ক্যাটেগরিঃ স্বাস্থ্য

 

আমার আজকের লেখা হল জন্ডিস হলে নানা রকমের কুসংস্কার যেমন মালা পড়ানো, হাত ধোয়ানো, ডাব পড়া ইত্যাদির বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ নিয়ে। জন্ডিস হলে অনেকেই প্রথমে ছুটে যান ওঝা-বৈদ্যের কাছে। ডাক্তার তো সাড়াতে পারে না যদি তুকতাক মন্ত্রে সাড়ে।

মালা পরানো:
সাধারণত শনি-মঙ্গল বারে রোগীকে মালা পরানো হয়। ২-৩ দিন গোসল করা নিষেধ। বলা হয় সময়ের সাথে সাথে এই মালা রোগীর দেহ থেকে জন্ডিস শুষে নিয়ে বাড়তে থাকবে এক সময় তা দেহ থেকে বেড়িয়ে আসবে।

কীভাবে তৈরী হয় এই মালা? জন্ডিসের মালা তৈরী হয বিনা সুঁইয়ে অর্থাৎ মালা বোনা হয়। এই বোনার কৌশলেই বাড়তি সুতা মালা বাড়ায়। বামন হাটি, ভৃঙ্গ রাজ, অথবা ফাঁপা অথছ দ্রুত শুকায় এমন কোন গাছের কান্ড কেটে বানানো হয় ছোট ছোট কাঠি।এরপর কাঠিগুলো আড়াআড়িভাবে ধরে সুতোর ফাঁস বাঁধা হয়। বিশেষ পদধতির এই ফাঁসের নাম সেইলর্স নট।কাঠিগুলো সময়ের সাথে সাথে যতই শুকাতে থাকে সুতোর বিশেষ নট ততই ছেট হয এবং দুই সারি মধ্যে ফাঁক ততই বাড়ে। মালা বড় হয়।রোগী গোাসল না করায় মালা বেশ ভালো করেই শুকায় এবং তা একসময় শরীর গলে বেড়িয়ে পড়ে।।

হাত ধোয়ানো:
ওঝা রোগীর শরীরে মন্ত্র পড়ে হাত বুলিয়ে সেই হাত বুলিয়ে সেই হাত পানিতে ধুতেই মন্ত্র শক্তির প্রভাবে পানি হলুদ হয়। একটু কষ্ট করে আম গাছের ছাল বেটে রস তৈরী করুন। রস হাতে মেখে শুকিয়ে দিন। একটা পাত্রে পানি নিয়ে তাতে চুন দিন। কয়েক ঘন্টা পর উপর থেকে চুনের পানি আলাদা করুন। এবার হাতটা পানিতে ধুতে থাকুন। দেখুন কী কান্ডটাই না ঘটে।

কান পোড়ানো:
জন্ডিস আক্রান্ত একজনের চিকিৎসার জন্য গ্রাম থেকে নামকরা ওঝা এসেছে। তিনি কান থেকে হলুদ বের করবেন। প্রথমে রোগীকে কাত করে শোয়ানো হল। তিনি রোগীর কান থেকে হলুদ বের করবেন। ওঝা একটা মোম জালিয়ে মন্ত্র শুরু করলেন। এরপর একটা বড় সাদা কাগজের উভয় পিঠে মোম লাগিয়ে আবরণ তৈরী করলেন। তারপর কাগজটি দিয়ে একটা কোন বা মোচক তৈরী করলেন। কোনটি রোগীর কানের উপর বসালেন। কোনের দিকটা গামছা দিয়ে ভালমত ঢেকে দিলেন। কোনের শীর্ষে আগুন জ্বেলে দিলেন। শুরু হল কেরামতি। মন্ত্র পড়তে পড়তে কোণটা পুড়ে গোড়া পর্যন্ত এসে গেল। আশ্চর্য! রোগীর কানের উপর পড়ে রইল হলুদের গুড়া। ব্যস সব জনি্ডস শেষ হয়ে গেল। পরে প্রক্রিয়াটি নিজে নিজে করে দেখুন। সাদা কাগজের উপর করা হয়েছে। কাগজের উপর মোম লাগাতে হবে। গোড়াটা ভালভাবে আটকাতে হবে যেন বাতাস না ঢোকে। এবার মাথায় আগুন লাগাতে হবে। তো কোণের ভেতরে যে মোম থাকবে তা অল্প অক্সিজেনে জ্বলবে। সৃষ্টি হবে হলুদ রঙের কার্বন মনোক্সাইড। আর তা থেকেই তৈরী হয় হলুদ পাউডার।