ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

গতকাল যে লাইনটি দিয়ে শেষ করেছিলাম, আজ (২৯/০৭/২০১৬) bdnews.24.com এর ইংলিশ ভার্সন এ একটি  শীর্ষ সংবাদ এসেছে যে, “Research why youths become extremists: Psychiatrist” (bdnews24.com). সেমিনারটির আয়োজক এবং বিজ্ঞ বক্তাগণ যে ধরণের আলোচনা এবং প্রাথমিক উপসংহার টেনেছেন আমি তার সাথে একমত । Dr Mekhala Sarkar said “there was no research to say exactly what motivates youths to be extremists at this moment, though many of the recent attackers were members of the well-to-do families” (bdnews24.com). এই বাক্যগুলো অবশই সত্য এবং সময় উপযোগী, যদিও আমরা যে কোনো বড় ঘটনাকেও না জেনে বুঝে মন্তব্য করি ।

তিনি যে “national research team’ এর কথা বলেছেন তা অনস্বীকার্য । এই ধরণের একটি দক্ষ টিম গঠন করে সনাক্ত করতে হবে “common vulnerable point”. প্রেরণাদায়ী বিষয়গুলো (motivational factors) শুধুমাত্র বিশেষ তরুণ সমাজের দিকে টার্গেট করলে হবে বলে মনে হয় না, কারণ এরা এক বা একাদিক  বিশেষ গোষ্ঠী এবং একটি  ভুল ব্যাখ্যার মতবাদে হাসি মুখে জীবন দানে কঠোর বিশ্বাসী । সরকার দেশ ও জাতিকে আন্তজার্তিক অঙ্গনের চাপ থেকে রক্ষা করার জন্য এদের নেটওয়ার্ক সম্পর্কে একটু ভিন্ন তথ্য উপস্থাপন করলেও, তেমন কোনো বড় দোষ দেয়া যাবে না । কারণ শুধু দেশ রক্ষা করলে হবে না বরং গোটা জাতিকে রক্ষা করতে হবে । মনে রাখতে হবে, এ জাতির এক কোটির উপর (বেশীর ভাগ এই তরু সমাজই) মানুষ প্রবাস থেকে বৈদেশিক মুদ্রা দেশে প্রেরণ করছেন । যা দেশের অর্থনীতির একটি শক্তিশালী চাবিকাঠি ।

আমি মনে করি বিরোধী দলের মনগড়া সমাধানের যে প্রস্তাব এবং কথা বলেছেন, তা বর্তমান বিশ্বের দিকে তাকালে কোনোভাবেই গ্রহনযোগ্য নহে । বাংলাদেশের পক্ষে কি আজই জার্মান ও ফ্রান্স এর মতো গণতান্ত্রিক ও শক্তিশালী রাষ্ট্র হতে পারবে, আর যদি সব রাজনৈতিক দল, নেতা কর্মীও বদলে যায়, কি লাভ? ফ্রান্স আজ কেন জরুরী অবস্থা? জার্মানে জরুরী অবস্থা না হলেও আমাদের চেয়ে অনেক বেশী আতঙ্কগ্রস্ত । পক্ষান্তরে সরকারের গুলশান ঘটনায় গোয়েন্দা ব্যার্থতা ঢেকে দিয়াছে কল্যাণপুরের গোয়েন্দা সফলতা । তবে আমি মনে করি, বাংলাদেশের যে দক্ষ আর্ম, এয়ার সহ অন্য যে সকল সংস্তা আছে তারা একটু সতর্ক হলে কল্যাণপুরের যুবকদের হয়ত জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হতো, আর এতে অন্তত ২টি লাভ হতো । প্রথমতঃ তাদের থেকে অনেক গুরুর্থপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেত । দ্বিতীয়তঃ এই যুবকরা মৃত্যুকে এক শ্রেষ্ট উপহার মনে করে এবং তাদের সহযোগীরাও এতে উৎসাহ ও অনুপ্রাণিত হয় । তবে এই সাময়িক সার্থকতা বা ব্যার্থতা এখনই মূল্যায়ন করা যাবে না, যতক্ষণ না আমরা নিশ্চিত হতে পারি যে, এই অশুভ শক্তি আমাদের দেশ থেকে চিরবিদায় হয়েছে ।

সরকার সহ বিভিন্ন মহলের ভাষ্য অনুযায়ী একটি কথা বার বার আসছে যে, এইসব গোষ্ঠী বেহেশতে যাওয়ার শর্ট কাট পদ্বতি হিসেবে এই জগন্য পথ বেছে নিয়েছে । আর এর উৎস নাকি ইসলাম এবং এর মূল গ্রন্থ পবিত্র কোরআন । আমি অস্বীকার করছি না যে, জিহাদ সম্পর্কে পবিত্র কোরআন শরীফে কিছু লিখা নাই । আমি এ বিষয়ে চেষ্টা করবো পরে বিস্তারিত লিখতে, তবে জিহাদ এবং জিহাদী যে সকল বই গুলো বিভিন্ন জায়গা থেকে উদ্ধার করা হচ্ছে, তাদের লিখকগণের জীবনকে বিশ্লেষণ করলে খুব সহজেই বুঝা যায়, কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ সেই কথাটির মত “কাব্য যেমন কবি নয়গো তেমন” অর্থাৎ তারা তাদের জীবনে শুধু ক্ষমতায় যাওয়ার রাজনীতি করেছে, কিন্তু নিজেরা কখনো মুজাহিদ হন নাই । আমার অবাক লাগে যখন দেখি মেধাবী তরুণ ও কিছু আত্মঅহংকারী বুদ্ধিজীবীগণ এই সকল লেখকের লেখায় এভাবে প্রভাবিত হয়েছে য়ে, এত বড় একটি ধর্ম ভীরু এবং ধর্ম প্রাণ মুসলিম দেশ, জাতি ও রাষ্ট্রকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিতে চাইছে ।

যাই হউক আজকের এই মূল্যবান সেমিনারটির আলোচনার প্রেক্ষাপটে আমি কিছু প্রস্তাব যোগ করতে চাই । অবশ্যই মনোবিজ্ঞান একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, বিশেষ করে যারা বর্তমানে এ ধরণের সংগঠনে যুক্ত হয়েছে । তবে যে স্টেজ এ আমাদের দেশে বর্তমানে আছে, তাতে ভবিষ্যত ঝুঁকি এড়াতে আরো কিছু বিষয়কে অবশ্যই বিবেচনা করা আবশ্যক বলে আমি মনে করি, যেমন ধর্মীয় ও আর্থসামাজিক বিষয়গুলো অতীব গুরুত্বপূর্ণ । আমরা এমন এক আবেগপ্রবণ জাতি, যারা কোনো নবী-রাসূল ছাড়াই মুসলমান । ধর্মের ব্যাপারে ধর্মের উৎস ভূমির জনগণ থেকেও অনেক বেশি ধর্ম ভীরু এবং উগ্র । তদুপরি আর্থসামাজিক কাঠামো একটু ভিন্ন অবস্থা বিশেষ করে টার্গেট দেশগুলো থেকে । এই মুহূর্তে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশেষ করে টার্গেট বয়সের গ্রুপটির উপর গবেষণা অতীব গুরুত্বপূর্ণ ।  কারণ আমরা জানিনা, যারা এখনো সম্পৃক্ত হয়নি ঠিকই, কিন্তু মনে মনে এসব তত্ত্ব সাপোর্ট করে । অতএব ভবিষ্যতে সে ধরণের গ্রুপটিও সম্পৃক্ত হবে না, তার কি নিশ্চয়তা আছে?