ক্যাটেগরিঃ মতামত-বিশ্লেষণ

 

আসুন শুরুতেই চোখ বুলিয়ে নেওয়া যাক নিম্নোল্লেখিত সংবাদটির দিকে –

হাইকোর্টের রায়, ধর্মীয় পোশাক পরতে বাধ্য করা যাবে না

নিজস্ব প্রতিবেদক | তারিখ: ০৪-১০-২০১০

কোনো ব্যক্তিকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্মীয় পোশাক পরতে বাধ্য করা যাবে না বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। আজ সোমবার বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় দেন। আদালত রায়ে বলেছেন, ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানের চার মূলনীতির অন্যতম হচ্ছে ধর্মনিরপেক্ষতা। এটি পঞ্চম সংশোধনী রায়ের মাধ্যমে পুনঃস্থাপিত হয়েছে। কাজেই কোনো ব্যক্তিকে কোনোভাবেই ধর্মীয় পোশাক পরতে বাধ্য করা যাবে না। এটি মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। প্রত্যেক নাগরিকেরই স্বাধীনভাবে ধর্ম পালন ও ধর্মীয় পোশাক পরিধানের অধিকার রয়েছে। এর আগে গত ২২ আগস্ট হাইকোর্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ দেশের কোনো দপ্তরে নারীদের বোরকা পরতে বাধ্য না করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে মেয়েদের খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত না রাখারও নির্দেশ দেওয়া হয়। হাইকোর্টের একই বেঞ্চ স্বপ্রণোদিত (সুয়োমোটো) হয়ে এ আদেশ দিয়েছিলেন।
জানা যায়, গত ২২ আগস্ট একটি দৈনিকে ‘নাটোরের সরকারি রানী ভবানী মহিলা কলেজ, বোরকা না পরলে আসতে মানা’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত সংবাদটি আদালতের দৃষ্টিতে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মাহবুব শফিক ও কে এম হাফিজুল আলম। তাঁরা বলেন, পোশাক নির্বাচন করা ব্যক্তি স্বাধীনতার বিষয়। এ ব্যাপারে জোর করা মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েদের খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করতে না দেওয়াও বৈষম্যমূলক। তাঁদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে রুল জারিসহ অর্ন্তবর্তীকালীন নির্দেশ দেন।

সূত্রঃ

http://www.bdnews24.com/bangla/details.php?cid=2&id=137805&hb=2

http://www.prothom-alo.com/detail/date/2010-10-04/news/98732

ফ্রান্সে বেশ কিছুদিন আগে বোরকা পরিধানের প্রতি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে । আমাদের দেশে এটি ব্যান না করা হলেও অন্তত এটি পরতে কাউকে বাধ্য করা যাবেনা- এমনটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে । ভাবতে ভালোই লাগে, আমাদের বাংলাদেশ ধর্ম ও মৌলবাদের হিংস্র থাবায় আক্রান্ত হওয়ার পরও আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে এমন প্রগতিশীল চিন্তাভাবনা রয়েছে । এই বোরকা এবং তার সমূহ ক্ষতি বা কুফল নিয়েই আজকে আমার কলাম ।

ইসলামী পরিভাষায়, বোরকা হলো নারীকূলের ইজ্জত ও সম্মান রক্ষার জন্য পাবলিক প্লেসে অবশ্য পরিধেয় এমন একটি বহিঃপোশাক যার তিনটি অংশ রয়েছে –


ক) জিবাব-একধরনের ঢিলে বডি কভারিং, যা শরীরকে সম্পূর্ণরূপে ঢেকে রাখে ।
খ) হিজাব – একধরনের হেড কভারিং, যা মাথার চারপাশ ঢেকে রাখে ।
গ) নেকাব – একধরনের ফেসিয়াল কভারিং, অর্থাৎ মুখমণ্ডলী ঢেকে রাখে ।

সূত্রঃ http://en.wikipedia.org/wiki/Burqa

সুরা আল আহযাবের ৫৯ নং আয়াতে এমন পোশাকের স্বপক্ষে বলা হয়েছে –

সুরা আন নূরের ৩১ নং আয়াতে বলা হয়েছে –


চিত্রঃ পাশাপাশি অবস্থিত দুজন নারীকে দেখুন – তাহলে বুঝতে পারবেন বোরকা কতটা কিম্ভূতকিমাকার একটি পোশাক

কোরান শরীফে যাই বলা থাকুক না কেন, বোরকা পরিধান করা শারীরিক, মানসিক,আধ্যাত্মিক, সামাজিক এবং রাষ্ট্রীয় সুনিশ্চিত ক্ষতির কারণ । বোরকা পরিধান করা নারী স্বাধীনতার চরম পরিপন্থী। নারী – সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রয়োজনেই বোরকা পরিধান রাষ্ট্র কর্তৃক ব্যান করা উচিত, যেমনটি ফ্রান্স সরকার করেছে । চলুন দেখে নেওয়া যাক, বোরকা কিভাবে ব্যক্তিক,সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় ক্ষতি করে –

স্বাস্থ্যগত ক্ষতি:

ক) শিশুদের রিকেটস, প্রাপ্তবয়স্কদের অস্টিওম্যালাশিয়া, ব্যাক পেইন এবং অস্টিওপরোসিস

মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোতে এবং প্রবাসী মুসলিমদের মধ্যে বোরকা নিয়ে কিছু চরম ভুল ধারণা মাথায় ঢোকানো হয়েছে ।
এই মিথ্যেগুলো মুসলিম বিশ্বে এমনভাবে গণহারে প্রচার করা হয়েছে যে অনেকেই চিকিৎসাবিজ্ঞান এবিষয়ে কি বলে তা আগেপিছে না ভেবেই এসব মিথ্যেগুলোকে ধ্রুব সত্য বলে মেনে নেয় । আসুন দেখি বোরকা এবং তার সাথে সম্পর্কিত কিছু বিষয়ে মুসলিম বিশ্বে প্রচলিত মিথ্যেগুলো নিয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞান কি বলে –

প্রতিষ্ঠিত মিথ্যেঃ পুরুষদের তুলনায় নারীদের শরীরে ভিটামিন ডি-এর চাহিদা অনেক কম ।(বোরকা পরিহিতা নারীরা ভিটামিন ডি পায়না এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে)

সত্যঃ একেবারেই মিথ্যে কথা । বরং নারীদের শরীরে ভিটামিন ডি এর চাহিদা পুরুষের তুলনায় অনেক বেশি কেননা,
গর্ভকালীন সময়ে বিশেষ করে শিশুর হাড় তৈরী হওয়ার সময়ে ভিটামিন ডি (ও ক্যালসিয়াম)মায়ের শরীর থেকে খরচ হয়ে যায় ফলে, সেই ভিটামিন ডি শুন্যতা পূরণ করতে সূর্যালোকে বেশ কিছু সময়ের জন্য অবস্থান খুবই জরুরী ।

লিংকঃ http://www.cnn.com/2010/HEALTH/04/30/vitamin.d.pregnancy/index.html

প্রতিষ্ঠিত মিথ্যেঃ অতিরিক্ত ভিটামিন ডি নারীদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। বোরকা পরিধানের ফলে নারী-শরীর সূর্যের আলো থেকে রক্ষা পায় যেটি তাদের শরীরে অতিরিক্ত ভিটামিন ডি উৎপাদন রোধ করে।

সত্যঃ অতিরিক্ত যে কোন কিছুই ক্ষতিকর, তবে বোরকা পরিধান, গর্ভবতী হওয়া ও অন্যান্য কারণে নারীর শরীরে এমনিতেই ভিটামিন ডি’র চরম অভাব, তাই সেখানে সূর্যালোকে একটানা অনেকক্ষণ থাকলেও হাইপারভিটামিনোসিস ডি হওয়ার সম্ভাবনা নেই । এটি ঘটে সিন্থেটিক ভিটামিন ডি’র অতিরিক্ত গ্রহণের ফলে ।

Note: Hypervitaminosis D symptoms appear several months after excessive doses of vitamin D are administered

লিংকঃ http://en.wikipedia.org/wiki/Hypervitaminosis_D

প্রখ্যাত পুষ্টিবিদ অ্যাডেল ডেভিস বলেন –

Osteomalacia this disease its name literally means bad bones… results primarily from a severe vitamin-D deficiency. Arabian and Indian women who keep themselves havily veiled frequently develop such painful backs that they can scarcely rise, and they suffer multiple spontaneous fractures and have extremely rarefied bone, all of which clears up dramatically when vitamin D is given them.”(Davis, Let’s Get Well, p.256.)

