ক্যাটেগরিঃ কৃষি

 

শাকসবজির পোকামাকড় ও রোগবালাই দমন করার জন্য রাসায়নিক কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়। কীটনাশক মানবদেহে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ক্ষতি করে। কীটনাশক প্রয়োগকৃত শাকসবজি খেলে বিভিন্ন রকম রোগ যেমন- ক্যান্সার, অন্ত্রে জটিলতা, ফুসফুসজনিত রোগ, প্রজনন ড়্গমতা হ্রাস, বমি, মাথাঘুরানোসহ জটিল রোগ হয়। রাসায়নিক কীটনাশক ছাড়াও অরাসায়নিক পদ্ধতিতে পোকামাকড়, রোগবালাই দমন করা যায়। যা সম্পূর্ণ স্বাস্থ্য ও পরিবেশসম্মত। শীতকালে শাকসবজি বেশি উৎপাদন হয় এবং রাসায়নিক কীটনাশক বেশি প্রয়োগ করে শাকসবজিকে বিষাক্ত করা হয়। কীটনাশক ছাড়া পোকামাকড় ও রোগ দমন করে বিষমুক্ত শাকসবজি উৎপাদন করার কিছু পদ্ধতি এখানে উল্লেখ করা হলো।

সব শাকসবজি আবাদ

১. চারা অবস্থায় সব শাকসবজির চারার গোড়া ফিল্ড ক্রিকেট ও কাটুই পোকা কেটে দেয়। এ পোকা দমন করার জন্য হালকা সেচ দিলে পোকা মাটির ভেতর থেকে ওপরে উঠে এলে কাস্তে, লাঠি, হাত বা পা দ্বারা মেরে ফেলা যায়। সেচ দেয়া সম্ভব না হলে মাটির গর্তে পানি ঢাললে পোকা এমনিতে মাটির ওপর উঠে চারার গোড়া কাটার সময় মারতে হবে। মাটির গর্তে কেরোসিন ঢেলেও পোকা মারা যায়।

২. গোড়াপচা রোগ: এতে চারার গোড়া পচে গাছ মারা যায়। দমনের জন্য অতিরিক্ত সেচ দেয়া যাবে না। সেচ দেয়ার পর মাটির সত্মর ভেঙে মাটি শুকাতে হবে। রোগাক্রান্ত গাছ জমি থেকে তুলে অন্যত্র ফেলে দিতে হবে।
ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, ওলকপি, শালগম, গাজর ও ব্রকলি : বিভিন্ন ধরনের পোকা এসব সবজির পাতা ও ডগা খায়। ফলে গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। এতে ফুলকপি ও বাঁধাকপির মাথা ছোট হয় বা বাঁধে না।

দমন পদ্ধতি : বন গাজর সরিষা, শালগম এসব উদ্ভিদ সবজি ক্ষেতে রাখা যাবে না। এসব পোকা হাতজাল দ্বারা ধরা যাবে। আঠা লাগিয়ে আটকানো যায়। বাঁধাকপিতে কালোপচন রোগ হয়। এ রোগের লক্ষণ হচ্ছে- চারাগাছের বীজপত্রের কিনারে কালচে দাগ হয়। পাতায় দাগ পড়ে। বীজ ১০ মিনিট গরম পানিতে ডুবিয়ে বপন করলে এ রোগ হয় না। এ ছাড়াও বের্দোমিকচার দেয়া যেতে পারে। বিকৃতমূল রোগ বাঁধাকপিতে হলে মূল স্ফীত হয়ে বিভিন্ন আকারের হয়। এ রোগ দমনের জন্য মাটি শোধন করে নিরোগ বীজতলায় চারা উৎপাদন করতে হবে যাতে সব সবজিতে হলদে হওয়া রোগ হয়। আক্রানত্ম গাছের পাতার নিম্নাংশ বরাবর খানিকটা অংশ সর্বপ্রথম ঢলে পড়ে এবং পরে মরে যায়। এ রোগ দমনের জন্য বীজ শোধন, শস্যপর্যায় অবলম্বন ফানজিসাইড প্রয়োগ এবং রোগাক্রান্ত অংশ কেটে অন্যত্র ফেলে দিতে হবে। এ ছাড়া পাতায় দাগ রোগ হলে এসব সবজি পাতায় গোলাকার হলুদ দাগ পড়ে। রোগ নিয়ন্ত্রণের জন্য বীজ গরম পানিতে ডুবিয়ে রেখে পরে বপন করতে হবে। ডাউনি মিলডিউ রোগে সবজিগুলোর পাতায় সাদা পাউডারের মতো আবরণ পড়ে। রোগ দমনের জন্য বীজ গরম পানিতে ডুবানো, শস্যপর্যায় অবলম্বন, পরিষ্কার বীজতলায় চারা উৎপাদন ও সরিষা জাতীয় আগাছা দমন করতে হবে।

