ক্যাটেগরিঃ কৃষি

খাদ্য, পুষ্টি, পরিবেশ উন্নয়নে দেশজ ফল ও উপকারী বৃক্ষরোপণ এবং সম্প্রসারণের বাস্তবভিত্তিক কলাকৌশল এখানে তুলে ধরা হলো-

১. ব্লক পর্যায়ে কর্মসূচি
কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের আওতাধীন সারা দেশে প্রায় ১২ হাজার ৫০০টি ব্লক আছে।

ক. প্রতি ব্লকে ১০০ পরিবার বিশিষ্ট একটি গ্রাম নির্বাচন করে বাড়ির আঙিনায় বৃক্ষরোপণ প্রথমে নির্বাচিত গ্রামের ১০০টি পরিবার চিহ্নিত করে প্রতিটি বাড়িতে কি ধরনের গাছ আছে তা জরিপ করে নিতে হবে। অপ্রয়োজনীয় গাছগুলো ছাঁটাই করে নতুনভাবে বৃক্ষরোপণ উপযোগী করে তুলতে হবে। নির্বাচিত বাড়িগুলোকে দুটি মডেলে ভাগ করা যেতে পারে-

মডেল-১ : প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র চাষির সীমিত সুযোগ বিশিষ্ট বাড়ি এখানে রোপণযোগ্য গাছপালা হতে পারে- কদবেল কলম ১টি, বরিশালী আমড়া ১টি, থাই পেয়ারা ২টি, কাগজি লেবু ২টি, সরিফার চারা ১টি, সজিনা বারমাসি ২টি কাটিং এবং পেঁপে চারা ২টি মিলে ১১টি।

মডেল-২ : মাঝারি ও বড় পরিবারের বাড়ি যেখানে বেশি গাছ রোপণ সুবিধা আছে এখানে রোপণযোগ্য গাছপালা হতে পারে- আম্রপালী আমের কলম ২টি, লিচু ১টি, লোকাল উন্নত বরই ১টি, কদবেল কলম ১টি, উন্নত পেয়ারা ৩টি, কাগজি লেবু ৩টি, আমড়া ১টি, শরিফা ২টি, সজিনার ডাল ২টি, পেঁপে চারা ২টি এবং খাটো জাতের নারিকেল ২টি মিলে ২০টি।
এলাকার অবস্থিতি, বিশেষ ফল আবাদের অনুকূল পরিবেশ, বাজারজাতকরণ ও ভালো দাম প্রাপ্তির বিষয়টি বিবেচনায় এনে ফল গাছ নির্বাচনে পরিবর্তন এবং কমবেশি হতে পারে। এ ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে সারাদেশে প্রায় সোয়া কোটি নতুন ফল গাছ রোপণ সম্ভব হবে এবং প্রায় সাড়ে ১২ লাখ পরিবার উপকৃত হবে।
খ. বাড়ির আঙিনায় আগের লাগানো গাছগুলোর বিশেষ পরিচর্যা গ্রহণ পরিবারভিত্তিক জরিপের ভিত্তিতে প্রাপ্ত তথ্য মতে আগের লাগানো ফল গাছগুলোর বিশেষ পরিচর্যা গ্রহণ, সার প্রয়োগ, ডালপালা ছাঁটাই, অনুন্নত গাছগুলোকে উন্নতকরণ ব্যবস্থা নিতে মোটিভেশন ব্যবস্থা কার্যকর করা গেলে এসব গাছে প্রায় ৫০% বেশি ফলদানে সক্ষম করা সম্ভব হবে।

গ. বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় নির্বাচিত গ্রামে ফল বৃক্ষরোপণ বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় সারাদেশে গ্রামীণ বসতবাড়িগুলোতে ফল বৃক্ষরোপণের যথেষ্ট সুযোগ আছে। এর মধ্যে দেশের সংগঠিত আইপিএম কাব (প্রায় ১০ হাজার), এনএটিপি আওতায় সংগঠিত চাষি দল (সিআইজি সাড়ে ১৩ হাজার), ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ মডেলে বৃক্ষরোপণ, সবজি চাষ, সীমিত আকারে প্রক্রিয়াজাতকরণ (আচার-চাটনি) ইত্যাদি সম্পৃক্তকরণের মাধ্যমে ফলবৃক্ষ সম্প্রসারণে বিপ্লব আনয়ন সম্ভব হবে।