অর্থাৎ, আরবীয় ও ভারতীয় মহিলাদের মধ্যে যারা বোরকা পরিহিতা বা নিজেদেরকে বেশ করে আবৃত করে রাখেন, তাদের মধ্যে অস্টিওম্যালাশিয়া বা ব্যাড বোন তথা কোমর ব্যথা এবং স্বতঃস্ফূর্ত বোন ফ্র্যাকচারের প্রবণতা বেশি ।

তিনি তার আরেকটি গ্রন্থে বলেন –

Sir Robert McCarrison, the great English physician, wrote of osteomalacia in India among the Mohammedan women observing the custom of purdah. These women veil their faces at adolescence and rarely go outside their homes.” (Let’s Eat Right to Keep Fit (140)

অর্থাৎ মুসলিম নারীদের মধ্যে অস্টিওম্যালাশিয়ার হার বেশি ।

একইভাবে নামকরা চিকিৎসক ওপি কাপুর তার Deficient sunlight in the aetiology of oseromalacia in muslim women গ্রন্থে বলেন –

In most of the Sunni Muslim women (who form majority of the muslims), in spite of high intake of calcium, osteomalacia is often seen. There are two reasons for this:
1. Use of burkha which prevent sunlight reaching the skin.
2. Living indoors- most of the muslim women specially those staying in the muslim localities, do not move out of the house and thus are not exposed to the sun and often develop osteomalacia.

সূত্রঃ http://www.islam-watch.org/index.php?option=com_content&view=article&id=62:veiling-of-muslim-women-vitamin-d&catid=81:acharya&Itemid=58

ইউরোপ-আমেরিকা-কানাডার মত শীতপ্রধান দেশগুলোতে মুসলিম ইমিগ্র্যান্টের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে, শীতপ্রধান দেশগুলোতে সূর্যালোকের ইনটেনসিটি বা প্রাবল্য কম বলে সেই সকল দেশে সূর্যালোকে বেশিক্ষণ থাকার প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশি। এজন্যই ‘সান বাথ’ –সেসব দেশে একটি কমন ট্র্যাডিশনে পরিণত হয়েছে । এমন দেশগুলোতে মুসলিম নারীরা বোরকা পরে থাকলে তাদের সমূহ স্বাস্থ্যগত ক্ষতি । আয়ারল্যান্ডে বোরকা পরিহিতা মুসলিম নারীদের প্রসঙ্গে ডঃ মিরিয়াম ক্যাসি বলেন-

In Ireland, which is experiencing a large influx of muslim immigrants at the moment, women wearing the burqa, doctors are warning, ‘are at increased risk of pelvic fractures during childbirth because of vitamin D deficiency due to a lack of sunlight. “And babies born to women with vitamin D deficiency are also more prone to seizures in their first week of life,” according to Dr Miriam Casey, expert in Medicine for the Elderly at the Osteoporosis Unit in St James’s hospital in Dublin. The burqa – an all-enveloping outer garment, does not allow enough sunlight through to give women sufficient vitamin D, she warns.

সূত্রঃ http://www.digitaljournal.com/article/272307#ixzz1Rv2oEH00

ইমিগ্র্যান্ট মুসলিম নারীদের মধ্যে যে ভিটামিন ডি-র চরম অভাবজনিত সমস্যা বিরাজমান সে সম্পর্কে বিস্তারিত –

There concern arises when these women migrate to countries with lower amounts of sunlight throughout the year compared to their previous home country. Skin tone is darkest at the equator in response to the sunlight.Darker skin blocks out significantly more UV radiation and hence decreases Vitamin D production by an enormous amount (people with dark skin pigmentation may need 20 – 30 times as much exposure to sunlight). All these factors combined with the heavily covering Islamic dress create serious potential health concerns for Islamic migrants in countries away from the equator such as Canada, the United States, Europe and Australia.

সূত্রঃ

Hagenau, T., et al., Global vitamin D levels in relation to age, gender, skin pigmentation and latitude: an ecologic meta-regression analysis. Osteoporosis International, 2009. 20(1): p. 133-140.

Hanley, D.A. and K.S. Davison, Vitamin D Insufficiency in North America. The Journal of Nutrition, 2005. 135(2): p. 332-337

সর্বাধিক আরব-আমেরিকান জনগোষ্ঠীপূর্ণ এলাকা মিশিগানের ডিয়ারবর্নে চালানো একটি সার্ভে থেকে দেখা যায় –

A study was undertaken in Dearborn, Michigan, the most-concentrated Arab-American settlement in the United States to assess the relationship between Vitamin D levels and Islamic dress choice in migrant Arab-American Muslim women. The average vitamin D level was found to be 4 ng/ml in veiled women who undertook no vitamin D supplementation and 7 ng/ml in women who wore the same style veil but chose to take supplements.[17] The threshold for rickets and osteomalacia risk is 8 ng/ml and below; clinical deficiency is considered as anything below 16 ng/ml

অর্থাৎ রিকেটস এবং অস্টিওম্যালাশিয়ার ঝুঁকি মুসলিম নারী ও শিশুদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ।

সূত্রঃ Heaney, PR. Functional indices of vitamin D status and ramifications of vitamin D deficiency. American Journal of Clinical Nutrition 2004; 80 : S1706 – S1709

যুক্তরাজ্যের ডেইলি মেইল পত্রিকার রিপোর্ট দেখি চলুন –

People may be at risk if they are South Asian, African or African-Caribbean and have low exposure to sunlight, for example if they observe Hijab or do not spend much time outside.

দক্ষিণ এশিয়ান, আফ্রিকান এবং ক্যারিবিয়ান আফ্রিকান মুসলিম নারীদের জন্য সূর্যালোক অপরিহার্য, কেননা তাদের মধ্যে সূর্যালোক এক্সপোজারে অনীহা রয়েছে এবং তারা বোরকা-হিজাব পরিধান করে ।

সূত্রঃ http://www.dailymail.co.uk/news/article-469196/Women-hijabs-need-sunlight-risk-illness.html

Breastfeeding is recommended for all babies, however a baby may be at risk if breast-fed and the mother has a low vitamin D level herself.

স্তন্যপান সকল শিশুর জন্য অপরিহার্য এবং সেই সকল শিশুর শারীরিক অসুস্থতার ঝুঁকি বেশি যাদের মায়ের শরীরে ভিটামিন ডি কম পরিমাণে রয়েছে ।

vitamin D helps calcium get absorbed from the intestine and pushes the calcium into the bone.

ভিটামিন ডি শরীরে ক্যালসিয়ামের আন্ত্রিক শোষণ ও হাড় কর্তৃক শোষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে । তাই বোরকা পরিহিতা নারীদের এবং তাদের শিশুদের হাড়ের বিকাশ ও গড়ন অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সঠিকভাবে হয়না এবং পরবর্তীতে তাড়া হাড়জনিত সমস্যায় ভোগে ।

মুসলিম নারীদের মধ্যে বোন টার্ন ওভারের সমস্যা অনেক বেশি । অস্ট্রেলিয়ার মেডিক্যাল জার্নালে একটি ক্রস সেকশনাল স্টাডির রিপোর্ট দেখি চলুন –

Eighty-nine (75%) were veiled and 50 (42%) stated that they were exposed to more than 60 minutes of sunlight per week.
১) Eighty-one women (68.1%) showed evidence of “severe” vitamin D deficiency
২) Fifty-five (46.2%) Muslim women were found to have elevated urinary DPYD excretion rates.
৩) Hyperparathyroidism occurred in 46 (38.6%) women.

সূত্রঃ http://www.mja.com.au/public/issues/177_03_050802/dia10809_fm.html

আশ্চর্যজনকভাবে, পৃথিবীর সবচেয়ে সূর্যালোক প্রবণ অঞ্চল মধ্যপ্রাচ্যে রিকেটস ও অস্টিওম্যালাশিয়ার হার খুব বেশি, এর পেছনে কারণ বোরকা পরিধান । বিশিষ্ট চিকিৎসক ও গবেষক মাইকেল হোলিকের রিপোর্ট বলে-

Remarkably, in the sunniest areas of the world, rickets is a major health problem. Because of the practice of purdah or wearing a burka , avoidance of exposure of any skin to sunlight, and the fact that few foods are fortified with vitamin D, upward of 35–80% of children in Saudi Arabia

সূত্রঃ Resurrection of vitamin D deficiency and rickets
http://www.jci.org/articles/view/29449/version/1

সৌদি আরবে বোরকা এবং হিজাব বাধ্যতামূলক, সেখানে কিং ফাহাদ ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে কতিপয় নারীর ওপর চালানো সার্ভে রিপোর্টে দেখা যায় –

A study performed by doctors at King Fahd University Hospital in Saudi Arabia, showed that out of all 52 women tested, all had seriously deficient levels of Vitamin D and were at risk of many serious health problems, despite living in one of the sunniest places on the planet.

