ক্যাটেগরিঃ ফিচার পোস্ট আর্কাইভ, স্বাধিকার চেতনা

 
1992-poster

বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্র বা মানচিত্রের পরিপূর্ণতা আসে ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর, দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর এই দেশ স্বাধীন হয়, আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরুদ্ধাচারন কারী যারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে তৎকালীন পাক সেনাদের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে নির্বিচারে হত্যা, লুণ্ঠন ও ধর্ষণ এর মত গর্হিত কাজে লিপ্ত ছিল, এদেরকেই তো আমরা আমাদের স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের শত্রু বলে জানব ! এদেরকেই তো আমরা যুদ্ধাপরাধী হিসেবে জানব, বর্তমান সরকার স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি। গত নির্বাচনে তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল যুদ্ধাপরাধী ও মানবতা বিরোধী দের বিচারের সম্মুখীন করা। যাতে তারা তাদের প্রতিশ্রুত কথা রেখে যুদ্ধাপরাধী ট্রাইব্যুনাল গঠন করে এদেরকে বিচারের জন্য গ্রেফতার করেছে, যাদের মধ্যে অন্যতম হল সর্বজনস্বীকৃত গোলাম আযম, মাওলানা মতিউর রহমান নিজামি, দেলোয়ার হুসেইন সাঈদী এবং সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী।

অধ্যাপক গোলাম আযম এই মুহূর্তে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে দিনাতিপাত করছেন, লক্ষণীয় অধ্যাপক গোলাম আযম সহ অন্যান্য দের পক্ষে বা তাদেরকে বাচাতে আমাদের দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রামের প্রস্তুতি নিয়েছে, উনারা যে কোন মূল্যে এদেরকে মুক্ত করতে প্রস্তুত, এছাড়া আমাদের বিদেশী লবিং গুলো ও পিছিয়ে নেই, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য যারা শক্তিধর গোলাম আযম কে সর্বদা সহায়তা করে এসেছে, তাকে বাঁচাতে সরকারের সাথে অসহযোগিতা করে আসছে, এবং যেকারনে বাংলাদেশের শ্রম বাজারে ধস নেমে এসেছে। একথা অস্বীকার করার মত কোন সুযোগ নেই, আমরা সকলেই কম বেশী ওয়াকিবহাল।

অধ্যাপক গোলাম আযম একজন বিচক্ষন ব্যক্তি, তাকে যখন গ্রেফতার করা হয় সারা দেশে আলোড়ন তৈরি হয়, মিষ্টিমুখ থেকে শুরু করে আনন্দ মিছিল ও সর্বত্র আমরা লক্ষ্য করেছি। আমাদের সাধারন জনগন যারা এখনও সেই সকল দিনের সাক্ষী, তারা কখনও গোলাম আযম কে ক্ষমা করতে পারবে না, পারবে না ক্ষমা করতে সকল যুদ্ধাপরাধী ও মানবতাবিরোধিদের।

বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৫২ সনের ভাষা আন্দোলন একটি উল্লেখযোগ্য অংশ হিসেবে আমরা ওয়াকিবহাল। ১৯৫২ সনের ভাষা আন্দোলন ই বাংলাদেশ এর স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম দিক নির্দেশনা হয়ে বাঙ্গালী জাতিকে অনুপ্রানিত করেছিল। লক্ষণীয় যে তৎসময় আলোচিত ও সমালোচিত গোলাম আযমদের কী অবস্থান ছিল, ইতিহাস বলে ১৯৫২ সনের ভাষা আন্দোলনে অধ্যাপক গোলাম আযম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এস,ওম হলের জি,এস হিসেবে ছাত্র রাজনীতিতে ভুমিকা রাখছিলেন, প্রশ্ন হল তার ভুমিকা কী ছিল? তিনি কি তখন থেকেই বাংলাদেশ বিরোধী কার্যকলাপে যুক্ত ছিলেন নাকি অন্য কোন ভুমিকায় অবতীর্ণ হয়ে কাজ করছিলেন।

অধ্যাপক গোলাম আযম গংরা কখনও একটি স্বাধীন দেশের সুনাগরিক হতে পারে না। আমাদের দুর্ভাগ্য আমাদের দেখতে হয়েছে যে আমাদের স্বাধীন দেশে স্বাধীন দেশের পতাকা সম্বলিত গাড়ি হাঁকিয়ে উনারা দেশ শাসনেও ভুমিকা রেখেছিলেন। আর দেশ শাসন কালীন সময়ে বাকী যে কাজগুলো উনারা করে গিয়েছিলেন তার কুফল ভোগ করছেন আমাদের বর্তমান সরকার, স্বাধিনতার স্বপক্ষের শক্তি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। আমরা সকলেই ভালো করে জানি, জোট সরকারের সময় বাংলাদেশের প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে নিজেদের লোকদের বসিয়ে গিয়েছিলেন, যা পরবর্তীতে আমাদের বর্তমান সরকার প্রধান জননেত্রি শেখ হাসিনা কোন প্রকার কাটছাট না করেই এদেরকে দিয়েই কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন, বিনিময়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ স্মরণ কালের সর্বাধিক উন্নয়ন কাজ করেও আজ অনেকটা জনরোষের চাপে অতিব্যস্ত। এই প্রসঙ্গে আর এক দিন আলোকপাত করা যাবে।

মূল বিষয় হল, বাংলাদেশের অস্ত্বিত্ত কে টিকিয়ে রাখার জন্য আমাদের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিক ভাবে এবং আমাদের পূর্ব ইতিহাস কে জিয়ে রাখার জন্য যুদ্ধাপরাধী বা মানবতাবিরোধি এই সকল পাপীদের বিচারের কাঠগড়ায় তো উপস্থাপন করেছে আমাদের হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কন্যা জননেত্রি শেখ হাসিনার সরকার, এখন সময় বলে দিবে এদের অপরাধ এর শাস্তি যে ফাঁসির রায় কার্যকর করা যাবে কিনা বাংলাদেশ এর অন্যতম ক্ষমতার লোভী রাজনৈতিক দল ও বিদেশী নিঃশেষিত দালালদের চোখ রাঙ্গানোকে টপকিয়ে ।

তবে আমাদের সকলের একটা ব্যাপার অনুধাবন করতে হবে যা হল, বাঙালি বুঝে কম, তবে যখন বুঝে ফেলে তখন কিন্তু একটাই শব্দ ব্যবহার করতে যানে মানে ফুল এন্ড ফাইনাল ।

জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু
ডাঃ হাসান মাহমুদ মামুন

***