২. অফিস ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ফল উপকারী বৃক্ষ রোপণ বিভিন্ন অফিস প্রাঙ্গণে মোটামুটিভাবে গাছপালা লাগানো আছে। কিন্তু এগুলো পরিকল্পিত নয়, এমনকি তা থেকে ভবিষ্যতে কি সুফল আহরণ করা হবে তার তেমন কোন চিন্তাভাবনা পরিকল্পনায় ছিল না এবং এখনও আছে বলে মনে হয় না। কৃষি বিভাগ, সংশ্লিষ্ট অফিস, বিভিন্ন পর্যায়ের (জেলা-উপজেলা) ও খামারগুলোতে সুদৃশ্য গাছপালা দিয়ে মোটেও সুশোভিত নয়। কাজেই উপজেলা, জেলা পর্যায়ের অফিসগুলোতে পরিকল্পিতভাবে ফল ও ‘মাল্টিপারপাস ট্রি’ দিয়ে ঢেলে সাজাতে হবে। এসব স্থানে সুপারিশকৃত গাছগুলো হতে পারে- আম, জাম, কাঁঠাল, জলপাই, কামরাঙা, লটকন, আমড়া, তেঁতুল, সফেদা, ডেউয়া, ডুমুর, খুদিজাম, আমলকী, নিম, শিমুল, বট, পেকুড়। প্রতিটি অফিসে কমপক্ষে ২০-৫০টি এবং অফিস ক্যাম্পাস-কমপ্লেক্সে কমপক্ষে ১০০-৩০০টি বৃক্ষরোপণ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে।

ঘ. বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান-স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, মসজিদ, ঈদগাহ, এতিম খানায় ফল বৃক্ষরোপণ প্রতি জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন কাউন্সিল আওতাধীন এ ধরনের প্রতিষ্ঠানে উপরোক্ত বিভিন্ন ধরনের ‘মাল্টিপারপাস ট্রি’ লাগানোর পরিকল্পনা নিয়ে তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া জর্বরি। বিভিন্ন স্তরের কৃষি বিভাগের সুনির্দিষ্ট অর্থায়নে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া একান্ত দরকার। এসব স্থানে অবস্থাভেদে প্রায় ৫০-৩০০টি উপযোগী বৃক্ষরোপণ কার্যকর করা সহজ হবে। কমিউনিটির ছেলেমেয়েরা এর সুফল ভোগ করার সুযোগ পাবে।

ঙ. রাস্তা-রেললাইন-বাঁধের ধারে-গোরস্থানে-শ্মশানে উপকারী বৃক্ষরোপণ এসব স্থান চিহ্নিত করে জেলা-উপজেলা-ব্লক পর্যায়ের কর্মকর্তাকে সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব অর্পন করে পরিকল্পিত উপায়ে উপকারী বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম আন্দোলন সফল করা সম্ভব হবে। এসব স্থানে গাছ লাগাতে হলে প্রথমে যা বিবেচনায় আনতে হবে তা হলো-

১. নির্বাচিত গাছ গরু-ছাগলে খাবে না যেমন- তাল, খেজুর, বরই, সরিফা, বাবলা, শিমুল পরিকল্পনায় নেয়া;
২. নির্বাচিত গাছ উচ্চতায় ৬ ফুটের ঊর্ধ্বে হবে গাছগুলো হতে পারে; কাঁঠাল, জাম, জলপাই, আমড়া, আম (গুটি); লম্বা গাছ গরু ছাগলের নাগাল থেকে রক্ষা পাবে।
৩. পাখির আশ্রয় ও খাদ্যের উৎস বিবেচনায় এনে বট, পেকুড়, ডুমুর গাছ রোপণ ব্যবস্থা করা।

একেক স্থানে বৃক্ষরোপণের জন্য সুনির্দিষ্ট একজনকে দায়িত্ব অর্পন করতে হবে।
রাস্তা-রেললাইন-বাঁধে বৃক্ষরোপণের মডেল আকারে প্রায় দুইশত মিটারে ‘মাল্টিপারপাস ট্রি’ লাগাতে হবে। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট সংস্থা (বনবিভাগ, হাইওয়েজ, এলজিইডি, উপজেলা-ইউনিয়ন পরিষদ) মডেলটিকে অনুকরণ করে সমগ্র স্থানে গাছ লাগাতে অনুপ্রাণিত হবে। বর্তমানে ইপিল-ইপিল, আকাশিয়া, মিনজিয়াম, ইউকেলিপটাস, মেহগনি রোপণের যে বিপুল প্রবণতা চলছে তা কিছুটা হলেও হ্রাস পাবে।