সূত্রঃ Elsammak, M.Y., et al., Vitamin D deficiency in Saudi Arabs. Hormone and Metabolic Research, 2010. 42(5): p. 364-368.

In a study undertaken in Jordan, 83.3% of women wearing the most covering style of Islamic dresses were found to be deficient in summer time. This is rather striking when compared to the fact only 18.2% of Jordanian men studied were found to be deficient.

মধ্যপ্রাচ্যের আরেকটি দেশ জর্ডানে চালানো সার্ভেতে দেখা যায়, অংশগ্রহণকারীদের ৮৮.৩ % হিজাবী ও বোরকা পরিহিতা মহিলা ভিটামিন ডি ডেফিসিয়েন্সিতে ভুগছেন । অথচ, সূর্যালোকে অবস্থান করার কারণে মাত্র ১৮.২ % পুরুষের ভিটামিন ডি’র অভাবজনিত সমস্যা রয়েছে ।

সূত্রঃ Mishal, A.A., Effects of Different Dress Styles on Vitamin D Levels in Healthy Young Jordanian Women. Osteoporosis International, 2001. 12(11): p. 931-935

জনপ্রিয় সংবাদ মাধ্যম বিবিসি ও রয়টার্সের রিপোর্টঃ

1)Rickets upsurge among UK Asians
2)Middle Eastern women may have vitamin D deficiency

সূত্রঃ

ক) http://news.bbc.co.uk/2/hi/health/1154211.stm
খ) http://www.reuters.com/article/2007/06/25/us-middle-deficiency-idUSHAR56610220070625

অস্টিওপরোসিসের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে – মেনোপজ বা রজঃনিবৃত্তিকালের পর নারীর দেহে ইস্ট্রোজেন হরমোন এবং মধ্যবয়সী পুরুষের দেহে টেস্টোস্টেরন হরমোন কমে যাওয়া । অতিরিক্ত সময় শুয়ে থাকা, রিউমাটয়েড আর্থারাইটিস, ক্রনিক কিডনী ডিজিজ, হাইপারপ্যারাথাইরয়েডিজম এবং ভিটামিন ডি জনিত অভাব, এই রোগের অন্যতম কারণ । বোরকা পরিধানের কারণে শরীর পর্যাপ্ত সূর্যালোক পায়না আর বোরকা পরে কাজকর্ম, শারীরিক ব্যায়াম, খেলাধুলা করাও অসুবিধাজনক । তাই বোরকা পরিহিতা নারীদের মধ্যে অস্টিওপরোসিস হওয়ার প্রবণতা বেশি । ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি একসঙ্গে এই রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয় ।

সূত্রঃ

http://www.ncbi.nlm.nih.gov/pubmedhealth/PMH0001400
http://www.webmd.com/osteoporosis/guide/vitamin-d-for-osteoporosis

খ) স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বোরকা পরিহিতাদের মধ্যে বেশি

স্তন ক্যান্সারের রিস্ক ফ্যাক্টরগুলোর প্রধান ফ্যাক্টর না হলেও অন্যতম ফ্যাক্টর হিসেবে ভিটামিন ডি ডেফিসিয়েন্সির ভূমিকা রয়েছে । আরব বিশ্বে ব্রেস্ট ক্যান্সারের জন্য মূলত দায়ী চরম রক্ষণশীল ইসলামিক সমাজ এবং এতে এই বিষয়টি ট্যাবুর মতই একপ্রকার নিষিদ্ধ । পুরুষ চিকিৎসককে স্তন দেখাতে হবে – একজন পুরুষ স্তন দেখে ফেলবে বলে অনেকেই ব্রেস্ট ক্যান্সার চিকিৎসার ব্যাপারে নিরুৎসাহী । কি নিদারুণ পরিহাস যে, ইসলামের কাছে জীবন নয় বরং ইসলামী নিয়মকানুন বেশি বড় । মানুষ মারা যাচ্ছে, তারপরও সেই তথাকথিত অনিয়মের নিয়মকেই তারা বড় করে দেখছে । দেখুন –

One Saudi woman ignored the cancer growing in her breast because she didn’t want to risk a referral to a male doctor. Another was divorced by her husband on the mere suspicion she had the disease, while a third was dragged away from a mammogram machine because the technicians were men.

লিংকঃ http://www.msnbc.msn.com/id/21455455/ns/health-cancer/t/breast-cancer-often-untreated-middle-east/

ব্রেস্ট ক্যান্সার সেল ধ্বংস করতে ভিটামিন ডি গুরুত্বপূর্ণ, এটি বিজ্ঞানী জো এলেন ওয়েলশের ২৫ বছরব্যাপী রিসার্চে প্রমাণিত হয়েছে । ভিটামিন ডি ও ব্রেস্ট ক্যান্সার নিয়ে তার রিসার্চ পেপারগুলো পড়তে হলে এখানে যান –

লিঙ্কঃ http://www.ajcn.org/content/80/6/1721S.abstract

অতিরিক্ত পাঠঃ

Gissel T, Rejnmark L, Mosekilde L, Vestergaard P. Intake of vitamin D and risk of breast cancer–a meta-analysis. Journal of Steroid Biochemistry and Molecular Biology 2008; 111(3–5):195–199.

http://abcnews.go.com/GMA/OnCall/study-vitamin-d-kills-cancer-cells/story?id=9904415

http://abcnews.go.com/GMA/OnCallPlus/story?id=3759570&page=1

http://www.thepeninsulaqatar.com/qatar/131111-arab-women-at-risk-of-breast-cancer-studies.html

এভাবে অজস্র আরব নারী চিকিৎসাহীনভাবেই ধীরে ধীরে ম্যালিগন্যান্ট ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে ।বোরকা পরিধান ব্রেস্ট ক্যান্সার ম্যালিগন্যান্ট স্টেজে অগ্রসর হওয়ার ক্ষেত্রে প্রভাবক ।

গ) কলোরেকটাল, প্রোস্টেট, স্কিন ও প্যানক্রিয়েটিক ক্যান্সারের ঝুঁকি মোকাবেলায় ভিটামিন ডি

উপরিউল্লেখিত ক্যান্সার মোকাবেলায় ভিটামিন ডি – এর পজিটিভ ভূমিকা রয়েছে, উক্ত ক্যান্সারের রোগীরা বোরকা পরলে নিশ্চিতভাবেই দ্রুত ম্যালিগন্যান্সির দিকে অগ্রসর হয়ে পড়ে ।

সূত্রঃ http://www.cancer.gov/cancertopics/factsheet/prevention/vitamin-D

প্রশ্নঃ মেলানোমা নামক ক্যান্সার প্রতিরোধ করার জন্য কি বোরকা পরিধান করা আদৌ জরুরী ?

উত্তরঃ একবারেই জরুরী নয় ।


Melanoma is less common than other skin cancers

সূত্রঃ http://en.wikipedia.org/wiki/Melanoma

ডঃ নেস বলেন –

Melanoma occurs less often than basal cell and squamous cell skin cancers

অর্থাৎ, অন্যান্য ক্যান্সারের তুলনায় মেলানোমা হওয়ার সম্ভাবনা বিরল । আসুন গ্রাফটি দেখি –

