ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

 


দেখতে দেখতে ৪০ বছর পার হয়ে গেল আমাদের মুক্তিযুদ্ধের। প্রতিবছর মার্চ আসে, ডিসেম্বর আসে আর আমরাও সরব হই, মুক্তিযোদ্ধাদের গুনকীর্তনে, শহীদদের স্মরণে আর তখন আমরা পাকিস্তানী নৃশংসতার কথা বলি, রাজাকারদের অপকর্মের কথা বলি এবং উপলক্ষ্ গেলেই সব ভুলতে বসি পরবর্তী আর একটা উপলক্ষ্ না আসা পর্যন্ত। এভাবে আমরা পার করে দিলাম ৪০ বছর। এর মাঝে কতো মুক্তিযোদ্ধা তার প্রিয় স্বদেশ ছেড়ে না ফেরার দেশে চলে গেছে । আর বাদ বাকী যারা আছে তাদের বেশির ভাগই আছে না থাকার মতো।
আমরা সরকারী ভাবে তাদের একটা লিস্ট করেছি। আবার তাতেও নাকি গন্ডগোল আছে। অনেক মুক্তিযোদ্ধা বাতিল পড়েছে, অনেক অমুক্তিযোদ্ধা লিষ্টে ঢুকে পড়েছে, তার চেয়ে ভয়ানক ক্থা মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী রাজাকার-আলবদররাও নাকি এ লিষ্টে ঠাঁই করে নিয়েছে। শুনেছি সরকার নতুন করে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের লিস্ট করতে পদক্ষেপ নিচ্ছে।
সারাদেশের মানুষ যখন বাংলাদেশকে মুক্ত করার জন্য মনে-প্রানে, প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে স্বচেষ্ট ছিল তখন গুটি কয়েক কুলাঙ্গার মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা করে সারা দেশের মুক্তিপাগল মানুষ আর নিরীহ জনসাধারণের বিরুদ্ধে করেছিল সশশ্ত্র লড়াই ।
সরকারী ভাবে আমাদের এখন পরিপূর্ন রাজাকার-আলবদরদের লিষ্ট করাটা এ মুহুর্তে সবচেয়ে জরুরী । আর এটা করা হলে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের লিস্ট করতেও সুবিধা হবে । সবচেয়ে বড় কথা মুক্তিযোদ্ধাদের লিস্টটা অন্তত রাজাকার মুক্ত হবে । আর ওরা জীবিত থাকতে থাকতে আমরা সবার বিচার করতে পারি আর না পারি অন্তত: পক্ষে এটা বলতে পারব যে, ওই লোকটা রাজাকার ছিল।