ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

সম্প্রতি বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় বিভিন্ন নেতা নেত্রীদের কথা শুনলে মনে হয় আমরা জঙ্গলে বসবাস করি, ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে আমরা বিশ্বের মানচিত্রে একটা স্বাধীন পতাকা ছাড়া আর কিছু পায়নি বলে আমার মনে হয়, কেননা দেশ স্বাধীন হয়েছিল পাকিস্তানীদের শোষণের হাত থেকে বাংলার সাধারণ জনগনকে মুক্তি দেওয়ার জন্য,জনগনের অধিকার জনগনকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য,মুক্ত মনে মনের ভাষা প্রকাশের জন্য,স্বাধীন ভাবে চলাফেরা করার জন্য। যারা ১৯৪১ সালের আগে যারা পাকিস্তানে জন্মগ্রহণ করেছিল তারা একমাত্র মহান মুক্তিযুদ্ধ দেখছে, আর যারা ৭১ এর পরে জন্ম নিয়েছে তারা মুক্তিযোদ্ধা দেখেনি, আর দেখা ও শুনা ২টা জিনিস কিন্তু ভিন্ন, এখন দেখছি আমাদের দেশে যারা মুক্তিযোদ্ধা করিনি তারা বেশী মুক্তিযোদ্ধা হয়ে গেছি। আমাদের এলাকায় শুধুমাত্র একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিল যার নাম হাশেম, রিক্সাচালক এখন বেছে নেই, আল্লাহ তাকে জান্নাত দান করুক আমিন! কিন্তু তিনি কখনো বলেনি যে, আমি মুক্তিযোদ্ধা। আর যারা মুক্তিযোদ্ধের সময় মানুষের বাড়ীতে গিয়ে লুকিয়েছিল তারা এখন মহা মুক্তিযোদ্ধা। গ্রামের ভাষায় কথা আছে খালি কলস বেশী আওয়াজ করে, তেমনি আমার মনে হয় আমাদের সরকারের সময় খালি কলস বেশী আওয়াজ করছে।যাক আসল কথায় আসা যাক, বিগত দিনের সরকারী হিসাব অনুযায়ী ১ ঘন্টা সংসদ চলাকালে খরচ হয় কয়েক লক্ষ টাকা, তাই সংসদ বেশী দিন চলে না খরচ বেশী বলে। কিন্তু এ সরকারের আমলে দেখছি বেশী দিন সংসদ চলছে সংসদ সদস্য ছাড়া, কারণ এটাতো সংসদ না মাছের বাজার (যেটা মাননীয় স্পিকার বলছিল), এটাতো পতিতালয়ের জায়গা কেননা মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্য (যারা পতিতালয়ে যায় তারা জানে তাদের ভাষা, যেহেতু আমাদের সংসদে পতিতা শব্দটি উচ্চারণ করেছিল মাননীয় মন্ত্রী) এটাতো গালিগালাজের জায়গা কেননা ওখানে বসে গালিগালাজ করা হয়(যাহা আমাদের খোদ প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সব মন্ত্রী এমপিরা করে)এটাতো মানুষ খুনের জায়গা (যেটা আমাদের মন্ত্রীরা সবসময় বলে সীমান্তে মানুষ খুন হলে আমরা কিছু করব না) এটাতো অন্যের চায়ের দোকান কেননা ওখানে বসে চায়ের দোকানের ভাষা ব্যবহার করা হয়। দু:খ লাগে যখন সংসদ অধিবেশন দেখি, নিজের প্রতি নিজের ঘৃনা হয় বাংলাদেশী পরিচয় দিতে, যদি আমাদের জন্ম স্বাধীনতার সময় হয়নি কিন্তু তারপরেও কেন জানি লজ্জা লাগে, প্রবাসে যখন কোন আরবী বা ফরেনি দের সাথে কথা বলি তারা বলে তোমাদের দেশটা হল একটা জুলুমবাজের জায়গা, খুনির আস্তানা,মিথ্যা বলার জায়গা, এছাড়া কত কিছু তখন নিজেকে ধিক্কার জানায় কেন জন্ম নিলাম এ দেশে, তারপরেও মাতৃভূমি না বলে পারি না, কারণ জন্ম আমার এদেশের মাটিতে। কিছুদিন আগে এশিয়া কাপ টুর্ণামেন্টে বাংলাদেশ আর পাকিস্তান ক্রিকেট খেলা দেখার জন্য আমাদের দেশের প্রায় মন্ত্রী,এমপি, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেত্রী,নেতা আপামর জন সাধারণ গ্যালারীতে গিয়েছিল খেলা দেখার জন্য, যাক হারলেও জয় আমরা পেয়েছি যা পাকিস্তান খেলোয়াড়দের কথা,কিন্তু আজকের পত্রিকায় দেখলাম আমাদের প্রধানমন্ত্রী বলছে কাদেরকে উৎসাহ দেওয়ার জন্য খালেদা জিয়া মাঠে গিয়েছিল?উনি যাওয়ার কারনে বাংলাদেশ হারিয়ে গেছে, যদি আমরা বলি প্রধানমন্ত্রী যাওয়ার কারণে বাংলাদেশ হারিয়ে গেছে তাহলে কেমন হবে?