সূত্রঃ http://www.cdc.gov/Features/dsWomenTop10Cancers/

দেখা যাচ্ছে – প্রিভ্যালেন্সের বিচারে ব্রেস্ট ক্যান্সারের অবস্থান যেখানে শীর্ষে, মেলানোমার অবস্থান সেখানে ৭ম স্থানে । রেশিও বিচারে ব্রেস্ট ক্যান্সার ১২০.৪ এবং মেলানোমা মাত্র ১৫.৪, ১২০.৪ – ১৫.৪ = বিশাল ১০৫ ব্যবধান ! তাছাড়া সূর্যালোকে সারাদিন অবস্থান করার কথা কিন্তু কোথাও কোন মেডিক্যাল রিসার্চ বা সার্ভেতে বলা হয়নি এবং দুনিয়ার কোটি কোটি মানুষ বোরকা ছাড়াই সূর্যালোকে অবস্থান করছে । তাদের বিপুল অংশের কি মেলানোমা হয়েছে ? হয়নি ! কিছু সংখ্যক প্লাস্টিক সার্জনরা মেলানোমার পক্ষে অতিরিক্ত লিখে থাকেন কেননা, তারা চিকিৎসাবিজ্ঞানের শুধুমাত্র চর্ম বিষয়টির সঙ্গেই জড়িত এবং নিজের বিষয় বলে সেটিকে বাড়িয়ে লেখেন, (মেডিক্যালের চতুর্থ বর্ষে যখন ছিলাম তখন দেখতাম প্রত্যেকটি সাবজেক্ট নিজের সম্পর্কে গুণগান গাইছে, যেমন পার্কের কমিউনিটি মেডিসিনে রয়েছে উক্ত বিষয়ের সাথে ক্লিনিক্যাল মেডিসিন নিয়ে এমন সব কথাবার্তা বা তুলনা যেন ক্লিনিক্যাল মেডিসিন কিছুই নয়)। তাছাড়া মেলানোমা এমনিতে হয়না, এটি হতে হলে মাত্রাতিরিক্ত এক্সপোজার (Over Exposure) প্রয়োজন এবং মাত্রাতিরিক্ত এক্সপোজার শুধুমাত্র তাদেরই হয় যাদের সূর্যালোকে প্রতিদিন একটি বিশাল সময় অবস্থান করে কাজ করতে হয় । আর আরেকটি বিষয় হলো – মানবসৃষ্ট সমস্যা ওজোন লেয়ারের ক্ষয়, অর্থাৎ গ্রীন হাউজ এফেক্টের পরিণামে আল্ট্রা ভায়োলেট রশ্মি অধিকহারে পৃথিবীতে প্রবেশ করার সুযোগ পাচ্ছে । এটি মানবসৃষ্ট সমস্যা আর পরিমিত আল্ট্রা ভায়োলেট রশ্মি শরীরের জন্য স্বাস্থ্যকর, এটিই ভিটামিন ডি উৎপাদন-উদ্দীপক ।

ঘ) ভিটামিন ডি-র মত স্বাস্থ্যকর ভিটামিন থেকে বোরকা পরিহিতা নারীরা বঞ্চিত

বোরকা পরিহিতা নারীদের মধ্যে ইনফ্লুয়েঞ্জাসহ অন্যান্য রেস্পাইরেটরি ডিজিজের প্রকোপ বেশি ।

সূত্রঃ

Cannell JJ, Vieth R, Umhau JC, et al. (December 2006). “Epidemic influenza and vitamin D”. Epidemiol. Infect. 134 (6): 1129–40. doi:10.1017/S0950268806007175. PMC 2870528. PMID 16959053.

Cannell JJ, Zasloff M, Garland CF, Scragg R, Giovannucci E (2008). “On the epidemiology of influenza”. Virol. J. 5: 29. doi:10.1186/1743-422X-5-29. PMC 2279112. PMID 18298852.

http://en.wikipedia.org/wiki/Vitamin_D_and_influenza

পেরিফেরাল আর্টেরিয়াল ডিজিজের অন্যতম প্রধান রিস্ক ফ্যাক্টর ভিটামিন ডি জনিত অভাব । হাই ব্লাড প্রেশার, ইস্কেমিক হার্ট ডিজিজ, এথেরোস্ক্লেরোসিসসহ বিভিন্ন কার্ডিওভাস্কুলার সমস্যার পেছনে ভিটামিন ডি-এর অভাবজনিত বিষয়টির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে ।

সূত্রঃ

http://en.wikipedia.org/wiki/Vitamin_D (কার্ডিওভাস্কুলার ডিজিজ অংশ)

Pittas, AG; Chung, M; Trikalinos, T; Mitri, J; Brendel, M; Patel, K; Lichtenstein, AH; Lau, J et al. (March 2010). “Systematic review: Vitamin D and cardiometabolic outcomes”. Annals of Internal Medicine 152 (5): 307–14.

বয়স বাড়ার সাথে সাথে চুল পড়ার প্রবণতাও বেড়ে যায়, নতুন চুল গজানোর ক্ষমতাও হ্রাস পায় । ভিটামিন ডি-র সাথে হেলদি হেয়ার ফলিকল গ্রোথের সম্পর্ক রয়েছে ।

সূত্রঃ Amor, KT; Rashid, RM; Mirmirani, P (2010). “Does D matter? The role of vitamin D in hair disorders and hair follicle cycling”. Dermatology online journal 16 (2): 3. PMID 20178699.

রিউমাটয়েড আর্থরাইটিস, মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস, জুভেনাইল ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন অটোইমিউন ডিজিজ প্রতিরোধে ভিটামিন ডি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিশিষ্ট বিজ্ঞানী মাইকেল হলিকের রিসার্চে প্রমাণিত হয়েছে –

সূত্রঃ Holick, MF (2004). “Sunlight and vitamin D for bone health and prevention of autoimmune diseases, cancers, and cardiovascular disease”. The American Journal of Clinical Nutrition 80 (6 Suppl): 1678S–88S. PMID 15585788.

পারকিনসন্স এবং আলঝেইমার্স ডিজিজের সঙ্গে ভিটামিন ডি ডেফিসিয়েন্সির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে ।এমনকি অধুনা গবেষণায় টিউবারকুলোসিস এবং এইচআইভি প্রতিরোধক হিসেবেও ভিটামিন ডি-র ভূমিকা প্রমাণিত হয়েছে ।

সূত্রঃ Evatt, ML; Delong, MR; Khazai, N; Rosen, A; Triche, S; Tangpricha, V (2008). “Prevalence of vitamin d insufficiency in patients with Parkinson disease and Alzheimer disease”. Archives of neurology 65 (10): 1348–52. doi:10.1001/archneur.65.10.1348. PMC 2746037. PMID 18852350.

বোরকা পরিহিতা নারীরা বোরকা পরিহিত বলেই জীবনের অধিকাংশ সময় জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় আলোবাতাস থেকে বঞ্চিতা হন এবং তাদের শরীরে অসুখ বিসুখ লেগেই থাকে । তারা একটি অস্বাস্থ্যকর জীবন যাপন করেন, এভাবে যাপিত জীবনকে জীবন বলেনা । উপরিক্ত রোগগুলো ছাড়াও মাসল ক্র্যাম্প, বাচ্চাদের রিটার্ডেড গ্রোথ, দাঁত দেরীতে ওঠা ইত্যাদি সমস্যার সৃষ্টি হয় । অনেক পণ্ডিতম্মন্য মূর্খ মুসলিম ব্যক্তিরা বলে থাকেন – ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট খেলেই তো হয়, বোরকা ছাড়া যাবেনা । তারা অজ্ঞ বলেই এমনটি বলে থাকেন কেননা ন্যাচারাল সোর্স আর সিন্থেটিক সোর্সের মধ্যে অনেক পার্থক্য ।

প্রশ্নঃ ভিটামিনগুলোর ন্যাচারাল সোর্স আর সিন্থেটিক সোর্সের মধ্যে কোনটি অধিকতর ভালো ?

উত্তরঃ নিঃসন্দেহে ন্যাচারাল সোর্স । কেননা ,

১) সিন্থেটিক সোর্স নিজে একটি কেমিক্যাল এবং সেটিকে ভিটামিনে সিন্থেসাইজ করা হয়েছে, তাছাড়া এতে অন্যান্য বিভিন্ন কেমিক্যাল রয়েছে আর কেমিক্যাল বলেই এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কিছুটা হলেও রয়েছে, কিন্তু ন্যাচারাল সোর্সে সেই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াটি অনুপস্থিত । ভিটামিন টক্সিসিটির জন্য সিন্থেটিক সোর্স দায়ী, ন্যাচারাল সোর্স নয় ।

২) সিন্থেটিক সোর্সে শুধুমাত্র নির্দিষ্ট ভিটামিনটি থাকে, কিন্তু ন্যাচারাল সোর্সে অন্যান্য পুষ্টি উপাদান তথা উক্ত ভিটামিনটির প্রভাবকগুলো উপস্থিত থাকে ।

৩) ন্যাচারাল ভিটামিনের বায়ো-অ্যাভেইলিবিলিটি অত্যন্ত বেশি অর্থাৎ শরীর এটিকে সিন্থেটিক ভিটামিনের চেয়ে দ্রুত এবং কার্যকরভাবে শরীরের পুষ্টি সাধনে কাজে লাগাতে পারে । এটি জলদি শরীর দ্বারা শোষিত হয় বলে অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের চাহিদাও কম থাকে এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদান তখন শরীরের অন্যান্য কাজে যেমন – ফ্রি র‍্যাডিকাল ধ্বংস করতে ব্যবহৃত হওয়ার সুযোগ পায় । আমরা রোগীকে মাঝে মাঝে ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট প্রেসক্রাইব করি এবং রোগী কয়েকদিন বা কয়েকমাস পরে অভিযোগ করেন, ভিটামিন খেয়ে তো কোন লাভ হলো না । এর কারণ এখানেই, সিন্থেটিক ভিটামিনের বায়ো-অ্যাভেইলিবিলিটি কম, তাই অনেকের শরীরই এটিকে দ্রুত এবং কার্যকরভাবে গ্রহণ করতে পারেনা ।
তাই সূর্যালোকের সমতুল্য বিকল্প কখনো ডায়েটারী সাপ্লিমেন্ট হতে পারেনা ।

