ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

 

ব্রেকিং নিউজঃ সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে গত শুক্রবার শিরশ্ছেদের মাধ্যমে আট বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। যে আট বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, তাঁরা হলেন—মামুন আবদুল মান্নান, ফারুক জামাল, সুমন মিয়া, মোহাম্মদ সুমন, শফিক আল ইসলাম, মাসুদ শামসুল হক, আবু আল হোসাইন আহমেদ ও মতিউর আল রহমান। এ ঘটনায় অপর তিন বাংলাদেশিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও বেত্রাঘাতের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

এইরকম অমানবিক নৃশংস ঘটনাটি জেনে মন মুহূর্তে চরম খারাপ হয়ে গেলেও ব্লগীয় গালাগালি ও অশিষ্ট ভাষার কারণে আর কিবোর্ডের সামনে আসিনি। তবে মন মানছিলো না আর ফেসবুক ইয়াহুতে এই বিষয়ে কিছু লেখার জন্য প্রবল চাপের সম্মুখীন হচ্ছিলাম আমার পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ীদের কাছ থেকে। আমি এধরনের ভিডিও সচরাচর এড়িয়ে চলি তবে তারপরও ভিডিওটি অনিচ্ছাসত্ত্বে দেখলাম এবং চরম বমিভাব এবং অসুস্থতাবোধ করতে লাগলাম। এই কি মানুষ ? এই কি মানবতা ? এই কি সভ্যতা ? চরম কষ্টবোধ থেকে তাই কিবোর্ড ধরতে বাধ্য হলাম। এই ঘটনা নিয়েই আজকে আমার আলোচনা।

http://www.youtube.com/watch?v=XMDLws1ReVI

দেখুন কোরান হাদীসের আলোকে ইসলামী নৃশংসতা

দেখুন হতভাগ্য ৮ বাংলাদেশীর আত্মীয়স্বজনের মর্মস্পর্শী মাতম

ইসলামী শরীয়াহ আইনে শিরোচ্ছেদকরণের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। হযরত মোহাম্মদ নিজে এই শিরোচ্ছেদকরণ আইনের নির্দেশ দিয়েছেন বা সমর্থন করেছেন এবং কোরান শরীফেরও বিভিন্ন সুরাতে এই শিরোচ্ছেদকরণ আইনের কথা সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। ইসলামিক শাসকেরাও এই আইন বলবত রেখেছেন। ২০০৭-০৮ সালে ইরাক এবং সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য কিছু দেশের নাগরিকদের শিরোচ্ছেদকরণের কারণে মার্কিন প্রেস শিরোচ্ছেদকরণের সাথে কোরান শরীফ বা হজরত মোহাম্মদের সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা সে সম্পর্কে অনুসন্ধিৎসু হয়ে ওঠে এবং বিভিন্ন ইসলামিক মোল্লা মৌলভীর মতামত জানতে চায় এবং মোল্লা মৌলভীরা শিরোচ্ছেদকরণের সঙ্গে ইসলামের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করে। যুক্তরাষ্ট্রের দার আল হিজড়া মসজিদের কো-ফাউন্ডার ও প্রধান নির্বাহী ইমাম মোহাম্মদ আদম আল শেখ – ইউএস টুডে পত্রিকায় এক সাক্ষাৎকারে বলেন –

Beheadings are not mentioned in the Koran at all

ইয়ভনে হাদ্দাদ , জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির মুসলিম-খ্রিষ্টান আন্ডারস্ট্যান্ডিং সেন্টারের একজন অধ্যাপক উক্ত মোল্লাকে সমর্থন করেন এবং নিউইয়র্ক নিউজডে পত্রিকায় আরো এক লাইন জুড়ে দেন –

There is absolutely nothing in Islam that justifies cutting off a person’s head

কিন্তু আসলেই কি তাই ? দেখা যাক – কোরান ও হাদীস কি বলে !

সুরা আল আনফালের ১২ এবং ১৭ নং আয়াতে বলা হয়েছে –

12. Remember thy Lord inspired the angels (with the message): “I am with you: give firmness to the Believers: I will instil terror into the hearts of the Unbelievers: smite ye above their necks and smite all their finger-tips off them.” (Yusuf Ali)

17. It is not ye who slew them; it was Allah. when thou threwest (a handful of dust), it was not thy act, but Allah’s: in order that He might test the Believers by a gracious trial from Himself: for Allah is He Who heareth and knoweth (all things).

http://www.harunyahya.com/Quran_translation/Quran_translation8.php

শাকির, আল হিলালী ও পিকথ্যালের অনুবাদের জন্যঃ

http://www.muslimaccess.com/quraan/translations/shakir/008.htm
http://www.quran4u.com/Quran%20HTML/Sura%208-10/008%20Anfalenmw.htm
http://www.searchtruth.com/chapter_display.php?chapter=8&translator=4&mac=

সুরা মোহাম্মদের ৪ নং আয়াতে বলা আছে –

4. Therefore, when ye meet the Unbelievers (in fight), smite at their necks; At length, when ye have thoroughly subdued them, bind a bond firmly (on them): thereafter (is the time for) either generosity or ransom: Until the war lays down its burdens.

http://www.harunyahya.com/Quran_translation/Quran_translation47.php

শাকির, আল হিলালী ও পিকথ্যালের অনুবাদের জন্যঃ

http://www.muslimaccess.com/quraan/translations/shakir/047.htm
http://www.quran4u.com/Quran%20HTML/Sura%2046-50/047muhammadenmw.htm
http://www.searchtruth.com/chapter_display.php?chapter=47&translator=4&mac=

সুরা আল মায়িদাহ-র ৩৩ এবং ৪৫ নং আয়াতে বলা হয়েছে –

33. The punishment of those who wage war against Allah and His Messenger, and strive with might and main for mischief through the land is: execution, or crucifixion, or the cutting off of hands and feet from opposite sides, or exile from the land: that is their disgrace in this world, and a heavy punishment is theirs in the Hereafter; (Yusuf Ali)

45. We ordained therein for them: “Life for life, eye for eye, nose or nose, ear for ear, tooth for tooth, and wounds equal for equal.” But if any one remits the retaliation by way of charity, it is an act of atonement for himself. And if any fail to judge by (the light of) what Allah hath revealed, they are (No better than) wrong-doers.

http://www.harunyahya.com/Quran_translation/Quran_translation5.php

শাকির, আল হিলালী ও পিকথ্যালের অনুবাদের জন্যঃ

http://www.muslimaccess.com/quraan/translations/shakir/005.htm
http://www.searchtruth.com/chapter_display.php?chapter=5&translator=4&mac=
http://www.quran4u.com/Quran%20HTML/sura%205-7/005%20Maidaenmw.htm

সুরা বাকারার ১৯১ এবং ১৯৩ নং আয়াতে বলা হয়েছে –

191. And slay them wherever ye catch them, and turn them out from where they have Turned you out; for tumult and oppression are worse than slaughter; but fight them not at the Sacred Mosque, unless they (first) fight you there; but if they fight you, slay them. Such is the reward of those who suppress faith.

193. And fight them on until there is no more Tumult or oppression, and there prevail justice and faith in Allah. but if they cease, Let there be no hostility except to those who practise oppression.

http://www.harunyahya.com/Quran_translation/Quran_translation2.php

শাকির, আল হিলালী ও পিকথ্যালের অনুবাদের জন্যঃ

http://www.muslimaccess.com/quraan/translations/shakir/002.htm
http://www.quran4u.com/Quran%20HTML/Sura%201-2/002%20Baqraenmw.htm
http://www.searchtruth.com/chapter_display.php?chapter=2&translator=4&mac=

সুরা আত-তাওবার ২৯ এবং ১২৩ নং আয়াতে বলা হয়েছে –

29. Fight those who believe not in Allah nor the Last Day, nor hold that forbidden which hath been forbidden by Allah and His Messenger, nor acknowledge the religion of Truth, (even if they are) of the People of the Book, until they pay the Jizya with willing submission, and feel themselves subdued.

123. O ye who believe! fight the unbelievers who gird you about, and let them find firmness in you: and know that Allah is with those who fear Him.

http://www.harunyahya.com/Quran_translation/Quran_translation9.php

শাকির, আল হিলালী ও পিকথ্যালের অনুবাদের জন্যঃ

http://www.muslimaccess.com/quraan/translations/shakir/009.htm
http://www.quran4u.com/Quran%20HTML/Sura%208-10/009%20Tawbahenmw.htm
http://www.searchtruth.com/chapter_display.php?chapter=9&translator=4&mac=

দেখা যাচ্ছে কোরান সুস্পষ্টভাবেই এইসকল আয়াতের মাধ্যমে অমুসলিম নিধনে এবং বিচারকার্যে শিরোচ্ছেদকরণের বিষয়টি সমর্থন করছে। শুধু কোরান নয়, হাদীসেও শিরোচ্ছেদকরণের অজস্র উদাহরণ পাওয়া যায় –
ইবনে হিশাম এবং ইবনে ইসহাকের সিরাত রাসুল আল্লাহর ১৬২-১৬৩ নং পৃষ্ঠা থেকে জানা যায় – বদর যুদ্ধের পর ৬২৪ খ্রিস্টাব্দের মার্চ মাসে শুধুমাত্র মোহাম্মদের বিরুদ্ধে কবিতা ও গল্প লিখে সমালোচনা করার দায়ে আল নাদর ইবন আল হারিথের শিরচ্ছেদ করা হয় !

Safi ur Rahman Al Mubarakpuri, The sealed nectar: biography of the Noble Prophet, p. 274.

Muḥammad Ḥusayn Haykal, Ismaʼil R. Al-Faruqi, The life of Muḥammad: Volume 1976, Part 2, p. 223

Ibn Hisham, Ibn Ishaq, Alfred Guillaume (translator), The life of Muhammad: a translation of Isḥāq’s Sīrat rasūl Allāh, pp. 162-163, 464

সিরাত রাসুল আল্লাহ, সুনান আবু দাউদ – ২৬৮৬ এবং সহীহ বুখারী ১.৯.৪৯৯ এবং তাবারী শরীফ ভলিউম-৯ থেকে জানা যায় বদর যুদ্ধে ধৃত উকবা বিন আবু মুয়াত মোহাম্মদের দিকে মৃত প্রাণীর দেহাবশেষ ছুড়ে ফেলেছিলেন এবং মোহাম্মদ যখন নামাজরত ছিলেন, তখন তার গলায় নিজের কাপড় দিয়ে প্যাঁচ দিয়েছিলেন, তাই তার শিরচ্ছেদ করা হয়। প্রশ্ন হলো, ধৃত ব্যক্তি কিভাবে মোহাম্মদের গলায় কাপড় দিয়ে প্যাঁচ দেবে ?