লাউ, মিষ্টিকুমড়া, চালকুমড়া, শসা, ঝিঙা, চিচিঙা, করলা
পোকা : রেড পাম্পকিন বিটল এসব সবজি গাছের ফুল, ফল, পাতা, কচি ডগা গর্ত করে খায়। ছাই ছিটিয়ে সাময়িক দমন করা যায়। হাত দিয়ে ধরে মারা যায়। স্ত্রী মাছি পোকা কচি সবজি ছিদ্র করে ডিম পাড়ে। হাতজাল ও ফাঁদের সাহায্যে এই পোকা আটকানো যায়।
রোগ : পাউডারি মিলডিউ পাতার ওপর বিড়্গিপ্ত সাদা সাদা দাগ হয়। লাউ ও কুমড়াজাতীয় আগাছা দমন করতে হবে। আক্রানত্ম পাতা ছিঁড়ে বা পুড়িয়ে দিতে হবে। ডাউনি মিলডিউ : আক্রান্ত পাতায় নানা আকারের দাগ পড়ে। পাতা কুঁচকে যায়। এ রোগ দমনে বোর্দোমিকচার প্রয়োগ করা যেতে পারে। বারি লাউয়ের জাত চাষ করলে এ রোগ হয় না।

টমেটো ও বেগুন
পোকা : ফলছেদক পোকা- বেগুন ও টমেটো কচি অবস্থায় ছিদ্র করে রস খায়। ফলে টমেটো নষ্ট হয় বা পচে যায়। এর লার্ভাকচি ডগাও খেয়ে ফলে গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। এ পোকা দমনের জন্য আক্রান্ত ডগা ও ফল ছিঁড়ে কীড়া মারতে হবে। ক্ষেত সব সময় পরিষ্কার রাখতে হবে। ছাই ছিটিয়ে, আলোর ফাঁদ দিয়ে ও হাতজাল দিয়ে মাছি আটকানো যায়। কাজলা ও ঝুমকা জাতের বেগুনে এ পোকা আক্রমণ করে না বলে এগুলো চাষ করা উচিত।

রোগ : নেতিয়ে পড়া রোগ- চারা অবস্থায় ছত্রাক দ্বারা আক্রান্ত হয়ে গাছ নেতিয়ে পড়ে। বীজ বপনের পরেই বীজ ছত্রাক দ্বারা আক্রান্ত হলে চারা হয় না। এ রোগ দমনে যা করতে হবে তাহলো- হালকা ঝুরঝুরে মাটিতে বীজ বপন করা, সেচ না দেয়া, মাটি সব সময় শুকনা রাখা। বীজ ও মাটি শোধন করে বীজ বপন করা।

লেইট ব্লাইট রোগ : পাতা, কাণ্ড ও ফলে সাদা সাদা দাগ পড়ে। এ রোগ দমনের উপায় হলো- আলু ও টমেটো পাশাপাশি জমিতে চাষ না করা। আক্রানত্ম অংশ ছিঁড়ে পুড়িয়ে ফেলা। আরলি বস্নাইট রোগ : চারা গাছের কাণ্ড এবং বড় গাছের পাতায় বাদামি দাগ পড়ে। এ রোগ দমনের জন্য আগাছা দমন, সুষম সার ব্যবহার ও প্রয়োজন মতো সেচ দিতে হবে। বীজ শোধন করে বপন করতে হবে।
ফিউজেরিয়াম উইল্ট : টমেটোর চারা গাছের বয়স্ক পাতাগুলো নিচের দিকে বেঁকে ঢলে পড়ে এবং মারা যায়। এ রোগ দমনের জন্য মাটি শোধন ও বীজ শোধন করে বীজ বপন করতে হবে। রতন, অপূর্ব ও লালিমা জাতের টমেটোতে ঢলে পড়া রোগ হয় না।