সূত্রঃ

http://www.usingvitaminswisely.com/natural-vitamins.html

http://psicologiauigv.com/synthetic-vs-natural-vitamin-supplements-which-is-better.html

ঙ) বোরকা শরীরে তাপ উৎপাদক এবং ঘর্ম উৎপাদক একটি পোশাক, হিট স্ট্রোক ও বোরকার ভূমিকা

বোরকা সাধারণত কালো বা নীল রঙের হয়ে থাকে, এবং হালকা রংয়ের চেয়ে গাঢ় রং অনেক বেশি তাপ শোষণ করে। ফলে গাঢ় রংয়ের পোশাক পরলে গরম বেশি লাগে, শরীর জলদি ঘেমে যায় এবং বোরকায় তাপ বের হওয়ার জন্য কোন বিশেষ ব্যবস্থা না থাকায় তাপ শরীরেই রয়ে যায় ।

এখানে সায়েন্টিফিক লজিকটি হলো –

কালো রঙের পোশাক কালার স্পেকট্রামের সকল আলোকরশ্মি শোষণ করে, তাই যত আলোকরশ্মি শোষিত হচ্ছে তত বেশি তাপশক্তি শোষিত হচ্ছে কেননা সূর্যরশ্মির মাধ্যমে প্রাপ্ত অভিন্ন শক্তিরই দুটি রূপভেদ আলোকশক্তি এবং তাপশক্তি । অন্যদিকে সাদা রঙের পোশাক কোন আলোকরশ্মিই শোষিত করেনা বরং সেগুলো প্রতিফলিত করে । এই যুক্তির ওপর ভিত্তি করেই সাদা রঙের স্যান্ডো গেঞ্জি প্রস্তুত করা হয় ।

সূত্রঃ http://www.whyzz.com/why-do-dark-colors-absorb-heat

শরীরে অত্যাধিক ঘর্ম উৎপাদনের ফলে ১) পানিশূন্যতা ২) ঘামের দুর্গন্ধ ৩) মূর্ছা যাওয়া ৪) মাথা ঘোরা ৫) অস্থিরতা ৬) জ্বর ৭) বুক ধড়ফড়ানি ৮) হাইপারথার্মিয়া ৯) মলত্যাগে অস্বাভাবিক পরিবর্তন ১০) মানসিক অস্বস্তি ইত্যাদি সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।

সূত্রঃ http://en.wikipedia.org/wiki/Hyperhidrosis

হিট ইলনেসগুলোর অন্যতম কারণ বোরকা যা থার্মোরেগুলেশন চরমভাবে ব্যহত করে । হিট ইলনেসের মধ্যে রয়েছে –
১) হিট স্ট্রোক ২) হিট এক্সজোশন ৩) হিট সিনকোপ ৪) হিট ইডিমা ৫) হিট ক্র্যাম্পস ৬) হিট র‍্যাশ ৭) হিট টেটানি
হিট স্ট্রোক প্রতিরোধের জন্য হালকা রঙের সুতি পোশাক পরতে বলা হয় আর সেখানে গাঢ় রংয়ের বোরকা পরলে এভাপোরেশন বা বাষ্পীভবন সহজে হতে পারেনা তাই শরীরে তাপ রয়ে যায়, তাপ বের হতে পারেনা –

In environments that are not only hot but also humid, it is important to recognize that humidity reduces the degree to which the body can lose heat by evaporation. In such environments, it helps to wear light clothing such as cotton in light colors

সূত্রঃ http://en.wikipedia.org/wiki/Heat_stroke


চ) বোরকা পরিধান করা নারীদের মধ্যে অত্যাধিক ঘুমকাতরতা এবং শুয়ে থাকার প্রবণতা খুবই বেশি যেটি অনেক নন কমিউনিকেবল ডিজিজের অন্যতম রিস্ক ফ্যাক্টর

সূর্যের আলো চোখের মধ্য দিয়ে আমাদের শরীরের ভেতরে প্রবেশ করে সেখানে মেলাটোনিন নামক হরমোন তৈরী করতে বাধা দেয়, উল্লেখ্য এই হরমোনটি শুধু অন্ধকারেই প্রস্তুত হয়, আলোতে হতে পারেনা । মেলাটোনিনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে, যেমনঃ অনিদ্রার রোগীদের নিদ্রা আনয়ন করতে নিদ্রা উদ্দীপক হিসেবে এটি ব্যবহৃত হয়। কিন্তু সূর্যালোক থেকে চরমভাবে বঞ্চিত হওয়ায় অনেক মুসলিম নারী মেলাটোনিনের অধিক নিঃসরণের ফলে দিনের বেলাতেও ঘুমকাতরতা অনুভব করেন যেটির কারণে তাদের মধ্যে শুয়ে থাকার প্রবণতা সৃষ্টি হয় এবং এটি ডায়াবেটিস, হার্ট ডিজিজ,ওবেসিটি বা স্থূলতাসহ বিভিন্ন অসুখের রিস্ক ফ্যাক্টররূপে কাজ করে।

সূত্রঃ http://www.truestarhealth.com/members/cm_archives13ML3P1A8.html

শারীরিক ক্ষতির দিকগুলো তো গেল, এবার আসা যাক সামাজিক ও মানবাধিকারের দৃষ্টিকোণ থেকে বোরকা কেন বর্জনীয় ।

চিত্রঃ এই কি বোরকাওয়ালীদের নাচের নমুনা ?

ক) বোরকা পরিধান করা নারীরা বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যথাযথভাবে অংশগ্রহণ করতে পারেনা । যে কোন ধরনের নৃত্যকলায় অংশগ্রহণ করা এবং দক্ষ নৃত্যশিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়া একেবারেই অসম্ভব হয়ে পড়ে । বোরকা পরিধান করলে বর্তমানের মিউজিক ভিডিওনির্ভর মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে একজন গায়িকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়া একেবারেই অসম্ভব, ফেসিয়াল বিঊটি নির্ভর চলচিত্র জগতে একজন নায়িকা বা অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়া কোনভাবেই সম্ভব নয়। অর্থাৎ, বোরকা পরিহিতা নারীদের প্রাণ থাকলেও প্রকৃতপক্ষে তারা প্রাণহীন কেননা জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ একজন মানুষের সাংস্কৃতিক জীবন, বোরকা পরিধান সেই সাংস্কৃতিক জীবনের অধিকার একজন নারী থেকে কেড়ে নেয়, তাকে অথর্ব জড় পদার্থের মতই করুণভাবে সমাজে বাঁচিয়ে রাখে ।

চিত্রঃ চরম মানবেতরভাবে আলো বাতাস বঞ্চিতা হয়ে চলে বোরকা পরিহিতা মুসলিম নারীদের শরীরচর্চা

খ) পুরুষের মত নারীদেরও খেলাধুলা করার অধিকার ও ইচ্ছে রয়েছে । বোরকা পরিধান করে খেলাধুলাতে অংশগ্রহণ এবং দক্ষতার পরিচয় রাখা সম্ভব নয় । বোরকা পড়ে ক্রিকেট ফুটবল হকি খেলা সম্ভব নয়, বোরকা পড়ে দৌড়নো সম্ভব নয়, হার্ডল অতিক্রম করা সম্ভব নয়, লংজাম্প, হাইজাম্প পোলভল্টে অংশগ্রহণ করা সম্ভব নয়। রেসলিং, বক্সিং, জুডো, কুংফু কারাতে করা সম্ভব নয়, সাঁতার কাটা সম্ভব নয় । নারীদের কি জন্মই হয়েছে পুরুষের যৌনচাহিদা মেটানো আর বাচ্চা পয়দা করার জন্য ? নারীদের কি স্বাদ আহলাদ কিছুই নেই ? বাংলাদেশের কত নারী ক্রিকেটপাগল, সমাজব্যবস্থা ইসলামিক এবং কট্টর পুরুষতান্ত্রিক না হলে তারাও আজকে ক্রিকেট খেলতো, কিন্তু জন্ম থেকেই যে সিস্টেম দেখে আসছে তারা, তাতে এসব খেলাধুলায় শুধুমাত্র সাপোর্ট করা ছাড়া আর কোণ গত্যন্তর থাকেনা তাদের । ভারতের টেনিস প্রতিভা সানিয়া মির্জা শর্টস পড়ে খেলে দেখিয়ে দিয়েছেন তার যোগ্যতা ।

