ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

 

আজকের দৈনিকগুলোতে একটু চোখ বুলিয়ে নিতেই আমার চোখ আটকালো কালের কন্ঠের এক সংবাদে। শিরোনাম ছিল এরকম “আইইউবির অভিনব কৌশল ভর্তি ঢাকা ক্যাম্পাসে পাঠদান চট্টগ্রামে”। ঢাকা ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী ভর্তি করিয়ে সরাসরি পাঠিয়ে দিচ্ছে চট্টগ্রাম ক্যাম্পাসে। সেখানে চলছে পাঠদান কার্যক্রম। বিষয়টি স্বীকার করেছেন আইইউবি চট্টগ্রাম ক্যাম্পাসের কো-অর্ডিনেটর প্রফেসর ড. এম নুরুজ্জামান যা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের অনেকেই জানেন না, সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ একটি ক্যাম্পাসে তাঁদের শিক্ষা কার্যক্রম চলছে।

অবাক হতে হয় এসব সংবাদ পড়ে যে শিক্ষা নিয়ে বানিজ্য। ভর্তির সময় অতিরিক্ত ফি, নিষিদ্ধ ক্যাম্পাসে পাঠদান, এমপি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দ্যুরাত্মা, এসব কবে শেষ হবে? বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ২০১০ সালেই প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ক্যাম্পাস ছাড়া শাখা ক্যাম্পাস আইন করে নিষিদ্ধ করে দেয় কিন্তূ কিছু লোভী ও স্বার্থন্নেষী মহল প্রশাসনের নাকের ডগায় তা নির্দিধায় অভিনব কৌশলে শাখা ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী ভর্তি ও পাঠদান অব্যাহত রেখেছে আর প্রশাসন ঘুমাচ্ছে।

‘ইনডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (আইইউবি), আন্তর্জাতিক ইসলামিক ইউনিভার্সিটি চট্টগ্রাম (আইআইইউসি),ইউনিভার্সিটি আব ইনফর্মেশন টেকনোলজি এন্ড সায়েন্স (ইউআইটিএস) এবং ইউনিভার্সিটি আব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি চিটাগাং (ইউআইটিএস) ইত্যাদি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ক্যাম্পাস ছাড়া শাখা ক্যাম্পাস করা হয়েছে ভিন্ন বিভাগে। এর বৈধতা কতটুকু আনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের অজানা কিংবা সরকারের অনুমোদন পেয়েছে কিনা তাও জানেনা। ঐসকল ইউনিভার্সিটিতে ভর্তির তথ্য জানতে গেলে কর্তৃপক্ষ সঠিক তথ্য জানায় না।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের উপসচিব (প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়) মোহাম্মদ ফেরদৌস জামান বলেছেন উনার কাছে চট্টগ্রাম ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী ভর্তি করাচ্ছে বলে অভিযোগ এসেছে যা আইনগত ব্যবস্থা নিতে আইন পরামর্শকের কাছে রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। রিপোর্টটি পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।কিন্তূ রিপোর্ট পাওয়া যাবে কবে তার কোন নির্দ্দিষ্ট সময় নাই। হয়তো রিপোর্টটি পাওয়া নাও যেতে পারে যা আমাদের দেশের জন্য সাধারণ ব্যাপার।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০১০ এর ৩(২) ধারা অনুযায়ী, সরকারের কাছ থেকে সাময়িক অনুমতিপত্র বা ক্ষেত্রমতো সনদপত্র গ্রহণ ব্যতীত বাংলাদেশের কোনো স্থানে কোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন বা পরিচালনা করা যাবে না। আবার আইনের ১৩(২) উপধারায় বলা আছে, ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদিত ক্যাম্পাস সীমিত রাখতে হবে এবং অন্য কোনো স্থানে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কার্যক্রম পরিচালনা বা কোনো ক্যাম্পাস বা শাখা স্থাপন ও পরিচালনা করা যাবে না।’ কেউ এই ধারা লঙ্ঘন করলে তাকে অনূর্ধ্ব পাঁচ বছরের কারাদণ্ড অথবা ১০ লাখ টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে ৪৯ ধারায়। কিন্তূ এসকল ধারা আপাতত মূদ্রিত গেজেট বইয়েই সংরক্ষীত আছে তার প্রয়োগ হওয়া প্রয়োজন আছে বলে মনে করেনা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন।আর কতদিন শিক্ষার্থী ও অভিভাবক তথ্য বিভ্রাটে ভোগবে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে আনুরোধ এ সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদিত ক্যাম্পাস দ্রুত বন্ধ করুন। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের রক্ষা করুন।