ক্যাটেগরিঃ কৃষি

সয়াবিন

পরিচিতি
সয়াবিন পৃথিবীর একটি অন্যতম প্রধান ফসল। বাংলাদেশে সয়াবিন ফসল হিসেবে এখনও জনপ্রিয় হয়ে উঠেনি কিন্তু সয়াবিন তেল ভোজ্যতেল হিসেবে খুবই জনপ্রিয়। বাংলাদেশে সয়াবিন তেল সবটাই বিদেশ থেকে আমদানী করা হয়। কোন কোন সময় অপরিশোধিত সয়াবিন তেল বিদেশ থেকে নিয়ে এসে এখানে পরিশোধিত করে বাজারজাত করা হয়। সয়াবিনের ইংরেজি নাম Soybean এবং বৈজ্ঞানিক নাম Glycine max.

যে সব জায়গায় বেশি পরিমাণে চাষ হয়
বাংলাদেশের প্রায় সব জেলায় সয়াবিন চাষ করা সম্ভব। কেননা সয়াবিন বছরের সব সময় চাষ করা যায়। তবে রবি মৌসুমে ফলন বেশি হয়। নীচু জমিতেও সয়াবিন চাষ করা সম্ভব। বর্তমানে বাংলাদেশের উপকূলীয় জেলাসমূহে সয়াবিনের আবাদ বেশি হচ্ছে। জেলাগুলো হচ্ছে চাঁদপুর, লক্ষ্ণীপুর, নোয়াখালী, বরিশাল, ভোলা ও পটুয়াখালী। এছাড়া ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল জেলায় বহুদিন হতে সয়াবিনের চাষ হয়ে আসছে।

জাত

বাংলাদেশে এ পর্যন্ত আবাদকৃত সয়াবিন জাত সমূহের মধ্যে ব্রাগ, ডেভিস, সোহাগ, বাংলাদেশ সয়াবিন-৪ (জি-২) এবং বারি সয়াবিন-৫ উল্লেখযোগ্য। তবে বর্তমানে ব্রাগ ও ডেভিস জাতের সয়াবিনের আবাদ হয় না।

১. সোহাগ (পিবি-১)
১৯৯১ সালে সয়াবিনের সোহাগ নামের জাতটি অনুমোদন করা হয়।

জাতের বৈশিষ্ট্য
গাছের উচ্চতা : ২০ থেকে ২৪ ইঞ্চি
বীজ : মাঝারি
শত বীজের ওজন : ১১ থেকে ১২ গ্রাম
বীজের রং : উজ্জ্বল হলদে
বীজে আমিষের পরিমাণ : ৪০ থেকে ৪৫%
তেলের পরিমাণ : ২১ থেকে ২২%
বীজের সতেজতা সংরক্ষণ ক্ষমতা : ভাল
ফসল সংগ্রহ : ১০০ থেকে ১১০ দিন
একর প্রতি ফলন : ৬০০ থেকে ৮০০ কেজি
রোগ সহনশীলতা : জাতটি পাতার হলদে মোজাইক রোগ সহনশীল।

২. বাংলাদেশ সয়াবিন-৪ (জি-২)
বাংলাদেশ সয়াবিন-৪ জাতটি ১৯৯৪ সালে অনুমোদন করা হয়।

জাতের বৈশিষ্ট্য
গাছের উচ্চতা : ২৪ থেকে ২৬ ইঞ্চি
বীজ : আকারে ছোট
হাজার বীজের ওজন : ৬০ থেকে ৭০ গ্রাম
বীজের রং : হলদে
ফসল সংগ্রহ : ১২০ থেকে ২২০ দিন
একর প্রতি ফলন : ৬০০ থেকে প্রায় ৯০০ কেজি
বীজ গজানোর ক্ষমতা : বেশি

৩. বারি সয়াবিন-৫
এ জাতটি ২০০২ সালে জাতীয় বীজ বোর্ড ‘বারি সয়াবিন-৫’ নামে অনুমোদন করে। এ জাতটি বাংলাদেশে সব মৌসুমেই চাষ করা যায়।