গ) বোরকার দুটি বা শতচ্ছিদ্র দিয়ে কোন বিষয়ে দৃষ্টি নিবদ্ধ করা চরম অসুবিধাজনক, স্কুল কলেজে পড়াশোনা করা, ব্ল্যাকবোর্ডের লেখা দেখায় চরম সমস্যার সৃষ্টি হয়, পর্দার মধ্যে দিয়ে বইয়ের লেখা পড়াও চরম বিরক্তিদায়ক এবং পুস্তক পাঠে অনীহা উদ্দীপক । কেমিস্ট্রি বা ফিজিক্স ল্যাবরেটরীতে বোরকা পরিহিত অবস্থায় প্র্যাকটিক্যাল করলে তাতে যে কোন সময় অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে, তাছাড়া এভাবে প্র্যাকটিক্যাল করাটাও অসুবিধাজনক । উপরন্তু, শ্রেণীকক্ষে শিক্ষক শিক্ষিকারাও সমস্যায় পড়ে যান, কেননা বোরকা পরিহিতা শিক্ষার্থীদের কে কোনটা তা নির্ধারণে সমস্যা দেখা দেয়, আবার ক্লাস রোল কলেও সমস্যার সৃষ্টি হয়, বোরকা পরিহিত বলে চেহারা দেখার অবস্থা নেই, এটির সুযোগ নিয়ে অনেকেই ক্লাসে উপস্থিত থাকেনা বা অনুপস্থিত বান্ধবীদের জন্য প্রক্সি দেয় ।

ঘ) বোরকা পরিধানে প্রয়োজনের সময় দ্রুত হাঁটা যায়না আবার বিপদের সময় দৌড়নোও যায়না কেননা দ্রুত হাঁটতে বা দৌড়তে যেয়ে নিচে বোরকার কাপড়ের সঙ্গে পা যে কোন মুহূর্তে ফেসে যেতে পারে, হোঁচট খেয়ে উল্টে পড়ে মুহূর্তেই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে । উদাহরণস্বরূপ ধরা যাক – কোন এক বোরকা পরিহিতা মহিলাকে কিছু দুর্বৃত্ত তাড়া করলো, এমতাবস্থায় মহিলাটি যদি বোরকা পরিহিতা না হয়ে জিন্স পরিহিতা হতো, তাহলে সে দৌড় দিয়ে হয়তো বিপদ এড়োতে পারতো বা নিরাপদ অবস্থানে যেতে পারতো, কিন্তু বোরকা পরার কারণে সেই মহিলাটি বেশি দূর এগোতেই পারবেনা, মুহূর্তে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে যাবে ।

ঙ) বোরকার শতচ্ছিদ্র দিয়ে বা পর্দার ভেতর থেকে বস্তুর অবস্থান সম্পর্কে সম্যক ধারণা পাওয়া অসুবিধাজনক, রাস্তাঘাটে চলাফেরা করার সময় বোরকার পর্দা বা শতচ্ছিদ্র দিয়ে দেখতে হয় বলে রাস্তা পারাপারে বিশেষত সাইড ভিউ সম্পর্কিত সমস্যা হওয়া একেবারেই স্বাভাবিক এবং মুহূর্তের অসাবধানতায় মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে ।

চ) বোরকা নারীকে সকল প্রকার সৃষ্টিশীল কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখতে প্রভাবক হিসেবে কাজ করে, বোরকা পরে অফিস আদালতে চাকুরী করা অসুবিধাজনক, চিত্রশিল্পী হওয়ার পক্ষে প্রতিবন্ধক, বোরকা পরিহিতা নারী বোরকা পরিধানের কারণে পুরুষের মত অন্যান্য কাজ করতে অসমর্থ হয়, ফলে সেই সমাজে পুরুষ একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে এবং নারীকে ইচ্ছেমত শোষণ করতে পারে । বোরকা পরিধানের ফলে নারী কার্যতভাবে পুরুষের অধীনস্তা হয়ে পড়ে । যেহেতু নারী বোরকা পরিধানের ফলে গৃহকর্ম ব্যতীত অন্য সকল সাংস্কৃতিক সামাজিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে আরামসে এবং সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে পারেনা, সেহেতু এটি সুনিশ্চিতভাবেই বলা যায়, বোরকা – নারী স্বাধীনতার একটি প্রধান অন্তরায় ।



চিত্রঃ দেখুন পানির মধ্যে থেকে হঠাৎ করে ভেসে উঠলো একটি নিনজা

ছ) বোরকা পরিধানের কারণে নারীকে সোজা বাংলা ভাষায় ভুত পেত্নীর মত দেখায় । বোরকার মধ্যে কোন সৌন্দর্য নেই, কালো বা নীল বা অন্য রঙের একটি সম্পূর্ণ একরঙা পোশাক, পুরোটিই ঢাকা, ডিজাইনের কোথাও কোন বৈচিত্র্য নেই, নেই কোন প্যাঁচ, নেই কোন হাতের কাজ,নেই কোন আচল,নেই কোন বক্রতা। ঐটি পরলে দেখতে চরম কুশ্রী লাগে ।

চিত্রঃ কারো চেহারা চেনার উপায় নেই, এই চিত্র তোলা অপ্রয়োজনীয় এবং নির্বুদ্ধিতার পরিচায়ক নয় কি ?


চিত্রঃ দেখুন হরর মুভির ভুতপ্রেত-পেত্নীদের মতই বোরকাওয়ালীদের ভৌতিক মিছিল

একটা জায়গায় অজস্র কালো বোরকাধারীদের যদি কুড়াল বা লাঠি হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়, তাহলে সেটি হরর মুভির প্রেতাত্মাদের মিছিলের মতই মনে হবে । যেই পোশাকে নারীকে ভুতুড়ে দেখায়, চোখ মুখ নাক হাত পা কিছুই দেখা যায় না, অর্থাৎ ঐ পোশাকের ভেতরে যে একটি মানুষ আছে সেটারই প্রমাণ পাওয়া যায়না, সেই পোশাকের মধ্যে কিসের সৌন্দর্য ?

জ) বোরকা –অপরাধী,সন্ত্রাসী,উগ্রবাদী ও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের জন্য চরম আশীর্বাদস্বরূপ একটি পোশাক কেননা এই পোশাক পরিধান করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখে ধুলো দিয়ে সফলভাবে আত্মগোপন করা যায়, গ্রেফতার এড়ানো যায়, আত্মঘাতী বোমা হামলা চালানো যায় এবং যখন খুশি তখন দেশের এখান থেকে সেখানে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও তৎপরতা বজায় রাখা যায় ।

ভিডিওটি দেখুন

পাকিস্তানের লাল মসজিদে ইসলামিক জঙ্গিবাদীরা অবস্থান নিয়েছিলো কিন্তু তদানীন্তন প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফের জঙ্গি প্রশ্নে দৃঢ়তা এবং অনমনীয়তার সুবাদে তাড়া সেখানে তাদের সন্ত্রাসী তৎপরতা বেশিক্ষণ চালাতে পারেনি, তাদের অন্যতম নেতা মওলানা আব্দুল আজিজ নিতান্তই নির্লজ্জের মত বোরকা পরে পালাতে যেয়ে ধরা পড়েন ।

পাকিস্তানের কোহাটে একটি রিফিউজি ক্যাম্পে বোরকা পরিহিত দুই ইসলামিক জঙ্গিবাদী আত্মঘাতী বোমা হামলা চালিয়ে ৪১ জনের মৃত্যুর কারণ হয় ।

সূত্রঃ http://www.rightsidenews.com/201004229692/world/terrorism/the-burqa-bomb.html

চিত্রে দেখুন আফগানিস্তানে ইসলামিক জেহাদী জঙ্গিবাদীরা কিভাবে বোরকার মাধ্যমে আত্মগোপন করে এবং বোরকার আড়ালে বিপুলসংখ্যক আগ্নেয়াস্ত্র, রাইফেল ও গোলাবারুদ লুকিয়ে চলাফেরা করে ।

সূত্রঃ http://www.hadihairan.com/2011/07/photo-story-burqa-terrorism.html

চিত্রঃ বোরকা পরিধান করে দোকান ভাংচুরের মাধ্যমে লুটপাট চলছে

প্রখ্যাত লেখক তথা পলিটিক্যাল ব্লগার ড্যানিয়েল পাইপসের আর্টিকেলগুলো থেকে পাওয়া যায়, বোরকার আড়ালে অপরাধী সন্ত্রাসী ও ধর্মীয় উগ্রবাদী জঙ্গিবাদীদের সন্ত্রাসী ও জেহাদী অপতৎপরতার অজস্র ছবি ও বর্ণনা –

