ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম

 

উন্নত দেশগুলো কাউকে ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়ার ব্যাপারে থাকে খুবই হুঁশিয়ার। লাইসেন্স দেওয়ার আগে দেখে নেওয়া হয় তিনি একজন শিক্ষিত বা সচেতন মানুষ কি না, ড্রাইভিংয়ের জটিল নিয়মকানুন বোঝার, আত্মস্থ করার বা মুহূর্তের দরকারে প্রয়োগ করার মতো ক্ষিপ্র মেধা তাঁর আছে কি না, চারপাশের মানুষ পৃথিবী ও পরিবেশ সম্বন্ধে তিনি সজাগ বা মানবিকবোধে জাগ্রত কি না। কেননা একজন অকর্ষিত নির্বোধ বা হিতাহিতজ্ঞানশূন্য মানুষকে একটা বাস বা ট্রাকের লাইসেন্স দেওয়া আর ভোজালি হাতে একজন দুর্বৃত্তকে খুন করার ঢালাও লাইসেন্স দিয়ে কোনো লোকালয়ে ঢুকিয়ে দেওয়া প্রায় একই ব্যাপার।
এসবের পরও ওই সব দেশে দুর্ঘটনার সংখ্যা সহনীয় রাখতে সরকারকে হিমশিম খেতে হয়। তাই ড্রাইভিং লাইসেন্সের ব্যাপারে এত কড়াকড়ি। ওই সব দেশের বহু মানুষকেই বলতে শুনেছি, এখানে ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়া পিএইচডি করার চেয়ে কঠিন। কথাটা যে মিথ্যা নয়, তা বোঝা যায় ওই সব দেশে হাজার হাজার শিক্ষিত আর বুদ্ধিমান মানুষকে ড্রাইভিং লাইসেন্স টেস্টে বছরের পর বছর ফেল করতে দেখে। তা ছাড়া লাইসেন্স পেলেও গাড়ি চালানোর ছোট-বড় ভুলের জন্য কীভাবে চালকদের নম্বর কাটা হতে হতে একসময় তাদের লাইসেন্স বাতিল হয়, তা-ও আপনারা সবাই জানেন।

আজকের প্রথম আলোর আপনার লেখা পড়ে খুব কষ্ট পেলাম। যার উদ্দেশ্য লেখা – উনার বোঝার ক্ষমতা ও সম্মানবোধ কতটুকু তা এর মধ্যই এদেশের লোকজন জেনে গেছে। তারপর ও আপনার লেখা – “আগে তিনি ছিলেন একজন শ্রমিকনেতা, আজ তিনি মন্ত্রী। আজ তাঁর গাড়িতে বাংলাদেশের পতাকা ওড়ে, যা আমার মতো দেশের বাকি ১৬ কোটি মানুষের জন্য নিষিদ্ধ। এই পতাকার মানে কি তাঁর জানা আছে? না থাকলে তাঁকে জানাই, এর মানে আজ তিনি এই রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ মর্যাদার প্রতীক, জনগণের জীবন, সম্পদ, স্বার্থ ও সুবিচারের রক্ষক। এই মর্যাদা নিয়ে কী করে তিনি এমন ন্যায়নীতিহীন ও আইনবিরুদ্ধ ব্যাপারে চাপ সৃষ্টি করেন? করতে চাইলে শ্রমিকনেতা হয়ে তা করাই তো ভালো “। হায় রে অভাগা এদেশের মানুষ – কাদেরকে আমরা দেশ পরিচালনায় দেখছি !!!!!!!!

ধন্যবাদ স্যার আপনার এই লেখার জন্য। কিন্তু দুঃখ লাগছে এই ভেবে – আপনার এই তথ্য সম্পন্ন লেখা বোঝার মত জ্ঞান কি আমাদের কর্তা ব্যাক্তিদের আছে ? তা থাকলে তো আর আজকে এ ধরনের উপহাস মুলক বক্তব্য শুনতে হোত না আমাদের “মাননীয়” পদে অসিন ব্যাক্তিদের নিকট থেকে !!!!!!