ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

সবাই চায় তার একজন পছন্দের নেতা থাকবে আর সেটাতো অবশ্যই কোননা কোন বড় দলের নেতা। সবাই চাই তার পছন্দের ব্যক্তির মুখের কথা শুনতে তা বিশ্বাস এবং অনুসরণ করতে। কিন্তু সে কথা যদি অসত্য আর ব্যক্তিত্যহীন হয়, তাহলে সেটা কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়?

কিছুদিন আগে বিরোধী দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া এক জনসভায় বল্লেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তাঁর পরিবার কখনো মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহ্ন করেনি। এ ধরনের মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর কথা একজন দায়িত্বশীল পদে অধিষ্ঠিত কোনো ব্যক্তিত্বের নিকট হতে জাতি প্রত্যাশা করে না।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তাঁর পরিবারের মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহনের কথা সবাই জানে। ইতিহাসতো বাঙ্গালী জাতী বলেন আর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সবাই জানে। এবং সবাই এও জানে মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তি সময় কার পারিবারিক সমস্যা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজেই সমাধান করে দিয়েছিল। মাননীয় বিরোধী দলীয় নেতা কেন শুকানো ময়লা নাড়াচাড়া করেন, জানেন না তাতে দুর্গন্ধ ছড়ায়?

সোমবার চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে জনসভায় খালেদা জিয়া অভিযোগ করেন, সরকার সেনা কর্মকর্তাদের ‘গুম’ করছে। গুম শব্দটা সেনা বাহিনীর ভাষায় বলে “ক্যু”। ক্যু কোন সরকারের সময় সৃষ্টি সবার জানা। সরকার সেনা কর্মকর্তাদের গুম করছে বলে বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়ার করা অভিযোগকে উস্কানিমূলক ও কাণ্ডজ্ঞানহীন বলে মন্তব্য করেছে সশস্ত্র বাহিনী। মঙ্গলবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ দপ্তর (আইএসপিআর) এর পরিচালকের পক্ষে সহকারী পরিচালক মো. নূর ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত তার (খালেদা জিয়া) এ বক্তব্য বিভ্রান্তিকর ও উস্কানিমূলক। এর দ্বারা সেনাবাহিনীর ন্যায় একটি জাতীয় শৃঙ্খলা বাহিনীর ভাবমূর্তি বিনষ্টের এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা করা হয়েছে।” এতে আরও বলা হয় “এ ধরনের অসত্য, উস্কানিমূলক ও কাণ্ডজ্ঞানহীন বক্তব্য বিরোধী দলের নেতার দায়িত্বশীল পদে অধিষ্ঠিত কোনো ব্যক্তিত্বের নিকট হতে জাতি প্রত্যাশা করে না।”

সোমবার চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে জনসভায় হি্যবুত তাহেরীর সংগঠনের নামে কিছু লিফলেট বিতরণ করা হয় যাতে বলা হয় সরকারের দমননীতি, গুম ও গুপ্ত হত্যার কথা। কেবল তা-ই নয়, সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদেরও গুম করা হচ্ছে কথা উল্লেখ করে সেনাবাহিনীকে এগিয়ে আসার কথা বলে। তার ঠিক কিছুক্ষন পর বিরোধী দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া বক্তব্যদেন এবং তিনিও বক্তব্যে একই কথা বলেন। এতে আমরা কি ধরে নিতে পারি। সেনাবাহিনী সুনির্দিষ্ট সেনা আইন দ্বারা পরিচালিত হয়। আইএসপিআর এর পরিচালকের পক্ষে সহকারী পরিচালকের স্বাক্ষরিত ঐ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয় “এর ব্যত্যয় ঘটলে সেনা আইন মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হয়- এটাই আইনের বিধান। এখানে বিভ্রান্তি ছড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। সেনা আইনে সংশ্লিষ্ট কারো বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গৃহীত হলে সেনাবাহিনী ধ্বংস হয় না বরং আরো সুশৃঙ্খল ও শক্তিশালী পেশাদারী বাহিনী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।”

বিরোধীদলীয় নেতা তার বক্তব্যে সরকারের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীকে ‘ধ্বংসের’ অভিযোগও আনেন। অনেক সেনা কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, অনেককে বিদায় করে দেওয়া হয়েছে এবং সেনাবাহিনীকে ধ্বংস করে দিয়ে নামমাত্র একটি সেনাবাহিনীতে পরিণত করার দাবী করেন যেটা আধৈ সম্ভব নয়। যে সেনাবাহিনী সুনির্দিষ্ট সেনা আইন দ্বারা পরিচালিত হয় সে সেনাবাহিনী আন্যের দ্বারা কিভাবে ধ্বংসে পরিণত হয়। এ ধরনের অসত্য, উস্কানিমূলক ও কাণ্ডজ্ঞানহীন বক্তব্য বিরোধী দলের নেতা হতে কোনো দিন জাতি প্রত্যাশা করে না। দয়া করে মাননীয় বিরোধী দলীয় নেতা আপনার এ ধরনের অসত্য, উস্কানিমূলক ও কাণ্ডজ্ঞানহীন বক্তব্য বন্ধ করুন।