জাতের বৈশিষ্ট্য
গাছের উচ্চতা : ১৬ থেকে ২৪ ইঞ্চি
বীজ : আকারে সোহাগের চেয়ে সামান্য ছোট এবং ‘বাংলাদেশ সয়াবিন-৪’ এর বীজের চেয়ে বড়।
শত বীজের ওজন : ৯ থেকে ১৪ গ্রাম
বীজের রং : ক্রীম
জীবন কাল : ৯০ থেকে ১০০ দিন
একর প্রতি ফলন : ৬৫০ থেকে ৮০০ কেজি

সয়াবিন চাষে কী লাভ?
সয়াবিন একটি অল্প সময়ের সীম জাতীয় ফসল। ৯০ থেকে ১১০ দিনের মধ্যে ফসল সংগ্রহ করা যায়। সয়াবিন চাষের ফলে জমির উরর্বতা বৃদ্ধি পায়। সয়াবিনের শিকড়ে এক প্রকার ব্যাকটেরিয়া (অনুজীব) নাইট্রোজেনকে গুটি আকারে ধরে রাখে। এর ফলে পরবর্তী ফসলে ইউরিয়া অর্ধেক পরিমাণে দরকার হয়। সয়াবিন ফসলে রোগ ও পোকার আক্রমণ কম হয় এবং চাষাবাদ পদ্ধতি সহজ। কৃষকরা সয়াবিন বাজারে বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারেন এবং প্রতিদিন সয়াবিনের তৈরি খাদ্য গ্রহণ করে পরিবারের সদস্যদের স্বাস্হ্য সুরক্ষা করতে পারেন।

স্হান নির্বাচন
সেচ ও পানি বের হয়ে যাওয়ার সুবিধা আছে এরকম সমতল জমি সয়াবিন চাষের জন্য ভাল। বাড়ীঘরের আশে পাশে অথবা গাছের ছায়া পড়ে এমন জায়গা সয়াবিন চাষের জন্য ভাল না ।

চাষের জন্য পরিবেশ ও মাটি
সয়াবিন দোঁআশ, বেলে দোআঁশ ও এটেল দোআঁশ মাটিতে চাষের জন্য উপযোগী। জমি অবশ্যই উঁচু হতে হবে এবং খরিফ বা বর্ষা মৌসুমে পানি বের হওয়ার সুবিধা থাকতে হবে। রবি মৌসুমে মাঝারি নীচু জমিতেও চাষ করা হয়।

জমি তৈরি
জমিতে ৪ থেকে ৫টি আড়াআড়ি চাষ ও মই দিয়ে মাটি ভালোভাবে ঝুরঝুরে করে ফেলতে হবে এবং এরপর আগাছা বাছাই করে বীজ বপন করতে হবে।

বপনের সময় ও পদ্ধতি
বাংলাদেশে শীত (রবি) ও বর্ষা (খরিফ) দুই মৌসুমেই সয়াবিন বপন করা যায়। পৌষ মাসে (মধ্য ডিসেম্বর থেকে মধ্য জানুয়ারি) বপন করা ভাল। বর্ষা মৌসুমে শ্রাবণ থেকে মধ্য ভাদ্র মাস পর্যন্ত (মধ্য জুলাই থেকে আগস্ট) বপন করা ভাল। সয়াবিন সারিতে বপন করা ভাল। তবে কলাই বা মুগ ডালের মত ছিটিয়েও বপন করা যায়। সারিতে বপন করলে সারি থেকে সারির দূরত্ব রবি মৌসুমে ১২ ইঞ্চি এবং খরিফ মৌসুমে ১৬ ইঞ্চি রাখতে হয়। গাছ থেকে গাছের দূরত্ব ২ থেকে ২.৫ ইঞ্চি রাখতে হয়।

আন্তঃপরিচর্যা

আগাছা দমন
চারা গজানোর ২০ থেকে ২৫ দিন পর আগাছা দমন করতে হবে। গাছ খুব ঘন থাকলে পাতলা করে দিতে হবে। প্রতি বর্গফুটে রবি মৌসুমে ৫ থেকে ৬টি এবং খরিফ মৌসুমে ৪ থেকে ৫টি গাছ রাখা ভাল।

