ক্যাটেগরিঃ ব্লগ

বাংলাদেশে রাষ্ট্রায়াত্ত দুটি বীমা কোম্পানি (একটি জীবন বীমা ও আরেকটি সাধারণ বীমা) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তদুপরি, অনেক দেশি ও বিদেশি জীবন বীমাসহ সাধারণ বীমা কোম্পানি রয়েছে। সবচেয়ে আশ্চর্য হলো, একটি বীমা কোম্পানির ১০০ টাকা মূল্যের শেয়ার বাজার মূল্য ৩৫,০০০ টাকার উপরে বিক্রি হয়েছে। যা পৃথিবীর কোনো উন্নত দেশের শক্তিশালী মাল্টিন্যাশনাল বীমা কোম্পানির শেয়ার তার ধারে কাছে যেতে পারেনি, যদিও দুনিয়াতে অনেক শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারি আছে। আমার আজকের আলোচনা বীমা কোম্পানি এবং শেয়ার বাজার না, তাই এ বিষয় আর না যাওয়াই  ভালো।

আমরা সবাই জানি বাংলাদেশ শুধু কৃষি নির্ভর অর্থনীতির দেশই না বরং বিশ্বের অন্যতম ঘন বসতিপূর্ণ আবাসভূমি। আর এ দেশের  জনগণ প্রাথমিক কৃষি (চাল, ডাল, আটা, মাছ ইত্যাদি) পণ্যই আজ অবদি প্রধান খাদ্য হিসাবে তিন বেলা যথানিয়মে পেতে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে। তার উপর আমরা নিজে খেতে যেমন ভালোবাসি, তেমন অন্যকেও খাওয়াতেও ভালোবাসি।  এই বিপুল জনগোষ্ঠী আজও এই প্রাথমিক খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণতো হতেই পারে নি বরং প্রতিদিন আসছে হয় প্রাথমিক কৃষি (ডাল, পেঁয়াজ ইত্যাদি) পণ্য অথবা প্রক্রিজাত (ভোজ্য তেল, গুড়া দুধ ইত্যাদি) অবস্থায়। ভাবতে অবাক লাগে, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, নেদারল্যান্ড এর মতো উন্নত দেশে গরুর ফার্মে দুধ উৎপাদন করে প্যাকেটজাত করে আমাদের মতো গরিব দেশকে খাওয়ায়।

আমাদের দেশে মেধা, শ্রম এবং কি মূলধনের ও তেমন অভাব নেই, তবে কেন হচ্ছে না কৃষিতে উন্নয়ন। তবে কেন আজও আমরা সেই প্রাথমিক যুগের প্রকৃতির উপর নির্ভশীল কৃষিতে আছি। মাটির বাঁধ তো পানির স্রোতে, ভারি বৃষ্টিতে ভাঙ্গবেই আর এটাতো নাবালকও জানে।  আর সেই পানিতে ভাসিয়ে নিয়ে যাবে ক্ষেতের আধাপাকা ফসল, দূষিত করবে গোটা পরিবেশ, এ কেমন কথা? আমরা এ কোন অরণ্যে বসবাস করছি। গর্বিত একজন কৃষকের হাতে তুলে দিচ্ছি ভিক্ষার চাল আর মাত্র ৫০০ টাকা। বাকি সব লোক যাবে কোথায়, যারা নির্ভর করে আছে গোটা কৃষি অর্থনীতির উপর? ফসল হারিয়ে কৃষক হচ্ছে ঋন খেলাফি, চলে যাচ্ছে দারিদ্র সীমার অনেক নিচে।

