ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

আমাদের হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির জনক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের কন্যা কে সুযোগ দিতে তো কোন অসুবিধা থাকার কথা নয় আমাদের সাধারন জনগনের জন্য, সুযোগ দিয়ে দেখা যাক না তিনি তার বাস্তবায়ন করতে পারে কিনা,

প্রথমেই, আমরা সাধারন জনগনের পক্ষ হয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনাকে কিছু ব্যাপার মনে করিয়ে দিতে চাইছি, বাংলাদেশ এ এই মুহূর্তে বিরাজমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার মত যথেষ্ট কারণ আছে, আমরা যতটুকু জানতে পেরেছি আপনার ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে, এতে আমরা মুখধ হয়েছি, আমাদের বিশ্বাস আছে আপনার উপর, বাংলাদেশ কে তার সঠিক গন্তব্যে পৌছুতে আপনার কোন বিকল্প নেই। যা আমরা পুরোপুরি ওয়াকিবহাল। আমাদের কেন জানি দৃঢ় বিশ্বাস আপনি আমাদের অসহায় ও নিপীড়িত সাধারন জনগন কে অনেক কিছু দিতে পারবেন।

এই মুহূর্তে আমাদের দেশের সাধারন জনগনের মাঝে যে তাৎপর্য মুলক সংকট বিরাজমান, তা নিরধিদায় আমাদের জানা আর বুঝার ভুলের কারণে হচ্ছে। আমরা কেন জানি ইতিহাস ভুলে যাই খুব তাড়াতাড়ি, আমাদের অনেক শ্রেণী ও পেশার লোকজন কি করে চিন্তা করছে দুর্নীতির বরপুত্র কে আর তাদের দোসর দের হাতে আবার ক্ষমতার কলকাঠি তুলে দিতে, যাদের মাঝে দেশপ্রেম এর কোন বালাই নেই তারা কিভাবে আমাদের সাধারন জন গনের ভাগ্যউন্নয়ন করবে, কিভাবে ?

আমরা ভুলে গেছি কি ? গত তত্বাবধায়ক সরকারের সময় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির গত টার্মের, মানে গত জোট সরকারের সময় দুর্নীতির হিসাবগুলো।

আমরা জেনে শুনে আমাদের নিজেদের ক্ষতি ডেকে আনতে পারি না, আমরা যারা আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে সুবিধা আদায় করে আবার অন্যকিছু ভাবছি সেটা হতে দিতে পারি না…………………… কোন ভাবেই নয় ।

সেকারনে আমরা আমাদের জননেত্রি শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, আমরা ভালো করেই জানি কারণ, বর্তমান সরকার এর উদ্যোগ গুলো আমাদের কে অনুপ্রানিত করেছে, উদ্যোগ গুলো সৎ ছিল কিন্তু ? ………………

এখনও সময় আছে ? কোন কিছু শেষ হবার নয় !

যত প্রকারের ষড়যন্ত্র বা চক্রান্ত ই হোক না কেন ? কোন লাভ নেই, কারণ আমাদের সাধারন জনগনের বোঝার বয়স হয়ে গেছে যে ?

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের ক্ষমতায় আসার পর দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি কী রূপ ছিল সেটা কিন্তু আমরা সকলেই ভুলে যেতে বসেছি, আমাদের রিজার্ভ ফান্ড এর পরিমান ও ছিল খুব ই কম, আমরা এও ভুলে গিয়েছি যে আমাদের বর্তমান বিরোধী দল এর সংসদে উপস্থিতির পরিমান হাতে গোনা কয়েকদিন, একটি নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পর গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় কাজ করার মত সুযোগ আমাদের ক্ষমতালভি বিরোধী দল দেয় নি, বরংচ কিভাবে আর যে কোন ষড়যন্ত্রের প্রক্রিয়ায় সরকার কে উৎখাত করা যায় সে প্রক্রিয়ায় সময় বেশী কেটেছে আমাদের বর্তমান বিরোধী দলের, আমাদের সাধারন মানুষ কে বুঝতে হবে কারা তাদের জন্য সহায়ক হবে, কারা তাদের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করবে, বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার এর সময় যে সকল দুর্নীতির নজির আমরা প্রত্যক্ষ করেছি তার পর ও আমরা কিভাবে চিন্তা করি সেই সকল দুর্নীতিবাজ দের আবার ক্ষমতায় আনার, আমরা বুঝে উঠতে পারছি না আমাদের সুধী ও শ্রদ্বেয় বুদ্বিজিবি শ্রেণীর লোকজন কিভাবে এদের পক্ষ নিয়ে কথা বলছে বিভিন্ন প্রিন্ট মিডিয়াগুলোতে।