সেচ ব্যবস্হা
প্রথম সেচ বীজ বপনের ২৫ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে (ফুল ধরার সময়) এবং দ্বিতীয় সেচ বীজ বপনের ৫৫ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে (শুঁটি গঠনের সময়) দিতে হবে।

সারের মাত্রা ও প্রয়োগ
সয়াবিনের জমিতে প্রয়োগের জন্য সারের পরিমাণ নিম্নরূপ।

সারের নাম সারের পরিমাণ/হেক্টর
ইউরিয়া: ৫০ থেকে ৬০ কেজি
টিএসপি: ১৫০ থেকে ১৭৫ কেজি
এমওপি: ১০০ থেকে ১২০ কেজি
জিপসাম: ৮০ থেকে ১১৫ কেজি
জিংক সালফেট: ৮ থেকে ১০ কেজি

লক্ষ্যণীয়:
সবটুকু সার ছিটিয়ে শেষ চাষের সময় জমিতে ভালোভাবে মিশিয়ে দিতে হবে।

অণুজীব সার প্রয়োগ:
এক কেজি বীজের মধ্যে ২.০০ গ্রাম অণুজীব সার ছিটিয়ে দিয়ে ভালোভাবে নাড়াচাড়া করতে হবে। এই বীজ সাথে সাথে বপন করতে হবে। অণুজীব সার ব্যবহার করলে সাধারণত: ইউরিয়া সার প্রয়োগ করতে হয় না।

পোকামাকড়

বিছা পোকা
বিছা পোকা গাছের পাতার সবুজ অংশ খেয়ে পাতা ঝাঝরাঁ করে ফেলে।
গাছের বৃদ্ধি কমে যায় এবং ফলন কমে যায়।
আক্রান্ত পাতাগুলি সংগ্রহ করে পায়ে বা হাতে নিয়ে পিষে মেরে ফেলতে হবে।
নিয়মিত জমি দেখাশোনা করতে হবে।
বুস্টার/রিপকর্ড/সাইপারমেথ্রিন গ্রুপের কীটনাশক প্রতি লিটার পানিতে ১ মিলি এবং মর্টার ৪৮ ইসি ১ মিলি বা এগফস/ক্লোরোপাইরিফস ২মিলি একত্রে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।

ফল ছিদ্রকারী পোকা
এই পোকার শুককীট প্রথমে পাতার সবুজ অংশ খায়। তারপর কুঁড়ি, ফুল এবং শুঁটি আক্রমণ করে।
শুককীটগুলি শুঁটি ছিদ্র করে শরীরের অর্ধেক অংশ শুঁটির ভিতরে ঢুকিয়ে কুরেকুরে বীজ খায়।
শুককীট দেখা দিলে হাত দিয়ে ধরে পিষে মারতে হবে অথবা কেরোসিন দিয়ে পুড়িয়ে মারতে হবে।
প্রতি গাছে দুই বা তার বেশী শুককীট দেখা দিলে রিপকর্ড ১০ ইসি বা বুস্টার ১০ ইসি প্রতি লিটার পানিতে ১ মিলি মিশিয়ে এই পোকা দমন করা যায়।

পাতা মোড়ানো পোকা
সয়াবিন গাছের কিছু কিছু পাতা মোড়ানো পোকা দেখা যায়। সেগুলোর ভিতর একটি করে কীড়া থাকে ও এরা পাতার রস খায়।
মোড়ানো পাতাগুলো হাত দিয়ে ছিঁড়ে পা দিয়ে ডলে শেষ করা যায়।

মাজরা পোকা
জমিতে ৩ থেকে ৪ সপ্তাহ বয়সের কিছু গাছ মরে যাচ্ছে বা শুকনো দেখা যেতে পারে।
গাছগুলোর কান্ডের ভিতর এ পোকার একটি কীড়া থাকে ও এরা কান্ডের ভিতরের অংশ খায়, ফলে গাছ মরে যায়। ১০ লিটার পানিতে ১৫ থেকে ২০ মিলি সুমিথিয়ন, অথবা ৩০ থেকে ৪০ গ্রাম ফিলটাপ/এগ্রিটাপ ও ১০ মিলি বুস্টার/রিপকর্ড একত্রে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।