ব্যাকটেরিয়াল উইল্ট : আক্রানত্ম গাছের পাতা ও ডাঁটা খুব দ্রম্নত ঢলে পড়ে এবং গাছ মারা যায়। আক্রানত্ম জমিতে ৪-৫ বছরের মধ্যে তামাক, আলু, বেগুন, মরিচ ও টমেটোর চাষ করা যাবে না। আক্রান্ত জমিতে বীজতলা করা যাবে না। ২-১টি গাছে রোগ দেখার সাথে সাথে তুলে পুড়ে ফেলতে হবে। মাটি শোধন করে বীজ বপন করা উচিত। রতন, বারিটমেটো-৩, চৈতি, অপূর্ব, লালিমা জাতের টমেটো চাষ করলে এ রোগ হয় না।

অ্যানথ্রাকনোজ রোগ : টমেটো ও বেগুনে কালো দাগ পড়ে। দাগগুলোতে পচন ধরে ফল পড়ে যায়। যেসব জমিতে এই রোগ হয় সেখানে ৩-৪ বছর পর পর টমেটো চাষ করা উচিত।

মোজাইক রোগ : টমেটোর পাতায় সবুজ হলদে দাগ পড়ে। এতে ফলন কম হয়। দমনের জন্য আক্রানত্ম গাছ তুলে পুড়িয়ে ফেলতে হবে। জমিতে কাজ করার সময় বিড়ি সিগারেট খাওয়া উচিত না। ক্ষেত পরিষ্কার রাখতে হবে। জাবপোকা ছাই দিয়ে দমন করতে হবে।

মড়ক রোগ : বেগুন গাছের কাণ্ডে ক্যাঙ্কার হয়। বাকল খসে পড়ে, বাতাসে ভেঙে পড়ে। বেগুন শুকিয়ে যায়। পাতায় দাগ পড়ে। গাছ মারা যায়।

দমনের জন্য নিরোগ বীজ বপন করতে হবে। কালো ও কুঁচকানো বীজ বপন করা উচিত নয়। পাতা ছোট হওয়া রোগ- ভাইরাসের আক্রমণে পাতা ছোট হয়। গাছ বড় হয় না। পাতা হলুদ ও সাদা হয়। পাতায় কাঁটা থাকে না। পাতা মসৃণ থাকে।
দমনের জন্য ধুতরাজাতীয় গাছ ধ্বংস করা। আক্রান্ত গাছ তুলে পুড়ে ফেলতে হয়। শিম, বরবটি, ফরাসি শিম, মটরশুঁটি,

পোকামাকড়
জাবপোকা: ফলের কচি অংশের রস চুষে খায়। এতে ফলন খুব কম হয় ঝাঁক ধরে গাছের কচি ডগায় বসে রস খায়। দমনের জন্য- লেডিবার্ড বিটল, টাইগার বিটল নামক শিকারি পোকা গাছে রাখা। এরা জাবপোকার লার্ভা খায়। ছাই ছিটিয়ে, পানি স্প্রে করে এ পোকা দমন করা যায়।

ফলছেদক পোকা : শিমের কুঁড়ি, ফুল ও ফল খেয়ে ছিদ্র করে ভেতরে ঢুকে। ভেতরে ঢুকেও ফল খায় ও মলত্যাগ করে।
দমনের জন্য আক্রান্ত শিম তুলে মাটিতে পুঁতে ফেলা। শুককীট পরজীবী দ্বারা আক্রান্ত হয়। রেড মাইট : গাছের পাতা ও ফুলের কুঁড়ি থেকে রস চুষে খায়। দমনের জন্য গাছ তুলে পুড়ে ফেলা। সঠিক দূরত্বে গাছ রোপণ করতে হয়। অ্যানথ্রাকনোজ : শিমে বাদামি কালো আঁকাবাঁকা দাগ পড়ে। দমনের জন্য ফসল উঠানোর পর পরিত্যক্ত কাণ্ড, পাতা পুড়ে ফেলা নিরোগ বীজ বপন করা। তে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

মরিচা রোগ : গাছের কাণ্ডে পাতায় ফলে সাদা হলুদ বর্ণের দাগ পড়ে ও পাতা শুকিয়ে যায়। দমনের জন্য রোগ প্রতিরোধী জাত ফোরি, গ্রিন, ক্রানফ্রিজার, সেমিনোর জাতের শিম চাষ করা যায়। সুস্থ, নিরোগ বীজ বপন করা এবং আক্রানত্ম অংশ ছিঁড়ে পুড়ে ফেলে এ রোগ দমন করা যায়। পাতার কোণাচে দাগ রোগ- পাতা আঁকাবাঁকা ছোট ছোট কোণাচে হয়। পাতায় গাঢ় বাদামি দাগ পড়ে। শিম ঝরে পড়ে। সুস্থ ও নিরোগ বীজ বপন করা। রোগ প্রতিরোধী জাত যেমন- স্কারনেট, রানার, বারিশিম-১, নেভিবিন, স্কোটিয়া চাষ করা।