কিছুদিন আগে আমরা জানতে পারলাম এক শ্রেণীর সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ও চলতি দায়িত্ব রত কিছু সেনা অফিসার এবং অন্যান্যদের হস্তক্ষেপে একটি সেনা অভুত্থান এর পরিকল্পনার কথা, আল্লাহর আশেস রহমতে আমাদের দেশ রক্ষা পেয়েছে, রক্ষা পেয়েছে একটি গণতান্ত্রিক সরকার, রক্ষা পেয়েছে আমাদের হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর যোগ্য কন্যা জননেত্রি শেখ হাসিনা। কারণ তাদের পরিকল্পনা যদি বাস্তবায়ন হতো তাহলে আর একটি ১৫ ই আগস্ট এর বৈরি ইতিহাস তৈরি হতো,

আমাদের সকল শ্রেণী পেশার সাধারন মানুষ কে আর একটি ব্যপার মনে রাখতে হবে যে, একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা হওয়ার পাঁচ বছরের মাথায় আবার নতুন করে নির্বাচনের সম্মুখীন হতে হয়, আর আমরা সাধারন জনগণ সেই পাঁচ বছরের হিসাব করেই নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে থাকি, কিন্তু একবার ও চিন্তা করি না সামান্য এই পাঁচ বছরে কোন সরকার ই তাদের কাজ সম্পূর্ণ করতে পারে না, যদি এদিক দিয়ে হিসাব করা হয় তাহলে আমাদের দেখতে তো দোষ নেই একটি সরকার কে পুনরায় সুযোগ দিয়ে, পাঁচ বছরে একটি সরকার কে সঠিক ভাবে চেনা টা কিন্তু দুরসাধ্য যে কারো পক্ষে, আর যাই হোক, দলের বা সরকারের মোটিভ তো বুঝা যাবে যে তারা কতটা ভাবুক আমাদের সাধারন জনগনের জন্য,

শেখ হাসিনার সরকার তো ভিশন ২০২১ এর ঘোষণা দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে, কেন তারা ২০২১ এর হিসাব করে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দিয়ে সরকার গঠন করেছে তাও তো দেখার বিষয়, আর যাই হোক দেশকে তো আর কারো কাছে বিক্রি করে দিতে পারবে না, বা দেবার সুযোগ ও যে নেই।

জননেত্রি শেখ হাসিনার কথার সাথে কাজের মিল নেই – এই কথাটি থেকে দূরে সরে এসে আসুন না আমরা এভাবে বলতে চেষ্টা করি – আপনাকে সুযোগ দেয়া হোল আবার, দেখা যাক আপনার কথার সাথে কাজের মিল কতটুকু থাকে। নতুন করে কোন প্রকার প্রতিশ্রুতি দেবার প্রয়োজন নেই, পূর্বের প্রতিশ্রুতি গুলো বাস্তবায়ন করুন না ।।

হাজার হোক এক মহান নেতার রক্তের স্রোত যে শেখ হাসিনার রক্তে বিদ্যমান, আমাদের মহান নেতা, আমাদের হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের, আমরা তো তাকে খুব একটা দেখতে পাই নি, তবে যেটুকু বুঝতে পেরেছি আমরা এক কথায় স্বীকার করতে পারি যে আমাদের মহান নেতা যদি বেঁচে থাকতেন তাহলে অনেক আগেই বাংলাদেশ বিশ্বের দরবারে মাথা উচু করে দাড়াতে পারত। তাকে তো জনগনের উন্নয়নের স্বার্থে কাজ করতে দেয়া হয়নি, স্বপরিবারে হত্যার মাধ্যমে তাকে দমানো হয়েছিল, আর আজ তার ই সুযোগ্য কন্যার সময় যখন এসেছিল কিছু একটা করার তখন ই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের যে সকল নীল নকশা গুলো রচিত হচ্ছে তা তো আমাদের কারো জন্যই সুখকর নয়, কারো জন্যই মঙ্গল ময় নয়।

ডা হাসান মাহমুদ মামুন
লেখক ও কলামিস্ট
ফেস বুক আইডি:
dr_hassanmahmud2011@yahoo.com,
convenorbkp2006@gmail.com