গার্ডেন বিটল
এ পোকা গাছের কান্ডের মাঝামাঝি দুটি মুখোমুখি রিং তরী করে ও কান্ডের ভিতর ঢুকে ভিতরের অংশ খায়।
বাতাস বা অন্য কিছুর স্পর্শে রিং এর উপরের অংশ ভেঙ্গে পড়ে ও গাছ মরে যায়। স্টার্টার নামক কীটনাশক প্রতি লিটার পানিতে ২ মিলি হারে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।

রোগবালাই

কান্ড ও গোড়া পচা রোগ
এটি একটি ছত্রাক জাতীয় রোগ। এর আক্রমণের ফলে গাছের পাতা হলুদ হয়ে যায়।
আক্রান্ত গাছের কান্ড ও মূলে কালো দাগ দেখা যায়।
আক্রান্ত চারা বা গাছ ধীরে ধীরে শুকিয়ে মারা যায়।
মাটির উপরে অবস্হিত ছত্রাককে গভীর চাষের মাধ্যমে নষ্ট করতে হবে।
পরিচ্ছন্ন চাষাবাদ করতে হবে।
ফসলের অবশিষ্ট অংশ এবং আবর্জনা পুড়িয়ে ফেলতে হবে।
আক্রান্ত গাছের গোড়ার মাটি ম্যানকোজেব জাতীয় ছত্রাকনাশক (প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে) দিয়ে ১৫ দিন পরপর ২ থেকে ৩ বার ভিজিয়ে দিতে হবে।

মোজাইক রোগ
পাতার উপরিভাগে সোনালী বা হলুদ রঙের ছোপ ছোপ দাগ দেখা যায়।
আক্রান্ত গাছ সাধারণত: খাটো হয়।
জাব পোকা এবং কৃষি যন্ত্রপাতি ও কৃষকের মাধ্যমে এই রোগের বিস্তার ঘটে।
আক্রান্ত গাছ দেখা মাত্র তুলে মাটির নীচে পুতে ফেলতে হবে।
বালাই সহনশীল জাতের চাষ করতে হবে।
জাব পোকার মাধ্যমে এই রোগের বিস্তার ঘটে বলে প্রাথমিক অবস্হায় আক্রান্ত পাতা ও ডগার জাব পোকা হাত দিয়ে পিষে মেরে ফেলে দিতে হবে।
নিম বীজের দ্রবন (১ কেজি পরিমাণ অর্ধভাঙ্গা নিম বীজ ১০ লিটার পানিতে ১২ ঘন্টা ভিজিয়ে রাখতে হবে) বা সাবান গুলানো পানি ( প্রতি ১০ লিটার পানিতে ২ চা চামচ গুঁড়া সাবান মেশাতে হবে) স্প্রে করেও এ পোকার আক্রমণ অনেকাংশে কমানো যায়।
প্রতি লিটার পানিতে ১ মিলি ন্যকফেন ২০ ইসি বা ফেনডিথিয়ন ২০ ইসি বা স্টার্টার/পারফেকথিয়ন ৪০ ইসি মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।

ফসল সংগ্রহের পর করণীয়
সয়াবিন গাছ হলুদ হয়ে পাতা ঝরে যাবার পর গাছ কেটে এনে ফসল সংগ্রহ করতে হবে।
৩ থেকে ৪ দিন ভালোভাবে রোদ্রে দিয়ে লাঠি দিয়ে হালকাভাবে পেটালেই সয়াবিন দানা গাছ হতে আলাদা হয়ে যায়।
সয়াবিন ভালোভাবে মাড়াই, ঝাড়াই ও রোদ্রে শুকানোর পর (৩ থেকে ৪ দিন রোদ্রে শুকাতে হবে) গ্রেডিং করে গুদামজাত করতে হবে।
মাড়াইয়ের সময় লক্ষ্য রাখতে হবে যেন অন্য জাতের সাথে মিশে না যায়।
মাটি, খর, ময়লা ইত্যাদি ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে।
ক্রেতাকে আকৃষ্ট করার জন্য পণ্যের উজ্জ্বল রং এবং সাইজ যাতে ভাল হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
বাতাস যাতে ঢুকতে না পারে এমন পাত্রে সয়াবিন সংরক্ষণ করতে হবে।