তাবারী শরীফের ভলিউম ৭ থেকে জানা যায় – আবু আজ্জাহ ওমর বিন আব্দেল্লাহ আল জুমাহি হামরা আল আসাদ দখল করার সময় ধৃত হয় এবং তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়, সে পুনরায় মোহাম্মদের বিরুদ্ধে অস্ত্রধারণ করে এবং ২য় বার ধৃত হলে তার শিরচ্ছেদ করা হয়।

Mubarakpuri, The Sealed Nectar, p. 183. http://www.webcitation.org/60v0RdHwu

Tabari, Al (2008), The foundation of the community http://books.google.co.uk/books?id=ctvk-fdtklYC&pg=PA147

৬২৭ খ্রিস্টাব্দের ফেব্রুয়ারী মার্চ মাসে জিবরাইল ফেরেশতার ইশারায় বানু কুরাইজা গোত্রের বয়সন্ধি পেরোনো ৬০০-৯০০ জনের শিরচ্ছেদ করা হয় । তাবারী ও ইবনে হিশাম মোতাবেক নারী ও শিশুর শিরচ্ছেদ না করে যুদ্ধবন্দী করা হলেও সহীহ বুখারী ৪.৫২.৬৮ , ৪.৫৭.৬৬ আবু দাউদ ৩৮.৪৩৯০ মোতাবেক ১ নারীর শিরচ্ছেদ করা হয়।

সূত্রঃ

Mubarakpuri, The Sealed Nectar, pp. 201-205. http://www.webcitation.org/60wWxNMpU

Ibn Kathir, Saed Abdul-Rahman (2009), Tafsir Ibn Kathir Juz’21, MSA Publication Limited, ISBN 9781861796110

http://books.google.co.uk/books?id=jAHs9Wboz4gC&pg=PA213

http://books.google.co.uk/books?id=jAHs9Wboz4gC&pg=PA194
Ibn Hisham, Ibn Ishaq, Alfred Guillaume (translator), The life of Muhammad: a translation of Isḥāq’s Sīrat rasūl Allāh, pp. 461-464.

Peters, Muhammad and the Origins of Islam, p. 222-224.

Stillman, The Jews of Arab Lands: A History and Source Book, pp. 137-141.

Subhash C. Inamdar (2001), Muhammad and the Rise of Islam: The Creation of Group Identity, Psychosocial Press, ISBN 1887841288 p. 166 (footnotes)

http://books.google.co.uk/books?id=PNDXAAAAMAAJ&q

Ibn Ishaq, A. Guillaume (translator) (2002), The Life of Muhammad (Sirat Rasul Allah), Oxford University Press, ISBN 978-0-19-636033-1 pp. 461–464.

Adil, Muhammad: The Messenger of Islam, p. 395f.

William Muir (2003), The life of Mahomet, Kessinger Publishing, ISBN 9780766177413 p. 329 http://books.google.co.uk/books?id=QyIPouT4DqcC&printsec=frontcover

Kister (1990), Society and religion from Jāhiliyya to Islam, p. 54.
Al Tabari, Michael Fishbein (translator) (1997), Volume 8, Victory of Islam, State
University of New York Press, ISBN 9780791431504 pp. 35-36

http://books.google.co.uk/books?id=-ppPqzawIrIC&pg=PA201

http://books.google.com/books?id=sD8_ePcl1UoC&dq

Abu Dawud 14:2665 http://www.cmje.org/religious-texts/hadith/abudawud/014-sat.php#014.2665

Sahih Bukhari 4:52:280 http://www.cmje.org/religious-texts/hadith/bukhari/052-sbt.php#004.052.280

Muhammad Husayn Haykal, The Life of Muhammad, p. 338.

সুরা আল ইমরানের ৮৬ নং আয়াতে বলা আছে – ইসলাম গ্রহণের পরে যদি কেউ ইসলামকে অস্বীকার করে তবে তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে এবং সেই মোতাবেক ৬২৫ খ্রিস্টাব্দের মার্চ মাসে আল হারিথ বিন সুয়ায়েদ আল আনসারীর শিরচ্ছেদ করা হয়।

সহীহ বুখারী ৫.৫৯.৪৬২ ও সিরাত রাসুল আল্লাহ মোতাবেক, বানু মুসতালিক হামলার সময় হজরত মোহাম্মদের শিশুপত্নী আয়েশার বিরুদ্ধে মিথ্যে গুজব ছড়ানোর দায়ে ৬২৭ খ্রিস্টাব্দের ডিসেম্বর মাসে আব্দুল্লাহ বিন উবাইয়ের শিরচ্ছেদ করা হয়। তার শিরচ্ছেদ করলে তার পক্ষে অনেকে যুদ্ধে অবতীর্ণ হতে পারে এই ভয়ে মোহাম্মদ ভীত হয়ে এব্যাপারে হজরত উমরের সঙ্গে আলোচনাও করেছিলেন বলে জানা যায় এবং এই শিরচ্ছেদ জায়েজ করার জন্য কোরানের আয়াত নাযিল হয় !

সূত্রঃ

Mubarakpuri, The Sealed Nectar, p. 208-210. http://www.webcitation.org/60wabZqtW

Ibn Kathīr, Muhammad Saed Abdul-Rahman (2009), Tafsir Ibn Kathir Juz’ 18 (Part 18):
Al-Muminum 1 to Al-Furqan 20 2nd Edition, MSA Publication Limited, ISBN 9781861797223 p. 77.

http://books.google.co.uk/books?id=UXIMSE5E-soC&pg=PA77

Haykal, Hussain (1994), The Life of Mohammed, Islamic Book Trust, ISBN 978-8187746461 p. 354

http://books.google.co.uk/books?id=fOyO-TSo5nEC&printsec=frontcover

Tafsir Ibn Kathir (Volume 4), Volume 4 http://books.google.co.uk/books?id=bT8A7qQ-7ZoC&pg=PA490

Rahman, Muhammad Saed (2008), Tafsir Ibn Kathir Juz’ 10 (Part 10): Al-Anfal 41 To At-Tauba 92, MSA publication limited, ISBN 9781861795786 p. 221.

http://books.google.co.uk/books?id=9PL5jJ_ZOI0C&pg=PA221

সিরাত রাসুল আল্লাহ এবং তাবারী ভলিউম-৮ মোতাবেক, কাইস গোত্রকে যুদ্ধে প্ররোচিত করার দায়ে ৪ নারীকে আটক করা হয় এবং রিফাহ বিন কাইসের শিরচ্ছেদ করা হয়।

Mubarakpuri, The Sealed Nectar, p. 242 http://www.webcitation.org/60y5XJmQz

Ibn Hisham, Ibn Ishaq, Alfred Guillaume (translator), The life of Muhammad: a translation of Isḥāq’s Sīrat rasūl Allāh, pp. 671-672.

Al Tabari, Michael Fishbein (translator) (1997), Volume 8, Victory of Islam, State University of New York Press, ISBN 9780791431504 p. 151

http://books.google.com/books?id=sD8_ePcl1UoC&dq

আবু দাউদ ১৪.২৭৫৬ এবং তাবারী ভলিউম-১০ মোতাবেক, মুসাইলিমাকে নবী হিসেবে দাবী করার কারণে আব্দুল্লাহ ইবন মাসুদের দ্বারা মুসলিম গুপ্তচর ইবনে আন নাওয়াহ’র শিরচ্ছেদ করা হয়। উল্লেখ্য মোহাম্মদ একদা নাওয়াহকে বলেছিলেন – বাকী গুপ্তচরেরা মারা না গেলে তোমার আমি শিরচ্ছেদ করতাম।

Shaykh Safiur Rahman Al Mubarakpuri, Ismāʻīl ibn ʻUmar Ibn Kathīr, Ṣafī al-Raḥmān

Mubārakfūrī, Tafsir Ibn Kathir (Volume 4), Volume 4, p. 379. http://www.webcitation.org/619xF7mgV

Abu Dawud 14:2756 http://www.cmje.org/religious-texts/hadith/abudawud/014-sat.php#014.2756

Tabari, Al (1993), The conquest of Arabia, State University of New York Press, ISBN 978-0791410714 p. 107 http://books.google.co.uk/books?id=VA5Uke7IpHkC&pg=PA16

সিরাত রাসুল আল্লাহ মোতাবেক, তথাকথিত গুপ্তধনের সন্ধান বের করার জন্য কিনানা ইবন আল রাবীকে নির্যাতন করে অতঃপর তার শিরচ্ছেদ করা হয়।

Mubarakpuri (1996), The sealed nectar: biography of the Noble Prophet, p. 372.

Watt, W. Montgomery (1956). Muhammad at Medina. Oxford University Press. p. 218 (free online) http://www.archive.org/details/muhammadatmedina029655mbp

Ibn Hisham, Ibn Ishaq, Alfred Guillaume (translator). 1956. The life of Muhammad: a translation of Isḥāq’s Sīrat rasūl Allāh, pp. 145-146.

এছাড়াও আরো অজস্র হত্যাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন হজরত মোহাম্মদ বা সমর্থন করেছিলেন, তবে সেগুলোতে শিরচ্ছেদ শব্দটি স্পষ্টভাবে উল্লেখিত নেই বলে এখানে উল্লেখ করা হলো না। তবুও অনুসন্ধিৎসু মনের খোরাক মেটাতে লিংকটি দেওয়া হলো –

http://www.wikiislam.net/wiki/List_of_Killings_Ordered_or_Supported_by_Muhammad

তথাকথিত ইসলামী স্বর্ণযুগ আব্বাসী-বাগদাদী খলীফা আমলের ইসলামী শরীয়াহ আইন বিচারক/জুরি আল মাওয়ার্দি ( মৃত্যুসাল ১০৫৮ ) বলেছেন কোরান ও সুন্নাহর আলোকে বিচারব্যবস্থা কার্যকর করা হতো এবং আমির/শাসক ৪ ধরনের বিচারব্যবস্থা থেকে যে কোনটি পছন্দ করতে পারতেন – শিরোচ্ছেদকরণ, দাসত্ব, মুক্তিপণ দাবী এবং ক্ষমাপ্রদান।

http://islammonitor.org

৭১১-৭১৩ সালে ইবেরিয়ান টোলেডোর খ্রিষ্টানদের গণহারে শিরচ্ছেদ করা হয়।

মোঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা বাবুরের আত্মজীবনী বাবুরনামা থেকে পাওয়া যায় –

Those who were brought in alive [having surrendered] were ordered beheaded, after which a tower of skulls was erected in the camp.

