ক্যাটেগরিঃ কৃষি

বাংলাদেশের উজ্জ্বল সম্ভাবনাময় ফল আপেল কুল। বাংলাদেশের সব জেলাতেই বিভিন্ন জাতের কুলের চাষ হয়, তবে রাজশাহী, কুমিল্লা, খুলনা, বরিশাল, ময়মনসিংহে উৎকৃষ্ট কুল চাষ হয়। উল্লেখ্য, কুল যখন পাকে তখন অন্যান্য অনেক ফলই পাওয়া যায় না। কুল বিভিন্ন খনিজ দ্রব্য এবং ভিটামিন ‘এ’ ও ‘সি’ এর একটি ভালো উৎস।

কুল সাধারণত পাকা ও টাটকা অবস্থায় খাওয়া যায়। কুল দিয়ে সুগন্ধি চাটনি, আচার ও অন্যান্য মুখরোচক খাবারও তৈরি করা যায়।

আপেল কুলের নাম শুনে অনেকে মনে করেন আপেল কুল নিশ্চয়ই আপেলের মতো বড় আকারের। আসলে এর রঙ, স্বাদ ও গন্ধ অনেকটা আপেলের মতো। এ কুল খেতে আপেলের মতো কচ্‌ কচ্‌ করে এ কারণেই নাম আপেল কুল। আপেল কুলের গড় ওজন ৩০ গ্রাম থেকে ৫০ গ্রাম। কচি অবস্থায় কুলের রঙ গাঢ় সবুজ, আধা পরিপক্ব অবস্থায় লালচে-খয়েরি। পূর্ণ পরিপক্ব বা পাকা অবস্থায় হলুদাভ ও লালচে হলুদদাভ।

কুলের কোনো অনুমোদিত জাত নেই। তবে দেশে যেসব জাতের চাষ হয়ে থাকে এর মধ্যে উলেস্নখযোগ্য হচ্ছে- কুমিলস্না কুল, সাতড়্গীরা কুল, রাজশাহী কুল, ঢাকা-৯০, নারকেলী কুল, আপেল কুল ইত্যাদি।

উল্লিখিত জাতগুলোর মধ্যে আপেল কুল শ্রেষ্ঠত্বের দাবিদার। কারণ এ কুল অন্যান্যজাতের চেয়ে অনেক আগে পাকে। জানুয়ারি মাসের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে ফল সংগ্রহ শেষ হয়ে যায়। রঙ ও স্বাদে অতুলনীয়। আগাম পাকার কারণে বাজার মূল্য ও চাহিদা অনেক বেশি।

বংশবিস্তার
অন্যান্য কুলের মতো আপেল কুলেরও দু’ভাবে বংশবিসত্মার করা যায়। যেমন বীজ থেকে এবং কলম তৈরি করে। কলমের চারা উত্তম কারণ- এতে বংশগত গুণাগত অক্ষুন্ন থাকে। বলয় তালি অথবা ঞ বাডিং যে কোনো পদ্ধতিতেই বাডিং করা যায়। জাত, স্থান ও জলবায়ুভেদে মধ্যমাঘ থেকে মধ্যফাল্গুন (ফেব্রম্নয়ারি) থেকে শুরম্ন করে মধ্য আষাঢ় থেকে মধ্যভাদ্র (জুলাই-আগস্ট) মাস পর্যনত্ম বাডিং করা যায়। তবে বাংলাদেশের জন্য মধ্যবৈশাখ থেকে মধ্যআষাঢ় (মে-জুন) হলো উপযুক্ত সময়।

মাটি ও চাষ পদ্ধতি
যে কোনো ধরনের মাটিতে কুলের সনেত্মাষজনক ফলন পাওয়া যায়। কুলগাছ লবণাক্ততা ও জলাবদ্ধতা উভয়ই সহ্য করতে পারে। তবে ভারী ও সামান্য ড়্গারমুক্ত বেলে দো-আঁশ মাটিতে কুলের ভালো ফলন পাওয়া যায়।

বাগানকারে চাষের জন্য বর্গাকার রোপণ প্রণালী উত্তম। রোপণ দূরত্ব ৫-৬ মিটার। চারা রোপণের এক মাস পূর্বে ১ঢ১ঢ১ মি. আকারের গর্ত তৈরি করে প্রতি গর্তে পচা গোবর ২০-২৫ কেজি, টিএসপি, এমওপি, জিপসাম এবং ইউরিয়া প্রত্যেক প্রকারের সার ২০০-২৫০ গ্রাম মাটির সঙ্গে মিশিয়ে চারা রোপণ করতে হবে।

শুষ্ক মৌসুমে বিশেষত কুল ও ফল ধরার সময়ে একবার সেচ দিলে ভালো ফলন পাওয়া যায়। চারা গাছ হলে প্রথম বছর গাছটির কাঠামো মজবুত করার লড়্গ্যে গাছের গোড়া থেকে ১ থেকে ১.৫০ মিটার উঁচু পর্যন্ত কোনো ডালপালা রাখা যাবে না। এর উপরে শক্ত সামর্থ্য কিছু শাখা-প্রশাখা গাছের অবস্থা অনুযায়ী রাখতে হবে যেন গাছ সুন্দরভাবে বেড়ে উঠতে পারে।

ফলন
দেড় বছরের কলমের চারা থেকে প্রথম বারে ২০-২৫ কেজি আপেল কুল পাওয়া যাবে। এ ছাড়া পূর্ণ বয়স্ক একটি গাছ থেকে ১৫০-২০০ কেজি কুল পাওয়া সম্ভব।

তথ্যসুত্র: আ. জলিল মোল্যা, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা, উপজেলা কৃষি অফিস, টাঙ্গাইল সদর, টাঙ্গাইল