সংরক্ষণ পদ্ধতি
সয়াবিন পরিষ্কার চাতালে বা চাটাইয়ের উপর পর পর ৩ থেকে ৪ দিন রোদ্রে শুকাতে দিতে হবে।
সয়াবিন দুপুরের কড়া রোদে না শুকানো ভাল।
সয়াবিন শুকানোর পর ঠান্ডা হলে ভালোভাবে পরিষ্কার করে মাটির পাত্র/প্লাষ্টিক ড্রাম/ পলিথিন ইত্যাদিতে ভরে সংরক্ষণ করতে হবে।
পোকামাকড়ের হাত হতে রক্ষার জন্য পাত্রের নিচে ও উপরে শুকনো নিম পাতা বা বিষকাটালীর পাতা গুঁড়া করে দিতে হবে।
খেয়াল রাখতে হবে পাত্র যেন কোনোক্রমেই ফাঁকা না থাকে।

বীজ সংরক্ষণ
বীজ শুকানোর পর সংরক্ষণের জন্য মটকা, ড্রাম, টিন পলিথিন ইত্যাদি ব্যবহার করতে হবে।
পোকামাকড় দমনের জন্য পাত্রের তলদেশ ও উপরিভাগ শুকনো নিম পাতা বা বিষকাটালীর পাতা গুঁড়া করে দিতে হবে।

বংশ বিস্তার
বাংলাদেশে বর্তমানে বীজের মাধ্যমে সয়াবিনের বংশ বিস্তার/চাষাবাদ করা হচ্ছে। এক মৌসুমের বীজ দ্বারা পরবর্তী মৌসুমে সয়াবিন আবাদ করা যায়।

বিকল্প ব্যবহার
সয়াময়দা, সয়াডাল, সয়াবিন ঘুগনি, সয়াবিন চটপটি, সয়া হালুয়া, সয়ামিষ্টি কুমড়ার তরকারী, সয়া আলুর তরকারী, সয়াশাক, সয়া ভাপা পিঠা, সয়াদুধ, সয়া ছানা বা তফু, কাঁচা সয়াবিন সয়া পোলাও এবং কাঁচা সয়াবিন লাউ তরকারী ইত্যাদি।

বাজারজাতকরণ এলাকা
বর্তমানে সয়াবিন যে সকল এলাকায় বেশি আবাদ হচ্ছে সেখানে ক্রেতাগণ চাষীগণের সাথে যোগাযোগ করে সয়াবিন ক্রয় করে নিচ্ছে। এছাড়া নোয়াখালী, লক্ষ্ণীপুর, চাঁদপুর ও ময়মনসিংহের বিভিন্ন বাজারে মৌসুমে সয়াবিন ক্রয়/বিক্রয় হয়ে থাকে।

অধিক ফলনের জন্য পরামর্শ
বাংলাদেশের সয়াবিনের গড় ফলন ৬০০ থেকে ৭০০ কেজি/একর। অথচ একটু চেষ্টা করলে তা ১০০০ থেকে ১২০০ কেজি/একর করা সম্ভব।
ভাল ফলনের জন্য কৃষককে অবশ্যই পরিশ্রমী ও আন্তরিক হতে হবে।
চাষের আগে স্হানীয় কৃষি অফিসে গিয়ে পরামর্শ নিতে হবে।
ভাল বীজ ও সার যথা সময়ে সংগ্রহ করে সময়মতো জমিতে বপন করতে হবে।
সম্ভব হলে জমিতে জৈব সার প্রয়োগ করতে হবে।
সময় মতো আগাছা দমন, সেচ প্রয়োগ, উপরি সার প্রয়োগ এবং পোকামাকড় দমন করতে হবে।

***
তথ্যসূত্র:রুরালইনফোবিডি