শিরচ্ছেদ প্রথাটি কোথায় কোথায় এখনো প্রচলিত ?

প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে হাজার বছর ধরে তলোয়ার বা কুড়াল দিয়ে শিরচ্ছেদ করার নির্মম নৃশংসপন্থা প্রচলিত। শুধু আরব নয়, ইউরোপ এশিয়া এবং আফ্রিকাতেও গিলোটিন/বলি ইত্যাদির মাধ্যমে এই নিষ্ঠুর অমানবিক প্রথা কার্যকর হয়েছে। তবে পার্থক্য এটাই যে, বিংশ শতাব্দীর গোড়া থেকে এই অমানবিক শিরচ্ছেদ প্রথার বিরুদ্ধে উন্নত বিশ্বের জনগণ সোচ্চার হওয়া শুরু করে এবং বর্তমানে অনেক সভ্য রাষ্ট্রই এই প্রথাকে পরিত্যাগ করেছে এমনকি কতিপয় রাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ডকেও অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। যেখানে পশ্চিমা রাষ্ট্রে এই অমানবিক নির্মম নৃশংস প্রথার বিরুদ্ধে মানুষের চোখ খুলে গেছে, সেখানে মধ্যপ্রাচ্যের কতিপয় ইসলামিক রাষ্ট্রে এখনো অন্ধের মত প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে শুরু হওয়া এই আদিম-মধ্যযুগীয় বর্বর প্রথা আজো অনুসরণ করে যাচ্ছে। সৌদি আরব, ইয়েমেন, কাতার, ইরান, ইরাক এবং তালেবানী আফগানিস্তানে এই প্রথা ব্যাপকভাবে প্রচলিত ছিলো এবং আছে।

এছাড়াও আলজেরিয়া, নাইজেরিয়া, কাশ্মীর, চেচনিয়া, পাকিস্তান এবং দক্ষিণ ফিলিপাইনে শিরোচ্ছেদের কিছু ঘটনা নিকট অতীতে দেখা গেছে। ইরানের মোল্লারা কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের শিরোচ্ছেদকরণ করেছে। বৈরুতের সিআইএ স্টেশন চীফ উইলিয়াম বাকলিকে হিজবুল্লাহ গং অপহরণ করে ইরানে পাঠিয়ে দেয় এবং ১৯৮৬ সালে তার শিরচ্ছেদ করা হয়। পাকিস্তানে ২০০২ সালে নামকরা আমেরিকান সাংবাদিক ড্যানিয়েল পার্লের শিরচ্ছেদ করা হয়।

হত্যার বদলে হত্যা কি আদৌ অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ?

আরবী শব্দ কিসাসের অর্থ প্রতিশোধ। ইসলামিক শরীয়াহ আইনে চোখের বদলে চোখ, প্রাণের বদলে প্রাণ নেওয়ার প্রতিশোধমূলক আইন এই কিসাস। সুরা বাকারার ১৭৮ নং আয়াতে বলা আছে –

O you who believe, equivalence is the law decreed for you when dealing with murder – the free for the free, the slave for the slave, the female for the female. If one is pardoned by the victim’s kin, an appreciative response is in order, and an equitable compensation shall be paid.

উপরে উল্লেখিত সুরা মায়িদাহর ৪৫ নং আয়াতে একই বক্তব্য রয়েছে ।

প্রশ্ন হলো –

হত্যার বদলে হত্যা কতটুকু সমর্থনযোগ্য ?

হত্যার বদলে হত্যা হলে কি প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য পুনরায় হত্যা সংঘটিত হতে পারেনা ? উক্ত ৮ জন বাংলাদেশী হওয়ার কারণে এবং নিহত নিরাপত্তাকর্মীর আত্মীয়গণ মিসরে থাকার কারণে হয়তো বাংলাদেশিগণের পরিবার এর প্রতিশোধ নিতে পারবেনা, কিন্তু যদি বিষয়টি আরবের স্থানীয়দের মধ্যে হতো, তাহলে পুনরায় হত্যাকাণ্ড হতো না – এমনটি জোর গলায় বলা যায়না।

আর এভাবে পাল্টা খুনোখুনি হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে শান্তি কি আদৌ প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব ?

বাংলাদেশের যেই ৮ জনকে প্রহসনমূলক বিচারের নামে ঠাণ্ডা মাথায় হত্যা করা হলো, এর জন্য কি কিসাস আইন মোতাবেকই এই ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট বিচারক এবং সৌদি রাজপরিবারের সদস্য তথা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যক্তিবর্গদের শিরোচ্ছেদের মাধ্যমে হত্যা করা কেন জায়েজ হবে না ?

১ জন হত্যার কারণে ৮ জনকে হত্যা ১:৮ রেশিও কি আদৌ সমর্থনযোগ্য ?

অনেকে অপযুক্তি দেন – শিরোচ্ছেদের মাধ্যমে এরকম দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির কারণে মানুষ অপরাধ করতে ভয় পাবে। যদি তাই হয় – তাহলে কেন আগের বছরগুলোতে ২০০৭ সালে ১৫৮ জন (৭৬ বিদেশী) এবং ২০০৮ সালে ১০২ জনের (৪০ বিদেশী) শিরচ্ছেদ করতে হলো ? এই শিরোচ্ছেদের কারণে যদি অপরাধ কমানোই যেত তাহলে তো ২০০৭ সালের উদাহরণ দেখে ভয় পেয়ে মানুষ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হতো না এবং ২০০৮ সালে অন্তত ১০২ জনের শিরচ্ছেদ করতে হতো না ! সুতরাং এই ব্যক্তিদের অপযুক্তি একেবারেই ধোপে টেকেনা। দারিদ্রের কষাঘাত এমনই যে চরম আর্থিক দুরবস্থায় পড়লে এইসব শিরোচ্ছেদের ভয় মানুষ করেনা। আবার লোভে পড়লেও এসব শিরোচ্ছেদের ভয় মানুষ করেনা।

http://www.amnesty.org/en/news-and-updates/saudi-arabia-executes-eight-bangladeshi-nationals-2011-10-07

উক্ত রিপোর্টে দেখা যায় –

According to reports, the Egyptian man was killed during a clash between the Bangladeshi workers and a group of men who allegedly were stealing electric cable from a building complex where the Bangladeshis worked.

যার বাংলা অর্থ দাঁড়ায় – যে বিল্ডিংয়ে বাংলাদেশী শ্রমিকরা কাজ করতো সেই বিল্ডিং থেকে ইলেক্ট্রিক কেবল চুরি করার সময় বাংলাদেশী শ্রমিক এবং একদল লোকের সংঘর্ষে মিসরীয় ব্যক্তিটি মারা যায়। তাহলে বিষয়টি এমন হতে পারে যে –

১) বাংলাদেশী এবং অন্য গ্রুপ উভয়েই বৈদ্যুতিক তার চুরি করছিলো এবং ভাগবাটোয়ারার দ্বন্দ্বে মিসরীয় ব্যক্তিটিকে বেধে রাখা হয় এবং পরবর্তীতে সে মারা যায় ?
২) যেই বিল্ডিংয়ে বাংলাদেশীরা কাজ করতো সেই বিল্ডিং থেকে দিনেদুপুরে ফাঁকেফোঁকরে বৈদ্যুতিক তার চুরি করা কি কঠিন কোন কাজ ?

এখন প্রশ্ন দাঁড়ায় – এই বিচারকার্য এমন লুকোছাপা করে করা হলো কেন ? কেন আন্তর্জাতিক আইন মেনে বিবাদী পক্ষকে আত্মপক্ষ সমর্থন করার সুযোগ দেওয়া হলোনা, তাদের জন্য উকিলের ব্যবস্থা করা হলো না ? তাহলে এই বিচার কি প্রহসনমূলক নয় ? এমনেস্টির ভাষ্যমতে –

Court proceedings in Saudi Arabia fall far short of international standards for fair trial and news of these recent multiple executions is deeply disturbing,” said Hassiba Hadj Sahraoui, Amnesty International’s Deputy Director for Middle East and North Africa.

আরো একটি বিষয় এমনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল স্পষ্ট করে তোলে – সেটি হলো – শিরোচ্ছেদকৃত অধিকাংশ ব্যক্তিই হয় দরিদ্র বিদেশী কিংবা স্থানীয় এবং তাদের গোত্রপ্রধান বা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্ক নেই।

They, and many of the Saudi Arabians who are executed, also have no access to influential figures such as government authorities or heads of tribes, nor to money, both crucial factors in paying blood money or securing a pardon in murder cases.

তবে তাই বলে বাংলাদেশীরা যে ধোঁয়া তুলশীপাতা, তাও নয়। মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের একটি বড় অংশের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত অভাবী মুসলিম বাংলাদেশীরা জড়িত। এরা মনে মনে প্রচণ্ড ধর্মপাগল কিন্তু কাজেকর্মে কোথাও ধর্মান্ধ আবার কোথাও কোথাও ইসলামবিরোধী। এদের সাংস্কৃতিক মান অত্যন্ত নিম্নমানের, তারা বিভিন্ন যৌনঅপরাধমূলক কর্মকাণ্ড এমনকি সমকামিতার সঙ্গে জড়িত। এরা ভয়ংকরভাবে গালিবাজ প্রকৃতির, নামাজ কালাম পড়ে আবার সারারাত বসে বসে গালিও দেয় বিভিন্ন ম্যাসেঞ্জার/চ্যাটে। ইয়াহু ম্যাসেঞ্জারে যারা বাংলাদেশ রুমগুলোতে ঢোকেন, তারা নিশ্চয়ই জানেন সৌদি আরবের বাংলাদেশী শ্রমিক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আসল চরিত্র ! উপরের চিত্রে দেখুন – যাদের শিরশ্ছেদকরণের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে, তাদের ৪ জন কিন্তু দাড়িওয়ালা যা থেকে তারা বেশ ভালভাবেই যে মুসলিম, তা বোঝা যায়। আবার এরাই কিন্তু ডাকাতি করতে যায়। বাংলাদেশী শ্রমিক এবং সৌদি স্থানীয়দের অপরাধের ধরন কিন্তু একরকম নয়। দেখা যায়, বাঙালি শ্রমিকদের বেশিরভাগ অপরাধ অর্থসংশ্লিষ্ট, যদিও ধর্ষণ/যৌন অপরাধও কিছু রয়েছে, কিন্তু সৌদি স্থানীয় নাগরিকদের অপরাধের বেশিরভাগই যৌন ও মদ্যপানজনিত অপরাধ, তারা অত্যন্ত কামুক ও যৌনবিকৃত ও মদারু প্রকৃতির। তবে নারী/যৌনঘটিত অপরাধগুলো ধর্ষিতা অনেক নারীই পুরুষতান্ত্রিক এবং চরম রক্ষণশীল সৌদি সমাজের কারণে স্বীকার করেনা, ফলে সৌদিদের যৌনবিকৃত অপরাধগুলো অতটা রিপোর্টেড হয়না কিন্তু অর্থসংশ্লিষ্ট অপরাধগুলোতে সামাজিক মানসম্মান নষ্টের কোন বিষয় নেই বলে সেগুলো সাথে সাথেই রিপোর্টেড হয় এবং দেখা যায়, তাতে বাংলাদেশীদের সংশ্লিষ্টতা কম নয়।