কিছুদিন আগে প্রধানমন্ত্রী বলছিল বিএনপি নাকি পাকিস্তানের কাছ থেকে টাকা নিয়ে নির্বাচন করছে, আর যদি বলি আওয়ামী লীগ ভারতের কাছ থেকে টাকা নিয়ে নির্বাচন করছে তাহলে কেমন হবে? আবার প্রধানমন্ত্রী বলে তত্বাবধায়ক সরকার নাকি কোলে তোলে খালেদা জিয়া কে ক্ষমতায় বসাবে তাহলে বলতে পারিনা উনাকে কি কেউ কোলে তুলেছে? একজন প্রধানমন্ত্রী যখন মিথ্যাচারের আশ্রয় নেয় তখন তার অনুগতরা কি করবে? ধরে নিলাম দুজনের দোষ আছে দুজনে মিথ্যাচার করে কিন্তু তুলনামুলক ভাবে কে বেশী করে ব্লগারা বিচার করুন। আমাদের বর্তমান সরকারের আমলে নাকি বাংলাদেশ উন্নয়নের জোয়ারে ভেসে গেছে, যদি কথাটি সত্য হত তাহলে বিদেশী রেমিটেন্স এর উপর কেন নির্ভর করতে হচ্চে সরকারকে? জীবদ্দশায় শেখ মুজিব কখনো বাংলাদেশের বন্ধু ছিলনা যদি উনাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি বানানো হত তাহলে দেশ কখনো ভাগ হত না আমরা স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক বলে বলতে পারতাম না, উনাকে ক্ষমতা দেয় নাই বিধায় উনি স্বাধীনতার জন্য আওয়াজ তুলছিল, যদিওবা অস্বীকার করব না ওনার নেতৃত্বে বাংলার আপামর জনগনের সহায়তায় বাংলার দামাল ছেলেরা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ছিল। কিন্তু দেশ স্বাধীন হওয়ার পর উনি এদেশ কে নিজের বাবার সম্পত্তি মনে করছিল তাই উনাকে বিপথগামী কিছু আর্মি সৈনিক স্বপরিবারে হত্যা করছিল? যা আমাদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক,মর্মাহত।

আবার প্রধান মন্ত্রী যখন বলত রাষ্ট্রপতির ছেলেকে ব্যাংক ডাকাতি করতে হয় না উনি বললে ব্যাংকের টাকা এমনিতে তার কাছে চলে আসবে,টাকাটা কি তোমার বাবার? এ টাকা বাংলাদেশের জনগনের? উনার জন্য যদি ব্যাংকের টাকা ঘরে আসত তাহলে আরেক রাষ্ট্রপতির ছেলে তারেক সে কেন মানি লন্ডারিং করবে? তার তো টাকা ঘরে আসার কথা?

আবার যখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন বলে, দেশের আইন শৃঙ্খলা আগের চেয়ে ভালো তখন মুখ ভরে বমি আসে, যেখানে দৈনিক ১৫/২০ জন মানুষ খুন হচ্ছে, গুম হচ্ছে, তখন যদি কেউ বলে অনেক ভালো, তাহলে কি রকম লাগবে।

আবার সাজেদা চৌধুরী যখন বলে যুদ্বাপরাধীর বিচার বাংলার মাটিতে হবে তখন ঘৃনা লাগে কারণ সে তো একজন যুদ্ধাপরাধ? গোলাম আজমের তালিকার সাথে তার নাম আছে ৪ নম্বরে যা ফেসবুক এ দেওয়া হয়েছিল কয়েকবার, যাক আমরা চাই যুদ্ধাপরাধীর বিচার হউক এ সরকার বা আগামী সরকারের সময় বা আরো পরে সত্যি একদিন যুদ্ধাপরাধী বের হয়ে আসবে।
আবার বানিজ্য মন্ত্রী যখন বলে দ্রব্যমূল্য মানুষের ক্রয় ক্ষমতার আওয়তায় আছে তখন মনে হয় বাজারের ময়লা সব তার মুখে মারি।

সবশেষে মিথ্যাচার থেকে বের হয়ে যদি সত্যিকার অর্থে দেশপ্রেম বুকে নিয়ে জনগনের সেবা করতে চান তাহলে পার পাবেন না হয় জীবনে বেচে থাকার পরও জাহান্নামী আর মরার পর আল্লাহ ভাল জানেন, তবে পরের হক অনাদায়ী কখনো জান্নাতে প্রবেশ করবে না বলে আল্লাহর রাসুল (সা:) বলছিল সে হিসাবে তারা কখনো জান্নাতী হবেনা,

ব্লগার ভায়েরা কোন দলের পক্ষ হয়ে একথা বলছি না মনের ক্ষোভে লেখছি, যদি কারও মনে কষ্ট পেয়ে থাকেন তাহলে ক্ষমা দৃষ্টিতে দেখবেন।

ধন্যবাদ।