সূত্রঃ http://www.danielpipes.org/blog/2006/11/niqabs-and-burqas-as-security-threats

বোরকা যে নারী –সমাজ এবং রাষ্ট্রের জন্য চরম ক্ষতিকর, তা উপরিউক্ত আলোচনা থেকেই সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত । তবে এগুলোর বাইরে কিছু প্রশ্ন থেকে যায়, সেগুলো হলো –

ক) যে আল্লাহ একেবারেই নগ্নভাবে পৃথিবীতে নর ও নারী প্রেরণ করেছিল, তার হঠাৎ করে নারীর নগ্ন উরু নগ্ন বাহু দেখে বিচলিত হওয়ার কারণ কি? তিনি যখন সর্বজ্ঞ তখন কেন সৃষ্টির শুরু থেকেই বোরকা প্রথা চালু হলো না ? কেন হঠাৎ তার এহেন মন পরিবর্তন ? আর সর্বজ্ঞ আল্লাহ কি ভিটামিন ডি এবং অন্যান্য উল্লেখিত ব্যাপার সম্পর্কে জানতেন ? জানলে কি বোরকা প্রচলিত হতে দিতেন ? (আল্লাহ বলে কিছু নেই )

খ) নারী দেখলেই পুরুষ কামার্ত কামাতুর হয়ে পড়বে কেন ? বিপরীতক্রমে নারী যদি একজন পুরুষকে খালি গায়ে বা বোরকাহীন অবস্থায় দেখে তাহলে সে কামার্ত – কামাতুর হয়ে পড়বে কিনা ? যদি নারী পুরুষের মতই মানুষ হয়, তাহলে তো পুরুষের মত তারও কামার্ত হয়ে পড়ার কথা এবং সেক্ষেত্রে পুরুষের জন্য কেন নারীর মতই একই ধরনের বোরকা প্রযোজ্য হবেনা ? উল্লেখ্য,মুসলিম নারীরাও অনেক সময় কামার্ত হয় কিন্তু সামাজিক ও ধর্মীয় কারণে তা প্রকাশ করেনা ।ইরানের অনেক নারী কারণে অকারণে বোরকার নিচে কিছু না পরেই ডাক্তারের কাছে যান এবং চেকআপ করান । পাকিস্তানের মত ইসলামিক রাষ্ট্রে যেই নারী দিনের বেলায় বোরকাওয়ালী বা পাবলিক প্লেসে বোরকাওয়ালী, সেই নারীই প্রাইভেটপ্লেসে নগ্ন হয় কিংবা রাতে সম্পূর্ণ নগ্ন হয়ে পাঞ্জাবী মুজরা নাচ নাচে ।পাকিস্তানে নারী কর্তৃক এমনকি পুরুষও ধর্ষিত হয়েছে ।চিত্রে দেখুন –

তাহলে আল্লাহ পুরুষের জন্যও বোরকা প্রবর্তন করলেন না কেন (হাহা) ?

গ) নারীকে বোরকাবন্দী করার মাধ্যমে কি পুরুষ তাকে নিজের অধীনস্তা একটি অক্ষম প্রজাতিতে রূপান্তরিত করে তুলছে না ? এটি কতটুকু মানবিক ? তাছাড়া বোরকাবন্দী করার ফলে কি সেটির এফেক্ট হিসেবে একটি সেক্সিস্ট কালচারের জন্ম হচ্ছেনা ? বোরকা পরিধান কি একপ্রকার মানসিক দাসত্ব নয় ?

ঘ) ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক নারীকে তার নিজের ভাই-বোনের ছেলেদের সামনে পর্দা করার কোন প্রয়োজন না থাকলেও স্বামীর ভাই-বোনের ছেলেদের সামনে পর্দা করার বিধান রয়েছে ।তবে কি মুসলমানরা তাদের ফুফু খালাকে দেখে মায়ের দৃষ্টিতে আর চাচী মামীকে বউয়ের দৃষ্টিতে? আর মামা-চাচা কে কোন দৃষ্টিতে দেখে ? শুধুমাত্র ইসলামের মতো পুরোপুরি বিকারগ্রস্থ সংস্কৃতির মানুষদের পক্ষেই নিজের পরিবার সম্পর্কে এমন অসুস্থ দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করা সম্ভব।

ঙ) সুন্দরী বোরাকের পিঠে চড়ে অক্সিজেন বিহীন বাতাসে নিঃশ্বাস নিতে নিতে আর বায়ুহীন আকাশে প্রশস্ত দু’ডানা বজ্র শক্তিতে ঝাপটাতে ঝাপটাতে আলোর থেকেও দ্রুত গতিতে মুহাম্মদ যখন দোযখের দ্বার প্রান্তে পৌছাল নরকের ক্ষুধার্ত শয়তান তখন কয়েকজন তথাকথিত নির্লজ্জ নারীকে আগুনে ছেকে শিক কাবাব বানাতে ব্যস্ত।এসব নারীর অপরাধ ছিল এই যে- তারা নাকি পরপুরুষদের নিজেদের চুল দেখিয়েছিলো !চুল দেখানোও ইসলামের দৃষ্টিতে অপরাধ । সে বিচারেই বাংলাদেশসহ পৃথিবীর অজস্র দেশের অজস্র মুসলিম নারীরাও দোজখে যাবে, এটি নিশ্চিত !আমার প্রশ্ন হলো – চুল দেখালে আদৌ কি কোন ক্ষতি হয় ? আরেকটি প্রশ্ন – তথাকথিত কেয়ামতের আগে এই নারীদের শাস্তিপ্রদান করা কি অবিচার এবং নিয়মভঙ্গ নয় ? কেয়ামতের আগে তারা দোজখে আসলোই বা কিভাবে ?

চিত্রঃ ইসলামিক চিত্র, সামান্য চুল দেখানোর অপরাধে ( ইসলামী ভাষ্যমতে) নারীদের লজ্জাহীন বলে আগুনে পোড়ানো হচ্ছে

Mohammed, along with Buraq and Gabriel, visit Hell, and see a demon punishing “shameless women” who had exposed their hair to strangers. For this crime of inciting lust in men, the women are strung up by their hair and burned for eternity. Persian, 15th century.

সূত্রঃ http://spiralupward.com/?p=1239

http://zombietime.com/mohammed_image_archive/islamic_mo_full/

প্রশ্নঃ মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোতে ধর্ষণের হার কম হওয়ার পেছনে রহস্যটা কি ?

উত্তরঃ আসলে মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোতে ধর্ষণের হার প্রচুর কিন্তু বেশ কিছু কারণে সেই কেসগুলো রিপোর্টেড হয়না যার কারণে এই ঘটনাগুলো আড়ালেই থেকে যায় ও আমাদের সামনে একটি ভুল তথ্য উপস্থাপিত হয় যে – সেসব দেশে ধর্ষণ কম হয় । আমাদের দেশেও ২০০১ সালের পরে অজস্র হিন্দু নারী বিএনপি জামাতপন্থী নরপশুদের হাতে ধর্ষিতা হয়েছে, পত্রপত্রিকায় এ নিয়ে ব্যাপক লেখালেখি হলেও ১০% কেসও রেজিস্টার্ড হয়নি ।

পুরুষকে স্তন দেখাতে হবে বলে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে নারীরা ব্রেস্ট ক্যান্সারের ব্যাপার তারা চেপে যায় । একইভাবে ধর্ষণের কেস রিপোর্ট করলে সমাজে অচ্ছুৎ হয়ে যাবে তথা প্রমাণিত না হলে বেত্রাঘাত ও পাথর ছুড়ে হত্যার মত নির্মম শাস্তি পেতে হবে – এমন আশংকায় সৌদি আরব এবং মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোতে ধর্ষণের কেস রিপোর্টই হয়না ।

সভ্য দেশগুলোতে ধর্ষণের কেসগুলো ঠিকমত রেজিস্টার্ড হয় কেননা নারী সেসব দেশে স্বাধীন এবং পুরুষের ভয়ে ধর্ষণের ঘটনা গোপন করেনা, মুসলিম দেশগুলোতে ধর্ষণের কেসগুলো রেজিস্টার্ডই হয়না কেননা এতে নারী আরো বিপদে পড়বে। সৌদি আরব চরম পুরুষতান্ত্রিক দেশ। সেখানে নারীরা পদে পদে ধর্ষিতা হলেও তারা মুখ খোলেনা, জানে যে এর বিচার তো হবেইনা বরং এটি প্রকাশ পেলে তার বিয়েও হবেনা । সৌদি আরবের অদ্ভুত ইসলামিক আইনে ৪ জন পুরুষ সাক্ষীর সাক্ষ্য লাগে ধর্ষণের কেস প্রমাণ করতে, নারীকে যেই পুরুষটি ধর্ষণ করেছে সেই পুরুষ বাদে বাকি পুরুষকে নারী কেন সাক্ষ্য হিসেবে জোগাড় করবে এবং সেটি কিভাবেই বা করবে ? এমন অবাস্তব নিয়মের কারণে সৌদিতে ধর্ষণের কেসই হয়না, এর মানে এই না যে সেখানে ধর্ষণ হচ্ছেনা। সেখানে ধর্ষণ প্রচুর পরিমাণে হচ্ছে, পর্ণ সাইটগুলোতে আরবীয় ক্লিপগুলোর আধিক্য দেখে সেটি সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায় ।

কোরান শরীফের অদ্ভুত নিয়ম ৪ সাক্ষী উপস্থাপন করা –





তাহলে রেপ কেস রিপোর্টেড হবে কিভাবে ?