তবে যেটাই হোক, মৃত্যুদণ্ড চরম অমানবিক প্রথা যার মধ্যে শিরচ্ছেদ দেখতে সবচেয়ে নির্মম নৃশংস বর্বর এবং অমানবিক এবং মৃত্যুদণ্ড প্রথা রহিত হওয়া উচিত।

উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে ৪ শ্রীলংকানের শুধু শিরোচ্ছেদই করা হয়নি বরং তাদের ক্রুসিফিকেশন করে পাবলিক ডিসপ্লের জন্য উন্মুক্ত করা দেওয়া হয়েছিলো। তাতেও কি অপরাধ কমেছে ? ২০০৮ সালের পরিসংখ্যান কি তাই বলে ?

http://www.bbc.co.uk/sinhala/news/story/2007/02/070223_saudi_hrw.shtml

সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবে শিরশ্ছেদ নিয়ে একাধিক দেশের সঙ্গে দেশটির কূটনৈতিক টানাপড়েনও দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে গত জুন মাসে সৌদি আরবে ইন্দোনেশীয় এক নারী কর্মীর শিরশ্ছেদ কার্যকর হওয়ার পর জাকার্তায় সৌদি দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ হয়েছে। এরপর ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট সুসিলো বাবমাং ইয়োদোনো রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ভাষণ দিয়ে তাঁর দেশ থেকে সৌদিতে আপাতত আর কোনো কর্মী না পাঠানোর ঘোষণা দেন। শিরশ্ছেদের শিকার হওয়া ইন্দোনেশীয় নারী কর্মী রুয়াতি বিনতে সাতুবি সৌদি আরবের আদালতে তাঁকে নিয়োগকারী গৃহকর্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করে বলেন, প্রায়ই নির্যাতনের শিকার হলেও সে দেশে তাঁর অভিযোগ জানানোর ও প্রতিকার পাওয়ার উপায় ছিল না। শেষে বাধ্য হয়েই হত্যার মাধ্যমে তিনি তাঁর ওপর দৈনন্দিন নির্যাতন থেকে মুক্তির পথ খুঁজেছিলেন। কিন্তু আদালত এই পটভূমিকে গুরুত্ব না দিয়ে হত্যার বিষয়টিকেই কেবল প্রাধান্য দিয়েছেন।

কূটনৈতিক সূত্র বলেছে, বাংলাদেশের মতো ইন্দোনেশিয়ার সরকারও রুয়াতি বিনতে সাতুবির প্রাণভিক্ষার আবেদন করেছিল। কিন্তু সৌদি সরকার সে আবেদনে কর্ণপাত না করে সাতুবির শিরশ্ছেদ করে। এরপর ইন্দোনেশিয়ার সরকার সৌদি আরবে আপাতত আর কোনো কর্মী না পাঠানোর ঘোষণা দিয়ে এ বার্তাই দিয়েছে যে আরবের এ দেশটি বিদেশিদের সঙ্গে এমন বর্বর আচরণ করতে পারে না।

সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্যঃ

তলোয়ার কি শান্তির প্রতীক ? একটি দেশের পতাকায় তলোয়ারের প্রদর্শন কি শান্তির পরিচয় বহন করে ?

আল্লাহ তাআলা বলেনঃ


قال الله تعالى: ( إِنَّمَا جَزَاءُ الَّذِينَ يُحَارِبُونَ اللَّهَ
وَرَسُولَهُ وَيَسْعَوْنَ فِي الأَرْضِ فَسَادًا أَنْ يُقَتَّلُوا أَوْ يُصَلَّبُوا أَوْ تُقَطَّعَ أَيْدِيهِمْ وَأَرْجُلُهُمْ مِنْ خِلافٍ أَوْ يُنْفَوْا مِنَ الأَرْضِ ذَ?لِكَ لَهُمْ خِزْيٌ فِي الدُّنْيَا وَلَهُمْ فِي الآخِرَةِ عَذَابٌ عَظِيمٌ

যারা আল্লাহ্ ও তার রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং দেশে দাঙ্গাফাসাদ সৃষ্টি করতে সচেষ্ট হয়, তাদের শাস্তি হচ্ছে এই যে, তাদেরকে হত্যা করা হবে অথবা শূলে চড়ানো হবে অথবা তাদের হাত-পাসমূহ বিপরীত দিক থেকে কেটে ফেলা হবে অথবা দেশ থেকে নির্বাসিত করা হবে। এটি হল তাদের জন্যে পার্থিব লাঞ্ছনা আর পরকালে তাদের জন্যে রয়েছে কঠোর শাস্তি। (সূরা মায়েদাঃ ৩৩)

নিম্নলিখিত প্রত্যেকেই যথাক্রমে ১) মামুন আব্দুল মান্নান, ২) আব্দুস সালাম কফীলউদ্দিন, ৩) ফারুক জামাল হোসাইন, ৪) সুমন মিয়া মিলন মিয়া, ৫) মুহাম্মাদ সুমন আব্দুল হাই, ৬) শফীকুল ইসলাম ফুওয়াজ মিয়া, ৭) মাসউদ শামছুল ইসলাম হক, ৮) মাসউদ রানা আব্দুল মুতালেব, ৯) আলমগীর হোসাইন আব্দুল হামীদ, ১০) আবুল হোসাইন বিশ্বাস, ১১) মতীউর রাহমান শহীদ খান – বাংলাদেশী। তারা একটি গুদামে সশস্ত্র অবস্থায় ডাকাতি করতে আসে, সেখান থেকে চুরি এবং তার মিসরীয় নিরাপত্তারক্ষী হোসাইন আল-সাঈদ আব্দুল খালেককে হত্যা করতে উদ্যত হয়

আল্লাহর অসীম কৃপায় নিরাপত্তাকর্মিগণ উপরোল্লেখিত অপরাধীদেরকে ধরতে সক্ষম হন। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আরোপের ভিত্তিতে তদন্ত করে অপরাধের সাথে তাদের জড়িত থাকার বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে বের হয়ে আসায় এবং তাদের বিষয়টি আদালতে উত্থাপনের মাধ্যমে তা প্রমাণিত হওয়ার পর তাদের ব্যাপারে ইসলামী শরীয়তের ফয়সালা প্রদান করা হয়। সংঘবদ্ধ অবস্থায় পরিকল্পিতভাবে চুরি, নিরাপত্তা বেষ্টনী লংঘন, নিরাপত্তারক্ষীর উপর আক্রমণ, বৈদ্যুতিক তার চুরি, দারোয়ানকে বেঁধে ফেলে রাখা, (যা তার মৃত্যুর কারণ) এই কাজগুলো তাদের ভয়াবহ অপরাধ প্রবণতা এবং ইসলামী শরীয়ত কর্তৃক জান ও মালের উপর আক্রমণ নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও তার প্রতি কোন প্রকার পরোয়া না করার প্রমাণ বহন করে। আরও উল্লেখ্য যে, ইসলামী শরীয়ত মানুষের জান ও মালের হেফাজতের উপর বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেছে। এ ধরণের সংঘবদ্ধ অপরাধী দল সমাজে থাকলে কিভাবে মানুষ তাদের সম্পদের নিরাপত্তা পাবে?

উপরে বর্ণিত ২ নং আসামী আব্দুস সালাম, ৮ নং আসামী মাসউদ রানা এবং ৯ নং আসামী আলমগীর চুরিকৃত সম্পদ লুকিয়ে রাখার স্থান, পর্যবেক্ষণ এবং বাকী আসামীদের ধরিয়ে দিতে সহযোগিতা করার কারণে এবং এ ব্যাপারে তাদের তিন জনের প্রত্যেকের ভূমিকার প্রতি দৃষ্টি দিলে তাদের অপরাধের তারতম্য ও শাস্তির ভিন্নতার দাবী রাখে।

শাস্তি হিসোবে উপরোক্ত আসামীদের প্রত্যেক যথাক্রমেঃ ১) মামুন আব্দুল মান্নান, ৩) ফারুক জামাল হোসাইন, ৪) সুমন মিয়া মিলন মিয়া, ৫) মুহাম্মাদ সুমন আব্দুল হাই, ৬) শফীকুল ইসলাম ফুওয়াজ মিয়া, ৭) মাসউদ শামছুল ইসলাম হক ১০) আবুল হোসাইন বিশ্বাস এবং ১১) মতীউর রাহমান শহীদ খানের শিরোচ্ছেদের মাধ্যমে হত্যা করার নির্দেশ দেয়া হল।
আর বাকী অপরাধীদেরকে বিভিন্ন মেয়াদের জেল ও বিভিন্ন সংখ্যায় বেত্রাঘাত করার রায় প্রদান করা হল।

উক্ত রায় বাতিল করার জন্য সংশ্লিষ্ট আদালত এবং সৌদির সর্বোচ্চ আদালত কর্তৃক রায় সত্যায়ন করা হয়েছে এবং শরীয়ত নির্ধারিত এক মহান রায় প্রদান করা হল।

শাস্তি হিসাবে বাংলাদেশী মামুন আব্দুল মান্নান, ফারুক জামাল হোসাইন, সুমন মিয়া মিলন মিয়া, মুহাম্মাদ সুমন আব্দুল হাই, শফীকুল ইসলাম ফুওয়াজ মিয়া, মাসউদ শামছুল ইসলাম হক, আবুল হোসাইন বিশ্বাস এবং মতীউর রাহমান শহীদ খান কে শিরোচ্ছেদের মাধ্যমে হত্যার রায় কার্যকর করা হল।