গোলআলু
সুতলি পোকা : ক্ষেত ও সংরক্ষণাগারে আক্রমণ করে। আলুর ভেতরে প্রবেশ করে আলু খায়। দমনের জন্য আলু বড় হওয়ার সময় কয়েক দিন পর পর সেচ দিয়ে গাছের গোড়া মাটি দিয়ে ঢেকে দিতে হবে যাতে স্ত্রীমথ আলুর ওপর ডিম না পাড়তে পারে। ড়্গেত সব সময় আগাছামুক্ত পরিষ্কার রাখা। আলু তুলে দ্রুত ক্ষেত থেকে সরাতে হবে। গুদামজাত করার আগে আলু বাছতে হবে। সংরক্ষণাগারের তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ও বায়ু নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

লেইট ব্লাইট : আলুগাছের পাতায় ও কিনারে বাদামি ও কালো দাগ পড়ে। পাতা পচে গাছ মরে যায়। দমনের জন্য রোগমুক্ত এলাকা থেকে বীজ সংগ্রহ করা বোর্দ মিকচার প্রয়োগ করা। গাছের গোড়ার মাটি উঁচু করে দেয়া। আক্রান্ত গাছ তুলে পুড়ে ফেলা দরকার।

আরলি ব্লাইট : পাতায় গোলাকার কালো দাগ পড়ে। আলুর আকার ছোট হয়। দমনের জন্য সুস্থ গাছ থেকে সংগৃহীত বীজ বপন করা। আক্রানত্ম গাছ পুড়ে ফেলা। আক্রান্ত জমিতে ২-৩ বছরের মধ্যে আলু চাষ না করা। টমেটো আশপাশের জমিতে চাষ না করা। বোর্দ মিকচার ছিটানো এসব ব্যবস্থা নিতে হবে।

সাধারণ স্ক্যাব রোগ : আলুর ওপর বাদামি দাগ পড়ে এবং গভীরে যায়। আলুর ত্বক খসখসে হয়। দমনের জন্য রোগমুক্ত, সুস্থ বীজ বপন করতে হয়। রোগ প্রতিরোধী জাত সেনেকা, কেউগা, অন্টারিও বপন করা উচিত। কম অমস্নযুক্ত (৫-৫.৮) মাটিতে আলু চাষ করা নিষেধ।

পাউডারি স্ক্যাব : কচি আলুতে ছোট ছোট দাগ পড়ে। অনেক দাগ মিলে বাদামি বড় দাগের সৃষ্টি হয়। দমনের জন্য রোগমুক্ত বীজ বপন করতে হয়।

ঢলে পড়া রোগ : পাতা ও শিরা হলুদ ও বাদামি রঙ হয়। পরে কাণ্ড ও পাতা ঢলে পড়ে। শিকড় পচে গাছ মরে যায়। আলু বাদামি রঙের হয়।

দমনের জন্য সুস্থ আলু বীজ বপন করা। মাটি শুকনা ও ঝুরঝুরে রাখা প্রয়োজন। বস্নাক স্কার্ফ রোগ : চারাগাছের ডগায় ও গোড়ায় বাদামি দাগ পড়ে। চারা মারা যায় অথবা গাছ খুব দুর্বল হয় এবং ডগা ঝোপালো হয়।

দমনের জন্য বীজ শোধন করে বপন করতে হবে। আলু মাটির অল্প নিচে লাগাতে হয়।

রিঙরট রোগ : মৌসুমের শেষে আক্রান্ত গাছ ঢলে পড়ে। পাতা হলুদ হয় ও মরে যায়। আলু পরিপক্ব হয় না। এই আলু বেশি দিন সংরক্ষণ করা যায় না। দমনের জন্য আলু বীজ শোধন করতে হবে। শীত প্রধান এলাকা থেকে আলু বীজ সংগ্রহ করতে হবে।

শুষ্কপচা রোগ : আক্রান্ত আলু খোসা গাঢ় রঙ হয় এবং চক্রাকারে কুঞ্চন দেখা দেয়। আলুর ভেতরে শুকিয়ে যায়। শুকনা অংশ শক্ত মনে হয়। দমনের জন্য আলু ড়্গত করা যাবে না। আলু জমি থেকে সংগ্রহের কয়েকদিন পর খোসা শক্ত হলে হিমাগারে রাখতে হবে। হিমাগারে তাপমাত্রা ৪০-৫০ ডিগ্রি ফা. নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। আলুবীজ শোধন বা নীরোগ করার পদ্ধতি আলুবীজ ৩২০ ভাগ পানির সঙ্গে ১ ভাগ ফরমালিন মিশিয়ে তাতে আলু ডুবাতে হয়। এরপর আলু তুলে ভিজা বসত্মা দ্বারা দুই ঘন্টা ঢেকে রাখতে হবে।

