচ্চ আদালত। একই সঙ্গে গৃহকর্মীদের ওপর সব ধরনের নির্যাতনও বন্ধ করতে বলেছে আদালত।

এক থেকে ১৮ বছর পর্যন্ত সবাইকে শিশু হিসেবে স্বীকৃতি এবং সব শিশুকে মাধ্যমিক শিক্ষার আওতায় আনার প্রস্তাবসহ ‘জাতীয় শিশু নীতি ২০১১’-এর চূড়ান্ত খসড়া সোমবারই অনুমোদন করে মন্ত্রিসভা। প্রস্তাবিত এ শিশুনীতিতে ১৪ বছরের নিচে কাউকে কোনো সার্বক্ষণিক কাজে নিয়োগ না করার বিধান রাখা হয়েছে।

১২ থেকে ১৮ বছর বয়সি শিশুদের গৃহকর্মে নিয়োগের ক্ষেত্রে তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বিনোদনের ব্যবস্থা করা এবং তার ব্যয়ভার গৃহকর্তাকেই বহন করতে বলেছে হাইকোর্ট।

শিশুদের কর্মে নিয়োগের ক্ষেত্রে ৫ ঘণ্টার বেশি কর্মে নিয়োজিত রাখা যাবে না। সব গৃহকর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে কর্ম ঘণ্টা উল্লেখ করে মালিক ও গৃহকর্মীর সঙ্গে চুক্তি ও নিবন্ধন বাধ্যতামূলক বলে রায় দেয় আদালত।

হাইকোর্ট এছাড়াও অবিলম্বে জাতীয় শিশুশ্রম কল্যাণ কাউন্সিল গঠন করতে সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা, মালিক ও শ্রমিক সংগঠন ও শিশুশ্রম বিষয়ে জ্ঞানের অধিকারী ব্যক্তিদের নিয়ে এই কাউন্সিল গঠন করতে হবে।

শিশু গৃহকর্মী কোথায়, কী অবস্থায় আছে, তার সার্বক্ষণিক তদারক করবে এ কাউন্সিল। এছাড়া দারিদ্রের কারণে শিশুকে তার মা-বাবা গৃহকর্মে নিয়োগ করছে কি না, তাও তদারক করবে তারা।

আদালত রায়ে বলেছে, শিশুদের ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োগ দেওয়া যাবে না। শিশুশ্রম নিয়ে সরকারের করা নীতিমালার আলোকে গৃহকর্তার সঙ্গে গৃহকর্মীর মা-বাবার সাক্ষাতের ব্যবস্থা রাখতে হবে। শিশুর ভবিষ্যত নিরাপত্তার জন্য গৃহকর্তা ব্যবস্থা নেবে।

রায়ে বলা হয়েছে, গৃহে কাজ করার পর কোনো পারিশ্রমিক না পেলে তা আদায়ে বর্তমানে কোনো আইন নেই। এ বিষয়ে আইন প্রণয়নের জন্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

গৃহকর্মী ও মালিকের পরিচয়, সারা দেশে গৃহকর্মীর সংখ্যা, তাদের প্রতি নির্যাতন, নির্যাতনের কারণে মৃত্যু ও আত্মহত্যা এসব বিষয়ে নিয়মিত তদারকি করতে সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভার কাউন্সিলর কার্যালয় এবং ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে গৃহকর্মীদের নিবন্ধন করতে হবে। গৃহকর্মী হিসেবে শারিরীকভাবে যোগ্য কি না- সে বিষয়ে সনদ নেওয়া বাধ্যতামূলক করেছে হাইকোর্ট।

২০০৬ শ্রম আইনে গৃহকর্মীর কোনো সংজ্ঞা না থাকায় ওই আইনে তা অন্তর্ভুক্ত করে আইন সংশোধণের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

আদালত রায়ের অভিমতে বলেছে, “কোনো শিশুকে শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। কারণ তারাই আগামী দিনে দেশের নিয়ন্ত্রক ও ভবিষ্যত কর্নধার হবে।”

“শিশুদেরও জীবন আছে। তারা স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠতে চায়। এক্ষেত্রে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি করা যাবে না। শিশুদের বেড়ে উঠায় সব রকমের সহযোগিতা করা আমাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব”, বলা হয় অভিমতে।

আদালত বলেছে, “শিশুদের প্রতি অমানবিক অত্যাচার সামাজিক ব্যাধিতে রূপ নিয়েছে। গৃহকর্মী শিশুদের প্রতি কী ধরনের আচরণ করা উচিত, তা মন থেকে মালিকের না এলে এ ধরনের অত্যাচার বেড়েই যাবে।”

“সংবিধানে শিশুদের অধিকারের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না”, বলেছে আদালত।


আমার কথা হলো ১৪ কিংবা ১৬ বছরেরে নীচে নয় কেন? ১২ বা ১৩ বছরের শিশু কি গৃহকর্মের উপযুক্ত। গৃহে ছোট বড় মিলিয়ে সার্বক্ষনিক কাজ করতে হয়। এর বাইরে বাসার যতজন সদস্য তত জনের বাড়তি ফুটফরমায়েশ খাটতেই হয়। তার মানে রাত ১২টা-ভোর ৫টা, এটুকু সময় বাদে তাকে বিনা বিরতিতে সার্বক্ষনিক পরিশ্রম করতেই হয়। ৫ না ৬ নিকে ১৬ ঘন্টা শিশু কাজ করবে এটা মনিটর করার কেউ নেই, শুধুমাত্র কোন দুর্ঘটনা ঘটলেই কিছু কিছু টের পাওয়া যাবে। ১২ বছরের শিশু তার অধিকারের ব্যাপারে কিজে থেকে সচেতন হতে পারেনা। আমরা সবাই আসলে গৃহকর্মীর উপর নির্ভরশীল। ওদের ছাড়া আমাদের সংসার টেকেনা। একদিন কাজের লোক না থাকলে স্ত্রীর সাথে কথা বলা যায় না। ১২, ১৩ বা ১৪ বছরের কোন শিশু কি আসলেই এই ধরনের কাজের উপযুক্ত।আমাদের বিচারপতি গনও এর বাহিরে নন। উনাদেরও কাজের লোকের দরকার তাই ১২ বছরের নীচে বলে নিজেদের ব্যক্তিগত রিস্ক কমিয়েছেন। বিচারপতিরাও কি নিজেদের স্বার্থের উর্ধে উঠতে পারেন না?