শুক্রবার, ৯ / ১১ / ১৪৩২ হিজরী রিয়াদ, সৌদি আরব।

সেই সাথে সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় সকলের অবগতির জন্যে জোর দিয়ে হারামাইন শরীফাইনের খাদেমের সরকার কর্তৃক নিরাপত্তা, ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার স্বার্থে নিরাপত্তাকামী মানুষের উপর আক্রমণ কারী এবং হত্যাকারী প্রত্যেক ব্যক্তির উপর আল্লাহর হুকুম বাস্তবায়ন করার প্রতি সুদৃঢ় ইচ্ছার কথা ঘোষণা করছে। একই সময় আরও সতর্ক করছে যে, যারাই এ ধরণের অপরাধের দিকে অগ্রসর হবে, ইসলামী শরীয়তের নির্ধারিত শাস্তিই হবে তার পরিণাম।
আল্লাহই একমাত্র সঠিক পথের সন্ধান দাতা।

রায়ের লিংকঃ http://almualem.net/saboora/showthread.php?p=302478

এহেন বিবৃতি থেকে নিম্নোক্ত বিষয়সমূহ সুস্পষ্ট হয় –

১) সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ইচ্ছাতেই এই ৮ বাংলাদেশীর হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় কেননা এটি যদি মিসরীয় নিহত ব্যক্তির আত্মীয়স্বজনের ইচ্ছেতে হতো তবে ৮ বাংলাদেশীর পাশাপাশি বাকী ৩ বাংলাদেশী অর্থাৎ সর্বমোট ১১ জনেরই শিরচ্ছেদ করা হতো ।

২) সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় একেবারে শেষে নিজেই স্বীকারোক্তি দিয়ে ফেলেছে যে – ” যারাই এ ধরনের অপরাধের দিকে অগ্রসর হবে, ইসলামী শরীয়তের নির্ধারিত শাস্তিই হবে তাদের পরিণাম।” অর্থাৎ, ইচ্ছেটা আসলে মিসরীয় ব্যক্তির আত্মীয়স্বজনের চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েরই বেশি।

৩) এমনেস্টি বলছে – বাংলাদেশীরা উক্ত বিল্ডিংয়ে কাজ করতো কিন্তু সৌদি মন্ত্রণালয় বলছে – এটি ছিলো গুদামঘর। তাহলে কোনটি সত্যি ?

৪) এমনেস্টি বলছে – বাংলাদেশী এবং একদল লোকের সংঘর্ষে উক্ত মিসরীয় ব্যক্তি (উক্ত দলের একজন) মিসরীয় ব্যক্তিটি মারা যায় কিন্তু সৌদি মন্ত্রণালয় বলছে – উক্ত ব্যক্তি নিরাপত্তারক্ষী ছিলো । তাহলে কোনটি সত্যি ?

৫) “দারোয়ানকে বেঁধে ফেলে রাখা, (যা তার মৃত্যুর কারণ)” এই বিবৃতি থেকে সুস্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে, তাদের চুরির কাজে যাতে বাঁধা দিতে না পারে (যদিও এটিও প্রমাণিত নয়), সেজন্য তারা মিশরীয় দারোয়ানকে বেঁধে ফেলে রাখে এবং এর ফলে তার মৃত্যু হয়। তার মানে হচ্ছে, হত্যা করার উদ্দেশ্যে তারা তাকে আক্রমণ করেনি এবং খবরে জানা গেছে, উক্ত দারোয়ানের মৃত্যু হয়েছিল ঘটনার পরের দিন। সুতরাং, বেধে রাখার কারণে যদি মৃত্যু হয় (যেটি বিশ্বাস করা কঠিন), তাহলে এই বেধে রাখাজনিত মৃত্যু কি দুর্ঘটনার আওতায় পড়েনা ? এবং দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর বিচার কি ৮ ব্যক্তির শিরচ্ছেদ কখনো হতে পারে ?

৬) ইসলামী শরীয়াহ আইনে রাজসাক্ষী হওয়ার কোন বিধান নেই এবং একই অপরাধে সহযোগিতার জন্য সেই রাজসাক্ষীদের মৃত্যুদণ্ড মওকুফ হওয়ার কোন সুযোগ নেই। তাহলে কেন ৩ ব্যক্তির শাস্তি মওকুফ করে দেওয়া হলো ? মওকুফ করার পেছনে রহস্য কি ? আর সেই ৩ ব্যক্তির শাস্তি মওকুফ করায় মিসরীয় ব্যক্তির আত্মীয়স্বজনেরা তা মেনে নিলো যেখানে সৌদি সরকারের ভাষ্যমতে তারা ৮ জনকে ক্ষমা প্রদানে রাজি ছিলো না?

৭) ইসলামী শরিয়া আইন প্রযোজ্য শুধুমাত্র প্রকৃত ইসলামী খিলাফত রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে এবং এর প্রয়োগের এখতিয়ার হচ্ছে একমাত্র জনগণ-মনোনীত খলিফার। সৌদি আরব কি প্রকৃত ইসলামী খিলাফত রাষ্ট্র ? এর বাদশা কি জনগণের মনোনীত খলিফা ? কিসাস প্রয়োগ করে মানুষের জান নিয়ে নেওয়ার কোন এখতিয়ার কি তাঁর আদৌ আছে? একজন অবৈধ শাসক কীভাবে বৈধ আইন প্রয়োগ করতে পারে?

৮) সৌদি আরবে সাম্প্রতিক সময়ে শিরশ্ছেদের শিকার হওয়া বিদেশিদের বেশির ভাগই দরিদ্র ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর অভিবাসী কর্মী। অভিযুক্তরা প্রায় ক্ষেত্রেই তাঁদের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ করতে পারেন না। এমনকি আদালতে আরবি ভাষার শুনানিও তাঁরা বুঝতে পারেন না। খুব কম ক্ষেত্রেই অভিযুক্ত ব্যক্তির পক্ষের আইনজীবীকে সশরীরে উপস্থিতির সুযোগ দেওয়া হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বিচারপ্রক্রিয়ার অগ্রগতি সম্পর্কে অভিযুক্তদের জানানো হয় না। তাহলে কি বিচারপ্রক্রিয়া আদৌ নিরপেক্ষ ও যথার্থ হয়েছে?

মেলেনা, কিছুই মেলেনা। সৌদি মন্ত্রণালয়ের অনেক বক্তব্যই চরম অসঙ্গতিপূর্ণ এবং বিভ্রান্তিকর। বেঁধে রাখার কারণে মৃত্যু একেবারেই ব্লাফ বলে মনে হচ্ছে।

শিরোচ্ছেদকরণ ও অপরাধ-দুর্নীতির পারস্পরিক তুলনাচিত্র

ইসলামী মানবতার দেশ সৌদি আরবের অমানবিক বিচারব্যবস্থা সম্পর্কে এমনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের বক্তব্য –

Defendants often have no defence lawyer and are unable to follow court proceedings in Arabic. They are also rarely allowed formal representation by a lawyer, and in many cases are not informed of the progress of legal proceedings against them. They and many of the Saudi Arabians who are executed, also have no access to influential figures such as government authorities or heads of tribes, nor to money, both crucial factors in paying blood money or securing a pardon in murder cases.

এমনেস্টি ইণ্টারন্যাশনালের সূত্রমতে পৃথিবীর ১৩৯টি দেশে মৃত্যুদণ্ড নিষিদ্ধ এবং ২০১০ সালে মাত্র ২৩টি দেশে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে।

According to Amnesty International, 139 countries have abolished the death penalty. In 2010, only one country, Gabon, abolished the death penalty for all crimes. During 2010, 23 countries executed 527 prisoners and at least 2,024 people were sentenced to death in 67 countries. More than 17,833 people are currently under sentence of death around the world. See also U.S. Figures.

সূত্রঃ http://www.infoplease.com/ipa/A0777460.html

দেখা যায়, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের রিপোর্টে সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত শীর্ষ ১০টি রাষ্ট্রের ৯টি রাষ্ট্রেই ডেথ পেনাল্টি নিষিদ্ধ – ডেনমার্ক, নিউজিল্যান্ড, ফিনল্যান্ড, সুইডেন, কানাডা, নেদারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে। ডেথ পেনাল্টি নিষিদ্ধ হওয়ার কারণে কি এসব দেশে মানুষের মত অপরাধ ও দুর্নীতি করার সাহস বেড়ে গেছে ? তারা কি আইনভঙ্গ করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হচ্ছে ? এসব অনেক দেশেই এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের অজস্র মানুষ পারমানেন্ট রেসিডেন্সির জন্য আবেদন করে, কেননা এসব দেশে অপরাধ, হত্যা, সন্ত্রাস, দুর্নীতি অত্যন্ত কম।

আবার ডেথ পেনাল্টি যেসকল দেশে কার্যকর, সেসকল দেশ ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের দুর্নীতি সূচকে শীর্ষস্থানে অবস্থান করছে। শীর্ষ ১০ দুর্নীতিগ্রস্ত রাষ্ট্রের মধ্যে সোমালিয়া, আফগানিস্তান, ইরাক, সুদান, চাদ, ইকোয়েটারিয়াল গিনিতে ডেথ পেনাল্টি বলবত আছে, উজবেকিস্তান এবং তুর্কমেনিস্তানে সম্প্রতি এটি ব্যান করা হয়েছে, মায়ানমারে শুধু নামকাওয়াস্তে ডি-ফ্যাক্টো ব্যান রয়েছে।

সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় সৌদি আরব ১ম নয় বরং ৫০ তম স্থানে রয়েছে, উল্লেখ্য, সৌদি আরবের অতি রক্ষণশীলতার কারণে যৌনঘটিত/নারীঘটিত অনেক অপরাধই লুক্কায়িত থেকে যায় তাই সঠিক ফলাফল আসেনা, উপরন্তু এই রকম কঠোর রক্ষনশীলতায় ট্রান্সপারেন্সি ইণ্টারন্যাশনালের লোকজনও সাচ্ছন্দে ডাটা কালেক্ট করতে পারেনা। শিরচ্ছেদ প্রচলিত আরো তিনটি দেশ ইরান ইয়েমেন এবং ইরাক সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে যথাক্রমে ১৪৬,১৪৬ এবং ১৭৫তম (৩য় সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত) ।

তাহলে ডেথ পেনাল্টি দিয়েও দেখা যাচ্ছে আইন শৃঙ্খলার উন্নতি ঘটেনি, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড হ্রাস পায়নি।
তাই যারা বলেন – ডেথ পেনাল্টি দিয়ে মানুষকে অপরাধমূলক কর্মকান্ড থেকে নিবৃত্ত করবেন, তারা সেটা তাদের বাস্তবতাবিবর্জিত অজ্ঞতা থেকেই বলেন।