আপনার মত অনেক মুসলিমের মধ্যেই এই বিশ্বাস রয়েছে যে, নারী ধর্ষিতা হলে সেটি তারই দোষ কেননা সে পর্দা করেনি মানে পুরুষকে প্রলুব্ধ করেছে তাকে ধর্ষণ করার জন্য । এই রকম চরম নোংরা এবং চরম অসুস্থ মনমানসিকতা আপনাদেরই থাকতে পারে। দেখুন –

There’s also an impression, among a large number of Muslim followers, that if a woman is raped, it’s usually her fault; that her mere presence in the street without a veil, for example, has ‘tempted’ the poor man to rape her. A notorious example of this mentality among Western Muslims is a 7th century misogynistic Australian barbarian called Taj El-Din Al-Hilali, who said in a Friday sermon that if a woman gets raped, it is mostly the woman’s fault because she wasn’t in her home. He also said:

If you take out uncovered meat and place it outside on the street, or in the garden or in the park, or in the backyard without a cover, and the cats come and eat it … whose fault is it, the cats or the uncovered meat? The uncovered meat is the problem.

সূত্রঃ http://www.islam-watch.org/index.php?option=com_content&view=article&id=357:rape-in-islam-and-its-four-witnesses&catid=119:fakhour&Itemid=58

মুসলিম জাতি যে চরম ধর্ষকামী জাতি তা কোরান থেকেই সুস্পষ্ট (সুরা নিসা ৪ আয়াত ২৪ এবং সুরা আল মুমিনুন ২৩ আয়াত ৬ দ্রষ্টব্য)


দাসীদের অর্থনৈতিক দুরবস্থার সুযোগ নিয়ে তাদের সঙ্গে যৌনসঙ্গম ( এটি ধর্ষণ) এবং যুদ্ধবন্দীদের ইচ্ছের বিরুদ্ধে তাদের সঙ্গে যৌনসঙ্গম ( এটিও ধর্ষণ) ।

ইরানের নাজানিন মাহাবাদ ফাতেহির কথা কে না জানে –


In Iran, Nazanin Mahabad Fatehi faced the death penalty for defending herself and her niece from being raped. As she defended herself with a knife, she stabbed one of the attempted rapists to his death. Without four male witnesses, she faced the death sentence. (She was released due to intense international and media attention

মধ্যপ্রাচ্যের কট্টর মুসলিম রাষ্ট্রগুলোতে ধর্ষণের বিচার চাইতে গেলে সেটি ৪ সাক্ষীর অভাবে প্রমাণ করা যায়না । উল্টো বিচার দাবীকারীকে শাস্তি পেতে হয় ।

If she cannot produce four witnesses, her case turns into a chastity crime and is thus punished accordingly. Alternatively, she may be punished for making perceived false accusations. Also, at least one school of jurisprudence considers pregnancy sufficient evidence for sexual misconduct, so if a rape victim becomes pregnant and she cannot prove the rape, she can face lashing or death by stoning.

যে পুরুষটি ধর্ষণ করেছে, তার সাথে আর ৩ সদস্য থাকলে তারাও ধর্ষণে যোগ দেবে এবং কোনদিনও তারা ধর্ষিতার পক্ষে সাক্ষ্য দেবেনা । তাহলে ৪ সাক্ষী আসবে কিভাবে ? অর্থাৎ, ৪ সাক্ষী না পেলে ধর্ষণের কেসটি চ্যাসটিটি ক্রাইম বা সতীত্ব হারানোর তথাকথিত অপরাধের কেসে রূপান্তরিত হবে এবং ইসলামী বিধানমতে নারীকেই শাস্তি দেওয়া হবে । উপরন্তু নারী যদি এক্ষেত্রে গর্ভবতী হয়ে যায়, তাহলে তাকে পাথর ছুড়ে হত্যা করা হবে ।

যেহেতু ৪ সাক্ষী কখনোই উপস্থাপন করা যাবেনা, সেহেতু নারীরা কখনোই চাইবেনা ধর্ষণের কেস রিপোর্ট করতে কেননা এতে তাদের নিজের জীবনই বিপন্ন হবে, তাদেরকে পাথর মেরে আর বেত্রাঘাত করে মেরে ফেলা ও শাস্তি দেওয়া হবে । তাই সৌদি আরবে ধর্ষণ কম কথাটা সম্পূর্ণই মিথ্যে, আসল বাস্তবতা এই ৪ সাক্ষী জোগাড় করতে না পারার মাঝেই নিহিত । কিছু চিত্র দেখি চলুনঃ




কিরম নৃশংসতা কিরকম বর্বরতা ! এই হলো ইসলামের স্বরূপ !

সূত্রঃ

http://www.faithfreedom.org/Gallery/6.htm

http://tulisanmurtad.blogspot.com/2010/10/stoning.html

http://www.time.com/time/quotes/0,26174,1872529,00.html

http://angrywhitedude.com/2011/04/the-stoning-of-soraya-m-the-true-message-of-islam/

http://en.wikipedia.org/wiki/Stoning

প্রশ্নঃ কোন নারী যদি নিজের ইচ্ছেয় বোরকা পরতে চান তবে তাকে বাধা দেওয়া উচিত কিনা এবং এটি নারী স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ কিনা ?

উত্তরঃ না, এটি নারী স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ নয় । বোরকা নারীর নিজের বুদ্ধি বিবেচনায় অ্যাডোপ্ট করা পোশাক নয়, এটি ধর্মই নারীর ওপর আরোপ করেছে, আরোপ মানে একপ্রকার ফোর্স বা বাধ্য করাই । মধ্যপ্রাচ্যের পুরুষকেন্দ্রিক সমাজে জন্মের শুরু থেকেই একটি নারী তার আশেপাশের সমাজে বোরকার প্রচলন দেখে এবং ধর্ম ও রাষ্ট্রের আইনে বাধ্যতামূলক -বোরকা পরিধানে বাধ্য হয় । যদি ধর্ম বা রাষ্ট্রের এমন আইন না থাকতো এবং পরিবারের এনফোর্সমেন্ট না থাকতো এবং তারপরও যদি নারী বোরকা পরতে চাইতো তাহলে আমি বলতাম যে – হুম, নারীর নিজের ইচ্ছেয় বোরকা পরার স্বাধীনতা রয়েছে । কিন্তু এগুলো চাপানো হয়, তাই এখানে কিছু নারী যে বোরকার পক্ষে আন্দোলন করে, সেগুলো শিশুকাল থেকেই তার মধ্যে চাপিয়ে দেওয়া ধর্মবিশ্বাস এবং বোরকা পরিধানে অভ্যস্ত করে তোলা থেকেই, নিজের ইচ্ছেয় নয় ।

তাছাড়া বোরকার এত কুফল রয়েছে যে বোরকা পরিধানকে কখনোই ব্যক্তি স্বাধীনতার দোহাই দিয়ে প্রশ্রয় দেওয়া চলেনা । ব্যক্তি স্বাধীনতার দোহাই দিতে হলে ধূমপান-সমকামিতা-যৌন স্বেচ্ছাচারিতা-মাদকদ্রব্য সেবন ইত্যাদি সকল কিছুকেই ব্যক্তি স্বাধীনতার দোহাই দিয়ে চালানো যায়, যা ব্যক্তিক, সামাজিক এবং রাষ্ট্রীয় জীবনের জন্য অপরিসীম ক্ষতি বয়ে আনে । তাই বোরকাকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে না বলুন, বোরকা কালচারকে বয়কট করুন ।

অতিরিক্ত পাঠঃ

http://forum09.faithfreedom.org/viewtopic.php?f=30&t=6113#p100540

http://www.faithfreedom.org/forum/viewtopic.php?p=42499

http://www.faithfreedom.org/forum/viewtopic.php?t=21469


http://www.faithfreedom.org/forum/viewtopic.php?t=20917