আমাদের সরকারের কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান রয়েছে নানা নামে নানা রংয়ে যেমন কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, ধান গবেষণা, পাট গবেষণা, ফল গবেষণা, মৎস্য গবেষণা ইত্যাদি।  নাই কী তাতে? সব কিছুই আছে।  সমগ্র গবেষণাকে যদি আমি একত্রিত করে বলি, কৃষি অর্থনীতি বলে যে একটা কথা আছে, তার সার্বিক অবস্থা কী? কৃষি অর্থনীতিতে কি কৃষি বীমা বলে কোনো কথা নাই, নাকি ঝুঁকি বেশি? উন্নত দেশে যদি কুকুর, বিড়াল ইত্যাদির জন্য বীমা হতে পারে অনেক অনেক মূল্যে, তবে আমাদের দেশে আজও কেন এত বড়ই শুধু না, সর্ববৃহৎ অর্থনীতির ক্ষেত্রে সরকারি বা বেসরকারি বীমা ব্যবস্থা নাই কেন? আমি বলবো সকল ধরণের কৃষি উৎপাদন তথা প্রতিটি কৃষকের ক্ষেত্রে বিশেষ ধরণের বীমা ব্যবস্থার কথা।

আমি কোনো প্রথম মানুষ না যে কৃষি বীমার কথা বলছি, দুনিয়ার অনেক দেশেই কৃষি বীমা রয়েছে, কোথাও সরাসরি কৃষি বীমা বলেই আবার কোথাও বা ভিন্ন নামে।  নাম যাই হোক, কাজ একটাই তা হলো কৃষি ক্ষেত্রে বীমা ব্যবস্থা।  আমাদের সরকার সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন নামে, বিভিন্ন সন মেয়াদি অনেক ভিশন ও মিশন আছে, কিন্তু আজ পর্যন্ত আমি তাদের ভিশন বা মিশনে এই ধরণের প্রস্তাব দেখি নাই।  তাই নিজের বিবেকের তাড়নাই বিষয়টি নিয়ে কিছু প্রস্তাব রাখছি। আমি মনে করি একটি সমন্বিত কৃষি এবং কৃষক বীমা বাবস্থা আমাদের সকল ভিশন এবং মিশনকে অতি সহজে আরো সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।  আমরা অতি সহজে এবং অতি দ্রুত একটি উন্নত জাতিতে উন্নীত হতে পারি।

যেহেতু বীমা ব্যবস্থা এবং ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে আমরা নতুন না বরং আমাদের রয়েছে এ সম্পর্কে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ বীমা একাডেমী সহ সুদক্ষ মানব সম্পদ।  তা হলে কেন হচ্ছে না কৃষি বীমা? আমার মনে হয়, একটি সুদক্ষ কৃষি ও কৃষক বীমা ব্যবস্থাকে ভিন্ন একটি আইনের মাধ্যমে তৈরি করা গেলে এটি একটি দৃষ্টান্তমূলক প্রতিষ্ঠান হতে পারে।  কারণ আমাদের প্রতিটি পরিবারই কৃষির সাথে কোনো না  কোনো ভাবে জড়িত। ফুল, ফল, শাক, সবজিতো আছেই তার সাথে আছে গৃহপালিত পশুপাখি।

আজ বাংলাদেশে কৃষিতে  ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কিছু বৃহৎ প্রতিষ্ঠান রয়েছে। আমাদের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এর অনেকগুলো নীতিমালার আওতায় বিভিন্ন ধরণের কৃষি ঋণ ব্যবস্থা রয়েছে।  তবে তার কোনো ক্ষেত্রেই বীমা ব্যবস্থা নেই। তাই গোটা ঝুঁকিটিই বহন করতে হচ্ছে কৃষি উদ্যোক্তাদের।  আর তাই অনেক ক্ষেত্রে প্রান্তিক কৃষি উদ্যোক্তা হচ্ছে দেউলিয়া এবং চলে যাচ্ছে দারিদ্র সীমার সর্বনিম্নে। পক্ষান্তরে আগ্রহ হারাচ্ছে নতুন নতুন কৃষি উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে। তাই কৃষি ক্ষেত্রে বীমা ব্যবস্থা অতি দ্রুত প্রয়োজন বলে আমি মনে করি………আপনি কী মনে করেন?