সূত্রঃ http://www.transparency.org/policy_research/surveys_indices/cpi/2010/results

সৌদি আরবের সঙ্গে কেউ কেউ বাংলাদেশের অপরাধের মাত্রার তুলনা করে থাকেন। অভাবে স্বভাব নষ্ট – এই আপ্তবাক্যই অনেকাংশে বাংলাদেশে সৌদি আরবের চেয়ে অপরাধের মাত্রা বেশি হওয়ার কারণ। সামান্য বৈদ্যুতিক তার চুরি করা থেকেই এই “অভাবে স্বভাব নষ্টের” চরম বাস্তবিক প্রমাণ পাওয়া যায়। তেল দিয়ে অর্জিত অর্থ না থাকলে আজকে সৌদি আরবীয় জনগণও ব্যাপক দুর্নীতি করতো ।

তবে এটাও আমরা ভুলে যাই কেন যে – সৌদি আরবের জনগণ যেমন মুসলিম, ইরাক-ইরান-ইয়েমেনের জনগণ যেমন মুসলিম তেমনি বাংলাদেশ-পাকিস্তানের জনগণও মুসলিম। সুতরাং, মুসলিম জনসংখ্যা অধ্যুষিত রাষ্ট্রেই অপরাধ বেশি এবং শিরচ্ছেদ করে যে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয় তা ইরাক ইরান ইয়েমেন থেকেই সুস্পষ্ট। যারা সৌদি আরব প্রীতি দেখাচ্ছেন এবং বাংলাদেশের দোষ ধরছেন, তাদের এটা জানা উচিত বাংলাদেশের এই অপকর্মকারী ব্যক্তিরাও মুসলিম, ইহুদী নন।

৮ বাংলাদেশীকে শিরোচ্ছেদকরণ থেকে বাচাতে বাংলাদেশ সরকার কি আসলেই কিছু করতে পারতো ?

বাংলাদেশ একটি দরিদ্র রাষ্ট্র যেখানে তার ২০ লাখ দরিদ্র শ্রমিকের কারণে সৌদি আরবের কাছে অলিখিতভাবে একপ্রকার দায়বদ্ধ হয়েই থাকতে হয়। উপরন্তু সৌদি আরবে এই ২০ লাখ বাংলাদেশী শ্রমিককুলের ভাবমূর্তিও বিশেষ ভালো নয়। আর্থিকভাবে দরিদ্র ও সামরিকভাবে দুর্বল একটি রাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বা মন্ত্রনালয়ে যতই শক্তিশালী ব্যক্তিত্ব থাক না কেন, দারিদ্র ও দুর্বলতার কারণে সকল প্রচেষ্টাই ব্যর্থ হয়ে যায়। বাংলাদেশ যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মত শক্তিশালী দেশ হতো, তাহলে এটি হতে পারতো না। যেহেতু তা নয়, সেহেতু প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধেও কোন কাজ হতো না। খালেদা জিয়া এত ঘনঘন সৌদি আরবে যান, তিনি কি পারতেন তাদের বাচাতে ?

এদেশের বিএনপি-জামাতপন্থী কতিপয় গোঁড়া মুসলিম এই বিষয়ে সৌদি আরব এবং বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের খুনীদের পক্ষে সাফাই গাইতে শুরু করে দিয়েছে । একদিকে তারা বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের খুনীদের ফাঁসির বিপক্ষে ধোঁয়া তুলছে এই বলে যে সৌদি সরকারের মত বাংলাদেশ সরকারও মৃত্যুদণ্ড দিয়ে অন্যায় করেছে। অপরদিকে সরকার এই বাংলাদেশীদের দণ্ড মওকুফের জন্য কোন ব্যবস্থা নিলোনা – এই মিথ্যে অপপ্রচারটি চালিয়ে যাচ্ছে। অর্থাৎ, পরস্পর বিপরীতমুখী বা কন্ট্রাডিক্টরি দুই দিকে তাদের অবস্থান এবং দুই দিক থেকেই তারা সরকারকে ঘায়েল করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। এই যে একটি অমানবিক ঘটনা ঘটলো, সেদিকে তাদের কোন মর্মযাতনা বা সমবেদনার লেশমাত্র নেই কিন্তু বিষয়টির রাজনীতিকরণ করে সেটার রাজনৈতিক ফায়দা লোটার দিকেই তাদের যত মনোযোগ !

আমি বঙ্গবন্ধুকে মনে প্রাণে শ্রদ্ধা করি তবে মনে করি, বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিচার মৃত্যুদণ্ড না হয়ে সারাজীবন কারাবাস হওয়াটাই যুক্তিযুক্ত। কেননা, মৃত্যুদণ্ড কোন সমাধান নয়, তাদেরকে মৃত্যুদণ্ড দিলে কি বঙ্গবন্ধু ফিরে আসবেন ? একজন মানুষকে হত্যা করার ক্ষমতা কারো নেই এবং থাকতে পারেনা, সাধারণ জনগণ এবং বিচারক – উভয়ের ক্ষেত্রে এই কথা সমভাবে প্রযোজ্য।

সরকার কি আসলেই এই ৮ বাংলাদেশীদের বাচানোর জন্য উদ্যোগ নেয়নি ? আসুন জানা যাক –

নিজস্ব প্রতিবেদক
বার্তা২৪ ডটনেট

ঢাকা, ৮ অক্টোবর: সৌদি আরবে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে শিরচ্ছেদ করা আট বাংলাদেশীকে বাঁচাতে রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান সৌদি বাদশাহ’র কাছে অনুরোধ করেন। নিহতদের আত্মীয়স্বজনদেরকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ব্লাড মানি দেয়ার প্রস্তাবও দেয়া হয়েছে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে। তবে দণ্ড মওকুফের ক্ষমতা শুধু নিহতের আত্মীয়স্বজনদের হাতে থাকায় কোনো আবেদন-নিবেদনই কাজে আসেনি।

সূত্রঃ www.barta24.net

এই লিংকটি থেকে দেখা যায় ৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়নি বরং বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে ! তাহলে বিচারটা কি আসলেই যথাযথভাবে হয়েছে ? কেননা যদি হত্যার বদলে হত্যা হয়ে থাকে তাহলে ১১ জনকেই মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে, কেন বাকি ৩ জনকে দেওয়া হলোনা ? আর যুক্তি ও মানবতার প্রেক্ষাপট থেকে এর জন্য অপরাধীদের বিভিন্ন মেয়াদে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া উচিত ছিলো কেননা নিরাপত্তারক্ষীকে মেরে ফেলার অভিপ্রায় এদের ছিলোনা, এজন্যই নিরাপত্তারক্ষী ঐদিন তাৎক্ষণিক মারা যায়নি বরং পরবর্তী দিন মারা যায়। দেখুন –

আসামিদের স্বীকারোক্তি ও পারিপার্শ্বিক ঘটনাবলি বিচার করে আসামিদের বিরুদ্ধে ডাকাতি, নরহত্যা এবং জমিনে দাঙ্গা-ফ্যাসাদ সৃষ্টির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারকি আদালত এই আটজনকে মৃত্যদণ্ড এবং তিন জনকে বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড ও বেত্রাঘাতের দণ্ড দেন।

বিদেশে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদেরও ফিরিয়ে আনার নজির

ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান সরকার গত বছর সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ‘রক্তমূল্য’ দিয়ে ছয় বাংলাদেশিকে ফিরিয়ে এনেছে। শারজায় এক পাকিস্তানিকে হত্যার দায়ে তাঁদের মৃত্যুদণ্ডাদেশ হওয়ার পর স্থানীয় সংসদ সদস্য সংযুক্ত আরব আমিরাতে গিয়ে সরকার ও সংশ্লিষ্ট আদালতের সঙ্গে আলোচনা করেন। পরে আইন অনুযায়ী নিহত ব্যক্তির পরিবারকে আদালত নির্ধারিত এক কোটি টাকা রক্তমূল্য দেওয়ার পর ওই ছয় বাংলাদেশি মুক্তি পেয়ে দেশে ফিরে আসেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুদান হিসেবে তাঁদের এক কোটি টাকা দিয়েছিলেন।

জানা গেছে, সৌদি আরবেও কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে বাংলাদেশিদের দণ্ড হ্রাস করার নজির আছে। গত শতকের আশির দশকে সৌদি আরবে এক অপরাধের জন্য হাত কাটার অবস্থা হয়েছিল বাংলাদেশি এক শিল্পপতির (বর্তমানে প্রয়াত)। পরে বাংলাদেশ সরকারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় সৌদি সরকার তাঁর হাতের বদলে শাস্তি হিসেবে আঙুল কেটে দেয়। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলেছে, দেশ ও অপরাধভেদে শাস্তির মাত্রাও ভিন্ন। তাই নাগরিকদের অপরাধের দণ্ড মওকুফ বা কমানোর প্রচেষ্টা সব সময় সফল হয় না।

কেন এই ইসলামিক কায়দায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা ?