বর্ষাকালে বা বর্ষার শেষভাগে গাছ লাগানোর যে বর্তমান প্রথার প্রচলন আছে তাতে গাছ বাড়তে শুরু করার পর পরই ড্রাই বা শীত মৌসুম এসে যায়। তাতে গাছের মৃত্যুর হার বাড়ে। এ জন্য জুন মাসের মাঝামাঝির মধ্যেই গাছ রোপণ কাজ সমাধা করতে হবে।

চ. বৃক্ষরোপণ খাতে বরাদ্দকৃত অর্থের সঠিক ব্যবহার এই খাতে প্রতি বছর, প্রতি উপজেলায় প্রায় ৪০ হাজার টাকা সরকারিভাবে অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়। এ অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহার করে, কত সংখ্যক, কি ধরনের বৃক্ষ, কোথায় রোপণ করা হলো তার একটি রেকর্ড থাকা ও মনিটর করা একান্ত প্রয়োজন।

ছ. মাননীয় এমপিদের সম্পৃক্তকরণ
নিজ এলাকার উন্নয়নের জন্য প্রতি এমপির অনুকূলে সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত ১৫ কোটি টাকার কিছু অংশ ফল বৃক্ষ সম্প্রসারণের কাজে ব্যবহার করা যায়। এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে উপজেলার কৃষি কমিটিকে এ দায়িত্ব প্রদান করা যেতে পারে।

জ. ওনারশিপ ও পরিচর্যা দায়িত্ব
রাস্তা-রেললাইন-বাঁধের ধারে রোপিত গাছের পরবর্তী পরিচর্যার সুবিধার্থে স্থানীয় কৃষক সংগঠনগুলোকে-গরিব পরিবারকে প্রায় ২-৩শ’ মিটার লম্বা এলাকায় রোপিত বৃক্ষগুলোর পালন ও তার উপকারভোগ করার সুবিধা দেয়া হলে সবদিক দিয়ে ভালো হবে।

এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নে যেসব সহায়তা প্রয়োজন হবে তা হলো-

বৃক্ষরোপণ পরিকল্পনা অনুযায়ী চাহিদাকৃত গাছের চারা-কলম, ইউনিয়ন-উপজেলা পর্যায়ে প্রাপ্তি সুবিধা নিশ্চিত করা। চাষিপর্যায়ে চাহিদাকৃত চারা-কলম হ্রাসকৃতমূল্যে সরবরাহের ব্যবস্থা নেয়া অথবা বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে-কৃষক সংগঠনের মাধ্যমেও এ সুবিধা প্রদান করা যেতে পারে। রাস্তা-রেললাইন-বাঁধের ধারে বৃক্ষরোপণের ক্ষেত্রে ইউনিয়ন-উপজেলা পরিষদের ব্যয়ভার বহণ করতে পারে।

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণের বেলায় সংশিষ্ট প্রতিষ্ঠান তার খরচ বহন করতে পারে।স্থানীয় কৃষক কাব বা সংগঠনকে সরকারিভাবে কিছু অর্থবরাদ্দ দিয়ে বিশেষ বিশেষ এলাকায় সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করে বৃক্ষরোপণ দায়িত্ব দেয়ার বিষয়টি বিবেচনায় আনা যায়।সারাদেশে অনেক ডোনার আছেন যারা বিভিন্ন সেবামূলক কাজে সহায়তা দিয়ে থাকেন। তাদের চিহ্নিত করে প্রস্তাবিত অংশবিশেষের দায়িত্ব প্রদান করলে সমাজ ও পরিবেশের উন্নয়ন হবে বলে ধারণা করা যায়।

৩. টেকনিক্যাল ফোল্ডার : প্রস্তাবিত স্থানগুলো বৃক্ষ রোপণ কার্যক্রম সফল করতে হলে দরকার যথেষ্ট সংখ্যক ‘গাছের চারা রোপণ ও তার পরিচর্যা’ শিরোনামে টেকনিক্যাল ফোল্ডার বিতরণ ব্যবস্থা নেয়া। অভিজ্ঞ লেখকের দ্বারা লিখিত ফোল্ডার ছাপানোর দায়িত্ব ‘কৃষি তথ্য সার্ভিসে’ নিতে পারে।
৪. পাবলিসিটি : বর্তমান বিশ্বায়নের প্রেক্ষাপটে পরিবেশের উন্নয়নের দিকটি প্রাধান্য পাচ্ছে। এ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে পরিকল্পিতভাবে সারাদেশে বৃক্ষ রোপণের সুফল আহোরণে বিভিন্ন মিডিয়া ব্যবহার করে গণসচেতনতা আনয়ন একান্ত প্রয়োজন।

