ক্যাটেগরিঃ নাগরিক মত-অমত

সামাজিক ও মানসিক কিছু দৈন্যতার প্রতিবাদ করার জন্যই আমার ব্লগ লেখা শুরু । কিন্তু আজ হঠাৎ ই মনে হচ্ছে এই দৈন্যতার কি কোন শেষ আছে ?! প্রতি পদে পদে কোন না কোন বেশে এসব দৈন্যতা আমাদের স্বাভাবিক জীবনের পথ রুদ্ধ করে দিতে সামনে এসে দাড়ায় ! পাঠকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে কোন সেই দৈন্যতা যা আমার মতো চরম আশাবাদী একটি মানুষ কেও হতাশ করে দিচ্ছে ?!

আমি বলছি সমাজের কতিপয় শিক্ষিত নামধারী মানুষের কথা যারা আপনার আমার জীবনের প্রতিটি সিদ্ধান্তে তাদের ইচ্ছার প্রাধান্য থাকা আবশ্যক মনে করে ।

আপনারা কেউ কেউ নিশ্চয়ই ইতোমধ্যে নিজের জীবনের সাথে আমার কথাগুলো মিলিয়ে দেখতে শুরু করেছেন এবং নিজেরাই অবাক হয়ে যাচ্ছেন আমার সাথে আপনার ক্ষোভের এত মিল দেখে । আসুন আজ এমনই কিছু অভিজ্ঞতার কথা বলি ।

আমি বিগত কিছুদিন ধরে আমার চারপাশের কিছু ঘনিষ্ট মানুষের আচরণ দেখে খুব অবাক হচ্ছি । বলা বাহুল্য এদের তালিকায় বন্ধু, আত্মীয় ও স্ব-ঘোষিত শুভাকাংঙ্খীর সংখ্যাই বেশী । এই বিজ্ঞ ব্যাক্তিরা কেন যেন মনে করে যে আমি সহ তাদের আশেপাশের মানুষগুলো তাদের জীবনে যে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে তা নিতান্তই ভুল এবং এই ভুলগুলো শুধরে দেয়া তাদের অন্যতম দায়িত্ব । এই বিজ্ঞদের মনে একবারও প্রশ্ন জাগেনা যে সেই ব্যাক্তিটি নিশ্চয়ই তার জীবনের অভিজ্ঞতা ও ইচ্ছার আলোকেই নিজস্ব সিদ্ধান্তগুলো নিচ্ছে এমতবস্থায় সেই বিজ্ঞের অযাচিত হস্তক্ষেপ কি কাম্য কিনা?!

এই অযাচিত হস্তক্ষেপ কে অনেকেই হয়তো সেই বিজ্ঞ ব্যক্তির স্নেহ বা উদ্বেগ বলতে পারেন এবং আমাকে এই উদ্বেগের নেতিবাচক অর্থ বের করার দায়ে বলতে পারেন অসংবেদনশীল ! কিন্তু একবার ভেবে দেখুন তো কারও তথাকথিত উদ্বেগ যখন আপনার শিক্ষা, বিয়ে, চাকুরি, সংসার এইসব সংবেদনশীল সিদ্ধান্তের বিষয়ে প্রশ্ন তুলে তখন কি তা শুধুই উদ্বেগ বলে আপনি চিহ্নিত করতে পারেন ?! এসব কি আপনার যোগ্যতা নিয়ে হেয় করা নয়?!

কেন আমাকে বা আপনাকে কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তির পছন্দসই বিষয়ে পড়তে হবে? কেন আমার বেছে নেয়া চাকুরি সেই বিজ্ঞ ব্যক্তির পছন্দ নয় বলে সে আমার চাকুরি কে হেয় করবে? কেন তার পছন্দ থেকে ভিন্ন রাস্তায় চললেই আমার সিদ্ধান্ত কে ভুল প্রমান করার জন্য সে উঠে পড়ে লাগবে? এবং আমার সিদ্ধান্তের জন্য আমার পরিবার কে হেয় হতে হবে?

এটা কি তথাকথিত বিজ্ঞজনের মানসিক দৈন্যতা প্রকাশ করে না?! একজন মানুষ যখন শিক্ষিত হয়েও অন্যের জীবনে তার ইচ্ছার প্রাধান্য বিস্তার করাকে দোষের মনে করেনা তখন মনে প্রশ্ন জাগে সেই শিক্ষার মান নিয়ে!

তবে আমরা শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন না তুলে বরং সেই বিজ্ঞজনের মানসিকতার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারি এবং নিজেদের স্বার্থে তাদের এড়িয়ে চলার জন্য বদ্ধপরিকর হতে পারি । হোক না সে আমাদের তথাকথিত বন্ধু বা আত্মীয় কিন্তু নিজের আত্মসম্মানবোধের চেয়ে বড় সে নিশ্চয়ই নয় । জীবনে সফল হওয়ার জন্য প্রত্যেক ব্যক্তির কিছু নিজস্ব সিদ্ধান্ত থাকে এবং এইসব বাঁধায় অবদমিত না হয়ে আমাদের সেই নিজস্ব সিদ্ধান্তেই অটল থাকতে হবে । ভুল আমাদের হতেই পারে কিন্তু তাই বলে কি নিজের জীবনের সিদ্ধান্ত আমি নিজে নিব না ?

তাই চলুন আমরা সবাই একত্রে বলি আমার জীবন শুধুই আমার, এতে অংশীদারিত্ব থাকবে আমার পরিবারের এবং এতে মতামত দেয়ার অধিকার আছে প্রত্যেকেরই কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তাই হবে যা আমি চূড়ান্ত করব ।