সময় বদলেছে, সময়ের প্রবাহের সাথে সাথে সভ্যতার প্রসার-বিস্তার ঘটেছে কিন্তু এই অমানবিক প্রথার কোন পরিবর্তন বা সংস্কার সাধন ঘটেনি ইসলামিক বিশ্বে। কেননা ইসলাম সংস্কারে বিশ্বাস করেনা, ইসলাম বিশ্বাস করে মৌলবাদ এবং প্রথাকে অন্ধভাবে আঁকড়ে ধরে থাকতে। যেখানে ফাঁসি আছে, বুলেট আছে, হিপনোটিক ইঞ্জেকশন আছে সেখানে এইরকম রক্তলোলুপ নৃশংস হত্যাযজ্ঞের প্রয়োজন কিসের ? ৭ম শতাব্দীতে নাহয় বিভিন্ন উন্নত পন্থা ছিলোনা, নাহয় সেসময়ে তলোয়ার,কুড়াল ও ছুরি ব্যতীত অন্য পন্থা ছিলোনা কিন্তু বর্তমানে তো আছে। তাও কেন সেই আদিম-মধ্যযুগীয় পন্থার অন্ধ অনুকরণ ? এর কারণ – প্রকৃত মুসলিম মানেই মৌলবাদী অর্থাৎ ইসলামের মৌলিক/গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে অন্ধের মত অনুকরণ। তাই প্রকৃতপক্ষে সৌদি আরব, আফগানিস্তান, ইরাক, ইরান, পাকিস্তানীরাই প্রকৃত ইসলামিক রাষ্ট্র এবং বাংলাদেশ, ভারত, ইন্দোনেশিয়া ইত্যাদি রাষ্ট্রের মুসলিমেরা প্রকৃত মুসলিম নয়। বাংলাদেশীরা মঙ্গোলয়েড ককেশয়েড এবং দ্রাবিড়ের সংমিশ্রণ। শাড়ি পড়া, কপালে টিপ দেওয়া, লুঙ্গি পড়া, ফুল দেওয়া, পূজাপার্বণে যাওয়া, বাংলা নববর্ষ উদযাপন – এগুলোর কোনটিই ইসলামিক সংস্কৃতির অংশ নয় বরং ধর্মনিরপেক্ষ বাঙ্গালি/ভারতীয় সংস্কৃতির অংশ। তাই সেই বিচারে বাংলাদেশীরা সুস্পষ্টভাবেই প্রকৃত মুসলিম নয়, যদিও নিজেকে সকলেই প্রকৃত বলে মনে করে।

ধর্মের ২টি মূল স্তম্ভ রয়েছে যার উপর দাঁড়িয়ে ধর্ম আজ পর্যন্ত মানুষকে বোকা বানিয়ে চলেছে, সেদুটি হলো – ক) ভয়ভীতি ২) লোভলালসা। ভয়ভীতি থেকে মানুষ ধর্মীয় আচারাদি পালনে রত হয়। আবার তথাকথিত জান্নাত প্রাপ্তির লোভে মানুষ এসকল আচারাদি আরো বেশি করে পালনে তৎপর থাকে। তাই বিভিন্ন নতুন পন্থা থাকলেও তারা ইসলামী পন্থাকে অন্ধভাবে অনুসরণ করে। এর একটি চমৎকার বাস্তবিক উদাহরণ হলো – আমাদের দেশের ছাত্রশিবিরের গুন্ডারা বুলেট ব্যবহার না করে ছুরি ব্লেড কিরীচ ইত্যাদি দিয়ে হাত/পা/হাত-পায়ের রগ কেটে দেয়। তারা সকল কিছুই কোরান ও হাদীসের আলোকে সম্পন্ন করতে চায়। তাই আমাদের দেশের সাধারণ মুসলিমেরা প্রকৃতপক্ষে প্রকৃত মুসলিম নয়, কেননা তারা অনেক ক্ষেত্রেই ইসলামিক আইনকানুনের খেলাফ কাজকর্ম করে (যেমন চিত্রাংকন, সঙ্গীত বা চলচিত্র)। পক্ষান্তরে এই জামাত শিবিরেরাই প্রকৃত মুসলিম কেননা সুরা মায়িদাহ আনফাল বা মুহাম্মদের আয়াতের মত হুবুহু তলোয়ার কুড়াল ছুরি ব্লেড কিরীচ নিয়ে তারা হাত পায়ের রগ কাটতে প্রবৃত্ত হয়।

কতিপয় ভুল ধারনার যৌক্তিক বিশ্লেষণ

ক) বাংলাদেশীদের অনেকেই মনে করেন – সৌদি আরব প্রকৃত ইসলামিক রাষ্ট্র নয়।

জবাবঃ যারা একথা বলেন তারা বাংলাদেশী/ভারতীয় বা নন-আরবীয় মুসলিম, তারা আরবীভাষী নন। তারা আরবী ভাষা জানেন না, তাই কোরান শরীফে আসলে কি লেখা আছে সেটি না জেনেই, না বুঝেই কোরান শরীফ সম্পর্কে ভাসা ভাসা বিচ্ছিন্ন ও বিক্ষিপ্ত মনগড়া ধারণা শিশুকাল থেকে মনের মধ্যে পোষণ করতে থাকেন, কালক্রমে সেই ধারণাগুলো মনের মধ্যে বদ্ধমূল হয়ে ব্যক্তির তুলনামূলক গবেষণা করার সামর্থ্য নষ্ট করে দেয়। তখন ব্যক্তি আরবী ভাষা না জানার কারণে মনে করে কোরান শরীফে অমন হত্যাযজ্ঞের কথা নিশ্চিতভাবেই লেখা থাকতে পারেনা, যদিও তেমনই লেখা আছে। আবার দীর্ঘদিন নিজের ধর্ম সম্পর্কে পোষণ করা উচ্চ ধারনাগুলো বদ্ধমূল হওয়ার কারণে ব্যক্তি কোরান শরীফের বিভ্রান্তিকর এবং কন্ট্রাডিকশনগুলো দেখেও বিভিন্ন গোজামিলের মাধ্যমে নিজস্ব মনগড়া ব্যাখ্যা উপস্থাপনপূর্বক অন্ধভাবে কোরান শরীফকে ডিফেন্ড করতে প্রবৃত্ত হন। তারা এটা কি বোঝেন না যে, ১টা বই থেকে যদি ১০০০টি সমালোচনা বের হয় তাহলে সেই বইটি কতটা তুচ্ছ ? শ্রেষ্ঠ বইয়ের সম্পর্কে ১০০০টি প্রশ্নের উদ্রেক হওয়া কি আসলে এটাই প্রমাণিত করেনা যে, সেটি আসলে শ্রেষ্ঠ নয় বরং বিতর্কিত বই ?

আমাদের দেশের জনগণের ধারণা তাদের ইসলামই প্রকৃত ইসলাম। এরাবিয়ান বা পাকিস্তানী জনগণের ধারণা তাদের ইসলামই প্রকৃত ইসলাম এবং বাংলাদেশীরা অর্ধমুসলিম। এভাবে দেখা যায়, প্রত্যেক মুসলিম রাষ্ট্রের জনগণই নিজেদের প্রকৃত মুসলিম মনে করে এবং অন্যান্য রাষ্ট্রের মুসলিমদেরকে তাদের চেয়ে ইনফেরিয়র মুসলিম বলে গণ্য করে। অর্থাৎ, আমার আমিত্ব-ই সব কথার মূল কথা। আমি যদি মুসলিম হই, তবে হিন্দু মুসলিম প্রশ্নে আমি চোখ বন্ধ করে মুসলিমকে সমর্থন করবো এবং মুসলিম-মুসলিম প্রশ্নে আমি চোখ বন্ধ করে আমার মুসলমানিত্বকে অন্যদের থেকে তুলনামূলক সেরা দাবী করবো – এটাই সকল দেশের মুসলিমদের সাধারণ প্রবৃত্তি ।

ইরানের গোলাপ কিন্তু বাংলাদেশের মাটিতে কৃত্রিম উপায় ব্যতীত ভালো ফলবে না (কৃত্রিম উপায়েও সেরকম ফলবে না যেমনটি ইরানে ফলে)। আমাদের মাটি বা শেকড় হলো – ধর্মনিরপেক্ষ বাঙ্গালি সংস্কৃতি যার মধ্যে একই বিরাট নন বেঙ্গলি ভারতীয় প্রভাব রয়েছে। তুরস্কের গোলাপ ইখতিয়ার উদ্দীন মুহাম্মদ বখতিয়ার খলজী বাংলা আক্রমণ করে আমাদের দখল করে ইসলামিক চারাগাছ আমাদের ধর্মনিরপেক্ষ মাটিতে বুনে দিয়ে গেছে ঠিকই কিন্তু আমাদের মজ্জাগত সংস্কৃতিকে সমূলে উৎপাটিত বা পুরোপুরি বিনষ্ট করতে পারেনি। তাই এদেশে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হলেও, আমাদের মন মানসিকতায় ইসলামিক চিন্তাভাবনা বিকশিত হলেও আমাদের মনের আরেকটি দিক প্রায়ই আমাদের বিস্মৃত বিবেককে জাগ্রত করার চেষ্টা করে। ধর্মনিরপেক্ষ বাঙ্গালি সংস্কৃতি ও ধর্মান্ধ ইসলামিক সংস্কৃতির একটি মিশ্র রূপ আমরা। জঙ্গিবাদীদের কারণে এদেশে ধর্মান্ধতা কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও একদম পুরোপুরি ধর্মান্ধতায় দেশ ছেয়ে যায়নি। তাই আমরা মুসলিম হলেও আমাদের ভেতরের সেই ধর্মনিরপেক্ষ সুবিচারপ্রত্যাশী শেকড় সৌদি আরব, পাকিস্তানের মুসলিমদের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে ওঠে, তারই প্রমাণ সৌদি আরবের এই চরম অমানবিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আমাদেরই মুসলিম জনগণের তীব্র নিন্দাজ্ঞাপন। এটা অর্ধচেতন বা সাবকনশাসভাবে আমাদের আলোড়িত করে, তবে আমাদেরকে একেবারে পুরোপুরি সচেতন করতে পারেনা। পুরোপুরি সচেতনতা তখনি আসবে যখন আমাদের দেশের জনগণ অর্থ সহকারে বুঝে কোরান শরীফ হাদীস শরীফ পাঠ করা শুরু করবে এবং তখন একেবারে পানির মত স্পষ্ট হয়ে যাবে – আসলে কারা প্রকৃত মুসলিম।

খ) কতিপয় ব্যক্তি বলেন – ফাঁসি সমর্থন করি কিন্তু শিরচ্ছেদ সমর্থন করিনা

জবাবঃ এটাও অবিবেচকের মত কথা কেননা দুটোই হত্যাযজ্ঞের রুপভেদ। ফাঁসির তুলনায় শিরোচ্ছেদের রক্তাক্ত অবস্থা দৃশ্য অবলোকন করা অনেক বেশি ভীতিকর ও কষ্টদায়ক তথা এরকম দৃশ্য মুহূর্তে মানুষকে শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ করে ফেলতে পারে। আবার শিরোচ্ছেদে দ্রুত মৃত্যু হয় বিধায় আসামীর জন্য কম কষ্টদায়ক। সুতরাং ফাঁসি ও শিরচ্ছেদ উভয়েরই পক্ষে বিপক্ষে কিছু কথা রয়েছে। তবে উভয়েরই বিরুদ্ধে যেই অখণ্ডনীয় অভিযোগ রয়েছে তা হলো – জীবনের চেয়ে বড় কিছুই নেই এবং একজন মানুষের জীবন নেওয়ার অধিকার মানবিক কিংবা যৌক্তিকভাবে কারোরই থাকতে পারেনা। তাই ফাঁসি এবং শিরচ্ছেদ – কোনটাই সমর্থনযোগ্য নয়।

