ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

২রা আগষ্ট জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের এক গৌরবময় দিন। কারন এই দিনেই কলঙ্কমুক্ত হয়েছিলো জাবি। প্রতিবছর এই দিনটি পালিত হয়ে আসছে পালিত হয়ে আসছে ধষর্ক প্রতিরোধ দিবস হিসেবে যার ইতিহাস সকলেরেই জানা। এই ২রা আগষ্টের আদর্শে আদর্শিত হয়েই তানভির, গোলাম মোস্তফা, সানি এবং কাফিদের বিরুদ্ধে জ্বলে উঠেছিলো এই ক্যাম্পাস। এইসব শিক্ষকরূপী ভক্ষকদের কখনোই ঠাই হয়নি এই ক্যাম্পাসে।অথচ এই ক্যাম্পাসেই ইংরেজী বিভাগে অনিয়মতান্ত্রিক উপায়ে পিএইডডি জালিয়াতি এবং যৌন নিপীড়নের অভিযোগে অভিযুক্ত এক শিক্ষককে অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হলো।শুধুমাত্র দলীয় বিবেচনাকে অগ্রাধিকার দিয়ে এবং মেধার চরম অবমূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষক ড. শাহিনুর রহমানকে ইংরেজী বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগের প্রক্রিয়া চুড়ান্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

অধ্যাপক ড. শাহিনুর রহমান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী বিভাগের বর্তমান সভাপতি। ড. শাহিনুর এর পূর্ববর্তী কর্মস্থল কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে তার বিরুদ্ধে পিএইচডি জালিয়াতি, সন্ত্রাসী কর্মকান্ড এবং যৌন নিপীড়নের একাধিক অভিযোগ রয়েছে । ২০০৫ সালের ২৮ মে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের ১৮২ তম সভায় ড. শাহিনুরকে পিএইডডি জালিয়াতির অভিযোগে ৬ মাসের জন্য ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারও করা হয়। এমনকি তার নিজের পিএইচডি গবেষনা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।ইন্ডিয়ানা বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষনায় অকৃতকার্য হয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিজ তত্বাবধানে গবেষনা শেষ করেন তিনি যা সত্যিই এক বিরল দৃষ্টান্ত।

২০০৫ সালেই তিনি জাবিতে অধ্যাপক পদে নিয়োগের জন্য একটি আবেদন করেন তবে এসব অভিযোগের কারনে তার আবেদনটি সে সময় স্থগিত করা হয়। কিন্তু বর্তমান মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত ২০০৮ সাল থেকে তিনি দুই ক্যাটাগরিতে (অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপক এবং প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপক নির্বাচক) জাবি শিক্ষক নিয়োগের নির্বাচক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। জানা যায় যে, ড. শাহিনুর মহাজোট সরকারের বৃহত্তম শরীক দল আওয়ামী লীগ এর কেন্দ্রীয় এক প্রভাবশালী নেতার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। বর্তমানে তাকে বাদ দিয়ে নতুন নির্বাচক কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে অভিযোগ উঠেছে তার আগমনের পথকে সুগম করতেই এমনটি করা হয়েছে। এমনকি যে সব নির্বাচকের কারনে ড. শাহিনুর এর নিয়োগ বাধাগ্রস্থ হওয়ার সম্ভাবনা ছিলো তাদেরকেও নির্বাচকের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। গত ২৫ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় অর্থনীতি এবং ইংরেজী বিভাগে অধ্যাপক নিয়োগ দেয়া হয়। ৫ জন আবেদনকারীর মধ্যে সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তিটিকে বাদ দিয়ে ড. শাহিনুরকে নিয়োগ দেয় প্রশাসন। তবে এখন থেকে জাবির ইতিহাস ভিন্ন কালিতে লেখা হবে? নিপীড়নের অভিযোগে অভিযুক্ত এক শিক্ষককে নিয়োগ দিয়ে কি তাই প্রমান করলো না বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন? আগামী ৫ আগষ্ট থেকে নতুন কর্মস্থল জাবিতে যোগদান করতে যাচ্ছেন তিনি।