ঢেঁড়স
পোকা : ফলছেদক পোকা (টমেটো ও বেগুনের ফলছেদক পোকার অনুরূপ)

উইল্ট রোগ : আক্রান্ত গাছ হলদে ও খাটো হয়। পরে পাতা গুটিয়ে গাছ ঢলে পড়ে মারা যায়। এর রোগ দমন করা যায় না। রোগ প্রতিরোধী জাত চাষ করা যেতে পারে।

হলুদ শিরা রোগ : পাতার শিরা হলদে, ছোট ও খর্বাকৃতি হয়। ফুল, ফল কম এবং শক্ত হয়। দমনের জন্য রোগ প্রতিরোধী জাত বারি ঢেঁড়স-১ চাষ করে রোগ নিয়ন্ত্রণ করা যায়। উক্ত পদ্ধতিতে রোগবালাই দমন ছাড়াও সব শাকসবজির জন্য কিছু সাধারণ পদ্ধতি আছে। যেমন –
১. লেডিবার্ড বিটল, মেরিডবাগ, মাকড়সা, বোলতা, টাইগার বিটল, ব্রাকনিড ইত্যাদি বন্ধু পোকা ক্ষেতে পালন করলে এরা ক্ষতিকর পোকা ধ্বংস করে।
২. জমির ভেতরে ও বাইরে আগাছা পরিষ্কার করলে ক্ষতিকর পোকা আশ্রয় না পেয়ে অন্যত্র চলে যায়।
৩. সুষম মাত্রায় সার প্রয়োগ। যেমন- সবজিতে ইউরিয়া সার বেশি দিলে লেডিবার্ড বিটল আক্রমণ কম করে।
৪. সবজি সারিতে ও সঠিক দূরত্বে রোপণ করলে বাদামি গাছফড়িং আক্রমণ কম করে।
৫. মৌসুমের শুরুতে শাকসবজির বীজ বপন করলে রোগবালাই কম হয়।
৬. গভীরভাবে জমি চাষ করে রোদে শুকালে পোকা ও রোগ কম হয়।
৭. পর্যায়ক্রমে ফসল চাষ করলে পোকা ও রোগ কম হয়।
৮. আলোর ফাঁদ পেতে, জমিতে ডাল/কঞ্চি পুঁতে, হাতজাল দিয়ে, গর্তে পানি বা ধোঁয়া দিয়ে পোকা দমন করা যায়।
৯. সেঙ ফেরোমন ফাঁদ : প্রজননের সময় হলে স্ত্রী পোকার দেহ থেকে ফেরোমেন নামক রাসায়নিক পদার্থের গন্ধ বের হয়। এই গন্ধে পুরুষ পোকা আকৃষ্ট হয়ে স্ত্রী পোকার সাথে প্রজননে অংশ নেয়। বিজ্ঞানীরা এই তত্ত্বের ভিত্তিতে ফেরোমন রাসায়নিক পদার্থ তৈরি করে কৌটায় ভর্তি করে সবজি ক্ষেতে রাখে ফেরোমনের গন্ধে পুরুষ পোকা কৌটার চারপাশে ঘুরে ডিটারজেন্ট মিশ্রিত পানির মধ্যে পড়ে মারা যায়। এতে প্রজনন ব্যাহত হয়ে পোকার বংশবৃদ্ধি ব্যাহত হয়।
১০. নিম, নিশিন্দা, বিষকাটালী, তামাক ইত্যাদি ভেষজ কীটনাশকের মাধ্যমে পোকামাকড় দমন করা যায়। সুতরাং স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর রাসায়নিক কীটনাশক প্রয়োগ না করে উক্ত অরাসায়নিক পদ্ধতিতে পোকামাকড় ও রোগবালাই দমন করে বিষমুক্ত শাকসবজি উৎপাদন করা যায়।

তথ্যসূত্র: কৃষিবিদ ফরহাদ আহাম্মেদ, প্রভাষক (কৃষি শিক্ষা), শহীদ জিয়া মহিলা ডিগ্রি কলেজ, ভূঞাপুর, টাঙ্গাইল