গ) অনেকের মতে – এমনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের দাবীকৃত “সৌদি আরবে গরীব ও অপ্রভাবশালীদের জন্য সুবিচার নেই” কথাটি সত্য নয়

জবাবঃ প্রকৃতপক্ষে, সৌদি স্থানীয়দের সকলেই উচ্চবিত্ত নন, তাদের মধ্যেও দরিদ্র অংশ রয়েছে এবং তারাই এই ধরনের শিরোচ্ছেদকরণের শিকার হয়ে থাকে। সকল দেশেই উচ্চবিত্ত নিম্নবিত্ত প্রভাবশালী অপ্রভাবশালী অংশ রয়েছে। তাই এমনেস্টির দাবীকৃত “সৌদি আরবে গরীব ও অপ্রভাবশালীদের জন্য সুবিচার নেই” কথাটি চরমভাবে সত্য এবং যারা মনে করেন সকল সৌদি নাগরিকই উচ্চবিত্ত, তারাই প্রকৃতপক্ষে ভুল কেননা অজস্র সৌদি নাগরিক বিত্তবান হলেও বিত্তহীন অংশও রয়েছে। বিষয়টি পরম বা এবসলুটলি দেখলে হবেনা, রিলেটিভ বা আপেক্ষিকভাবে দেখতে হবে এবং দেখা যায় সামান্য কিছু উচ্চবিত্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিরাও শিরোচ্ছেদকরণের শিকার।

এরাবিয়ানদের স্বরূপ, হজ্ব বানিজ্য এবং আমাদের করণীয়

আসুন কিছু ভিডিও দেখি –

প্রেসিডেন্ট বুশের সঙ্গে ইসলামিক সৌদি আরবের মুসলিম রাজা আব্দুল্লাহ আল সউদের মদ্যপান

পতাকায় কলেমা তৈয়বা লিখে রাখা বেপর্দা মুসলিম নারীদের সঙ্গে ইসলামিক সৌদির মুসলিম রাজা আব্দুল্লাহ আল সউদের জনসমক্ষে নৃত্য

জেদ্দার সৌদি রাজপ্রাসাদে মুসলিমদের সমকামী পার্টি ও অশালীন নৃত্য

সৌদি রাজার নাতী সাউদ আব্দুল আজিজ বিন নাসের লণ্ডনে তার সমকামী-সেবক, পরবর্তীতে তাকে হত্যা করা হয়

বিস্তারিতঃ http://www.bbc.co.uk/news/uk-england-nottinghamshire-11477062

http://www.dailymail.co.uk/news/article-1321860/Gay-Saudi-prince-pictured-happily-manservant-beat-death.html

সৌদি আরবে রাজপরিবারের সীমাহীন দুর্নীতি ড্রাগ কেলেঙ্কারি, অজাচার, ব্যাভিচার যদিও তাদের বিচার হয়না

বুশ প্রশাসনের সাথে মিলে সৌদি যুবরাজ বান্দরের দুর্নীতির প্রমাণ

www.youtube.com/watch?v=w2_5OdK9Sww
www.youtube.com/watch?v=VbxQGUBGcQ4

নাইটক্লাবে সৌদি প্রিন্সের এক মিলিয়ন টাকা উড়ানো এবং বারবনিতাদের সঙ্গে রাত্রিযাপন

বোরকা পরিহিত অবস্থায় প্রস্টিটিউশন করা ওয়াহাবী নেতা শেখ আব্দুল ওয়াহাবকে পাকড়াও করলো পুলিশ

পতিতার সঙ্গে সৌদি প্রিন্সের ঢলাঢলি

সৌদি ওয়াহাবী সালাফি মোল্লাহর সমকামিতা

বেপর্দা সৌদি প্রিন্সেস আমিরা আলতাউইল

http://www.youtube.com/watch?v=6Qzx_cHNx4o

সৌদি রাজপরিবারের জীবনযাত্রা

মুসলিম দেশগুলোতে দুটি জিনিস খুব বিক্রি হয়। একটি হলো তেল এবং অপরটি হলো ধর্ম। তেল এবং ধর্ম ছাড়া ওসব দেশে বিক্রির আর কিছু নেই। প্রকৃতি দিয়েছে তেল আর নবীরাসুলেরা দিয়েছে ধর্ম। সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ ‘তেল’ ও ‘ধর্ম’ বিক্রির অর্থ দিয়ে সারাবিশ্বে বিলাসবহুল প্রাসাদ কিনে তাতে ভরায় বিশ্বের সবচেয়ে নামিদামী পতিতাদেরকে এবং অবাধ যৌনকর্মে রত হয়। হলিউডের ম্যাডাম থেকে শুরু করে বাংলাদেশের হাজেরা জুলেখা সকলেই সৌদি রাজাবাদশা ও যুবরাজদের প্রিয় মুখ। বিশ্বের কুখ্যাত নারী পাচারকারীদের প্রিয় খদ্দেরও সৌদি রাজাবাদশা। ওরা ধর্ম বিক্রি করে, অনেকক্ষেত্রেই পালন করেনা (হ্যাঁ, শুধুমাত্র এই অর্থে বাঙ্গালি মুসলমানেরা দাবী করতে পারে যে তারা সৌদিদের থেকে অধিকতর মুসলিম)। আবার কিছু বিশেষক্ষেত্রে ( অন্তত চলনে বলনে বা মৌখিকভাবে ) অত্যন্ত বেশি পালন করে। রোজার মাসে সৌদি থেকে পাশ্চাত্যের ফ্লাইটে খালি সিট পাওয়া দুস্কর। কেননা ওরা রোজার মাসে বিদেশে চলে যায়। পাঁচবার নামাজ, মিলাদ, রোজা, শবেবরাত, শবেকদরের উৎপত্তি তাদের দেশে বটে, কিন্তু খুব কম সৌদিই এসব পালন করে।

মদ্যপান – ব্লু ফিল্ম – পতিতা সবই ওদের ঘরে চলে, তবে গোপনে। ইন্টারনেটে আরব পর্ণ ক্লিপের আধিক্য দেখে এটি প্রমাণিত হয়। আবার, ওরাই শরীয়াহ আইনে দরিদ্র ও দুর্বলের বিচার করে বলে ওদের দেশে সহসাই চোখে পড়ে হাতকাটা পা কাটা কিংবা চোখবিহীন মানুষ। কিসাস আছে না ? অন্যের বেলায় প্রো-ইসলামিক হলেও নিজেদের বেলায় ওরা প্রো-ওয়েস্টার্ন। সে কারণেই ওদের বিবাহিত পুরুষদের পতিতাভোগের কোন শরীয়াহ বিচার হয়না।


সে কারণেই অধিকাংশ ইসলামিক রাষ্ট্রের মহিলাদেরকে বোরকা পড়তে হলেও মধ্যপ্রাচ্যের রাজাবাদশার পত্নীরা পাশ্চাত্যের রমণীদের মতই স্বাধীন পোশাকে চলাফেরা করে।

হজ্ব করতে অনন্ত বিশ্বাস ও ত্যাগের সঙ্গে মক্কা মদীনায় যায় সারাবিশ্বের ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা। আফ্রিকা থেকে শুরু করে ভারত পাকিস্তান বাংলাদেশসহ প্রায় ১৫০টি মুসলমান এবং অমুসলমান দেশের মানুষেরা বছরে সৌদি সরকারকে প্রায় ৩০-৪০ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা ধরিয়ে দেয়। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে অনেক কষ্ট করে সংগ্রহ করা অর্থে আমাদের দেশের দরিদ্র মুসলমানেরা হজ্ব করতে যায় আর সেই ৩০-৪০ হাজার টাকার একটি বিশাল অংশ ব্যয় হয় সৌদিদের নিষিদ্ধ জীবনের খরচে। যেমন প্যারিসের প্রাসাদে- লাসভেগাসের হোটেল মিরাজ কিংবা হলিউডের ব্লুবার্ড ম্যাডামদের পতিতালয়ে !

হজরত মোহাম্মদের ছবি আঁকার কারণে আমরা যদি ডেনমার্কের পণ্য বর্জন করি, তবে ৮ বাংলাদেশীকে বিচারের নামে নির্মমভাবে হত্যা করার প্রতিবাদে কেন আমরা সৌদিদের আয় করার উৎস হজ্ব বর্জন করবো না ? কেন আমরা তাদেরকে নিষিদ্ধ জীবন যাপন আরো আরাম আয়েশের সঙ্গে করার জন্য আমাদের কষ্টার্জিত অর্থ তাদের হজ্ব ব্যবসার অছিলাতে বিলিয়ে দেব ?

হজ্বের অর্থ কি আল্লাহর সিন্দুকে যায় নাকি সৌদি রাজা বাদশাদের সিন্দুকে যায় ? যদি আল্লাহর সিন্দুকে যায়, তো ঠিক আছে। কিন্তু যদি এই সৌদি রাজাবাদশাদের সিন্দুকে যায়, তবে কি আপত্তি করার যথেষ্ট কারণ নেই ? হজ্ব কি একটি রমরমা ব্যবসা নয় ? ৮ বাংলাদেশী হত্যার প্রতিবাদ হিসেবে আমাদের উচিত আগামী বছরের হজ্ব বর্জন করা।

ইংরেজীতে একটি প্রবাদ আছে –

প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিওর কিংবা প্রিভেনশন ইজ দ্য বেস্ট কিওর।

তাই শিরোচ্ছেদের মত এরকম হিংস্র বর্বরোচিত প্রথা অতিসত্বর বিলুপ্ত করে মৃত্যুদণ্ডবিহীন গঠনমূলক সংশোধনপন্থা তথা সশ্রম/বিনাশ্রম কারাদন্ডের ব্যবস্থার প্রতি পৃথিবীর সকল রাষ্ট্রগুলোর মনোযোগ দেওয়া উচিত।

মৃত্যুদণ্ড বিলুপ্ত হোক, গঠনমূলক সংশোধনপন্থা এবং সশ্রম/বিনাশ্রম কারাদণ্ড হোক সকল বিচারের মূল ভিত্তি, জয় হোক মানবতার, জয় হোক জীবনের। জীবন এত সস্তা নয় যে তলোয়ারের এক কোপে শেষ হয়ে যাবে !

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ ধান ভানতে শিবের গীত গাওয়া যাদের অভ্যেস, তারা অপ্রাসঙ্গিকভাবে ভারত ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের প্রসঙ্গের অবতারনা করে শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করেন । এখানে দয়া করে অফ টপিক নিয়ে আলোচনা করবেন না বলেই তাদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানানো যাচ্ছে।