৫. মনিটরিং : শুধু কর্মসূচি দিলেই হবে না এর সফল বাস্তবায়নে নিবিড় মনিটরিংয়ের একান্ত প্রয়োজন। সারাদেশে প্রায় ১ কোটি ডিজেল ভর্তুকি কার্ড হোল্ডার রয়েছে। এদের প্রত্যেককে ১০টা করে সুনির্দিষ্ট ফলের চারা রোপণের দায়িত্ব দেয়া গেলে এবং এর অনুকূলে সামান্য অর্থ সহায়তা দেয়া হলে, এ ক্ষেতের রাতারাতি সারাদেশে ফল বৃৰরোপণে এক বিপ্লব সাধিত হবে। এ ব্যবস্থা কার্যকর করতে পারলে বছরে প্রায় ১০ কোটি ফল বৃক্ষরোপণ ও পালন করা সম্ভব হবে।

৬. আগামী বছরের জন্য সুনির্দিষ্ট ফলের-উপকারী বৃক্ষে চারা-কলম তৈরি ও সংরক্ষণ ব্যবস্থাপনা : দেশে বর্তমান সময়ে সরকারিভাবে যে কমিটমেন্ট আছে তাতে সমাজের চাহিদা, রাস্তার ধারে অপরিকল্পিত ও অনাকাঙ্খিত বৃক্ষরোপণ প্রতিরোধ, ফেলে রাখা বিশাল এলাকায় বৃরোপণ সুবিধা আহরণ, সর্বোপরি পরিবেশের উন্নয়নে আগামী বছর উপকারী বৃক্ষে চারা-কলমের চাহিদা হবে বর্তমানের চেয়ে অনেক গুণ বেশি। বর্তমান ব্যবস্থাপনায় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ এবং লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দুর্বলতা হেতু আগামী দিনের ব্যাপক চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে না। তাই বর্তমানে চারা-কলম উৎপাদন-বিতরণ-গতিকে বেগবান করতে যা করণীয় হবে তা হলো-

সরকারি নার্সারি-খামার-উদ্যান কেন্দ্রগুলোতে চাহিদাভিত্তিক ব্যাপক হারে চারা-কলম উৎপাদন ল্য পুনঃনির্ধারণ এবং বাস্তবায়ন উদ্যোগ ফরেস্ট নার্সারিগুলোতে বড় মাপের পলিথিনে, বড় আকারের ‘মাল্টি পারপাস’ বৃরে (কাঁঠাল, জলপাই, জাম, আমড়া, শিমুল, নিম, ডেউয়া, লটকন, চালতা, তেঁতুল, বট, পেকুড়, ডুমুর, তাল, খেজুর, চৈতা আতা, বিলাতিগাব) চারা তৈরি করে তার একটা চাহিদা কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে অনতিবিলম্বে দেয়ার বিষয়টি বিবেচনায় আনা যায়।
ডিএই-হর্টিকালচার সেন্টার-নার্সারি এবং বিএডিসি ফার্মগুলোতে অপোকৃত বড় আকারের পলিব্যাগে যেসব চারা তৈরিতে গুরুত্ব দিতে হবে তা হলো- আমের গুটি (কলম নহে), জাম, নারিকেল, কাঁঠাল, জলপাই, আমড়া, বেল, লটকন, চালতা, ডেউয়া, তেঁতুল, ডুমুর, তাল, খেজুর, চৈতা-আতা, সরিফা, কামরাঙা, অরবরই, করমচা, লেবু, পেঁয়ারা, ডালিম, কমলা, সাতকড়া, বিলিম্বি, বিলাতি গাব, নিম, শিমুল এবং স্থানীয় চাহিদাভিত্তিক প্রচলিত-অপ্রচলিত ফল বৃক্ষ।

