ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস – এটা যেমন বিরোধী দল যানে তেমনি অবগত আছেন আমাদের সরকারী দল । প্রশ্ন হোল কেন এই সমাবেশ আর কেনই বা এতো নিরাপত্তার বলয় ।

বিএনপির মহাসমাবেশ কে ঘিরে এই মুহূর্তে সারা দেশে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে, বিএনপির এই মুহূর্তে অভিযোগ তারা সবক্ষেত্রে বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। অন্যদিকে, সরকারী দল নাশকতা মুলক পরিস্থিতি এড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, ফলে সাধারণ জনগন কে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ।

আমরা কিছুটা হতাশ কারণ “চল চল ঢাকা চল” এর নাটক থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি যে প্রকারের সুবিধা পাক আর না পাক, সরকার ও সরকারী দল অতিমাত্রায় সাবধান হতে গিয়ে বিএনপি কে বরং উপকারই করেছে, কারণ আমাদের প্রত্যন্ত অঞ্চলের বা খেটে খাওয়া লোক গুলোর এগুলোর মাঝে মাথা ব্যাথা ছিল না, অতি মাত্রায় সাবধানী এবং নিরাপত্তার বলয় তৈরি করতে গিয়ে এর প্রচারণা পেয়ে গেছে, যেমন মহাসমাবেশ কে সফল করতে হলে ঢাকার বাহির হইতে লোক সমাগম করতে হতো আর সরকার পরিবহন এর মাধ্যম গুলো কে সাবধান করায় এখন যারা জানত না তারাও যেনে গেছে ঢাকায় কিছু একটা করতে চেয়েছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি আর সরকারী দল তাদের তা করতে দেয় নি, যদিও সরকারের গোয়েন্দা রিপোর্ট এ নাশকতা মুলক পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আভাস জেনেই সরকার এতটা বিচলিত হয়ে পড়েছিল, কারণ জনগনের জান মালের রক্ষা করাও সরকারের নৈতিক দায়িত্ব । কিন্তু তাই বলে কি অন্যভাবে বা অন্য পন্থায় পরিস্থিতি এড়ানো যেত না ।

বিএনপির চেয়ারপার্সন এর কাছে আমাদের আহবান:
# গণতান্ত্রিক চর্চা কে অব্যাহত রাখুন ।
# জাতীয় সংসদ কে কার্যকর করুন ।
# যুদ্ধাপরাধী ও মানবতা বিরোধী দের বাচানোর চেষ্টা হইতে দূরে সরে আসুন ।
# সাধারন জনগনের দুর্ভোগ এর কথা চিন্তা করে কর্মসূচী হাতে নিন, নিজেদের সুবিধা আদায় এর কথা ভুলে গিয়ে দেশের উন্নয়নের স্বার্থে কাজ করুন।
# বর্তমান সরকার কে তাদের সময় পর্যন্ত কাজ করার সুযোগ দিন, “তত্ত্বাবধায়ক সরকার” এক সময় আপনারাই এর বিরোধিতা করেছিলেন, আজ আবার তার দোহাই দিয়ে আপনারা আন্দোলন করছেন, আলোচনায় বসে এর সুরাহা করুন।
# সর্বোপরি, গত জোট সরকারের পর যে দুর্নীতির চিত্র সারা বাংলাদেশ অবলোকন করেছেন যাদের কে দোষী সাব্যস্ত করে জেলখানায় প্রেরন করা হয়েছিল, তাদের কে নিয়েই আপনি আবার ভবিষ্যৎ চিন্তা করছেন, কি করে আপনার বোধ গম্য হলো “যে জনগনের আমানত যারা খেয়ানত করেছেন আবার সেই জনগণ ই তাদেরকে নিয়েই ভবিষ্যৎ চিন্তা করবে” ।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর সভানেত্রীর কাছে আমাদের আহবান:
# ডিজিটাল বাংলাদেশ এর বাস্তবায়ন করুন ।
# জনগণকে দেয়া প্রতিশ্রুতি গুলো বাস্তবায়নের স্বার্থে কাজ করুন।
# তরুন ও নতুন দের প্রাধান্য দিয়ে সাধুবাদ পাওয়ার সময় হাতে আর নেই, অতি মাত্রার অনভিজ্ঞতা কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে, “পুরান চাল ভাতে বাড়ে” এই তত্ত্ব কাজে লাগানোর সময় এসে গেছে ।
# আপনি দেশপ্রেমিক তা আমরা অবহিত এবং কোন সন্দেহ নেই, তাই বলে আপনার আশে পাশের পরিবেশ পরিস্থিতি আপনাকে সম্পূর্ণ ভাবে অবহিত হতে হবে।
# বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর মিডিয়া সেল কে শক্তিশালি করুন, যার থেকে অনেক অনেক এগিয়ে আপনার বিরোধী দল ।

যাহোক, সর্বোপরি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির এই মহাসমাবেশ এর উদ্দেশ্য আমাদের সাধারন জনগনের ওয়াকিবহাল হতে সময় লাগবে না বলে আমরা আশা করি । কারণ জনগণই সূক্ষ্ম ও সুচারু ভাবে বিচার বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যতে এর সঠিক জবাব দিবে। কারো প্ররোচনা বা মিথ্যা আশ্বাসের দিন যে এখন আর নেই, সাধারন জনগণই এখন ভালো বিচারক, বিচার এর দিন বা সময় এলে রায় জনগণই দিবে বলে আমাদের বিশ্বাস। আর একটি কথা সকল কে মনে রাখতে হবে ( আধ্বাতিক ভাষায় বললাম ) আমাদের নিজেদের অস্তিত্ব নিজেদের ই টিকিয়ে রাখতে হবে, শুধু বদ জিনের আছর গুলো হতে আমাদের দূরে থাকতে হবে । কারণ বদ জীন কে কাবু ও নাস্তানুবাদ করার মত শক্তি বাংলাদেশের সাধারন জনগনের মাঝেই আছে, যা প্রমাণিত।