এসব চারা তৈরিতে অবশ্যই বাছাইকৃত মাতৃগাছ থেকে বীজ সংগ্রহ করতে হবে। এসব ফার্ম-নার্সারিতে যেসব ফলের কলম-কাটিং তৈরিতে গুরুত্ব পাবে তা হলো- আম, কাঁঠাল, লিচু, বেল, কথবেল, কমলা, কাগজি লেবু, বাতাবি লেবু, জলপাই, কামরাঙা, বরই (দেশি টক ও উন্নত), বারমাসি সজিনার কাটিং ইত্যাদি।বরেন্দ্র প্রকল্পের নার্সারিগুলোতে তাল, খেজুর, তেঁতুল, নিম, শিমুল, আমের চারা (কলম নহে) তৈরির অগ্রাধিকার দেয়া প্রয়োজন ।

নির্বাচিত প্রাইভেট নার্সারির সাথে চুক্তিভিত্তিক (কন্ট্রাক-গ্রোয়িং সিস্টেম) চারা-কলম তৈরির বিষয়টিও বিবেচনায় আনা যায়। এ ব্যবস্থায় কত সংখ্যক, কি ধরনের কোন জাতের, কত উচ্চতায় চারা, প্রতিটি কি দরে, কখন সংগ্রহ করা হবে তা চুক্তিতে উলেৱখ থাকতে হবে।

কয়েকটি জাতের (তাল, খেজুর, বারমাসি সজিনা, নিম, আমড়া) সীমিত সংখ্যক চারা সংগ্রহের ক্ষেতের গ্রাম পর্যায়ে আগ্রহী মহিলাদেরকে চারা কলম তৈরির সম্পৃক্ত করা যায়।উপজেলা পর্যায়ে নার্সারি স্থাপন এক সময় ডিএইর আওতায় প্রতি উপজেলায় ফলবৃক্ষ সমপ্রসারণের লক্ষ্য পঞ্চাশ শতক জমিতে নার্সারি স্থাপন করা হয়েছিল। উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে এ নার্সারি চালু ছিল। পরবর্তীতে ‘এগ্রো ফরেস্ট্রি’ প্রকল্প বাস্তবায়নে বন বিভাগ এ নার্সারিগুলো গ্রহণ করে। ফলে ফলবৃক্ষ সমপ্রসারণের সুযোগ মাঝপথে বন্ধ হয়ে তথায় ইপিল-ইপিল, ইউকেলিপটাস, আকাশিয়া, মিনজিয়াম ইত্যাদি বিদেশি গাছের সমপ্রসারণের দ্বার খুলে দেয়া হয়। উপজেলা পর্যায়ে কমপক্ষে ১০ শতক জমিতে হর্টিকালচার নার্সারি পুনরায় চালু করলে দেশজ ‘মাল্টি পারপাস ট্রি’ সমপ্রসারণ সুযোগ ফিরে পাবে।
অর্থায়ন

ক. সরকারিভাবে পরিচালিত ফার্ম বা নার্সারিগুলোতে অতিরিক্ত ফল বৃরে চারা উৎপাদন বিতরণ তাদের নিজ বাজেট থেকে চলতে পারে।
খ. উপজেলা পর্যায়ে নার্সারি ব্যবস্থাপনা পরিষদের বাজেট থেকে মিটানো যাবে অথবা এককালীন নার্সারি খাতে একটি ‘রিভোলভিং ফান্ড’ প্রদান করা হলেও এ নার্সারি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা যাবে।
গ. সরকার কৃষিতে ভর্তুকি ফান্ডকে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় ব্যবহার করে। ফল ও বৃক্ষরোপণ আন্দোলনকে বেগমান করতে এখাতে কিছু অর্থ প্রদান বিবেচনায় আনা যায়।
ঘ. বাস্তবায়িত বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমেও ফল ও উপকারী বৃক্ষ সমপ্রসারণ সুযোগ সৃষ্টি করা যায়।

৭. স্টিয়ারিং কমিটি গঠন এ কর্মসূচির সফল বাস্তবায়ন তদারকি, অগ্রগতি মূল্যায়ন ও অন্তরায় দূরীকরণে মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা যেতে পারে। এতে সদস্য হিসেবে ডিএই, বিএডিসি, বরেন্দ্র প্রকল্প, বিএআরসির প্রতিনিধি ছাড়াও এতে আগ্রহী অভিজ্ঞ অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকেও অন্তর্ভুক্তকরণ বিষয়টি চিন্তায় আনা যেতে পারে।

তথ্যসূত্র: এম এনামুল হক, সাবেক ডিজি, ডিএই